| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মনিরুল ইসলাম মিলন
মনিরুল ইসলাম মিলন প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি জাতীয় পার্টি
পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের উন্নয়ন ও সুশাসনের ৯ বছর এবং আগামী দিনের লক্ষ্য-- জাতীয় পার্টি
উন্নয়নের স্বপ্ন দ্রষ্টা পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ
দেশের মানুষ যেদিকেই তাকাবে সেদিকেই আমার উন্নয়নের ছোঁয়া দেখতে পাবে। এ কথাটি যিনি বলেছিলেন, তিনি পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দক্ষ ও সফল রাষ্ট্রনায়কের সম্মানে অভিহিত এই ব্যক্তিত্বকে বলা হয় নতুন বাংলার স্বপ্নদ্রষ্টা। ক্ষমতাসীন হয়েই তিনি বললেন, ৬৮ হাজার গ্রাম বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে। বাংলার মানুষ তাই তাঁকে স্বতঃস্ফুর্তভাবে উপাধী দিয়েছে পল্লীবন্ধু। একজন দক্ষ প্রশাসক ও কবির স্বপ্ন একসঙ্গে একাকার হয়ে ছিলো বলেই তিনি হতে পেরেছেন গতিশীল, আধুনিক ও মানবতাবাদী মনের মানুষ। তিনি নিজের প্রজ্ঞা, জ্ঞান ও শিক্ষা দিয়ে গড়ে তুলতে চেয়েছেন নতুন বাংলাদেশ। তাই তিনি বৃটিশ আমলের ঘুনেধরা প্রশাসন ভেঙ্গে দিয়ে সৃষ্টি করেন উপজেলা পদ্ধতি-জনগণের নির্বাচিত প্রশাসন ব্যবস্থা। যুগ-যুগান্তরের আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থা তিনি পরিবর্তন করেন। প্রশাসনকে বিকেন্দ্রীকরণ করেন। বাস্তবায়িত করেন যোগাযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা, পল্লী উন্নয়ন, শিক্ষা-স্বাস্থ্য, ভূমি সংস্কার, টেলি যোগাযোগ নেটওয়ার্কের হাজার হাজার প্রকল্প। এরমধ্যে কৃষি ও শিল্প উন্নয়নমুলক প্রকল্পের সংখ্যাই বেশী। এছাড়া সড়ক উন্নয়নসহ যোগাযোগের আধুনিকায়ন তো আছেই। রাষ্ট্রনায়ক এরশাদ, উন্নয়নের স্বপ্নদ্রষ্টা এরশাদ, নতুন বাংলাদেশের স্বাপ্নিক এরশাদ, মানব দরদী এরশাদ, শিক্ষা বিস্তারে এরশাদ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান উন্নয়নে এরশাদ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে এরশাদ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে এরশাদ, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি কর্মসূচীতে এরশাদ, শ্রমিক-কর্মচারীদের কল্যানে এরশাদ, দুঃস্থ মানুষের প্রেমিক এরশাদ, ক্রীড়াঙ্গনে এরশাদ, সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এরশাদ। এরশাদ সম্পর্কে মহাকাব্য লিখেও শেষ করা যাবে না।
ইতিহাস সৃষ্টিকারী এই রাষ্ট্রনায়ক রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে দুই দফায় সাড়ে ছয় বছর কারাগারে আটক ছিলেন। কিন্তু তাঁর স্বপ্নে ছিলে দেশ ও জনগণের কল্যান সাধন। জেলখানার অন্ধ প্রকোষ্ঠে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়তেন- তবুও ভাবতেন দেশের কথা। দেশ যখন বিপন্ন, মানুষ যখন মানবেতরের চরম সীমায় পল্লীবন্ধু এরশাদ তখন জেলের জিঞ্জির ছিন্ন করে বেড়িয়ে এলেন। তিনি দেখলেন যে দেশকে তিনি সযত্নে সাজিয়েছিলেন সে দেশ ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে গেছে। মানুষের সুখ-শান্তি সমৃদ্ধি ভেঙ্গে খানখান হয়ে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক সাচ্ছন্দ্য বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বলতে কিছুই থাকছেনা। কারামুক্ত পল্লীবন্ধু এরশাদ আর স্থির থাকতে পারলেন না। শুরু হলো আবার তাঁর যাত্রা। এ যাত্রা ভিন্ন আঙ্গিকে। হিংসা-হানাহানির রাজনীতির বিরুদ্ধে সুষ্ঠু স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টির রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করলেন পল্লীবন্ধু। আবার এদেশে উন্নয়ন সমৃদ্ধির ধারা ফিরিয়ে আনা এবং জনগণের নিরাপত্তা-সুখ-শান্তি নিশ্চিত করার সংগ্রামে ব্রতি হলেন এদেশের ইতিহাসের সফল রাষ্ট্রনায়ক পল্লীবন্ধু এরশাদ। তিনি নিরলসভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন এদেশের দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোঁটানোর লক্ষ্যে। পল্লীবন্ধু এরশাদ কথার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নন-তিনি কাজের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন। তাঁর অতীতের কর্মকাণ্ডের দিকে তাকালেই এ কথার প্রমাণ পাওয়া যাবে। এদেশের এমন কোন গ্রাম নেই -এমন কোন শহর নেই-যেখানে পল্লীবন্ধু এরশাদের উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। এখনো এই বাংলাদেশের যেদিকেই দৃষ্টি যাবে সেদিকেই দেখতে পাওয়া যাবে পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের উন্নয়নের কর্মসূচী। এই মহানায়কের উন্নয়নের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি এখানে তুলে ধরা হলো।
