নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

লাল দুর্গের সৈনিক

লাল দুর্গের সৈনিক › বিস্তারিত পোস্টঃ

শাহবাগ >"প্রজন্ম চত্বর"- হোক ভবিষ্যৎ দাবি আদায়ের প্রাণকেন্দ্র

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ৯:৪১

“প্রজন্ম চত্বর” নামটি গত কয়েকদিন থেকে সবার মুখে মুখে। একটা জায়গার নাম কিভাবে মানুষের অনুপ্রেরণার ব্যাপার হয়ে দাড়াতে পারে তার উজ্জ্বল উদাহরণ নামটি। পূর্ব ঘোষিত কোন কর্মসূচি ছাড়াই একসাথে এত মানুষের সমাগম শুধু আমাদের নিজেদের মধ্যেই নয়, সারা দুনিয়ায় যেন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। BBC, CNN এর মত সংবাদ মাধ্যম গুলোতে এই আন্দোলনের খবর প্রচারিত হচ্ছে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির একমাত্র দাবিতে সারা দেশের কোটি মানুষের কণ্ঠ এসে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে এই “প্রজন্ম চত্বরে”। আমরা আবার দেখিয়েছি দাবি আদায়ে কতটা ঐক্যবদ্ধ ও দৃঢ় বাঙালি জাতি। ব্যাক্তিগত কোন স্বার্থসিদ্ধি ছাড়া হাজারো মানুষের এই জমায়েত সত্যি প্রশংসনীয়। সাধারণ মানুষের এই সতঃস্ফুত অংশগ্রহণ দেশের ক্ষমতালোভী স্বার্থান্বেষী মহলকে করেছে ভীতসন্ত্রস্ত। দাবি আদায়ের এই আন্দোলনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার সবার মাথায় রাখা উচিত যে, যে পথে আমরা এগুচ্ছি সেখান থেকে ফিরে আশার কোন সুযোগ আমাদের নেই।

যেকোনো আন্দোলনকে তার কাঙ্খিত লক্ষে নিয়ে যেতে একটি কঠিন অথচ বাস্তবমুখী কর্মপরিকল্পনা দরকার। “প্রজন্ম চত্বরের” আন্দোলন হঠাৎ করে শুরু হলেও সময় এসেছে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। শুধু শাহবাগের মোড়ে ব্যানার,ফেস্টুন নিয়ে বসে থেকেই যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি দেয়া সম্ভবপর হবে না- এতটুকু গ্যারান্টি দিয়ে বলা যায়। গতকালের (শুক্রবার) মহাসমাবেশের দিকে তাই তাকিয়েছিলাম তীর্থের কাকের মত। কিন্তু দুঃখজনক হলেও বলতে হচ্ছে, খুব বেশি ইতিবাচক পদক্ষেপ দেখতে পাইনি। এর পেছনের কারণ বলতে গেলে একটি কথাই মাথায় আসে, আর তা হল উপযুক্ত নেতৃত্ব। বৈপ্লবিক আন্দোলনকে বেগবান করতে হল উপযুক্ত নেতৃত্বের যথার্থ ও বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত একান্ত প্রয়োজন। কয়েকজন ব্লগার ও অনলাইন অ্যাক্টিিভস্টের সাড়ায় দেশজুড়ে গনমানুষের চিন্তাভাবনায় এত বড় পরিবর্তন ঘটবে-তা হয়ত তারা নিজেরাও ভাবতে পারেননি। তাদের এই প্রয়াসকে আসলেই মাথা নত করে স্রদ্ধা করি। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি আমাদের প্রাণের দাবি। আর সেই দাবিকে বাস্তবে রূপ দিতে আমরা এখন যেকোনো মূল্যে প্রস্তুত। কিন্তু ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সচেতন না থাকলে আমাদেরকে যে খুব বড় ধরনের মূল্য দিতে হবে সেটা নিশ্চিতভাবে বলা যায়। যাদের অনুপ্রেরণায় দেশবাসী আজ শুধু শাহবাগ নয় সারা দেশব্যাপী ঐক্যবদ্ধ তাদেরকেই নেতৃত্বের দায়ভার নিয়ে সামনে এগিয়ে আসতে হবে। কেননা উপযুক্ত পদক্ষেপের অভাবে এই আন্দোলন নয়ত সাধারণ মানুষের সমর্থন হারিয়ে মুখ থুবরে পড়তে পারে। তাই বর্তমান প্রেক্ষাপট এ আন্দোলনের প্রয়োজনে উপযুক্ত নেতার দরকার খুব বেশি। যার বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতা সাধারণ মানুষের এই দাবিকে এনে দিতে পারে বাস্তবতার চেহারা।











যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে তা দেখে একটা কথা খুব গর্ব করে বলতে ইচ্ছা করে যেন দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইসুতেও মানুষ সামনে এগিয়ে আসে ঠিক একি চেতনা নিয়ে। এই কাজটিও সম্ভব বলেই আমার বিশ্বাস। সকল দাবি আদায়ে আমরা এভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোন নিপীড়ক গোষ্ঠী আমাদের উপর প্রতিবার তাদের স্বেচ্ছাচারিতা চাপিয়ে দিতে হাজারবার হলেও ভাববে। যেহেতু, রাজাকার, আল-বদর, আল-শামসদের ফাঁসির দাবি এই মুহূর্তে মুখ্য, তাই সেই দাবিতেই অটল থাকা মনে হয় বুদ্ধিমানের কাজ। কিন্তু ভবিষ্যৎ নিয়েও আমাদের ভাবা উচিত, কেননা আমার মতে, স্বপ্ন না দেখলে স্বপ্ন পূরণ করার ইচ্ছাও জাগ্রত হবে না। তাই আমি স্বপ্ন দেখতে চাই। দেখতে চাই-“প্রজন্ম চত্বর” হোক আমাদের সকল নৈতিক দাবিদাওয়া আদায়ের উপযুক্তস্থল যেখানে কোন স্বেচ্ছাচারী নেতাগোষ্ঠীর স্থান নেই, শুধু স্থান করে নিবে জনগনের প্রকৃত নেতৃত্ব। হয়তো অনেকেই শেষের কথাগুলো পরে হাসবেন, কিন্তু আমি আবারও বলতে চাই – “স্বপ্ন না দেখলে স্বপ্নকে বাস্তবতায় রূপ দেয়া যায় না”

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.