| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আচ্ছা,মাছ কেনো পানিতে থাকে? আচ্ছা,মানুষ মাছ খায় কিন্তু মাছ কেনো মানুষ খায় না।এরকম উদ্ভট চিন্না করার চেষ্টা করছিলো আলিফ।কিন্তু তবু ও সেই একই কথা বারবার মনে পড়ছে।কাজটা কি ঠিক হলো? কথাটা শোনার কি খুবই দরকার ছিলো।কিছুতেই ভেবে পাচ্ছে না সে।
বিকাল ৫,৩০।সুর্য পশিমে ডুবতে বসেছে।আজ সারাদিনই মেঘলা ছিলো।তাই সুর্য টা লাল।চারদিকে লাল।পুরো বিল জুড়ে লাল আভা।দুর নদীটাকে আজ আরো ভালো ভাবে বোঝা যাচ্ছে।মাথার উপর কয়েকটা ঘুড়ি ঘুরপাক কাচ্ছে।বিলের উচু ডিপির উপর বসে উদ্ভট চিনাতায় মগ্ন আলিফ।
কোচিং এ প্রথম দেখা হয় সাকির সাথে।ধীরে ধীরে পরিচয়,ভালো লাগা,তারপর ভালোবাসা।কিন্তু আজ ও মনের কথা টা ওকে বলতে পারে নি।আজ ও একদম কাছ থেকে ফিরে আসলো।মনে হয় আর কোনোদিন বলে ওঠা হবে না।(সাকি;ফাহমিদা তাসনিম।উচু পাচফুট তিনের মতো।নিত্য নৈমত্যিক ড্রেস কালো বোরকা।ক্রিস্টান স্টুয়াটের থেকে কম পরিস্কার না।সাথে কালো ফ্রেমের একটা চশমা।ঠিক যেনো অপ্সরি।চশমা টায় সৌন্দর্যকে দ্বিগুন করিয়ে দেয়।আর আলিফ হাইট পাচ ফুট আটের মতো।হালকা গড়ন।সিক্স অ্যবস,টু জিমড মাসেল।দেখতে খুব বেশি ফরসা না।তবে মুখের আকৃতিতে একেবার রবার্ট প্যটিসন।ক্লাসের ফাস্ট বয়।খেলাধুলাতে ও অনেক এগিয়ে।পাচ ওয়াক্ত নামায পরে।যথেষ্ট নম্র,ভদ্র)(একেবারে টুইলাইট জুটি ও বলা যায়)
পরের দিন থেকে আর সাকি আলিফের সাথে কথা বলে না।পারিবারিক চাপের মুখেই আলিফ পড়াশুনায় মন দেয়।এস এস সির আর বেশি দিন বাকি নেই।বাইরে থেকে আগের মতই হাশি-খুসি।কিন্তু মনটায় যেনো শকুন খুবলে খায়।জানতে পারে সাকির সাথে অন্য একটা ছেলের সম্পর্ক আছে।দিন রাত পড়াশুনা নিয়েই ব্যাস্ত থাকার চেষ্টা করে কারন অবসর তাকে চিরাচরিত কষ্ট ছাড়া দুঃখ দেয় না।ছুটির দিনগুলোতে সাধারনত বিলে এসে বসে।
এভাবে এস এস সি শেষ হয়।রেজাল্ট ও দেয়।তার গ্রুপ থেকে শহরে প্রথম এবং বোর্ডের সপ্তম স্থান অধিকার করে আলিফ।চলে আসে বিভাগীয় সহরে।তারপর রাজধানী।স্বীয় চেষ্টার কারনে ঢাকার মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীবারের জন্য অপেক্ষা করতে হয় নি।তারপর আর পিছনে তাকাতে হয় নি।উচ্চ শিক্ষার জন্য স্কলারশিপে বিদেশ।গ্রাজুয়েশনের পর একটা চাকরি।বছর খানেক পর দেশের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমানো।
বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা।বাস থেকে নেমে রিকশায় উঠলো।কিছুদুর যাওয়ার পরই একটি প্রাইভেটের সাথে ধাক্কা।আর কিছু মনে নেই আলিফের।চোখ খোলার পর সেই চিরোচেনা মুখটা আবার দীর্ঘ ১০ বছর পর ভেসে উঠলো।টানা টানা চোখে,চাপা ঠোটের সেই সুন্দর এক ঝলক হাসি।
আজ চার বছর পর
ট্রেন লাইনের উপর দিয়ে একে অপরের হাত ধরে হাটছে সেই টুইলাইট জুটি।তবে এবার সাথে আর একজন ও আছে।ভাঙা ভাঙা কন্ঠে কথা বলছে অরি।দুর থেকে আসা ট্রেনেই হুইসেলের শব্দ শোনা যাচ্ছে।ডুবন্ত লাল সুর্যের আভা পড়ছে তিন জনের মুখে।সবকিছু মিলিয়ে কেমন যেনো স্ব্প্নলোকের সন্ধ্যা নামছে।
©somewhere in net ltd.