৬৮ হাজার গ্রাম বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে
* পল্লীবন্ধু এরশাদ প্রবর্তিত ৪৬০টি উপজেলার ফলশ্রুতিতে প্রশাসনই শুধু গ্রামের মানুষের কাছে যায়নি- উন্নয়নের জিয়নকাঠি চলে গিয়েছিলো গ্রামে। জনগণের দোড় গোড়ায় বিচার ব্যবস্থা পৌঁছে গেছে।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ গ্রামে গ্রামে রাস্তাঘাট, পুল, কালভার্ট, দালান-কোঠা নির্মানের ফলে ৬৮ হাজার গ্রাম লাভ করেছে শহরের আমেজ।
* পল্লীবন্ধু এরশাদের পল্লী বিদ্যুতায়ন কর্মসূচী গ্রামকে করেছে বিদ্যুতায়িত।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ ২১টি জেলা ভেঙ্গে ৬৪টি জেলা করেছেন। বৃটিশ আমলের সেই মহকুমাগুলো এখন পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসেবে দেশবাসীর কাছে পরিচিত হয়েছে। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদ সৃষ্টি করে প্রশাসনে গণপ্রতিনিধিদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ ইউনিয়ন পরিষদকে শক্তিশালী করেছেন। তিনি ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদকাল ৩ বছর থেকে ৫ বছরে উন্নিত করেছেন।
শিক্ষা ব্যবস্থায় এরশাদ
* পল্লীবন্ধু এরশাদ বাধ্যতামুলক প্রাথমিক শিক্ষা প্রবর্তন করেছেন।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ গ্রামের মেয়েদের জন্য অষ্টম শ্রেনী পর্যন্ত বিনা বেতনে লেখাপড়ার ব্যবস্থা করেছেন।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ সারা দেশে শতাধিক কলেজ এবং দেড় শতাধিক স্কুল সরকারিকরণ করেছেন।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ খুলনা, সিলেট এবং কৃষ্টিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ দিনাজপুরে হাজী দানেশের নামে একটি কৃষি কলেজ করেছেন।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ বেসরকারী স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের জন্য সরকারি অনুদান ৩০ ভাগ থেকে বৃদ্ধি করে ৭০ ভাগ করেছেন।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য কয়েক কোটি টাকার অনুদান দিয়েছেন।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ছাত্রাবাস নির্মাণ এবং ছাত্র-শিক্ষকদের জন্য কয়েক কোটি টাকার অনুদান দিয়েছেন।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ছাত্রাবাস নির্মাণ এবং ছাত্র-শিক্ষকদের যাতায়াতের জন্য গাড়ি দান করেছেন।
যোগাযোগ ব্যবস্থায় পল্লীবন্ধু এরশাদ
* পল্লীবন্ধু এরশাদ অসংখ্য রাস্তা, পুল, সেতু, কালভার্ট নির্মাণ করেছেন, যা এ দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি প্রায় ১০ হাজার কিলোমিটার রাস্তা পাকা করেছেন এবং ১,৫০০টি ছোট বড় সেতু নির্মাণ করেছেন।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ মহানন্দা, ঘাঘট আর নাগর নদীতে সেতু নির্মাণ করেছেন। তিনি নির্মাণ করেছেন মেঘনা সেতু, কর্ণফুলী সেতু, বুড়িগঙ্গা সেতু, রামপুরা সেতু, টঙ্গী সেতু, টেকেরহাট সেতু, শম্ভুগঞ্জ সেতু, কামার খালী সেতু, বান্দরবনে সাংগু সেতু, পঞ্চগড় সেতু, সিলেটে শাহজালাল-লামা কাজী সেতুসহ, অসংখ্য সেতু এবং যমুনা বহুমূখী সেতু বাস্তবায়নের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন করেছিলেন।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ রাজধানীকে যানজট মুক্ত রাখার জন্য করেছেন রোকেয়া সরণী, প্রগতি সরণী, মুক্তি সরণী, বিজয় সরণী, পান্থপথ, জনপথ, নর্থ সাউথ রোড, সোনারগাঁ রোড, লিংক রোডসহ অসংখ্য রাস্তা। রাজধানিতে একমাত্র ফুলবাড়িয়া বাস স্ট্যান্ড থেকে ৩টি বড় বাস স্ট্যান্ড তৈরী করেছেন। যেমন- সায়দাবাদ, মহাখালী ও গাবতলী।