নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

একটি ক্ষুদ্র লেখিকা।এই ব্লগে নতুন।সাথে থাকবেন।ভালো কিছু দেওয়ার চেষ্টা করব।ধন্যবাদ।

টুইলাইট

26.08.1997

টুইলাইট › বিস্তারিত পোস্টঃ

অপরাধী হয়ে লিখছি

৩১ শে মে, ২০১৫ দুপুর ১২:৪২

লিখা-Tamal

সারা নিউজফিডে একটায় নিউজ আমি গোল্ডেন পাইছি,আমি এ প্লাস পাইছি।

হাইরে এ প্লাস।১০ বছরের সাধনা।প্রত্যেক ছাত্র/ছাত্রী,তাদের পরিবারের স্ব্প্ন থাকে দীর্ঘ পরিশ্রমের একটা ভালো ফল।কিন্তু ভালো ফল যদি না হয় তাহলে সমাজের চোখে সেই যেনো বিষ।জাতে বাঙালি তো,মুখে কেও কম যায় না।ছাত্র তো ছাত্র,তার চৌদ্দ গুষ্টির এক্কেরে আজ্রাইয়া ছাড়ে।

আমার একটা প্রিয় ইন্ডিয়ান বাঙলা মুভি আছে।নাম "বস"।সেখানে একটা ডায়ালগ আছে।এরকম 'সবাই বলে যে ইশ্বর ভালো লোকদের কে দ্রুত তাদের কাছে টেনে নেয়,কিন্তু আসলে তা না।বরং তার চারপাশের লোকেরাই তাকে উপরে ঠেলে দেয় "ব্যাপারটা এরকমই।পাবলিক পরিক্ষার রেজাল্ট সমুহের পর অনেক ছাত্র/ছাত্রী আত্মহত্মার পথ বাছে। আসলে তারা এটা বাছে না,তাদের আশে পাশের লোকই তাদের বাছায়।আরো একটা প্রিয় মুভির একটা ডায়ালগ "টাকা থাকলে কালিপদ না থাকলে ক্যেলো"।হ্যা,এটাই বাস্তবতা।যখন একটা স্টুডেন্ট ভালো রেজাল্ট করে তখন সমাজ তাকে মাথায় তুলে নাছায় কিন্তু ভাগ্য ক্রমে যদি সে খারাপ করে তাহলে তো আর কোথায় নেই।আর যেহেতু সাধারন্ভাবেই আমরা বাঙালিরা অনুকরন প্রিয় সেহেতু তার পরিবারবর্গ ও তাদের ন্যায় শুরু করার আগে দুবার ভাবে না।

এটা গেলো সমাজের কথা।এবার আসি নিজের কথায়।দুরে যাবো না।নিজের উধাহরনই দেয়।২০০৯ সালে পি,এস,সি পরিক্ষায় অংশ নেয়।সে সময় ৫ এ এ প্লাস ছিলো না,তবে ফার্স্ট ডিভিশনে পাস করি।তবু ও বৃত্তি পায়নি।জে,এস,সি দেয় ২০১২ সালে।প্লাস মিস করি কৃষি সিক্ষা বিষয়ে।যাক বৃত্তির তো আর প্রশ্নই আসে না।২০১৫;এস,এস,সি দিয়েছিলাম।প্লাস পেলাম না ৪ টা সব্জেকেটে।বাংলায় মাইনাস,আর গনিত,উদ্যোগ আর সায়েন্সে এ গ্রেড।বিলিভ মি অর নট ক্লাস নাইন থেকে এস,এস,সির আগ পর্যন্ত যে কয়টা পরিক্ষা দিছি তার একটাতে ও উদ্যোগ আর সায়েন্সে প্লাস মিস হয়েছে বলে আমার মনে পড়ে না।জানলে অবাক হবেন আমাদের উদ্যোগ টিচারের করা প্রশ্নই আমরা এস,এস,সি দিয়েছি।মিস হওয়ার কোনো কারন দুপুর থেকে এখন ও ভেবে পেলাম না।আর হ্যা সায়েন্সের কথা আমাদের শিক্ষকরা আগে থেকেই সতর্ক করেছিলেন।উধাহরন দিয়েছিলেন আমাদের পুর্বের ব্যাচ দের দিয়ে।তারা আমাদেরকে শুধু পড়তে বলেছেন বাট আই এম ভেরি সরি টু সে তারা কেনো যে ওই সিনিয়াররা মিস করেছে,কি ছিলো তাদের উইক পয়েন্ট তা সম্পর্কে আমাদের অবহিত করা হয়নি।হ্যা,এবার বলতে পারেন চোরের মার এতো বড় গলা কিসের।পরের প্যারায় আরো কিছু বলব তার আগে এর কন্সিকুয়েন্স সম্পর্কে বলি।আজ আমি ৭ খুন করা অপরাধীর চেয়ে বড় অপরাধী।যে কিনা গতকাল ও ছিলাম সবার চোখের মনি আজ হয়ে গেলাম চোখের বিষ।সমাজে চলার কোনো স্থান ই আর আমার নেই।কারন আমি এ+ পায়নি।সমাজই আমার হেনস্ত করির প্রথম ধাপ।

