| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
জানিনা আজ কেন মনে এই প্রেক্ষাগৃহ নিয়ে অন্য রকম এক অনুভূতি জেগে উঠল।
হয়ত পরীক্ষার আগে প্রত্যেক মানবের মাথায় এই রকম কিছু অনুভূতি কাজ করে থাকে, অবশ্য সকল মানব এক রকম নয়। অতএব সকলের মনে সকল সমমান চিন্তা না আশাটাই বেশ সাবাভিক । প্রত্যেক সন্তানের বাবা-মা তাদের কে নিয়ে স্বপ্ন দেখে তারা যেন ভবিষ্যতে বড় চারিত্রিক কেউ হতে পারে । ইদানিং দেখা যায় , তারা চায় সন্তান যেন বড় ভারী সার্টিফিকেট এর উত্তরাধিকারী হয় । কিন্তু তারা তাদের অতি মাত্রা স্বপ্ন পূরণের চিন্তার কারণে এটাই ভুলে যায় যে ভারী সার্টিফিকেট শুধু কাজে লাগে , কোথাও চাকরি নিতে , হয়ত কোথাও বিবাহ সম্পর্ক সম্পূর্ণ করতে গেলে, কিন্তু মানুষ হতে এবং মানবিক চরিত্র গঠন করতে সার্টিফিকেট কোন প্রয়োজন পড়ে না ।
কাল এই বছরের শেষ পরীক্ষা , ক্লাস শেষে শিক্ষক মাথায় আশীর্বাদ এর জন্য হাত ভুলিয়ে দিয়েছেন , এবং বলেছিলেন রেজাল্ট যেন ভালো হয় আমার শ্রমের সম্মান তা রাখতে চেষ্টা করবি। ঠিক এক রকম আর কত জনের সাথে হয়েছে । পরীক্ষার আগ মুহূর্তে বাবা-মা মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে একটু ভিন্ন মাত্রার বাক্য বলে থাকেন , পরীক্ষার রেজাল্ট যেন ভালো হয় ,নইলে এই সমাজে সকলের সাথে স্বাভাবিক সমান ভাবে এক হয়া যাবে না । কিন্তু এখানেও তারা ভুলে যায়, যে সমাজের বড় দালান-কোঠা বসবাস কারিরা কেবল জীবিকার সৌভাগ্যবানের অংশীদার , তবে ইতিহাস প্রবর্তনের অংশীদার নয় । পরীক্ষার গৃহে প্রশ্ন আসে ভাগ্য নির্ভর হয়ে , তবে তা একালের কেউ মেনে নিতে চায় না । তাই আজ অনিবার্য নির্বিকারে ঘটনা ঘটেই চলছে । আজ কোথাও ঠাই পেতে গেলে , হাতে করে অনিবার্য ওজনের খেসারৎ নিয়ে যেতে হয় , নইলে চাকরি তো দূরের কোথা , ঠাই পাওয়া বেশ দূর্বার হয়ে যায় । যদি পরীক্ষার উচ্চ প্রচেষ্টা আর চিন্তা সকলে বুঝত তাহলে অনিবার্য ওজনের খেসারৎ নিয়ে যেতে হত না ।
একবার চিন্তা করে দেখা যাক প্রেক্ষাগৃহ এর প্রধান নিয়ম তো হওয়ার কোথা ছিল সকল মানব যেন এক হয়ে থাকে সকলের জীবনে , তবে তা হয়নি । তাই তো আজ বিভিন্ন দেশের জাতির পিতা , জাতির মা বাগ করে নিয়েছে নিজেদের দেশের ভূমি । যদি হত এক , তবে হত সর্বার্থে ঐক্য । তা না হওয়ায় আজ জন্ম নিয়েছে ভিন্ন সমাজ । খুব দুঃখ হয় , কেননা সকল তহ একি প্রজাতির মানুষ তবু কেন রয়ে গেল বিছিন্ন সম্পর্ক । সকল যদি এক হত তবে রইত না এত ভাগ বস্রতা ।
সুখ আর দুঃখ হল হত স্বতঃ সম্পর্ক , যদিও এরা একে অন্য কে ছাড়া সামনাসামনি আসে না ,তবে এরা দুজনই দুজনার ব্যাবহারের প্রতিচ্ছবি । আমি সকলের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি আমায় ক্ষমা করে দিতে ,ক্ষমা করে দিতে তাদেরও , যারা কোন কারন ছাড়া অন্নের মনের অরন্নে পাপি হয়ে জীবন চালিয়ে যাচ্ছে । কাগজ হচ্ছে একটি সীমিত পদার্থ ,যদিও এটি পুনরায় তইরি করা যায় রিসাইকেলের মাধ্যমে , তবে এটি আবার ব্যাবহার যোগ্য হয়ে উঠে । কিন্তু জীবন , এর মাত্রা ,সুযোগ , আকাঙ্খা , ভালোবাসা সবই তো একবার একবার ব্যাবহার প্রযোজ্য । মানব সমাজ তা জেনেও কিছু করেনা, কেবল অসহায় প্রকৃতির স্বভাব ধরে রাখতে চেষ্টা করে । অতএব জীবনের নমুনা হয় একবার , ভিন্ন মানব দের ক্ষেত্রে হয়ে উঠে বিভিন্ন বার । তাই সকলের উচিত কাগজের জোর কে বাধ দিয়ে , জীবনের জোর বাড়িয়ে দেয়া । কেননা জীবনের সময় সীমিত , আর কাগজের সময় বহুকাল , তাই জীবনের জোরকেই প্রাধান্য দেয়া বেশ জরুরী । আসুন আমরা সকলে জীবনের প্রতি আবেগে লিপ্ত হই, নইলে আমাদের মৃত্যুর পর ঠিকানা খুঁজে পাওয়া যাবেনা। মৃত্যুর পর মাটির সাথে আমাদের দেহ মিশে জাবে, কারণ আমরা মাটি দ্বারা তৈরি ।
কাগজের ঠিকানা খুঁজে যাওয়া যেতে পারে, তবে দেহর ঠিকানা সীমিত সময়ের পর নাও খুঁজে পাওয়া যেতে পারে। অবশেষে একটা করণীয়ও কাজ সকলের করা উচিৎ তা হল সার্টিফিকেট এর পাশা পাশি জীবন শিক্ষা গ্রহণ করা জরুরী ।
একজন মানব হাসতে কিন্তু একা সম্ভব হয় , কেননা হাসি হল পানির মত , পানি কে নড়া ছড়া না করতে দিলে পানির স্রোতের আওয়াজ শুনা অসম্ভব , ঠিক তেমনি কাউকে হাসাতে গেলে দ্বিতীয় বেক্তির প্রয়োজন পড়ে , একজন হাসির কিছু বলবে, আরেকজন হাসির ব্যাখ্যা অনুভূতি করে হাসবে ।
বিদায়ের ঘণ্টা বাজে নি তবে একদিন বাজবে, তাই আমি সকলের কাছে নিজ স্বেচ্ছায় ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি , এবং অনুরোধ করছি তারাও যেন অন্য সকল কেও ক্ষমা করে দেয় ।আমি জীবন কে উপভোগ করতে চাই, আমি সার্টিফিকেট এর মাধ্যমে জীবন কে উপভোগ করতে চাই না, কারন তা হলে জীবন আমার অন্ধকার হয়ে যাবে ।
©somewhere in net ltd.