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ ৬০০ কোটি টাকা ব্যায়ে ৯০ ফুট প্রশস্ত নগরবাড়ী-রংপুর এবং পল্লীবন্ধু দিনাজপুর-পঞ্চগড় সড়ক নির্মাণ করেছেন।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ দেশের সর্ববৃহৎ যমুনা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে এর কাজ শুরুর পরিকল্পনা এবং প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ ৪টি ডিসি-১০ বিমান ক্রয় করে অত্যন্ত নাজুক অবস্থা থেকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিমানকে সম্প্রসারিত করেছেন। অভ্যন্তরীন বিমান ব্যবস্থায় ২টি এটিপি ক্রয় এরশাদের আরেকটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ আন্তঃনগর ট্রেন ব্যবস্থা চালু করে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছন।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ ডিজিটাল সিষ্টেমসহ দেশে বিদেশে সরাসরি টেলিযোগাযোগে আধুনিকায়নের সূচনা করেছেন।
* পল্লীবন্ধু এরশাদের ক্ষমতা গ্রহণের পূর্বে বিদ্যুতের উৎপাদন ছিলো মাত্র ৬৫০ মেগাওয়াট। তিনি মতা ছেড়ে দেয়ার আগে সেই বিদ্যুতের উৎপাদ ২২০০ মেগাওয়াটে উন্নিতি হয়।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় পল্লীবন্ধু এরশাদ
* পল্লীবন্ধু এরশাদ যুগান্তকারী ঔষধ নীতি প্রবর্তন করে শুধু বাংলাদেশের নয়, সারা দেশের সচেতন মানুষের মোবারকবাদ পেয়েছেন।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার রোধের কার্যকর পদক্ষেপ এবং অবদানের জন্য আন্তর্জাতিক পুরষ্কার “জাতিসংঘ জনসংখ্যা পুরষ্কার” লাভ করেন।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ শেরেবাংলা নগরে হার্ট ইন্সটিটিউট স্থাপন করেছেন।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে সরকারি হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ২৩,৮৭০টিতে উন্নিত করেন। অথচ ক্ষমতা গ্রহণের সময় তা ছিলো ১৬,১৭১টি।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ শ্রমিক শ্রেনীর মানুষের জন্য তৈরী করেছেন শ্রমজীবী হাসপাতাল।
খাদ্য উৎপাদনে পল্লীবন্ধু এরশাদ
* পল্লীবন্ধু এরশাদের ক্ষমতা ছেড়ে দেয়ার সময় খাদ্য উৎপাদনের পরিমান ছিলো ১ কোটি ৯৫ লক্ষ টন। আর ক্ষমতা গ্রহণের পূর্বে খাদ্য উৎপাদন ছিলো ১ কোটি ৪২ ল টন।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ খাদ্য উৎপাদনে যে কার্যক্রম শুরু করেছিলেন এতে ১৯৯২ সনে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের নির্ধারিত লক্ষ্য মাত্রা অর্জন করতো।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ আমলে কৃষি কাজে ব্যবহৃত সারের পরিমান ছিলো ২২ ল ৬২ হাজার টন। অথচ ক্ষমতা গ্রহণের পূর্বে এর পরিমান ছিলো মাত্র ৯ লক্ষ ৭০ হাজার টন।
ধর্ম বিষয়ে পল্লীবন্ধু এরশাদ
* পল্লীবন্ধু এরশাদ ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষনা করে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ রেডিও-টিভিতে আজান প্রচারের পদক্ষেপ নিয়েছেন।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ বায়তুল মোকাররম মসজিদের নব-রূপায়ন এবং সংষ্কার করেছেন।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ হিন্দুদের পবিত্র তীর্থস্থান লাঙ্গলবন্দে ৫০ লক্ষ টাকা খরচ করে ঘাট তৈরী করেছেন। পানি এবং অন্যান্য সুযোগ সুবিধাসহ বিশ্রাম করে জন্য সেড তৈরী করেছেন।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ রাজধানীতে নতুন মসজিদ করেছেন ৬টি। গুলশানে হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রাঃ) মসজিদ, গোলাপশাহ মসজিদ, নিউ মার্কেট মসজিদ, সাভার মসজিদ, পিডব্লিউডি মসজিদ এবং বেইলী রোড অফিসার্স কলোনী মসজিদ। এছাড়া কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সংষ্কার করেছেন লালবাগ শাহী মসজিদ, বেগমবাজার মসজিদ, তারা মসজিদ, সাত গম্বুজ মসজিদ, ডিআইটি মসজিদ সহ সারা দেশের অসংখ্য মসজিদ।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ হাইকোর্টের সামনে পুকুর ভরাট করে তৈরী করেছেন প্রথম জাতীয় ঈদগাহ।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ সকল মসজিদ, মন্দির, গীর্জা এবং বৌদ্ধ মঠের পানি ও বিদ্যুৎ বিল স্থায়ীভাবে মওকুফ করেছেন।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ জন্মাষ্টমীর দিন জাতীয় ছুটি ঘোষনা করেছেন।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ গঠন করেছেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যান ট্রাষ্ট এবং বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যান ট্রাষ্ট।