আচ্ছা,এবার আসি নিজের কথায়।মন দিয়ে কখন ও তেমন পড়ি নি তবে নিয়ামানুযায়ি ছোটো থেকে আসা ছিলো একটা এ+ অন্তত এস,এস,সি তে হবে।এটা খুব বেশি কঠিন না।হ্যা,যদি ও আমি আমার রেজাল্ট নিয়ে খুব সন্তুষ্ট নয় তবু ও রেজাল্ট শুনার পর ছোটো করে একটা আলহামদুলিল্লাহ বলতে ভুলি নি।কারন আমার কর্ম অপেক্ষা অনেক বেশি ই আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন।একচুয়ালি এতো টা পাওয়ার যোগ্যতা আমার ছিলো না।তবু ও এ জগতে হায়,কে এ+ পেতে চায়।ক্লাসের ফাস্ট বয়টা যেমন আশে করে সে গোল্ডেন পাবে তেমনই টেষ্টে ফেল করে এস,এস,সির সুযোগ পাওয়া ছেলেটা ও এ+ পেতে চাই।আমি ও চেয়েছি কিন্তু পায়নি।এখন আমি পরিবারের বোঝা।১৬ বছর ধরে শুধুই তাদে অন্য ধংস করে গেলাম।কি দিতে পারলাম তাদের।কিছুই না।আগের কথা বাদ দেয়।এবার তো সবাই আমার কাছে একটা ভালো ফলাফল প্রত্যাশা করেছিলো।তা ও দিতে পারলাম না তাদের।এটা গেলো পরিবারে ব্যাপার এবার আসি নিজের কথায়।বিশ্বাস করুন বা না ই করুন এটায় আমার জীবনের এখন ও পর্যন্ত পাস করা সবথেকে কঠিন দিন।সাধারন এ+ না পাওয়ে আর পেতে পেতে ফিরে আসার ভিতর অনেক পার্থক্য।যারা এরকম কানা ঘ্ষে ভেরিয়ে আসে শুধু তারাই জানে।জানিনা ভবিষ্যতে কি হবে কিন্তু সারা জীবন একটায় হতাশা থাকবে;ইস্স,এস,এস,সি তে এ+ পায়নি।একটা গিল্টি ফিলিং।সারাজীবন বুকের ভিতর টা খুবলে খাবে…

এবার আসি শিক্ষা ব্যাবস্থায়।এটা অশ্বমেধ জগ্যের মতো।প্রকৃতপক্ষে যারা এর সাথে জড়িতো তারা ছাড়া এর সম্পর্কে কেও জানে না।হয় ঘোড়া হয়ে ঘোরো না হয় ঘোড়া কে ঘুরাও।তাই এই সম্পর্কে বেশি কিছু বলব না।

