| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সাহাদাত উদরাজী
[email protected] ০১৯১১৩৮০৭২৮গল্প ও রান্না udrajirannaghor.wordpress.comপ্লে স্টোরে ‘গল্প ও রান্না’ এন্ড্রয়েড এপ্লিকেশন! আনন্দ সংবাদ! বাংলা রেসিপি নিয়ে এই প্রথম প্লে স্টোরে এন্ড্রয়েড এপ্লিকেশন! ‘গল্প ও রান্না’ এখন Play Store এ Apps হিসাবে আপনার হাতের কাছে। নেট কানেশন বা WiFi জোনে থেকে Play Store এ যেয়ে golpo o ranna বা “Golpo O Ranna” বা “com.udraji.rannaghor” লিখে সার্চ করলেই পেয়ে যাবেন। খুব সহজেই আপনি আপনার এন্ড্রয়েড মোবাইলে ‘গল্প ও রান্না’র আইকন ইন্সটল করে নিতে পারেন। ফলে আপনাকে আর মোবাইলে আমাদের সাইট দেখতে লিঙ্ক বা কোন ব্রাউজার ব্যবহার করতে হবে না। নেট কানেশন বা ওয়াইফাই জোনে থাকলেই আপনি ওয়ান ক্লিকেই গল্প ও রান্না দেখতে পাবেন।
মানুষের জীবন পুরাই গল্প, বলা চলে প্রতিটে সেকেন্ডেই গল্প তৈরী হয়! সংক্ষেপে নিজের জীবন থেকেই দুটো তুলে দিচ্ছি!
বড় ছেলে/-
সত্য বলতে দ্বিধা নেই, আমি আমার বাবাকে অনেক মানসিক কষ্ট দিয়েছি, আমার বাবা আমাকে অন্য দুই ছেলের তুলনায় একটু বেশী আদর করতেন, যা আমি বুঝতাম, তিনি আমাকে কখনো সরাসর কিছু বলতেন না, তবে আমার আচরণে তিনি যে কষ্ট পেতেন তা এখন বুঝি (সেই সময়ে আমি বুঝি নাই), আমি একটু চালাক চতুর আর স্বাধীনচেতা ছিলাম। আমি স্কুল লাইফেই আড্ডা দিয়ে রাতে ফিরতাম, রাতে ৪/৫টা পর্যন্ত সোফায় পা তুলে টিভি দেখতাম, ভোরে ঘুমাতাম, বেলা ১২টায় উঠতাম, সময় মত খেতাম না, আমার জন্য আম্মা টেবিলেই খাবার রেখে দিতেন, যখন ইচ্ছা খেতাম ইত্যাদি ইত্যাদি। আবার বাসা থেকে পালানোর ইচ্ছাও হত এবং একবার সত্যি সত্যি এক বছরের জন্য পালিয়েও গিয়েছিলাম (ফেইসবুকে সাক্ষীও আছে, যার এই গল্প চোখে পড়বেও)। তিনি যে আমার আচরণে মনোকষ্ট পেতেন, তা এখন নিশ্চিত, কারন আমি রাতে না ফেরা পর্যন্ত তিনি ঘুমাতেন না, আম্মা সহ সবাই ঘুমালেও তিনি ঘুমের ভানে জেগে থাকতেন। আমি বাসায় প্রবেশ করেছি (কখনো আমি নিজেই চিটকারী খুলতে পারতাম বা তিনিই কখনো খুলে দিতেন), এটা ফিরছি বুঝলেই তিনি উঠে ওয়াস্রুমে যেতেন এবং তার পরেই সেই রুম থেকে আর কোন শব্দ পেতাম না! দুপুরে আম্মা প্রায় বলতেন, তোর কারনে তোর বাপে ঘুমায় না! যাই হোক, ঠিক সেইম বিষয়টা আমার বড় ছেলে আমার সাথে করে! আমি আমার বড় ছেলের দিকে তাকাই আর চিন্তা করি, যে যা করে তা ফিরেই আসে! বিচার বরাবর!
ছোট ছেলে/-
আমার দুই ছেলের বয়সের ব্যবধান ১১ বছর! ফলে দুইটা দুই মুখি। বড় ছেলের এখন আমার দরকার না পড়লেও ছোট ছেলের দরকার আছে ফলে আমি তাকে একটু বেশী চোখে রাখি এবং সে যেহেতু এখনো ১৮ পার করে নাই, ফলে দায় আমার বেশী। আর যদি মরে যাই তবে ছোট ছেলের যেন আদরে আপত্তি না থাকে ফলে যা চায়, সেটাই কথা ছাড়া দিয়ে দেই বা করেই ফেলি! না, এমন নয়, সেই আমার বাবার কথায় ফিরে আসি। আমার বাবা খুব সৌখিন ভদ্রলোক ছিলেন, উচ্চা লম্বা গায়ের রঙ ফর্সা ছিলো, মানে যাকে বলে ফুরফুরে মানুষ, ক্লিন সেভ এবং সেই আমলেই স্নো সেন্ট পাউডার দিয়ে ঝকঝকে হয়ে বাইরে যেতেন, পেটা শরীর সুদর্শন। তিনি গান ভালবাসতেন, যা আমি নিজে দেখেছি বা বুঝেছি, আমাদের সেই আমলেই বাসায় হারমোনিয়াম ছিলো কিন্তু কালের আবর্তে সম্ববত বিয়ের পরে আমাদের জন্মের পরে তিনি তা ভুলতে বসেছিলেন বা হারিয়ে ফেলেছিলেন, খুব ভোরে উঠা, নামাজ পড়া আমরা দেখেছি তবে গান গাইতে তেমন দেখি নাই। আম্মা বলতেন, তিনি হারমোনিয়াম বাজিয়ে কয়েকটা গান গাইতে পারতেন! আমারও আলিঝালি মনে পড়ে! যাই হোক, গতকাল সন্ধ্যায় বাসায় আমি আর আমার ছোট ছেলে, বড় ছেলে আড্ডায় এবং ওর মা রামপুরা গিয়েছে। আমি এই ফাঁকে সোফায় বসে ক্যারিওকে দিয়ে বেশ গলা ছেড়ে গান ধরলাম, 'বন্ধে মায়া লাগাইছে দোওয়ানা বানাইছে, কি যাদু করিয়া বন্ধে দোওয়ান বানাইছে......'! ড্রইং রুমে আমি একা, গানের মাঝে ছোট ছেলে অন্যরুম থেকে এল, আমার পাশে বসলো। হাতে ট্যাব থাকলেও আমার গানে তার নজর, যদিও সে আসার পরে আমি কিছুটা লাজুক! গান শেষ হবার পরে সে বলল, বাবা তোমার গান আমার ভাল লাগে, তুমি এভাবে গান গাইতে পার এটা আমাকে আনন্দ দেয়!
জীবন আসলেই অদ্ভুত! আমার অনেক কিছুই হবার ইচ্ছা ছিলো, কিছুই হতে পারি নাই, এমন কি আমার পরিচয়ও এখন মিয়মান, সেই বাউন্ডেলেই রয়ে গেলাম!
নয়াপল্টন, ঢাকা। ২৪/০১/২০২৬ইং
©somewhere in net ltd.
১|
২৪ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪১
নতুন নকিব বলেছেন:
আপনার জন্য শুভকামনা রইল।