সরকারি কর্মচারী ও শিল্প শ্রমিকদের জন্য পল্লীবন্ধু এরশাদ
* পল্লীবন্ধু এরশাদ সরকারি কর্মচারী ও শিল্প শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দ্বিগুন করেছেন। এমনকি তিনি সর্বনিম্ন বেতনও দ্বিগুন করেছেন।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ প্রতি ঈদে এক মাসের বেতনের সমপরিমান বোনাস প্রবর্তন করেছেন।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির জন্য মঞ্জুরী কমিশন এবং কর্মচারীদের জন্য বেতন কমিশন গঠন করেছেন।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ বেতনের শতকরা ৮০ ভাগ পেনশন নির্ধারণ করেছেন। যার পরিমান পূর্বে ছিলো সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ শ্রমিকদের জন্য কালাকানুন বলে খ্যাত ’৬৯-এর শিল্প-সম্পর্ক অধ্যাদেশ বাতিল করেছেন এবং যুগোপযোগী শ্রম আইন প্রবর্তন করেছেন।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রায় পল্লীবন্ধু এরশাদ
(০১) মুক্তিযোদ্ধাদের অস্তিত্ব যখন নিজস্ব স্বাধীন মাটিতে বিপন্ন তখন পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ অভয় বাণী নিয়ে তাদের অভিভাবকরূপে পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে তিনিই প্রথম উচ্চারণ করেন “মুক্তিযোদ্ধারা এ জাতির সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান”।
(০২) পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও লাখো শহীদের স্মৃতি সংবলিত সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের অসমাপ্ত কাজসমূহ সমাপ্ত এবং তার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেন।
(০৩) তিনি মুক্তিযুদ্ধের মরণোত্তর সর্বোচ্চ বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবপ্রাপ্ত সাতজন শহীদের প্রত্যেক পরিবারবর্গের জন্য একটি করে সুসজ্জিত পাকা আবাসিক বাড়ি তৈরি করে দেন।
(০৪) পল্লীবন্ধু এরশাদের আমলে বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবপ্রাপ্ত সাতজন শহীদের নামে বিশেষ স্মরণীয় ডাকটিকেট ও উদ্বোধনী খাম প্রকাশ করা হয়।
(০৫) শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসনের জন্য প্রতিষ্ঠিত মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের পরিচালিত ২২টি শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের চিরস্থায়ী মালিকানা বিনামূল্যে কল্যাণ ট্রাস্টকে প্রদান করা হয়।
(০৬) মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট-এর প্রধান কার্যালয়ের জন্য নিজস্ব কোনো ভবন না থাকায় মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকায় একটি বহুতল ভবন কল্যাণ ট্রাস্টকে বিনা মূল্যে প্রদান করা হয়, যার নামকরণ করা হয়েছে “স্বাধীনতা ভবন”।
(০৭) তিনি শহীদ সোহারাওয়ার্দী হাসপাতালের নিকট যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অস্থায়ীভাবে ব্যবহৃত দু’টি পাকা ভবনের মালিকানা স্থায়ীভাবে বরাদ্দ করে দেন।
(০৮) শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসন ও আবাসগৃহের জন্য মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ফান্ড কার্যকরভাবে পুনর্গঠন করা হয় এরশাদের আমলেই।
(০৯) তিনি মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান করমুক্ত ঘোষণা করেন।
(১০) সারাদেশে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, দুস্থ ও নিঃস্ব মুক্তিযোদ্ধাসহ সকল মুক্তিযোদ্ধাকে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের মাধ্যমে সংগঠিত করে তাদের অসুবিধাসমূহ দূরীকরণসহ পুনর্বাসনের জন্য সর্বাÍক পদপে গ্রহণ করা হয়। এর ফলে বাংলাদেশের সর্বত্র মুক্তিযোদ্ধাদের নিজস্ব সংগঠন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নিজস্ব শাখা ও কার্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
(১১) তিনি মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ৬৪টি জেলা হেডকোয়ার্টারে স্থায়ী কার্যালয় নির্মাণের জন্য মাত্র ১০১ টাকা টোকেন মূল্যে ৫ কাঠা করে জমি বরাদ্দ করেন।
