| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
নতুন ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছি।এখানে আসার পর ক্যাম্পাসের হোস্টেলে থাকতাম,কিন্তু হোস্টেল ঠিক করার অজুহাত সকল ছাত্রকে বাস্তুহারা করেছে আমার ইউনিভার্সিটি।হোস্টেলে যে ভাড়া দিতাম তাতে বাইরে কোন ফ্ল্যাট তো দুরের কথা রুম ও জুটবে না।আমার এই অবস্থা দেখে কামিল প্রস্তাব দেয় ওর ফ্ল্যাটে উঠবার জন্য।কামিল এবং আমি হোস্টেলে একি রুমে থাকতাম।ও এবং ওর বান্ধবী ক্যাম্পাসের পাশে একটা বিল্ডিঙে এপার্টমেন্ট ভাড়া নিয়েছে।ক্যাম্পাসের অনেক ছেলেমেয়েই একসাথে থাকে এই বিল্ডিঙে।লিভ টুগেদার করাটা এদের কালচারে অনেকটাই সহনীয়।আমি নতুন ফ্ল্যাটে উঠার দ্বিতীয় দিন মেয়ের বাবাকে দেখলাম।লম্বা মতো এক চাইনিজ ভদ্রলোক।মেয়ের জন্য টিভি নিয়ে এসেছেন,খুব স্বাভাবিক ভাবে রুমমেটের সাথে কথা বলছেন।
মাসে প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকা ভাড়া দিয়ে থাকার সামর্থ্য আমার ছিল না,কিন্তু রুমমেট এবং তার বান্ধবী নিয়ান বেশীরভাগ ভাড়া দিবে এই প্রতিশ্রুতিতে রাজি হয়েছি।সারাদিন ক্লাস করে ফ্ল্যাটে ফিরলেই মন ভালো হয়ে যায়।খুব আহামরি কোন জায়গা না,কিন্তু বারান্দাটা বিশাল,প্রায় আকাশের কাছাকাছি।সারাদিন ক্লাস করে বাসায় ফিরে নিজের রুমে ঢুকার আগে বারান্দায় বসি।আট তলা থেকে পিঁপড়ার মতো মানুষ গুলোকে হেঁটে যেতে দেখি।আকাশের দিকে তাকালে মনে হয় সাদা মেঘ গুলোকে ছোঁয়া যাবে।সন্ধ্যা বেলায় বারান্দায় বসে থাকতে থাকতে খুব অপরাধী মনে হয় নিজেকে।সারাজিবন বাবা মার সাথে ভাড়া বাসায় জীবন কাটিয়েছি,একটা রুমে গাদাগাদি করে জীবনের বেশিরভাগ সময় পার করেছি।নিজের একটা রুম হওয়াতে নিজেকে খুব স্বার্থপর লাগছে।দেশে আমার বাপ এখনো সেই এক রুমেই জীবন পার করছে।
ছুটির দিন গুলো একেকটা বিভীষিকা।কামিল এবং নিয়ান খুবই কুৎসিত ভাষায় গালাগালি করে।অবিবাহিত এই দম্পতি চাইলেই একজন আরেকজনকে ছেড়ে আলাদা বাসা নিতে পারে,কিন্তু এরা একজন আরেকজনকে খুব ভালোবাসে হয়তো।মাঝে মাঝে গভীর রাতে দরজায় নক করে রুমমেট।দরজা খুলতে দেখি বেচারা বালিশ আর চাদর নিয়ে দাড়িয়ে আছে।ছোট্ট একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে আমি চাদর বিছিয়ে দেই মেঝেতে।বাকি রাতটুকু আমার আর ঘুম আসেনা।
চাইনিজ খাবার দেখলেই ইদানীং গা গুলিয়ে বমি আসে।স্কুইড দিয়ে রান্না ভাত আমার কাছে নাকের সর্দীর মতো লাগে।কিন্তু সেই খাবার আমাকে হাসিমুখে গিলতে হয় প্রতি রবিবার।এমনিতে আমি চেষ্টা করি বাইরে থেকে খেয়ে আসার,কিন্তু ছুটির দিন গুলোতে মেয়েটা রান্না করে,নিতান্তই কুৎসিত রান্না,কিন্তু মুখের উপর তা বলা যায় না।নাকের সর্দী খেতে খেতে খাবার টেবিলে আমাকে সামাজিকতা পালন করতে হয়।
