| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
খুলনা জেলার সর্ব দক্ষিণে কয়রা থানাটি অবস্থিত। এ থানাটি আয়তনে বেশ বড়। এর পূর্ব পার্শ্বে সুন্দরবন ম্যানগ্রভটি অবস্থতিত। খুলনা হতে লঞ্চে প্রায় আট ঘন্টা সময় লাগে কয়রা থানায় পৌছাতে। খুলনা হতে গাড়ী পথে পৌছাতে বেশ কষ্ঠসাধ্য। কেননা নিজস্ব পরিবহন না থাকলে বহুবার গাড়ী পরিবর্তন করে কয়রা থানায় পৌছাতে হয়। এ অঞ্চালে মাত্র ১৫ বৎসর পূর্বে প্রচুর মিঠাপানির মাছ, ধান, বনজসম্পদ, গৃহপালিত পশু ও সর্বপরি সবকিছু মিলে মানুষেরা বেশ সুখে শান্তিতে বসবাস করত। স্থানীয় বাসিন্দারা বেশির ভাগ পৈত্রিক সম্পত্তির উপর নির্ভর করে কলহল ও রাজনৈতিক মুক্ত বেশ শান্তিতে বসবাস করত। মানুষ মানুষের সাথে এমন ভাবে বসবাস করত যে দেখলে মনে হত তারা একে অপরে আত্মিয়তার সুতায় বাধা। আথিতিয়তার তারা সদা ব্যস্ত থাকত। এখানকার মানুষেরা এমনই ছিল যে, দিনরে বা রাত্রের খাবারের সময় যদি কেহ দৃষ্টিগোচর হত তাহলে তাকে খাওয়াতে না পারলে তারা নিজেকে মনে করত বড্ড ছোট লোক। তাই তারা আগান্তুককে না খাওয়ায়ে যেতে দিত না। এর অন্যতম আর একটি কারণ ছিল যে পুকুর ভর্তি মাছ ও গোলা ভর্তি ধান অর্থাৎ খাদ্যের তাদের কোন ঘার্তি ছিলনা। কিন্ত বিশ্ব বৈরি আবহওয়ার কারণে সুন্দরবনের উপর তো প্রভাব পড়েছেই আরো মারাত্মক প্রভা পড়েছে এ এলাকার জলবায়ুর উপর। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, পুরা কয়রা অঞ্চালটি খন্ড খন্ড দ্বীপের মত। এর চারিধারে বেড়ীবাধ দিয়ে বেষ্টিত, যাতে চারিধারের নদীর পানি এ দীপাঞ্চলের মধ্যে প্রবেশ করতে না পারে। আবার এ দীপ গুলিতে সব চেয়ে বড় কষ্টের ব্যপার হলো গোসলের ও খাবার সুপেয় পানির অভাব। খাবার পানির জন্য রয়েছে কতক কিলোমিটার দূরে একটি পুকুর সেখান থেকে মেয়ে-ছেলেরা বহু কষ্টে দৈনিক দুই-এক কলস করে পানি সংগ্রহ করে শুধুমাত্র খাবার জন্য। আর গোসলের পানি তো লবনাক্ততা। কিন্তু বর্তমানে এই খাবার পানির পুকুর গুলি জানুয়ারী থেকে জুলাই পর্যন্ত সুপেয় পানি আস্তে আস্তে লবনাক্ততায় পরিণত হয়। আর সরা বৎসরে একটি মাত্র আমন চাষের উপর নির্ভশীল এ অধিবাসীগণ বর্ষা মৌসুমে জলবদ্ধতা ও অনিয়মিত বর্ষার কারণে এ আমন চাষেও ভাল ফলন ফলাতে পারে না। ফলে বর্তমানে তাদের খাদ্য সংকট চরমে। বিশেষ করে আইলার পর হতে মধ্য বিত্ত পরিবারের সদস্যগণ এ খাদ্য সংকটে সবচেয়ে বেশি সম্মুখিন। চলমান থাকবে---
©somewhere in net ltd.