নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

তুিহন তাওিহদ

তুিহন তাওিহদ › বিস্তারিত পোস্টঃ

আই আম ইন লভ

১৩ ই এপ্রিল, ২০১৩ সকাল ৭:১৩

রাত প্রায় শেষের দিকে।এক

ফোটা ঘুম হয়নি আজ রাতে।

তবুওতো শেষ হলো রাতটা!

বিছানা ছেরে উঠে পরে রূপা ।

এভাবে শুয়ে থাকার

কোনো মানে হয় না।

তারচে বরং ভালো হয় একটু ক্ষন

পায়চারি করলে।হাত মুখ ধুয়ে এক কাপ

চা খাওয়া যেতে পারে।

তবে সেটা না করাই

ভালো,ওয়াটার হিটারের

চা তে একপ্রকার বমি ভাব লেগেই

থাকে।

তারচে বরং পায়চারি করাটাই

শ্রেয়!এতে একটা লাভ

আছে,দুশ্চিন্তাটা দ্রুত শেষ করা যায়।

দুশ্চিন্তা!না,দুশ্চিন্তা না।

দুশ্চিন্তাগ্রস্থ মানুষ দ্রুত

ঘুমিয়ে পরে,জেগে থাকে না ।

তা সে যত বড় দুশ্চিন্তাই হোক।এই

চিন্তাটাকে তাই

দুশ্চিন্তা বলা যায় না।

জালাটা খুলে দিলো রূপা।

অন্ধকারটা পুরোপুরি কেটে যায়নি।

জানালার গ্রিলটা স্পর্শ করলো ও।

শীতল

একটা অনুভূতি ছরিয়ে গেলো সর্বস্ব।

রূপা আনমনে ভাবতে শুরু করলো,এই

শীতলতা তাকে কোনো স্মৃতি দিত

অথচ সেই ছেলেটা,কী যেন নাম

বলল,কী যেন...,.ওহ,ধ্রুব।

কি বিদঘুটে নাম বাবা!এক

দলা স্মৃতি দিয়ে হেটে গেল এই

জানালার পাশ দিয়ে।সেও এক

ধরনের অনুভুতিহীন শীতল অনুভূতি।তখন

হয়ত বেলা ১১ টা।গতকাল ১১ টা।

আনমনা মনটা আরেকটু আনমনা হতে শুরু

করল রূপার।এমনি ভাবেই গ্রীল স্পর্শ

করে দাড়িরে ছিল ও।হঠাত্ ধ্রুব

এসে কি সব একাধারে বলে গেলো।

রূপার কেবল প্রথমটুকু

মনে আছে ,ছেলেটা বলল

'আমি ধ্রুব,তুমি আমায় আগে থেকেই

চেনো'।ব্যাস ,এটুকুই ।তারপর সব

গুলিয়ে ফেলল।

ছেলেটা একনাগারে কথা বলেই

যাচ্ছে অথচ কিছুই

বুঝতে পারছেনা রূপা।অদ্ভুত অনুভুতি।

তাতে কি?এই

ছেলে কি বলতে চাইছে তা ঠিক

বুঝতে পারছে রূপা।আর চেনার

ব্যাপারটা?হ্যাঁ এর আগে বহুবার

পথে চোখে চোখ পরেছে এর সাথে।

তখন হয়ত চোখে যথেষ্ঠ কাঠিন্য

রাখা হয়নি।সেই যথেষ্ঠ কাঠিন্য

চোখে এনেই রূপা বলল,আপনার সাহস

তো কম না,এক মূহুর্ত সময়ের ভেতর

আপনি এখান থেকে চলে যান।ফের

কখনো এই

পথে আপনাকে দেখলে বিপদ আছে।

এই কথাটায় কিছু একটা ছিলো হয়ত।

ছেলেটা এক সেকেন্ড ও

অপেক্ষা করলোনা।অথচ এক মুহুর্ত সময়

ছিলো তার কাছে।আভিধানিক

অর্থে এক মুহুর্ত হলো দিবালোকের

ত্রিশ ভাগের এক ভাগ।কেউ

এটাকে ২৪ মিনিট না বলে ৪৮

মিনিটও বলে।এর পরই রূপার শরীর

অসম্ভব শীতল হয়ে উঠল।মেরুদন্ডের

ভেতর থেকে কিছু

একটা ছরিয়ে পরছে সমস্থ শরীরে।

কিছুর একটা স্রোত!নদীর স্রোত?

