| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বেকারত্ব একটি সামাজিক ব্যাধি ও জাতীয় অভিশাপ। এ বেকারত্ব থেকে জন্ম নেয় হতাশা। আর হতাশা থেকে সৃষ্টি হয় ক্রোধ, ঘৃণা, অবহেলা, কাজে অনীহা, দাম্পত্য জীবনে কলহ, বিবাহ বিচ্ছেদ, মাদকাসক্ত, হত্যা, আত্মহত্যা, গুম ও এসিড নিক্ষেপ, নারী নির্যাতন, দৃষ্টিভঙ্গির নেতিবাচক পরিবর্তন ইত্যাদি। এতে মানবিক গুণাবলী বিনষ্ট হয়। মানুষের আচরণ হয় হিংস্র বন্য পশু ও বিষাক্ত সাপের মতো যখন যাকে পায় তাকে দংশন করে। বেকারত্বকে পরিবেশ দূষণ ও দারিদ্র্যের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। একজন বেকার মানুষ কখনও স্বাধীনচেতা হয় না, তার থাকে না আত্মসম্মানবোধ। অন্যের শ্রদ্ধা পাওয়া যেমন তার জন্য কঠিন তেমনি তার দেয়া শ্রদ্ধা, স্নেহ ও ভালবাসা মূল্যায়িত হয় না। পরিবার, সমাজ তথা দেশে তাদের অবস্থান আগাছা কিংবা বোঝার মতো। তবে সুযোগ ও সুবিধা মতো তারা রাজনৈতিক নেতা কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
এইভাবে স্বাধীনতার ৪৬ বছরে পিতা-মাতা-নিজ সন্তান ৪৬টি প্রজন্মকে হতাশায় ফেলার খেসারত আমরা প্রতিনিয়ত দিয়ে যাচ্ছি। অথচ এই তরুণদের এসএসসি পাশের পর ডিপ্লোমা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ করে দিতে পারলে নিজ পরিবার গ্রাম সমাজ জাতির নৈতিক স্থলন থেকে রক্ষা পেত। কর্মের মাধ্যমে স্বনির্ভর গ্রাম প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পারতো। ডিপ্লোমা শিক্ষায় শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ যেকোনো দেশের উন্নয়নের মূল ভিত্তি। বিশেষ করে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের বর্তমান সময়ে শুধু কায়িক শ্রমের মূল্য প্রায় নেই বললেই চলে। ন্যূনতম ডিপ্লোমা ডিগ্রি থাকলেই শুধু কারো পক্ষে শ্রমবাজারের বর্তমান প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব। আমাদের দুর্ভাগ্য, দীর্ঘদিন ধরে ডিপ্লোমা শিক্ষা উন্নয়নে রাষ্ট্রের সীমাহীন অবহেলাই আমরা দেখে এসেছি। ফলে আমাদের জনশক্তির প্রযুক্তি জ্ঞানে দক্ষতা প্রায় শূন্যের কোটায়। আর জনশক্তি সম্পদ না হয়ে ক্রমেই বোঝার পরিণত হয়েছে।
প্রতিবছর প্রায় ১৪ লাখ ছেলে-মেয়ে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। এই বিপুল সংখ্যক তরুণদের ডিপ্লোমা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ব্যবস্থায় কোন সুনির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করেনি। তরুণদের ব্যাপকভাবে ডিপ্লোমা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ সৃষ্টি করতে প্রতিটি উপজেলায় কমপক্ষে ১০টি সরকারি/বেসরকারিভাবে কৃষি, ভেটেরিনারি, লেদার, পলিটেকনিক, টেক্সটাইল, মেডিক্যাল টেকনোলজি, নার্সিং, প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, মেডিকেল ও ডেন্টাল অ্যাসিস্ট্যান্ট স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
রাবার, মোবাইল ব্যাংকিং, এয়ারহোস্টেজ, পর্যটন, সাংবাদিকতা, বিমান পরিচালনা, সাবমেরিন, মহাকাশযান, নিউক্লিয়ার ইত্যাদি বিষয়ে ডিপ্লোমা কোর্সসহ সকল পণ্য ও পেশায় কমপক্ষে ৫০০ (পাঁচশত) নতুন ডিপ্লোমা কোর্স চালু করতে হবে। ডিপ্লোমা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ ও ছাত্র ভর্তির ক্ষেত্রে বিদেশীদের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।
ভিলেজ ভিশন ২০৫০ অনুসারে প্রতিটি গ্রামে ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী দক্ষজনবলের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমে গড়ে নিম্নোক্ত হারে মোট জনশক্তির প্রয়োজন হবে। খাদ্য উৎপাদনে- ৫২, কৃষি ব্যবস্থাপনা- ৩২, প্রকৌশল উন্নয়ন- ৮৮, চিকিৎসা নিরাপত্তা- ১১২, যোগাযোগ ক্ষেত্রে- ৩২, শিক্ষা সম্ভাবনায়- ৭২, বস্ত্র খাতে- ২১, শিল্প খাতে- ১১০, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স- ২০, বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থায়- ৪০, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে- ৯০, ক্রীড়া সাফল্যে- ৩০০, জনগুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য পদে- ৫৫, অন্যান্য- ৫০, জননিরাপত্তায়- ৫০। মোট এক হাজার ১২৪ জন ডিপ্লোমা ডিগ্রি ধারীদের মেধা ও শ্রমে প্রতিটি গ্রাম খাদ্য, কৃষি, চিকিৎসা, যোগাযোগ, শিক্ষা, বস্ত্র, শিল্প, দুর্যোগ, বর্জ নিষ্কাশন, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া, জননিরাপত্তায় মৌলিক পরিবর্তন ঘটবে। প্রতিটি গ্রামে এক একটি আধুনিক উপশহরে পরিণত হবে। মাথাপিছু বার্ষিক আয় ৫০-৬০ হাজার ডলারে উন্নতি ঘটবে। গড় আয়ু শত বছর অতিক্রম করে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের অন্যতম ধনী রাষ্ট্র।
