| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
অহনা wants To be your Friend
সাধারনত অপরিচিত কেও মেসেজ না দিলে রিকুয়েস্ট একসেপ্ট করে না।আর এক্ষেত্রে তো প্রশ্নই ওঠে না।একটা মেয়ের ক্ষেত্রে এটা প্রায়শই অসম্ভব।ফেইক ভেবে সাধারনের মত ঝুলিয়ে রাখলো অহনা কে।
পড়াশুনার আগের থেকে অনেক মনযোগ দেয়ার চেষ্টা করছে।খুব অল্প সময় ভার্চুয়ালে থাকে।রাতে ফেইসবুকে এসে একটি মেসেজ দেখল।অহনার মেসেজ
-ভাইয়া,রিকুয়েস্টটা একসেপ্ট করেন।
-আপনি কি আমারে চিনেন??
-না
-তাহলে
-আসলে আপনার লেখা গুলো পড়ে লাগলো।
-ধন্যবাদ।কিন্তু আমারে পেলেন কই??
-এইতো একটা পেইজে আপনার লিন্ক পেয়েছিলাম।সেখান থেকে আপনার টাইমলাইনের লেখা গুলো পড়ছিলাম।ভালো লাগল তাই রিকুয়েস্ট দিলাম
-ওহ।একসেপ্ট করেছি।
-ধন্যবাদ
-হুম,ওকে।অনেক রাত হয়েছেই।পরে কথা হবে।শুভ রাত্রি।
-ওকে।শুভ রাত্রি।
এভাবেই আর অহনা আর তমালের পরিচয়।ফেইসবুকে কাটানো বেশির ভাগ সময়ি তমাল অহনার সাথে চ্যাট করে কাটাতো।অল্প সময়ের মধ্যেই তারা খুব ভালো বন্ধুতে পরিনত হয়।একডিন অহনা তমালের মোবাইল নাম্বার চাই।স্বাভাবিক ভাবেই তমাল ইসলামিক মাইন্ডের এবং অন্য ধাচের ছেলে ছিলো।সে অহনার কাছে কারন জানতে চাই।অহনা তার খোলা হোয়াটস এপ অ্যাকাউন্টের প্রথম বন্ধু হিসেবে তমালকে এড দিবে বলে।অনেকটা হালকা হয়েই তমাল তাকে নাম্বার দেয়।সেদিন থেকে তারা হোয়াটস এপে ও যোগাযোগ শুরু করে।তবে শুধুই মেসেজ আদান প্রদান।কৌতুহল বশত অহনা একডিন অদিও মেসেজ পাঠায়।তমাল ও মেসেজের রিপ্লাই দেয়।কিছুক্ষন চলার পর যখন অহনে ঘর থেকে বের হতে যাবে পিছনে তাকিয়ে দেখে তার বাবা।তিনি কোনো কথা বলেন না।শুধু অহনার ফোনটা নিয়ে নেন।অহনা কনো প্রতিবাদ করতে পারে নি হয়ত ভয়ে।এর পর তার পিসি থেকে ও নেট লাইন ডিসকানেক্ট করে দেয়।পুরো ইন্টারনেট শুন্য হয়ে পড়ে অহনা।
এদিকে তমাল তার ফেইসবুক আইডিতে মেসেজের পর মেসেজ দেয় কিন্তু কোনো রিপ্লাই পায় না।হোয়াটস এপে ও মেসেজ যায় না।কোনোরকম পুর্বপরিকল্পনা ছাড়াই তমাল হঠাৎ অহনার নাম্বারে ফোন দেয়।কিন্তু নাম্বারটি বন্ধ পায়।কোনোরকম ভাবনা চিন্তা ছাড়াই তমাল ফেইসবুকে এবং ব্লগে লেখা-লিখি বন্ধ করে দেয়।রাইটার হিসেবে খুভ একটা খারাপ ছিলো না।তাই ভক্তের পরিমান ও তার কম ছিলো না।দীর্ঘদিন যাবত তারা তমালের কোনো লিখা পায় না।পরিচিত রা নিয়মিত ভাবে তাকে মেসেজ করতে থাকে।অধৈর্য হয়ে তমাল আইডি ডিএক্টিভ করে দেয়।হোয়াটস এপে ও অনেক বন্ধু ছিলো।তারা ও ঝামেলা করতে শুরু করে।শেষ-মেষ তমাল সিমটা বাদ দিয়ে দেয়।ভারচুয়াল থেকে বিদায় নেয় সে।
এদিকে অহনা তার বান্ধবীদের মোবাইল থেকে তমালের নাম্বারে ট্রাই করে কিন্তু বন্ধ পায়।দু জনই বাস্তবে ফিরার চেষ্টায় লেগে থাকে।