(১২) মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রতিটি জেলা হেডকোয়ার্টারের কার্যালয় ভবন নির্মাণের জন্য প্রথম কিস্তি হিসেবে এক কোটি টাকা প্রদান করা হয়।
(১৩) পল্লীবন্ধু এরশাদ সরকারের আমলে তালিকাভুক্ত শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা পূর্বের তুলনায় বহুগুণে বৃদ্ধি করা হয় এবং সরকারি তহবিল থেকেও বিশেষ বাজেট বরাদ্দ করা হয়।
(১৪) বিগত সরকারসমূহের আমলে ষড়যন্ত্রমূলক মামলাসহ বিভিন্ন মামলায় শাস্তিপ্রাপ্ত ও আটককৃত প্রায় এক হাজার মুক্তিযোদ্ধার শাস্তি হ্রাস ও সম্পূর্ণ মওকুফ করে মুক্তি দেয়া হয়। এদের মধ্যে অনেক ফাঁসি ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তেরও শাস্তি মওকুফ করা হয়।
(১৫) প্রকৃত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সরকারি বাস, ট্রেন ও বিমানে বিনামূল্যে ভ্রমণের জন্য বিশেষ পরিচয়পত্র প্রদান করা হয়।
(১৬) মুক্তিযোদ্ধাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে ঐতিহাসিক অবদানের জন্য তাদের স্বীকৃত ও সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে সরকারি উদ্যোগে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাসহ সকল মুক্তিযোদ্ধার তালিকা প্রণয়নের কাজ সমাপ্ত করা হয়।
(১৭) পল্লীবন্ধু এইচ এম এরশাদই মুক্তিযোদ্ধাদের একক ও দলবদ্ধভাবে অর্থনৈতিক পুনর্বাসনের জন্য সহস্রাধিক ছোটবড় প্রকল্প করেছিলেন।
(১৮) পল্লীবন্ধু এরশাদের শাসনামলে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশাসনিক ও সামাজিক কার্যক্রমে বিশেষভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ প্রদানের লক্ষ্যে প্রতিটি উপজেলা পরিষদে একজন করে মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনয়ন দেয়া হয় এবং প্রতিটি ইউনিয়নে, পৌরসভাসহ অন্যান্য পরিষদে ও স্থানীয় এবং জাতীয় পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধাদের একজন করে প্রতিনিধি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
(১৯) পল্লীবন্ধু এরশাদের শাসনামলে প্রতিবছর পবিত্র হজ্ব পালনের জন্য মুক্তিযোদ্ধা সংসদের মাধ্যমে ৩ জন করে মুক্তিযোদ্ধাকে সরকারি হজ্ব ডেলিগেশন টিমে সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
(২০) মুক্তিযোদ্ধা সংসদের চেয়ারম্যানকে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিনিধি হিসেবে বিশেষ রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শনের লক্ষ্যে মন্ত্রীর মর্যাদায় রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত করার বিধান চালু করা হয় পল্লীবন্ধু এরশাদের আমলেই।
(২১) মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণার উৎস ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে অমর শহীদদের স্মরণে স্থাপিত শহীদ স্মৃতিসৌধটিকে সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে সুসজ্জিতকরণসহ সমুদয় কাজ সম্পূর্ণ করেন । ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রত্যেককে ১টি করে পাকাবাড়ী নির্মান করে দেন পল্লীবন্ধু এইচ এম এরশাদ।
(২২) মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সকলের মনে অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যে তিনি প্রতিদিন বাংলাদেশ টেলিভিশনে সংবাদ প্রচারের পূর্বে জাতীয় শহীদ স্মৃতিসৌধ প্রদর্শন ও মুক্তিযুদ্ধের গান প্রচারের ব্যবস্থা করেন, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
(২৩) মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সকলকে অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে মুক্তিযুদ্ধের সময় মেহেরপুরের আম্রকাননে প্রতিষ্ঠিত মুজিবনগরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শনের জন্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনিই প্রথম ভ্রমণ করেন ও সেখানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ ও আনুষঙ্গিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ করা হয়।
