| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
প্রাচীন মিশরে নীল রঙ কেবল রাজপরিবারের জন্য বরাদ্দ ছিল।কেবলমাত্র ফারাও নীল রঙের কাপড় পরিধান করতে পারতো।নীল শাড়িটা কেনার সময়ে এত কিছু মাথায় ছিল না।হাতে সময় কম।কাস্টমস পার করে ততক্ষনে আমি এয়ারপোর্টের ভিতরে,ট্যাক্স ফ্রি দোকান গুলো ঘুরে ঘুরে একটা শাড়ির দোকান দেখে এগিয়েছিলাম।দিয়ানা এতদিনে বাঙালি পোশাক পড়া খুবই সিরিয়াসলি নিয়েছে।
৪ ঘণ্টার জার্নি তেমন কিছু না।তবুও এক ধরনের ক্লান্তি লাগে প্লেন থেকে নামার সময়।দেশ ছেড়ে চলে আসার তীব্র বেদনা মনের উপর এক ধরনের চাপ ফেলে,অবসাদ ভর করে মনে।প্রতিবার ৩ নম্বর গেট দিয়ে বের হওয়ার সাথে সাথে কামিল কে দেখি অপেক্ষা করতে।বিরাট হাসি নিয়ে জড়িয়ে ধরবে,তারপর জিজ্ঞেস করবে - আমার জন্য কি এনেছ?উত্তরের অপেক্ষা না করে লাগেজ হাতে তুলে নিবে।
বাসায় ফিরতেই কামিলের বিরাট কুকুরটা গায়ের উপর উঠার চেষ্টা করলো।ছোটবেলা থেকেই আমার কুকুরভীতী আছে।কিন্তু কুকুর সমাজ হয়তো এটা ধরতে পারে না।আমাকে দেখে সে আনন্দিত হয়েছে তার বহিঃপ্রকাশ।জ্যাক ড্যানিয়েল'স এর বোতলটা ফ্রিজে চালান করে দিয়ে রুমে এসে মাকে ফোন দিলাম।তারপরেই ফোন দিলাম দিয়ানাকে।গলার রুক্ষতা লুকিয়ে রাখতে পারল না।মেয়েরা এখন অনেক আত্মনির্ভরশীল,অনেক স্বনির্ভর।কিন্তু ভালোবাসা সবাইকে পরগাছার মতো করে তুলে।বেঁচে থাকা না থাকাটা নির্ভর করে অন্যের উপর।দেশে থাকার সময়গুলোতে ওকে ফোন না দেওয়াতে অভিমান করেছে হয়তো।
দেশে থাকলে কেন যেন এই মানুষগুলোকে আর আপন মনে হয় না।এরা ফোন দেয়,ফেসবুকে ইনবক্স করে।কিন্তু তবুও আমার জবাব দিয়ে ওঠা হয় না।শুধুই কি আলস্য?
বাসা ভর্তি মানুষ।আমার রুমও দখল করে নিয়েছে।চাপা স্বরে হাসির আওয়াজ আসছে।সূর্য ডুবে গেছে আধা ঘণ্টা হল।পশ্চিম মুখী ব্যাল্কনি হওয়াতে চোখের সামনে পুরোটা লাল হয়ে আছে।আমি এই দৃশ্য সব সময়ে ভয় পাই।আমার ধারণা আমি সন্ধ্যা বেলায় মারা যাবো।তীব্র বিষণ্ণতা এই সময়ে আমার মন অবশ করে দেয়।স্থাবর অস্থাবর সমস্ত সম্পত্তি নিয়ে আমি এখন সেই দৃশ্য দেখার জন্য প্রস্তুত হচ্ছি।একটা সিগারেটের প্যাকেট,ম্যাচ,গল্পের বই,পেপ্সির ক্যান এবং ল্যাপটপ।কষ্ট হচ্ছে লিখতে,অন্ধকার প্রায় হয়ে এসেছে।
আমার ধারণা সত্যিকারের সৌন্দর্য দেখার ক্ষমতা সকল মানুষের থাকেনা।যেমন আমি।আকাশের নীল ও লালের এই অপূর্ব সমাবেশ এর আগে কখনো দেখিনি।কিন্তু আকাশের দিকে বেশিক্ষন তাকিয়ে থাকতে পারছি না।একাকীত্ব কিনা জানিনা,কিন্তু বার বার চোখ ভিজে উঠছে।একজন স্বাভাবিক জুবকের যতগুলো বন্ধু থাকা উচিৎ আমার তার থেকে বেশি আছে।খুব মায়াবী একজন প্রেমিকা আছে,বাসায় আছে বাবা মা,ছোটবোন।তবুও এক অজানা একাকীত্ব আমার সমস্ত কিছু শুন্য করে দিচ্ছে।
বাসার সামনে এক জোড়া ত্রিশ তলা বিল্ডিং এর কাজ চলছে।সন্ধ্যা হওয়াতে সেখানেও কোন শব্দ নাই।হাইওয়ের ধারে ফ্ল্যাট বলে প্রচণ্ড শব্দ,গাড়ি গুলো ছুটে যাচ্ছে।পাশেই খোলা গল্পের বই।২৬৮ পেজে এসে আটকিয়ে গেছি।গল্প টা আজ রাতে শেষ করা হবে না আর।জানি এখন কি হবে।এর আগেও একবার পড়েছি।কিন্তু আজ বই থেকে পাওয়া গভীর শক সামাল দিতে পারব না।আজ এই বই শেষ করার সাহস আমার নাই।
©somewhere in net ltd.