ইতোমধ্যেই দুই বছর অতিবাহিত হয়ে যায় তাদের ভিতর কোনো সম্পর্ক নেই।আজ তমাল ঢাকায় এসেছে জীবনের প্রথম।প্রথম লক্ষ অহনাকে খুজা।কিন্তু অহনার কাছ থেকে শুধু জেনেছিলো তারা গুলশান থাকে।কিন্তু এতোবড় ঢাকার গুলশান ই বা কোথায় আর সে খুজবেই বা কি করে।এটা তো আর তাদের গ্রামের মতো না।যে এক ঘর থেকে আর এক ঘরের খোজ নেওয়া যায়.যখন তার সাথে অহনার পরিচয় হয় তখন অহনা ক্লাস টেন এ পড়ত।তমাল ও।তাই সে মনে করে এবার হয়ত অহনার সাথে তার দেখা হয়ে যাবে কারন ভার্সিটি তে তো তাকে ভর্তি হতেই হবে।ক্ষনাক্ষরে ও তমাল টের পায় নি যে ইতো মধ্যেই অহনা কোনো এক প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি তে ভর্তি হয়ে গিয়েছে।
এভাবেই ভার্সিটি লেভেলের পড়া শেষ পড়া শেষ হয়ে যায় কিন্তু অহনার কোনো খোজ পায় না তমাল।এম,বি,এ কমপ্লিট হওয়ার পর পর ই অনেক চাকরির অফার পায় তমাল কিন্তু স্বপ্নের অফারটাকে সে ছাড়তে চাই নি।তাই লন্ডনে স্কলারশিপে যাওয়ার অফারটা সে মিস করে নি।
দুই বছর বাদে আজ লন্ডন থেকে ফিরছে তমাল।স্বীয় চেষ্টায় সেখানে একটি ছোটো খাটো চাকরি(পার্ট টাইম) যোগাড় করেছিলো।তাই এখন অনেকটা সাবলম্বী।দক্ষিনের শেষের দিকে তমালের এলাকা ছিলো।ঢাকা থেকে সরাসরি সেখানে যায়।মা-বাবার সাথে দেখা করে ২-৩ দিন বাদে আবার চকরির উদ্দেশ্যে ঢাকা মুখে রওয়া হয় তমাল।অনলাইনে পাওয়া কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আবেদন করে।ইন্টারভিউয়ের ডাক পায় সে।সর্বশেষ পর্যায়ে পারসোনাল ইন্টারভিউ কম্পানির মেইন ব্রান্চ ম্যানেজারের কাছে।
-মে আই কাম ইন?
-ইয়েস কাম ইন।
-হ্যাভ এ সিট।
-থ্যান্ক্স
-হোয়াটস ইউর নেইম?
-তাসনিম হাসান তমাল
-ফ্রম
-সাতক্ষীরা,খুলনা
দুই বছর বাদে আজ লন্ডন থেকে ফিরছে তমাল।স্বীয় চেষ্টায় সেখানে একটি ছোটো খাটো চাকরি(পার্ট টাইম) যোগাড় করেছিলো।তাই এখন অনেকটা সাবলম্বী।দক্ষিনের শেষের দিকে তমালের এলাকা ছিলো।ঢাকা থেকে সরাসরি সেখানে যায়।মা-বাবার সাথে দেখা করে ২-৩ দিন বাদে আবার চকরির উদ্দেশ্যে ঢাকা মুখে রওয়া হয় তমাল।অনলাইনে পাওয়া কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আবেদন করে।ইন্টারভিউয়ের ডাক পায় সে।সর্বশেষ পর্যায়ে পারসোনাল ইন্টারভিউ কম্পানির মেইন ব্রান্চ ম্যানেজারের কাছে।
-মে আই কাম ইন?
-ইয়েস কাম ইন।
-হ্যাভ এ সিট।
-থ্যান্ক্স
-হোয়াটস ইউর নেইম?
-তাসনিম হাসান তমাল
-ফ্রম
-সাতক্ষীরা,খুলনা
এভাবে ইন্টারভিউ শেষ হলো।কিন্তু কয়েকবার ম্যাডামকে চোখ মুছতে দেখে অবিভুত হলো তমাল।গলার স্বরটা ও কেমন কেমন।অনেকটা কান্না মিস্রিত।তবে কিছু শুনল না।সবশেষে ম্যাডাম নিজের ফোন বের করল এবং তমালের নাম্বার জানতে চাইলো।অনিচ্ছা স্বর্তে ও সে নাম্বারটি বলল এটা দেখে ও যে ম্যাডাম নাম্বারটি তার ফোনে সেভ করে নিচ্ছেন।কারন এই মুহুর্তে চাকরিটির দরকার ছিলো।
-কি কারনে নাম্বারটি নিলাম শুনতে চাইলে না তো।
-হয়ত অফিসের কোনো কাজে লাগবে তাই।এবার আসি?