১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১১:০১
তানভীর তুর্য্য বলেছেন: অশেষ ধন্যবাদ..... আপনাকে।
২|
১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১১:০০
আখেনাটেন বলেছেন: ভালো লাগল আপনার চিন্তা। তবে ২০৫০ এর মধ্যে মাথাপিছু আয় ৫০ হাজার এটা মনে হয় সম্ভব হবে না।
লেখার মাঝে আর একটু গ্যাপ দিলে ভালো হয়। সাথে একটা মানানসই ছবি হলে লেখাটা আরো অাকর্ষন করবে পাঠককে।
১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১১:০৪
তানভীর তুর্য্য বলেছেন: সুন্দর মন্তব্যে এবং পরামর্শের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। আমি আসলে মোবাইল থেকে পোষ্ট দিয়েছি কিন্তু মোবাইলে কিভাবে ছবি আপলোড দিতে হয় বুঝতে পারছিনা।
৩|
১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১১:৩৬
বিচার মানি তালগাছ আমার বলেছেন: আমাদের দেশে ডিপ্লোমা দের একটু নীচু ভাবে দেখা হয়। তাই সবাই অনার্স আর বিএসসি'র জন্য অনেক সময় নষ্ট করে। প্রকৃতপক্ষে ডিপ্লোমা করে কেউ বেকার থাকে না। আর মধ্যপ্রাচ্যে ডিপ্লোমা থাকা মানে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের মতই সম্মান...
১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:০৯
তানভীর তুর্য্য বলেছেন: আমাদের প্রথম ভুল, আমরা শিক্ষাকে সৃজনশীলতায় ব্যবহার করতে পারছি না। উচ্চশিক্ষা গ্রহনের পদ্ধতিতে আমরা বিশ্ব থেকে পিছিয়ে আছি। তাই আমাদের এই হীনমন্যতা কাজ করে শিক্ষা করে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো দরকার। ধন্যবাদ।
৪|
১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১২:০৭
আলআমিন১২৩ বলেছেন: ভালো লিখেছেন। স্বপ্নও সুন্দর।তবে এজন্য একজন মাহাথীর দরকার।Let us hope for the best.
১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:১৩
তানভীর তুর্য্য বলেছেন: আমরা সচেতন হলে আমাদের মাঝে গড়ে উঠবে একজন মাহাথীর কিংবা মেন্ডেলা। আত্মসচেতনতাই মানূষের মনে সুন্দর স্বপ্নের বীজ বুনে দেয়। ধন্যবাদ।
৫|
১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সকাল ৯:৫৮
রাজীব নুর বলেছেন: আমরা বাঙালিদের একটা সমস্যা হলো
আমরা মন্দ লোকের ভাল কাজটা নিতে পারিনা
আবার ভাল লোকের মন্দ কাজটা বেশ নিতে পারি
১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:১৭
তানভীর তুর্য্য বলেছেন: আমাদের একটাই সমস্যা। আমরা কাজের চেয়েও ব্যক্তিকে বড় করে দেখি। অথচ ব্যক্তি সে যেমনই হোক কাজটা সে কি করলো সেটাই মুখ্য বিষয়। আশা করি আমাদের চিন্তাধারা পরিবর্তন হবে। ধন্যবাদ।
৬|
১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৩:৫৯
জনদরদী বলেছেন: বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষার মান খুবই খারাপ । যতগুলো কারিগরি প্রতিষ্ঠান আছে সেগুলোতে মানসম্মত শিক্ষক নাই । শিক্ষকদের ভাল মত জ্ঞান নেই ছাত্রদের শেখাবে কিভাবে? আর আমরা যতক্ষণ না সার্টিফিকেটের পেছনে দোঁড়ানো না থামাব, যতক্ষণ না আমরা প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হব কোন শিক্ষা ব্যবস্থায় কোন কাজে আসবে না ।
১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:২১
তানভীর তুর্য্য বলেছেন: আমরা সবাই জানি আমাদের দেশের কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলি কেমন। তাই বলে কি বসে থাকবো?? ইউটিউব বা অন্যান্য শিক্ষামুলক ওয়েবসাইটগুলি ব্যবহার করে আমাদের দক্ষতা আমাদেরকেই বৃদ্ধি করতে হবে। ধন্যবাদ।
৭|
১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:০৩
কে ত ন বলেছেন: আমি এক্ষেত্রে উদ্যোগী হতে চাই। আমাকে আরও কিছু পরামর্শ দিন।
১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:২১
তানভীর তুর্য্য বলেছেন: শুভকামনা আপনার জন্যে।
©somewhere in net ltd.
১|
১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১০:৪২
সনেট কবি বলেছেন: ভাল বলেছেন।