নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

তো কি হইছে

তো কি হইছে › বিস্তারিত পোস্টঃ

মুদ্রার ওপিঠ

১৯ শে জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ৩:৫৬

Age Of Empire Online নামের একটা গেম খেলছি গত ৮ মাস ধরে।নতুন ভার্সন।প্রায় ১০০ রিঙ্গিত খরচ করে Xbox এর পয়েন্ট কিনতে হয়েছে।বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে অনেক গেমারদের নিয়ে একটা বেশ শক্তিশালী কমিউনিটি আছে আমাদের।গত বছর এই কমিউনিটি থেকে একটা ইসরায়েলি গেমারের সাথে পরিচয় হল,আমার মতোই বয়স,ডাক নাম এহুদ।গেমে চ্যাটের ব্যবস্থা থাকায় কথা হতো প্রায়ই।কথায় কথায় উঠে আসলো মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতি।মুগ্ধ হয়েছিলাম তার চিন্তা ধারা দেখে।গেম খেলা বাদ দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলত আলোচনা।



ইস্রায়েলীদের কাছে এই যুদ্ধ অনেকটাই হাজার বছর ধরে চলে আসার যুদ্ধ।খৃস্ট ধর্মকে রাষ্ট্রীয় ধর্ম হিসেবে কন্সটানটাইন এর বিখ্যাত ঘোষণার পর থেকেই তারা গৃহহারা।প্রতিটা ধর্মের একটা দেশ রয়েছে।যাকে কেন্দ্র করে ধর্মের বিকাশ ঘটে।ইহুদীরা এইখানে আলাদা।ইউরোপে খৃস্ট ধর্মের বিকাশের পর এরা চলে আসে আরব এলাকায়,ইসলাম ধর্মের প্রসারের পর আবার মার খাওয়া শুরু হয়।জেরুজালেম নিয়ে ক্রুসেড হয়েছে,কিন্তু মার খেয়েছে যেই ই থাকুক ক্ষমতায় মার খেয়েছে ওরা।শুধু মাত্র ধর্মের বিবেচনায় একটি জাতি এইভাবে মার খেয়েছে সারা বিশ্বে এমন নজির হয়তো আর কোথাও নাই।সব থেকে ভয়াবহ ঘটনা ঘটে ১৯৩৩ সাল এর পর থেকে।প্রতি ৬ জন ইহুদির একজন মারা যায় নাজিদের হাতে।শিশু,মহিলা বৃদ্ধ কেউ বাদ পড়েনি।এইটা ছিল পরিকল্পিত নিধন,সিস্টেমেটিক এক্সটারমিনেশন।১৯৪৫ এ তাঁদের যখন ক্যাম্প থেকে বের করা হয়,তখন অ্যামেরিকায় বসবাসকারী কিছু ইহুদী মিলে পরিকল্পনা করে তারা প্যালেস্টাইনে ফিরে যাবে।বলে রাখা উচিত এইখানে প্যালেস্টাইনে কিন্তু আগে থেকেই অনেক ইহুদী ছিল,জেরুজালেমের আশপাশে।প্রায় ১৮% মোট জনসংখ্যার।এবং তখন কিন্তু প্যালেস্টাইন ব্রিটিশদের অধিকারে ছিল।

এইবার এরা ঠিক করলো-যখন কেউ দিবে না জোর করে বিশ্বে জায়গা করে নিবে।



আমি এহুদ কে জিজ্ঞেস করলাম আজকের ফিলিস্তিনি সিভিলিয়ান হত্যাকাণ্ডকে সে কিভাবে দেখে।আমাকে সে যা বলল তা শুনে আমি মনে করি কথা গুলা সবার জানা উচিত।নিচে তুলে দেওয়া হল-

