নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সাধারণ মানুষ।

তানভীর তুর্য্য

মানুষ হোক মানুষের সহায়। কারন এই পথেই আছে মানুষের মুক্তি।

তানভীর তুর্য্য › বিস্তারিত পোস্টঃ

বই আমার বই

২৩ শে মে, ২০১৮ বিকাল ৫:৪৩


মলাটবন্দী মুদ্রিত পৃষ্ঠার নাম বই। বই জ্ঞানের প্রতীক, বই আনন্দের প্রতীক। বই আনন্দ দেয়। বই মনকে আনন্দে পুলকিত করে। বই রক্তশিরায় সুখের শিহরণ জাগায়। বই নিঃসঙ্গতা দূর করে। বই বিষন্নতা তাড়িয়ে দেয়। বই মনকে তাজা করে। তেজোদীপ্ত করে। বই প্রেরণা জোগায় কর্মচঞ্চল করে। বই মনকে সুরভিত করে। বই মানুষের মনের কালিমা দূর করে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করে। বই মগজকে জ্যোতির্ময় করে তোলে।

বই আত্মাকে পরিপুষ্ট করে, জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করে। বই হচ্ছে মানুষের সত্যিকারের বন্ধু, যা মানুষকে বুকের ভেতর সযত্নে লালন করা স্বপ্নের বাস্তব রূপ দিতে পারে। যুগে যুগে বই জীবনের মানকে উন্নত করেছে, বুদ্ধিমত্তাকে শানিত করেছে, ধারণাকে গভীর করেছে এবং এভাবে এগিয়ে নিয়েছে মানব সভ্যতাকে। বই ছাড়া মানব সভ্যতার বিকাশ সম্ভব নয়। মানুষের ভাবনার বহিঃপ্রকাশের চিরায়ত মাধ্যম বই।
চেতনার বিপ্লব ঘটাতে, নৈতিক ও মানবিক বোধ জাগ্রত করতে বইয়ের কোনো বিকল্প নেই। একজন সৃজনশীল মানুষ পৃথিবীতে বইয়ের বিকল্প কিছুই চিন্তা করতে পারেন না। সমাজ বদলাতে ও দেশের উন্নয়ন করতে চাইলে বই পড়ার বিকল্প নেই।
ভালো বই মানুষের উন্নত চরিত্র গঠনে সহায়তা করে। বই পড়া মানুষকে সত্য ও সুন্দরের পথে চলতে মানবকল্যাণে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করে। তাই সুসময়ে-অসময়ে বই হোক অবলম্বন, ভালোবাসা হোক বইয়ের সঙ্গে, বই হোক প্রিয় বন্ধু। একজন পাঠক মাত্রই জ্ঞানের সাধক, জ্ঞানের কাঙাল, জ্ঞানের উপাসক। তাই বই পড়ে একজন মানুষ জ্ঞানী হোন, নীতিবান হন, গুণী হন, বিবেক জাগ্রত আলোকিত মানুষ হোন।
বই সুুন্দর জীবনের পথ দেখায়, গড়ে দিতে পারে আদর্শের প্রেরণা। দুঃখ কষ্টকে জয় করে দুর্বার গতিতে সামনে এগোবার মন্ত্র শেখায়। অথচ বর্তমানে আমাদের সমাজের কঠিন সময় যাচ্ছে, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতীরা অস্থির সময় অতিক্রম করছে। বিশ্বায়নের ক্ষয়িষ্ণু সংস্কৃতির আগ্রাসনে ভাসছে, পথ হারাচ্ছে, বিভ্রান্ত হচ্ছে। ভালো-মন্দ বিচার করতে গিয়ে সঙ্কটে পড়ছে।
সত্য সঠিক পথ বেছে নিতে গিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় হলো ভালো বই পড়া। নিয়মিত বই পড়ে তরুণ সমাজ একদিন জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হবে। বই পড়ে মানুষ জ্ঞানী হয়। তার মধ্যে প্রকৃত মনুষ্যগুণ তৈরি হয়। তাই প্রতিদিন কিছু সময়ের জন্য হলেও বই পড়া উচিত। হাজারো ব্যস্ততার মাঝেও বই পড়ার জন্য প্রতিদিন কিছু সময় বরাদ্দ করতে হবে। তরুণ-তরুণীদেরকে ভুলের চোরাবালিতে পা ফেললে চলবে না। আগামী দিনের সুুন্দর, টেকসই, সমৃদ্ধিশালী দেশ গড়ার দায়িত্ব তাদের ওপরই ন্যস্ত। আর একটি সৃষ্টিশীল সমাজ, উন্নয়নশীল দেশ, সুন্দর পৃথিবী বিনির্মাণে বইয়ের বিকল্প কিছু নেই। মানবতার কল্যাণে জ্ঞান সাধনা করে যিনি আজও বিশ্ব ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন তিনি হচ্ছেন ইবনে রুশদ।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেছেন, ‘একেকটা বই একেকটা জানালার মতো। ঘরের জানালা দিয়ে যেমন বাইরে সব কিছু দেখা যায়, তেমনি বই পড়লেও আগামীটা দেখা যায়।’
মানবজীবনে বইয়ের গুরুত্ব বুঝাতে গিয়ে লিও টলস্টয় বলেছেন, জীবনে মাত্র তিনটি জিনিসের প্রয়োজন বই, বই এবং বই।
এ সময়ের বিখ্যাত ছড়াকার এস এম শহীদুল ছড়ার মাধ্যমে বই পড়ার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন-
‘বই-ই আসল বই
আকাশ ছোঁয়া মই-
বইয়ের ভেতর আলোর সাগর করে যে থই থই।
আসুন পড়ি বই
আলোকিত হই
বইয়ের মাঝে শিমুল-পলাশ পিঠাপুলি-খই।’
পৃথিবীতে যারাই বড় হয়েছেন, দার্শনিক, বিজ্ঞানী, কবি, সাহিত্যিক, চিকিৎসাবিদ, প্রকৌশলী, চিন্তানায়ক, আবিষ্কারক তারা সবাই বই পড়েছেন। বই-ই তাদের বড় করেছে, মহান বানিয়েছে। তাই আসুন, আমরাও বই পড়ি, বইপোকা হই। হয়ে যাই একেক জন বিশ্বসেরা আলো ছড়ানো আলোকিত মানুষ।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.