হ্যাঁ তেমনি।মোহনায় মেশার

আগে যেমন পাগল করা স্রোত

হয়,তেমনি।সেই স্রোত

যেনো থামতেই চাচ্ছিল না।

কি দরকার ছিল এর।তখনি অনুভব

করলো রূপা,ভেতর থেকে কেউ একজন

চিত্কার করতে শুরু

করেছে,'আপনি কেনো চলে যাচ্ছেন

এটা কখনোই আমার ভেতরকার

কথা ছিলোনা'

হায়!এমন কেনো হয় মানুষ?ভেতরকার

কথা থেকে যায় ভেতরে,অন্তরের

কথা কখনোই হয়না খুলে বলা!

হঠাত্ এক দলা আলো এসে ঠুকলো ঘরে।

এমনি করেই সকাল হয়?একটু একটু

করে সকাল হয় না,হঠাত্ এক গুচ্ছ

আলো চলে এসে তৈরী করে সকাল।

আগে কখনো এমনি করে দেখা হয়নি স

ধ্যান ভাঙ্গে রূপার।সকাল

হয়ে গেছে।এখনি শুরু হবে মানুষের

ব্যাস্ত চলাচল।

রূপা আয়না দেখলো,লাল

টকটকে হয়ে আছে চোখ।সারা রাত

নির্গুমতার চিন্হ।আর

পায়চারি করতে ভালো লাগছেনা।

রূপা নিজেকে প্রশ্ন করে,সেই

ছেলেটা কি আসবে আজ?

কী যেনো নাম...ওহ,ধ্রুব...কি বিদঘুটে

বাবা।হয়ত আসবেনা।কাল

যেভাবে বলা হলো,আসার কথাওনা।

তবু যদি আসে তবে?

কি বলা যাবে তাকে?

সবথেকে ভালো হয় যদি কিছু

কথা সাজিয়ে ফেলা যায়।কোন

কথার পর

কোনটা বলতে হবে ,কোনটা একটু

আবেগি কথা হবে,এমন

করে সেগুলিকে সাজানো।কিছু

উদভ্রান্ত কথা দিয়ে তো আর উন্নত

মানসিকতা প্রকাশ করা যায় না।

প্রথমে কি বলা যায়?কেমন আছেন

টাইপ কিছু নিশ্চই না।তবে?প্রথমেই

জিঞ্জেস

করা যায়,'আপনি ভালোবাসার

সংঙ্গা জানেন'?এতে তার

ভড়কে যাবার কথা।এরপর

বলতে হবে,আমার

আগে কজনকে ভালোবেসেছেন?

আমায় যে ভালোবাসেন,তার যথেষ্ট

প্রমাণ আছেতো?যদিও প্রশ্নগুলো বেশ

কঠিন হয়ে যাবে,তবু

সেগুলো করবে বলেই সিদ্ধান্ত

নিলো রূপা।এর পরই

বলতে হবে ,গতকাল

যে কথাগুলো বলেছিলেন,সেগুলো গ

বলুনতো,ঐ সময় আমি কিছু শুনিও নি আর

কিছু বুঝিওনি।তখন ছেলেটা একটু

সাহস ফিরে পাবে।

তারচে একটা কবিতা পড়ে প্রথমেই

ছেলেটাকে ভড়কে দেয়া যায়

এবং একই সাথে সাহস ও দেয়া যায়।

নির্মলেন্দু গুণের আধুনিক প্রেমের

কবিতা--

এইবার হাত দাও,টের পাচ্ছো আমার

অস্তিত্ব?পাচ্ছো না?