তবে একটা গল্প বলি।আমাদের ফাস্ট বয়কে নিয়ে।নাম আলিফ।ভালো স্কুল মানে রাজউক/আইডিয়ালের কোনো স্টুডেন্ট কে দেখার কোনো সৌভাগ্য হয়নি।কিন্তু এই ছেলেটা কে দেকেছি।পড়া শুনা কারে বলে আসলে এর কাছ থেকে শেখা উচিত।কোন পরিস্থিতির মধ্যে থেকে কিভাবে সে সবাইকে তাক লাগিয়েছে সেটা তার সংস্পর্শে যারা ছিলো না তারা ছাড়া কেও জানে না।একটা ঘটনা বলি।ক্লাসে একদিন কুইজ চলছিলো।প্রশ্ন কর্তা প্রশ্ন করল,সে উত্তর দিলো।প্রশ্নকর্তা তার উত্তর টি ভুল বলে অভিহিত করলে সে বইয়ের কতো পৃষ্ঠার কতো প্যারার কতো নাম্বার লাইনের কতো নাম্বার ওয়ার্ড সেটা বলে দিলো।সবাই তার দিকে তাকায় নি।তাকিয়ে ছিলাম হেড স্যারের দিকে।কারন তিনি হা হয়ে তার দিকে চেয়ে ছিলেন।এরকমই।অনেক বইয়ের অনেক অংশ এভাবেই তার মুকস্থ ছিলো।এই ছেলেটা গোল্ডেন পায়নি।সেই সায়েন্সে।কিন্তু কেনো।??নিজের কথা ভেবে অবশ্যই খারাপ লাগছে কিন্তু তার কথা ভেবে আরো খারাপ লাগছে।কারন আমি মনে করি সে তার প্রাপ্ত ফল পায়নি।আর আমাদের সকলের একটা বিশ্বাস,আশা ছিলো ব্যাবসায় শিক্ষা থেকে একটা সিওর গোল্ডেন আর সেই হলো সে যেটা ওই পরিস্থিতিতে ব্যাবসায় শিক্ষা শাখার মুখ উজ্বল করার জন্য যথেষ্ট…

আসি মিডিয়েতে।আজকে আমাদের মিডিয়ে গুলোর কাজ কি জানেন।দেশের যতো নামি দামি স্কুলের সামনে একটা ফালতু দিন কাটানো পাবলিক পরিক্ষার রেজাল্টের দিন গুলোতে।কেনো তারা কি আলিফের মতো ছেলেদের দেখতে পায় না?? না,পায় না।এটা ও আমাদের সমাজের নিয়ম।তারা আবার টপ টেন নির্বাচন করে আর তাদের স্পেশাল সাক্ষাতকার দেয়।কেন?? সে ও গল্ডেন,আমাদের জিসান ও গোল্ডেন তাহলে তাদের ভিতর এতো নির্নয়ের কি দরকার?? আর একটা কথা,বিশ্বাস করুন বা না করুন আমি আপনাকে প্রমান দিতে পারি এই দিনগুলোতে ফিমেইল স্টুডেন্টদেরই বেশি সাক্ষাতকার নেয়ে হয় মেইলদের তুলোনায়।হলফ করে বলতে পারি ১০ জনের সাক্ষাত্কার নিয়ে ৮ জন ই মেয়ে।কারনট আমার অজানা।আর আমি মনে করি ওই নয়টা টিচারের কাছে বাপের হিউজ ব্লাক মানির ভান্ডারের স্বল্প টাকা নষ্ট করা মেয়ের দুশরিত্রা গোল্ডেন পাওয়া মেয়ের চেয়ে ৩ টা টিচারের কাছে পড়ে আলিফের মতো এ+ পাওয়ার মর্ম অনেক বেশি।কিন্তু আলিফের মতো ছাত্র রা চিরদিনই মিডিয়ার ধরাছোয়ার বাইরে থেকে যাবে।কারনটা সমাজ।