(২৪) মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানী স্মরণে ঢাকায় ওসমানী উদ্যান, ওসমানী মিউজিয়াম, আন্তর্জাতিক মানের ওসমানী স্মৃতি মিলানায়তন তৈরি ও সিলেট বিমানবন্দরকে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নামকরণ করা হয় এবং সিলেটে জেঃ ওসমানীর বাড়িটিকে মিউজিয়ামে রূপান্তরিত করা হয়।
(২৫) মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানী স্মরণে বিশেষ ডাকটিকেট, উদ্বোধনী খাম প্রকাশ করা হয়।
(২৬) শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি অমর করার লক্ষ্যে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সরকারি উদ্যোগে সহস্রাধিক রাস্তাঘাট ও ভবনের নামকরণ করা হয়।
(২৭) পল্লীবন্ধু এরশাদ মুক্তিযোদ্ধাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের জন্য ঢাকার ইস্কাটনে প্রয়োজনীয় জায়গাসহ একটি দ্বিতল ভবন স্থায়ীভাবে বরাদ্দ করেন। পল্লীবন্ধু এরশাদের শাসনামলে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের বহুতল ভবনের জন্য কাকরাইলের নিকট একটি জমি টোকেন মূল্যে বরাদ্দ করা হয়।
(২৮) পল্লীবন্ধু এরশাদের শাসনামলে প্রশিণপ্রাপ্ত সহস্রাধিক মুক্তিযোদ্ধাকে সরকারি উদ্যোগে বিদেশে প্রেরণ করা হয়।
(২৯) পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বেকার মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান ও চাকরির ক্ষেত্রে ৩০% কোটা যথাযথ পালন করা কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
(৩০) পল্লীবন্ধু এরশাদের শাসনামলে মুক্তিযোদ্ধাদের চাকরির ক্ষেত্রে ৩০ বছর থেকে ৩২ বছর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়।
(৩১) পল্লীবন্ধু এরশাদের আমলে সহস্রাধিক ভূমিহীন মুক্তিযোদ্ধাকে সরকারি খাস জমি, পুকুর, জলাশয় ও পতিত জমি বরাদ্দ করা হয়।
(৩২) শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহৃত পরিত্যক্ত বাড়ি-ঘর বিশেষ ব্যবস্থায় সরকার নির্ধারিত স্বপ্ল মূল্যে দীর্ঘ মেয়াদে ২৫ কিস্তিতে বিক্রি করা হয়।
(৩৩) মুক্তিযোদ্ধাদের ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্র প্রতিষ্ঠা করা হয়। ক্রীড়াচক্রের স্থায়ী কার্যালয়ের জন্য বঙ্গবীর জেনারেল ওসমানী উদ্যানে নিজস্ব ভবন ও জমি দান করা হয়।
কূটনৈতিক সাফল্য অর্জনে পল্লীবন্ধু এরশাদ
* পল্লীবন্ধু এরশাদ দ রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন বলেই বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বৃদ্ধি পেয়েছিলো। অভাবনীয় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রাপ্তিও এরশাদের কূটনৈতিক সফলতার ফসল।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ ইসলামিক বিশ্বে বাংলাদেশকে অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে পরিগণিত করিয়েছেন। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক প্রসারিত করেছেন।
* বিরোধী দলের প্রচণ্ড বাধার মধ্যেও পল্লীবন্ধু এরশাদ মধ্যপ্রাচ্য সংকটে সৈন্য প্রেরণে রাষ্ট্রনায়কোচিত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বহির্বিশ্বে শুধু উজ্জ্বলই করেনি, ঋণ মওকুফের সুবিধা দিয়েছে।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ স্বল্পোন্নত দেশসমুহের নেতৃত্ব দানের মাধ্যমে প্যারিস সম্মেলনে বাংলাদেশের ঋণ মওকুফের ঘোষনা অর্জন করিয়েছেন।
* পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ছিলেন ১৯৮৫ সালে ঢাকা অনুষ্ঠিত প্রথম সার্ক সম্মেলন অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা এবং তিনিই সার্কের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।
* পল্লীবন্ধু এরশাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতিত্ব করার গৌরব অর্জন করেছেন।
অর্থনৈতিক উন্নয়নে পল্লীবন্ধু এরশাদ
* পল্লীবন্ধু এরশাদ ক্ষমতা ছেড়ে দেয়ার সময় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৮২৫ মিলিয়ন ডলার। অথচ ক্ষমতা গ্রহণের সময় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল মাত্র ২২১ মিলয়ন ডলার।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ যখন ক্ষমতায় তখন বিদেশে চাকুরীরতদের আয় ছিল ২ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা। অথচ ক্ষমতা গ্রহণের সময় তা ছিল মাত্র ৬১৯ কোটি টাকা।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ ক্ষমতা ছেড়ে দেয়ার সময় রপ্তানী আয় ছিল ৪ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা। অথচ মতা গ্রহণের সময় তা ছিল মাত্র ১ হাজার ২৫৫ কোটি টাকা।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ বেসরকারী খাতে ব্যাংক, বীমা প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