এর মাঝে একদিন দিয়ানা এসেছিলো,শাড়ি পড়ে।বাঙালি এক বান্ধবীর কাছ থেকে শাড়ি পড়া শিখেছে।হালকা কলাপাতা রঙের শাড়িতে মনে হচ্ছিল না সে কাজাখাস্তানের মেয়ে।বড় করে কালো টিপ দিয়ে এসেছিলো।মেয়েটার জন্মদিন ছিল সেদিন,রুমমেট এবং ওর বান্ধবী অনেক আয়োজন করে কেক নিয়ে আসলো,দিয়ানা কেক কাটল।কিন্তু কোথাও সুর কেটে গেছে বুঝতে পারছি।মেয়েটাকে বলা উচিৎ ছিল -তোমাকে বাঙালি মেয়ের মতো লাগছে।আমি কিছুই বলিনি।নির্বোধের মতো কেক খেয়ে বারান্দায় বসে থাকা আসলেই উচিৎ হয়নি।ইদানিং এই সমস্যা গুলো দেখা যাচ্ছে।ভালবাসা ফেরত দিতে পারছি না।ভালবাসার মানুষগুলোর সাথে নিজের অজান্তেই রূঢ় আচরন করে ফেলছি।মা ফোন দেয়,রিং বাজতে দেখি,ধরি না।বাবা ফোন দিইয়ে স্কাইপিতে আসতে বলে,মিথ্যা কথা বলি- ইন্টারনেট নাই।অনেক আগে একজন আমাকে স্বার্থপরতার দোহাই দিয়ে চলে গেছিলো,মনের অজান্তে হয়তো সেই স্বার্থপর হবার জন্যে প্রাণান্ত লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি।
০৮ ই জুন, ২০১৩ সকাল ৭:৫৮
তো কি হইছে বলেছেন: ধন্যবাদ পড়ার জন্য
২|
০৮ ই জুন, ২০১৩ সকাল ৭:৫৬
খেয়া ঘাট বলেছেন: আপনি অনেক গুছিয়ে লিখেন । ঝরঝরে, সহজ, সরল, প্রান্জল লিখা।
মায়ের আর কোনোদিন ফোন ধরবেন না।
মাকে যেন আর কোনোদিন ফোন করতে না হয়। মায়ে ফোন করার আগে আপনিই করবেন-এ অনুরোধটুকু রইলো।
মায়ের চোখের সামনে সন্তান না থাকার মতো কষ্ট মা-বাবার আর নেই।
ভালো থাকবেন।
০৮ ই জুন, ২০১৩ সকাল ৭:৫৮
তো কি হইছে বলেছেন: লেখার সময়ে বুঝি নাই কেউ এই লেখা পড়বে।ধন্যবাদ পড়ার জন্য।আপনিও ভালো থাকবেন
৩|
০৮ ই জুন, ২০১৩ সকাল ৮:৪৩
বাংলাদেশী দালাল বলেছেন:
স্বার্থপর হবার জন্যে প্রাণান্ত লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি।
পারবে না। নতুন করে স্বার্থপর হওয়ার কোনো ফর্মুলা নেই।
লেখা চালিয়ে যাবেন আশাকরি।
শুভ কামনা রইলো।
০৮ ই জুন, ২০১৩ দুপুর ১২:০২
তো কি হইছে বলেছেন: ধন্যবাদ অনুপ্রানিত করার জন্য
৪|
০৮ ই জুন, ২০১৩ সকাল ৮:৫৯
কালোপরী বলেছেন: ![]()
৫|
০৮ ই জুন, ২০১৩ সকাল ৯:১০
আতা2010 বলেছেন: আমিও চরম স্বার্থপর
৬|
০৮ ই জুন, ২০১৩ সকাল ১১:০৪
বিষণ্ণ অবমানব বলেছেন: অনেক আগে একজন আমাকে স্বার্থপরতার দোহাই দিয়ে চলে গেছিলো,
ফেলে আসা কোন কিছুই বর্তমানের সাথে তুলনা করতে নেই ...
৭|
০৮ ই জুন, ২০১৩ সকাল ১১:১৮
শুঁটকি মাছ বলেছেন: সুন্দর বর্নণা!!!!!!!!!!!
০৮ ই জুন, ২০১৩ দুপুর ১২:০৩
তো কি হইছে বলেছেন: ধন্যবাদ
©somewhere in net ltd.
১|
০৮ ই জুন, ২০১৩ সকাল ৭:৫৩
ইমরাজ কবির মুন বলেছেন:
সুন্দর লিখসেন ||