-হুম
(অদ্ভুত ব্যাবহার দেখে কেমন যানো অনুভব করলো)
সন্ধ্যা ৬,২০।একটা অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন আসলো তমালের কাছে।
-আসসালামু আলাইকুম(তমাল)
-ওয়ালাইকুমুস সালাম।কোথায় এখন?(মেয়েলি কন্ঠ)
-আপনাকে ঠিক চিনলাম না।
-চিনা লাগবে না।কোথায় আছো বলো?
-না,আপনার পরিচয় না দিলে তো বলা যাবে না।আগে আপনার পরিচয় দিন.আর নাম্বারটি কিভাবে পেলেন জানান
-সকালে নাম্বারটি কার কাছে দিছিলেন?
-ওহ,ম্যাডাম।সরি আমি আসলে বুঝতে পারি নি।
-ইটস ওকে।একবার হাতির ঝিল আসতে পারবেন??
-জ্বী ম্যাডাম।আচ্ছা,আমি কি চাকরিটা পাবো؟
-হয়ত চাকরির থেকে আরো বড় জিনিস পাবেন।একবার আসুন।
-নামাজের সময় হয়ে গেছে।আমি কি নামাজটা পড়ে আসতে পারি??
-হুম,আসুন।আমি অপেক্ষা করছি।
ঝিলের এক ব্রীজের রেলিং ধরে দাড়িয়ে আছে তমাল।আকাশটা মেঘলা।বেশ ঝড়ো বাতাস বইছে।কি কারানে ম্যাডাম এখানে আসতে বলল? কি জিনিস ই বা পাবো? বাস্তবতা ভুলে চিন্তিত তমাল দাড়িয়ে আছে।নিচে পানির হালকা শব্দ কানে আসছে।তবে পিছনের গাড়ির শব্দটি শুনতে পায় নি সে।
হাতের উপর একটি হাতের স্পর্শ।ছোট থেকে ফরসা আর লন্ডনে যেয়ে যানো আরো ফরসা হয়ে গিয়েছে তমাল।তবু ওই হাতটায় যেনো বেশি ঝিলিক দিচ্ছে।রোড লাইটের আলো সেটিকে বেশি ফুটিয়ে তুলল।অবাক হয়ে তাকালো তমাল।একি ম্যাডাম যে।
প্রথমবার ম্যাডামের দিকে তাকালো সে।তাজ্জব হয়ে তাকিয়ে থাকলো।হা…এতো সুন্দর চেহারা আগে কখন ও সে দেখে নি।বাতাসে চুল গুলো মুখে এসে পড়ছে।চমকানো আকাশের আলো আর রোডলাইটের আলোতে হলুদাভ মুখটি এক অজানা অনুভুতির সৃষ্টি করলো তমালের বুকের ডান পাশে।ম্যাডামের ডাকে সম্ভিত ফিরে পেলো তমাল
-সরি ম্যাডাম
-এখন ও ম্যাডাম বলেই ডাকবে????
-মানে??
-আমি অহনা. . .
অজান্তেই তমালের চোখ দিয়ে পানি বের হয়ে গেলো।অহনা ও আর আটকাতে পারলো না।তমালের মুখে চাপা হাসি।নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলো না অহনা।মুখ গোজার চেষ্টা করলো তমালের বুকে।তমাল ও আকড়ে ধরলো অহনাকে।এটাই প্রথম।তবু ও অহনা বুঝতে পারলো তমালের হৃদযন্ত্রের শব্দ সাধারন নয়।অনেক দ্রুতই প্রতিফলিত হচ্ছে অহনার কানে।কেও কিছু বলতে পারলো না।
দুজন হাটছে।দুটি আঙুল দুজনকে ধরে রেখেছে।পাশ দিয়ে যাওয়া হাজার হাজার গাড়ির শব্দ তাদের কানে পৌছাচ্ছে না।হয়ত মনে মনে কথা হোছে।রোদলাইটের রঙিন আলোয় দুজনের মুখ আবছা বোঝা যাচ্ছে।স্বপ্নলোকের পথে হাটছে অহনা আর তমাল. . .
©somewhere in net ltd.