* পল্লীবন্ধু এরশাদই প্রথম এদেশে প্রাইভেট ব্যাংক এবং ইন্সিওরেন্স কোম্পানীর অনুমতি দিয়ে উৎসাহ জুগিয়েছেন।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ অসংখ্য শিল্প কারখানা স্থাপন করেছেন।
পথকলিদের জন্য পল্লীবন্ধু এরশাদ
* পল্লীবন্ধু এরশাদ অবহেলিত অসহায় শিশুদের জন্য প্রতিষ্ঠিত করেছেন পথকলি ট্রাষ্ট্র। যা ছিল তাঁর মানবিক গুণাবলীর উল্লেখযোগ্য বহিঃপ্রকাশ। ট্রাষ্ট্রের অধীনে বিদ্যালয়ে কারিগরি শিক্ষা, চিকিৎসা এবং আর্থিক সহযোগিতার ব্যবস্থা ছিল, যা বর্তমানে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ এতিমদের প্রতি অগাধ ভালবাসা থেকে এতিমখানার উন্নয়ন এবং শিশুপল্লী প্রতিষ্ঠা করেছেন।
কৃষি, কৃষক এবং ছিন্নমূল মানুষের পল্লীবন্ধু এরশাদ
* পল্লীবন্ধু এরশাদ কৃষক এবং প্রান্তিক চাষীদের ভিটেমাটি নিলাম না করার আইন করেছেন।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ কৃষকদের সুবিধার জন্য করেছেন ঋণ সালিসি বোর্ড।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণের সুদ মওকুফ করেছেন। যার পরিমাণ ছিল ৬০০ কোটি টাকা।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ ভূমিহীন কৃষক ও ছিন্নমূল মানুষের জন্য তৈরী করেছেন গুচ্ছগ্রাম। যার কোন বিকল্প নেই।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ কৃষিতে বিপ্লবী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি কৃষকদের জন্য আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্প, যথা- বৃহত্তর রাজশাহীতে ১৯৮৫ সালে ১৪টি উপজেলা নিয়ে ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বরেন্দ্র সমুন্নিত উন্নয়ন প্রকল্প, টাংগাইল প্রকল্প, পাবনা সেচ প্রকল্প, চালু করে খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ করার বাস্তব উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
* পল্লীবন্ধু প্রতিটি ভূমিহীন পরিবারকে তিনি দুই একর পর্যন্ত খাস জমি বিতরণ করেন।
* পল্লীবন্ধু এরশাদের যুগান্তকারী পদক্ষেপ হচ্ছে ভূমি সংস্কার। তিনি ব্যাপক ভূমি সংস্কারনীতি প্রবর্তন করেছেন এবং তার বাস্তবায়নও করেছেন। পল্লীবন্ধু এরশাদ ভূমি সংস্কারের আওতায় পরিবার প্রতি জমির সর্বোচ্চ সিলিং ৬০ বিঘা নির্ধারন করেছেন।
* পল্লীবন্ধু এরশাদই প্রথম এদেশের বর্গাচাষীদের জন্য তে-ভাগা ব্যবস্থার প্রবর্তন করেছেন।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ জাল যার জলা তার, নীতি প্রবর্তন করেছেন এবং প্রকৃত জেলেদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করেছেন।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ আশির দশকে কৃষক-শ্রমিক ও দিন মজুরের জন্য সর্বনিম্ন মজুরি হিসেবে মাথাপিছু সাড়ে তিন কেজি চাল বা তার সমপরিমান মূল্য নির্ধারণ করেছিলেন।
ক্রীড়াঙ্গণে পল্লীবন্ধু এরশাদ
* পল্লীবন্ধু এরশাদ নির্মাণ করেছেন মিরপুর জাতীয় ষ্টেডিয়াম, আউটার ষ্টেডিয়াম, হকি ষ্টেডিয়াম, আর্মি ষ্টেডিয়াম, মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স, সুইমিং পুল, বাস্কেট বল কোর্ট। মিরপুর ইনডোর ষ্টেডিয়ামের কাজও তাঁর সময়ই শুরু হয়।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ জাতীয় টেনিস কমপ্লেক্স স্ব-উদ্যোগে ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় চাঁদা তুলে তৈরী করেছেন। দেশের একমাত্র আধুনিক জাতীয় টেনিস কমপ্লেক্স নির্মাণের একক কৃতিত্বের দাবীদার উন্নয়নের স্বপ্ল দ্রষ্টা পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ বিকেএসপি করেছেন লেখা পড়ার পাশাপাশি খেলাধুলায় জাতীয় খেলোয়াড় তৈরীর লক্ষ্যে । বিকেএসপি দেশের ক্রীড়াঙ্গনে চমৎকার সাফল্য ও দেখানো শুরু করেছিল-
সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পল্লীবন্ধু এরশাদ