দেখুন,এইটা অবশ্যই দুঃখজনক।আমাদের বম্বাররা ইচ্ছা করে আপনাদের মানুষ মারছে,মুস্লিম মারছে এবং সারা দুনিয়া জুড়েই এরা এদের অপারেশন চালিয়েছে এবং চালাচ্ছে।আমি বিশ্বাস করি তারা যা করছে তা স্রেফ আমাদের সুরক্ষার জন্য করছে।আমি জানি আপনি আমার সাথে চরম ভাবে দ্বিমত প্রকাশ করবেন,কিন্তু ফ্যাক্ট হচ্ছে আমাদের কে আপনারা নিজেদের চরম শত্রু মনে করেন।এবং আপনাদের বেশিরভাগ প্রতিনিধি খোলামেলা ভাবে বলে আমাদের ধংস করার কথা।আমাদের শিশুরা স্কুলে যাওয়ার সময় রকেটে মারা যায়,আমাদের খেলোয়াড়রা অলিম্পিক খেলতে গিয়ে মারা জায়।রকেট হামলায় আমাদের নিহত শিশুর সাথে আপনাদের নিহত শিশুর দেহের কোন অমিল নাই।অথচ সেই একটা লাশ আপনাদের অশ্রুর কারন অথচ আরেকটি কিন্তু আনন্দের।যে হিটলার আমাদের ৫ কোটি মানুষ কে হত্যা করেছে তাদের কে কিন্তু আপনাদের অনেকেই আইডল মানেন,ইরান তাকে সরাসরি প্রেইজ করে,ঘটা করে জন্মদিন পালন করে।ইহুদী হত্যা এখনো আপনাদের অধিকাংশ মুসলিম নেতার দৃষ্টিতে ভালো কাজ।এই অবস্থায় যদি আমরা যুদ্ধ থামিয়ে দেই তাহলে আমাদের রাষ্ট্র কতদিন টিকবে বলে মনে করেন?একটা শেষ কথা,মুসলমানরা কিন্তু ইহুদিদের ধর্মশত্রু না।কিন্তু ইহুদীরা মুসল্মানদের ধর্ম শত্রু।আমরা মনে করি এই অবস্থায় প্রথমে দরকার সহনশীলতা।একজন ইহুদী যে একজন সম্মানিত মানুষ হতে পারেন তা আপনাদের বিশ্বাস করতে হবে।তারপর আমরা চিন্তা ভাবনা করতে পাড়ি এই অস্ত্র ছেড়ে দিবো না।

মন্তব্য ৫ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৫) মন্তব্য লিখুন

১| ১৯ শে জানুয়ারি, ২০১৩ ভোর ৪:১৬

মাগুর বলেছেন: এই পোস্টে এখনো ক্যাচাল শুরু হয়নি দেখে খুবই অবাক হলাম! :-* :-* :-*

সবাই কি ঘুম নাকি? :#>

[পোস্ট পর্যবেক্ষন বাটুনে চিপি দিলাম ;) ]

২| ১৯ শে জানুয়ারি, ২০১৩ ভোর ৬:৩৭

ময়ূখ বলেছেন: @মাগুর...দুই গেমার ভাই মনে হয় অনেক কম বয়সী...ইতিহাস জানে না...ইসরায়েলী গেমার না হয় জানে না অর জানতে দেয়া হয় নাই তাকে, কিন্তু আমাদের গেমার ভাই কিভাবে শুধু এক পক্ষের কথা শুনে ব্লগে দিয়ে দিল বুঝলাম না...

১৯ শে জানুয়ারি, ২০১৩ ভোর ৬:৫২

তো কি হইছে বলেছেন: হ ভাই,বয়স কম।পড়াশুনাও কম।জ্ঞান দিতে চাইলে দিয়ে যান।বয়ামে ভইরা রাখুম

৩| ০৮ ই জুন, ২০১৩ সকাল ৮:৫৬

বাংলাদেশী দালাল বলেছেন:
ভাই ইহুদিদের বিষয়ে খুব সাবধান। ওরা কিন্তু মুসলমানদের সাথে খাতির জমায়। আপনি তো অনলাইনে, আমরা অফ লাইনে অভিজ্ঞতা আছে।
হিটলার একটা কথা বলছিল " আমি কিছু সংখ্যক ইহুদিকে হত্যা করলাম না যাতে মানুষ বুঝতে পারে কেন ওদের হত্যা করেছিলাম"


খুব খেয়াল।

০৮ ই জুন, ২০১৩ সকাল ৯:৪১

তো কি হইছে বলেছেন: এর আগে কোন ইহুদির সাথে কথা হয় নাই।ছেলেটারে পছন্দ করার পিছে এইটা একটা কারন হইতে পারে।ধন্যবাদ ধরায়া দেওয়ার জন্য।তবে আমি মনে করি শুধুমাত্র ধর্মীয় মূল্যবোধ কোন মানুষের পরিচয় হতে পারে না।পারস্পরিক সহযোগিতা ছাড়া ফিলিস্তিনি সমস্যার সমাধান চোখে পড়ে না।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.