নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সাধারণ মানুষ।

তানভীর তুর্য্য

মানুষ হোক মানুষের সহায়। কারন এই পথেই আছে মানুষের মুক্তি।

তানভীর তুর্য্য › বিস্তারিত পোস্টঃ

গুজবে প্রিয় দেশ।

০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সকাল ১১:০৬



সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের দেশে ‘গুজব’ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। এমনকি গুজব সৃষ্টিকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। এখন শব্দটির অপব্যবহারও লক্ষ্য করা যাচ্ছে হাল আমলে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে দেশটাই এখন গুজবী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। বস্তুনিষ্ঠ ঘটনা ও কাজকেও গুজবের ট্যাগ লাগিয়ে একদিকে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে; অন্যদিকে নিজেদের নেতিবাচক কাজকে আড়াল করার চেষ্টাও করা হচ্ছে। শেয়ার মার্কেট, বেসিক ব্যাংক, হলমার্ক, ফারমার্স ব্যাংক, ডেসটিনি, বিসমিল্লাহ গ্রুপ, জনতা ব্যাংক এবং রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ কেলেঙ্কারীকে সরাসরি গুজব হিসেবে আখ্যা দেয়া না হলেও পক্ষ বিশেষের আত্মপক্ষ সমর্থনের ভাষা ও উপস্থাপনা দেখে মনে হয়েছে এগুলোও পরোক্ষ গুজব। সঙ্গত কারণেই এসব কেলেঙ্কারীর কুলকিনারা এখন পর্যন্ত হয়নি। হবে বলে আশ্বস্তও হওয়া যাচ্ছে না।

ইদানীং বাংলাদেশ ব্যাংকে স্বর্ণ কেলেঙ্কারী, খনি থেকে কয়লা ও পাথর নিরুদ্দেশ হওয়ার মত ঘটনাও ঘটেছে। স্বর্ণ কেলেঙ্কারীর বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আংশিক স্বীকারোক্তি দিলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর তা পুরোপুরি অস্বীকার করায় মনে হয়েছে বাঁশের চেয়ে কঞ্চিই বেশ পরিপুষ্ট। কয়লা ও পাথর চুরির বিষয়ে কর্তৃপক্ষের ভাবসাব ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’ পর্যায়ের। তদন্ত কমিটি হয়েছে এবং তদন্ত হচ্ছে। হয়তো এক সময় এর সাথেও গুজবের তকমা লাগিয়ে দেয়া হবে। সম্প্রতি রাজধানীতে বাস চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় সরকারের একজন সিনিয়র মন্ত্রী হেসেছেন। তিনি এই ঘটনাকে গুজব মনে করেছিলেন কি না তা স্পষ্ট না হলেও এ বিষয়ে তার প্রতিক্রিয়া কিছু একটা অনুমান করার সুযোগ করে দিয়েছে।
যত দোষ নন্দঘোষ’ বলে একটা প্রবাদ চালু আছে আমাদের সমাজে। ‘..যা কিছু হারায় গিন্নি বলে কেষ্টো বেটাই চোর’ এর মাধ্যমে কবি গুরু সে কথারই প্রতিধ্বনি করেছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনেও এর প্রয়োগ এখন বেশ চোখে পড়ার মত। যা-ই ঘটুক বিরোধী দল সরকারকে আর সরকারি দল বিরোধী দলকে দায়ি করার একটা অপসংস্কৃতি চালু আছে আমাদের দেশে। এখন এর সাথে যুক্ত হয়েছে কথিত ‘গুজব’ নামের এক নতুন উপদ্রপ। সর্বসাম্প্রতিক সময়ে এই প্রবণতা এতো বেড়েছে যে, সত্য ঘটনাগুলোও গুজবের সাথে একাকার হয়ে যাচ্ছে। কথিত গুজবের গজব নিয়ন্ত্রণে এখন রাজনৈতিক শক্তি এমনকি রাষ্ট্রীয় শক্তিরও সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হচ্ছে। অবস্থার যেভাবে অবনতি হচ্ছে তাতে আগামীতে ‘গুজব প্রতিরোধ আইন’ প্রণয়ন ও তা দন্ডবিধিতে অন্তর্ভুক্ত করার আবশ্যকতা দেখা দিতে পারে।
সম্প্রতি রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ২ শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের রাজপথে আন্দোলন, তাদের ওপর সরকারি দলের ছাত্র সংগঠন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলা, গণমাধ্যমকর্মীদের রীতিমত উত্তম-মধ্যম, আলোকচিত্রী গ্রেফতার ও রিমান্ডের ঘটনা ঘটেছে। কোন গণতান্ত্রিক ও সভ্য সমাজে এ ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার গ্রহণযোগ্যতা থাকে না। বিষয়টি নিয়ে যখন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে তখনই গুজব তত্ত্ব আবিষ্কার করা হয়েছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এতদসংক্রান্ত যত সংবাদ প্রচারিত ও প্রকাশিত হয়েছে সবই এখন গুজব হিসেবে আখ্যা পাচ্ছে। ভাবটা এ রকম যে, সরকার, রাষ্ট্রযন্ত্র, গণপ্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সবই গুজববাজদের কাছে অসহায়। তাই রাষ্ট্রকে গুজবের বিরুদ্ধে একটা সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা করতে হয়েছে।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.