| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
নামটা দেখে ভড়কে যাবেন না। লিখতে বসার আইডিয়াটা “REXposed” থেকে কপি মারলাম,তাই এমন নাম দিলাম।আগেই সত্যটা স্বীকার করে নিলাম,তাই মাইন্ড খেয়ে কেউ আবার গালি দিয়ে বসবেন না যেন
।
আমাদের ক্লাসের সবচেয়ে Funny টাইপের ছেলে রাফাত,সবসময় মাথায় কি যেন ঘুরতে থাকে। ওর কথাবার্তায় সবাই যেন হাসতে বাধ্য। মাঝে মাঝে স্যাররাও এই তালিকায় পরে। তাই রাফাতের সাথে যেন সবার অন্য রকম একটা সম্পর্ক। ভুলেও কেউ কখনও রাফাতকে পচাতে বা ওর সাথে মজা নিতে যায় না। কারণ সবাই জানে, এই ভুল যে করবে তার সারাদিন, সারা সপ্তাহ, সারা মাস এমনকি সারা বছর সেই পচানি সহ্য করতে হবে। গত সপ্তাহে ছিল ওর জন্মদিন, আমরা কয়েকজন মিলে ঠিক করলাম এই সুযোগ হাতছাড়া করা যাবে না। যেমন ভাবনা তেমন কাজ। জন্মদিনের আগের রাতে ঠিক করলাম এবার কিছু একটা করতেই হবে। এভাবে প্রতিবার পার পেয়ে যাবে, তা তো আর হতে দেয়া যায় না। কি করা যায়! কি করা যায়! এই নিয়েই সবাই ভাবতে থাকলাম। হঠাৎ রাফাতের এক রুমমেটের মাথায় আসল রাফাতকে REXposed করার চিন্তা। ভালো কথা, তা কিভাবে করব সেটাও ঠিক করলাম সবাই আলোচনা করেই। পরিকল্পনা মত ১২টা বাজার আগেই সব কিছু করতে হবে। ১১টার মধ্যেই আমরা কয়েকজন ওর রুমে যেয়ে কার্ড খেলতে বসলাম। সবাই যার যার মত খেললাম, কিন্তু রাফাতের সাথে কারো কোন কথা নেই। এমন ঘটনা কোনদিন ঘটেছে বলে রাফাত কিংবা আমরা কেউ মনে করতে পারব বলে হয় না। কাজেই রাফাত যথেষ্ট অবাক হল। তারপর ও কিছু বলল না। পরিকল্পনা অনুযায়ী আরও ৩০ মিনিট আরও দুজন এসে হঠাৎ করে রাফাতকে বলল, “রাফাত, দোস্ত কাজটা ঠিক করলি না।” “কি করলাম আমি আবার?”, জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে রাফাতের প্রশ্ন। “কি করসস জানোস না!!!! এত কিছু করলি এখন আমাদেরকে বলস, কি করসস...... ভালো, খুব ভালো।” এইবার রাফাত হেসেই উড়িয়ে দিল, মনে করল আমরা মনে হয় ওর সাথে মজা নিচ্ছি। কিন্তু যখন দেখলে আমারা যারা কার্ড খেলেছি, তারাও কিছু বলছি না, তখন একটু হলেও চিন্তায় পরে গেল।
এখন পর্যন্ত তো সব পরিকল্পনা মতই হচ্ছিল। কাজেই মনে মনে আমরা সবাই খুশি।“কি হইসে দোস্ত? সবাই কোন ব্যাপারটা নিয়ে এত সিরিয়াস হয়ে গেল, কিছুই বুঝলাম না” আমাদের সামনে এসে জিজ্ঞেস করল রাফাত। ওর কথার কোন উত্তর দেয়ার ইচ্ছা নেই এমন একটা ভাব নিয়ে আমরা কার্ড খেলাতেই আরও মনযোগী হলাম। এবার রাফাত একটু রেগে গেল। আবার জিজ্ঞেস করল, কি হইসে। এবারও আমরা নিশ্চুপ।এবার ও ভালই খেপল। কেউ কোন কুথা বলছে না দেখে রেগে ও যখনি রুম থেকে বের হতে নিল, তখনি বাইরে থেকে কয়েক বালতি পানি এসে পরল ওর গায়ে আর সবাই আমরা সাথে সাথে ছিল্লালাম, “You just have been REXposed ”। সেই মুহূর্তে রাফাতের চেহারাটা দেখার মত ছিল। এটা তো গেল রাফাতের জন্মদিনের কথা। আরও কতবার যে কতজনকে এভাবে REXposed করা হয়ে গেসে। কিছুদিন আগে এক বড় ভাই London থেকে ফোন দিয়ে বলে, তোদের REXposed তো এখানেও ব্যাপক হিট।
একেবারে প্রথম পর্বের ফুয়াদ থেকে শুরু করে RJ অপু, Cryptic Fate এর সাকিব, Miles এর শাফিন, REXposed এর রিদওয়ান এবং সবশেষে মেহজাবিন, প্রতিটা পর্বই ছিল ভিন্নধর্মী। হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খায়নি এমন মানুষ এখনও খুঁজে পাইনি। এখন তো এমন অবস্থা, যখন ই নতুন পর্ব আসে, তখনই সব একসাথে দেখতে বসি। শেষ পর্বটা পরীক্ষার মাঝে ছিল, তাতে কি?? REXposed বলে কথা। আবারও সবাই একসাথে দেখতে বসলাম। আমার রুমের খুব সিরিয়াস ছাত্র মামুনও এখন চরম ভক্ত। পড়া বাদ দিয়েই আমাদের সাথে এসে দেখল, শেষে আবার বলেও গেল, “নাহ! এভাবে থাপ্পড় মারাটা ঠিক হয় নি”.....
। ক্লাসে, হলে, ক্যাফেটেরিয়ায় এভাবেই যেকোনো মুহূর্তে চলতে থাকে যে কাউকে REXposed করা। আসা করি সামনের পর্ব গুলো আরও বেশি অস্থির হবে। জয় REXposed এর! জয়! যাদের মাথা থেকে এমন সব ভিন্নধর্মী Idea আসে তাদের!!! বন্ধু বান্ধব আর কাছের মানুষগুলোর সাথে এভাবে না বলে মজা নেয়ার নতুন নতুন চিন্তা নিয়ে আসার জন্য একটা ধন্যবাদ না দেয়ার মত কার্পণ্য হয়ত আমার মত আপনারাও দেখাবেন না
।
©somewhere in net ltd.