আসি রাজনীতিতে।চিরকালের নিয়ম শিক্ষিতের শিক্ষিত বুদ্ধি একটু বেশি ফলপ্রসু।এক ফহিন্নির ডাকে সাড়া দিতে যখন দেশের মানুষ কুকুরে পরিনত হয়েছে,১ মাসের এক্সাম ২ মাস লাগাচ্ছে তখন সবার আশা এবার হয়ত ছাড় দেওয়া হবে রেজাল্টের জন্য।কিন্তু তার এমন বুদ্ধি কে ই বা আচ করতে পেরেছিলো।পাসের হার এক কথায় রেজাল্ট ভালো করার কথা ভুলে উল্ট বিরোধীর কাজের খারাপ ফলটা দেখানোর জন্য পুরো রেজাল্ট আরো খারাপ করিয়ে দিলেন।ব্যাচ;বলির পাঠা হলাম আমরা।

এবার ভবিষ্যতে।এ+ পায় নি।সারা জীবনের কান্না।কোনো ভালো জায়্গাই এডমিট হতে পারবো না,চাকরি পাবো না আরো কতো কি।এক অজানা ভবিষ্যতের পথে নতুন করে হাটা শুরু।

নতুন ভাবনাঃকান ঘেষা এই রেজাল্টের আশা কখন ও করি নাই।শোনার পর পার নিচ থেকে মাটি সরে গেলো।তবু একজনের সাথে তর্কাতর্কিতে হেরে গেলাম।পরাজয় মেনে নিলাম।ভেবেছিলাম বাড়ি আর ফিরবো না,তবু ও ফিরলাম।হ্যা,এখন বুঝেছি।জীবনটা তো আমারই তাহলে অন্যের সমালচোনায় কেনো তা নষ্ট করবো??না খেয়ে বাইরে ঘুরে বেড়ালে কি তারা দু মুঠো ভাত দিয়ে বলবে নে,খেয়ে নে।বলবে না।বলার সেই মা-বাবাই বলবে।হায়রে ভেবেছিলাম হয়ত বাড়ি না আসতেই কিনা কি হবে।আসলে তেমন কিছুই হলো না।সব মা-বাবাই তার সন্তানের কাছ থেকে ভালো রেজাল্ট আশা করেন তবে তার জীবনের বিনিময়ে তো নয় আরো জদি প্রথম কলিজাটাকে হারানোর পর দ্বিতিয় কলিজা হয়।একবার হেরেছি বলে কি বারবার হারবো?? কেবল তো জীবনের শুরু,এখন ও তো অনেক বাকি।আরো একবার তাদের কে কিছু দেওয়ার চেষ্টা করি।কি লাভ,নিজের জীবনটা উচ্ছেনে দিয়ে? সত্যি তো একটা পরিক্ষার খাতা কি কখন ও একজনের জীবন নির্ধারন করতে পারে?? না পারে না।বরং তাকে শিখাতে পারে নতুন করে বাচার মানে।আসলে কোনো কিছুর ই এন্ড নেই।এন্ড মানে ইফর্ট নেভার ডাইস।যেখানেই শেষ সেখানেই শুরু।নিঃশব্দ এই রাতকে নতুন করে মাতানোর জন্যে আবার লেগে পড়ি।কোনো পিছুটান তো নেই।সান্তনা দেওয়ার কেও নেই।তবু সমর্থন দেওয়ার জন্যে তো মা-বাবা আছেই।পাস্ট ইজ পাস্ট।উই সুড নট অয়ারি এবউত হোয়াট উই হ্যাভ লস অন পাস্ট্রেদার ঔই সুড ফকাসিং অন হোয়াট উই হ্যাভ টু গেইন অন ফিউচার।

তাই তো মহাপাগল তমাল বলিয়া গিয়াছেন,"১০ বছরের সাধনা ১০০ বছরে পাথেয় হতে পারে না,বরং ১০ বছরের সেরা ভুলের শিক্ষাটা ১০০ বছরের ইন্সুরেন্স হতে পারে"।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.