একটু দাঁড়াও,আমি তৈরী হয়ে নিই।

এইবার হাত দাও,টের পাচ্ছো আমার

অস্তিত্ব?পাচ্ছো না?

তোমার জন্মান্ধ চোখে শুধু ভুল

অন্ধকার।ওটা নয়,ওটা চুল।

এই হলো আমার আঙ্গুল,এইবার স্পর্শ

করো,না না না ,

ওটা নয়,ওটা কন্ঠনালী,গরলবিশ্বাসী এ

শিল্পীর

মাটির ভাস্কর্য,ওটা অগ্নি নয়,অই

আমি,আমার যৌবন।(২)

রূপার ভাবনার দরজায় টোকা পরলো।

সকাল হয়েছে অনেকক্ষন।ক্লাসের সময়

হয়ে এসেছে।সামান্য কিছু

মুখে দিয়ে কোনোমতে ঘর

ছাড়লো রূপা।

কারো দিকে তাকালোনা পর্যন্ত।

চোথে যে নির্ঘুমতার চিন্হ।

সদড় রাস্তায় এসে দাড়িয়েছে রূপা।

একটা রিক্সার জন্য অপেক্ষা।যদিও

কয়কটা খালি রাক্সাকে সে না করে

রূপা বারবার ফিরা তাকাচ্ছিল তার

পথের বীপরীত দিকে।

আসবেতো ছেলেটা?

সে প্রশ্নগুলো আবার মনে করল,সব ঠিক

আছে।কবিতাটাও ওর মুখস্থ।আবার ও ঐ

পথের দিকে তাকালো।আসবে ও?

রূপা চোখ বুঝলো,প্রার্থনার মত

করে কয়েকবার বলল,'এসো এসো এসো'

অনেকক্ষন কেটে গেলো।

মাঝখানে গুরি গুরি বৃষ্টি শুরু

হয়ে তাও থেমে গেলো।কেউ

এলোনা।'আজকে আর ক্লাস

করা হবেনা'রূপা ঐ পথের দিকেই

তাকিয়ট ছিলো।

কেনো যেনো পথটা ঝাপসা দেখত

করল।কত সময় পেরিয়েছে?

আসবেনা ছেলেটা?তাহলে কি ওর

সব আবেগ বৃথা,রাত জাগা বৃথা?কেউ

একজন ভেতর

থেকে রূপাকে কাঁদতে বলছে!কিন্তু

সে কাঁদবেনা,কেন কাঁদবে ও?

রূপা এখন অনেক কিছুই

দেখতে পারেনা,ঝাপসা চোখ।তবু

চোখ মেলে ধরে আছে।

ঝাপসা চোখেই দেখলো ওপাশ

থেকে কেউ একজন নীল রংএর শার্ট

পরে হেটে আসছে।

একবারো সে চোখ

তুলে তাকালোনা।

ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো।রূপার

কাছাকাছি এসে থেমে গেলো।

অস্পশ্ট চোখে রূপা ওর চোখ

দেখতে চেষ্টা করলো।ঐ

চোখে এতটুকু ভয় নেই,আছে এক আকাশ

বিনয়।

রূপা নিজেকে শামলে নিলো।

প্রশ্নগুলো করা দরকার।

না কবিতাটা দিয়ে শুরু করবে?

কিন্তু কি যেনো কবিতাটা?

কিভাবে যেনো শুরু হয়েছিল সেটা?

কিছুই তো মনে পড়ছেনা।

ওর নামটা যেন কি?

কি যেনো...ও,ধ্রুব,কি বিদঘুটে নামর

অথচ এটাকে কতোই না আপন

মনেহচ্ছে এখন!

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.