* পল্লীবন্ধু এরশাদ জাতীয় পর্যায়ে রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তীর আয়োজন করেছেন।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ ধানমণ্ডিতে ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নজরুল স্মৃতি বিজড়িত বাড়িটিকে নজরুল ইন্সটিটিউটে রূপান্তরিত করেছেন। তিনি সেখানে একটি অডিটরিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে কাজও শুরু করেছিলেন।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ চিত্র শিল্পী সুলতানকে প্রথম স্বীকৃতি দিয়ে শিল্পকলা একাডেমীর আবাসিক শিল্পী ঘোষনা করে মাসিক পাঁচ হাজার টাকা ভাতার ব্যবস্থা করে চরম দারিদ্রের হাত থেকে এই গুণী শিল্পীকে রা করেছেন।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ শাহবাগে সুবিশাল আধুনিক যাদুঘর তৈরী করেছেন এবং আহসান মঞ্জিলকে উদ্ধার করে যাদুঘরে রূপান্তরিত করেছেন।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ পহেলা বৈশাখের ছুটি ঘোষনা করে আমাদের সাংষ্কৃতিতে যুক্ত করেছেন একটি আনন্দঘন দিনের।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ সর্বস্তরে বাংলাভাষা ব্যবহারের আইন করেছেন।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ একজন কবি ও গীতিকার। তাঁর যেমন রয়েছে প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থ, তেমনি রয়েছে “তোমাদের পাশে এসে বিপদের সাথী হতে আজকের চেষ্টা অপার”- এর মতো কালোত্তীর্ণ কিছু দেশাত্মবোধক গান। তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- কনক প্রদীপ জ্বালো, নবান্নে সুখের ঘ্রাণ, এক পৃথিবী আগামী কালের জন্য, যেখানে বর্ণমালা জ্বলে, কারাগারে নিঃসঙ্গ দিনগুলো, এরশাদের কবিতা সমগ্র, ইতিহাসে মাটির চেনা চিত্র, নির্বাচিত কবিতা ও যুদ্ধ এবং অন্যান্য কবিতা।
* পল্লীবন্ধু এরশাদ যে সফল ও দক্ষ রাষ্ট্রনায়কের সাথে সাথে একজন বড় কবি মনের অধিকারীও ছিলেন তার প্রমাণ রয়েছে তাঁরই প্রবর্তিত কিছু প্রকল্পের নামকরণে। সেগুলির মধ্যে রয়েছেঃ গুচ্ছগ্রাম, চন্দ্রিমা উদ্যান, পান্থপথ, জনপথ, বিজয় সরণী, প্রগতি সরণী, কলমিলতা মার্কেট, পথকলি, মুক্তিসরণী, শিশুপল্লী, ঠিকানা ইত্যাদি।
প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলায় পল্লীবন্ধু এরশাদের গৃহীত কর্মসূচীঃ
১) পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে আঞ্চলিক ভিত্তিতে আর্ন্তজাতিক সহযোগিতায় বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে নীতি গ্রহণ করা হয়। স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী অভ্যন্তরীণ বন্যা নিরোধ প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সূচনা করা হয়।
২) পল্লীবন্ধু এরশাদের উদ্যোগে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় জাতিসংঘে বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হয়। ঐ সময়ে পল্লীবন্ধু এরশাদের আমন্ত্রনে জাতিসংঘের মহাসচিব বাংলাদেশ সফর করে দেশের দুর্যোগ পরিস্থিতি অবলোকন করেন।
৩) পল্লীবন্ধু এরশাদের সময় ঢাকা মহানগরী রা বাঁধ নির্মাণ করা হয় এবং নদী বরাবর বাঁধের পামে কংক্রিটের দেয়াল নির্মাণ করা হয়।
৪) প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে জরুরী ভিত্তিতে ত্রাণ সামগী প্রেরণের জন্য প্রতি উপজেলায় পল্লীবন্ধু এরশাদের সরকারের সময় হেলিপ্যাড নির্মানের কাজ শুরু করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ৩২৫ উপজেলায় হেলিপ্যাড নির্মাণ করা হয়।
৫) পল্লীবন্ধু এরশাদের সময়ে ভরাট নদী খননের সূচনা করা হয়। সম্ভাব্য স্থানে ড্রেজিং আরম্ভ করে ৩৩ টি নদীর খনন কাজ সম্পন্ন হয়।
৬) পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জাতীয় দুর্যোগ প্রতিরোধ কমিশন গঠন করেন। এই পরিষদে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সেবামূলক প্রতিষ্ঠান, পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব রাখার ব্যবস্থা করা হয।
৭) পল্লীবন্ধু এরশাদ সরকারের আমলে বাংলাদেশের বন্যা সমস্যা একটা মানবিক সমস্যা হিসেবে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আর্কষন করা হয়। পল্লীবন্ধু এরশাদের প্রচেষ্টা ও তৎপরতার ফলে পৃথিবীর শিল্পন্নত দেশগুলো বাংলাদেশের বন্যা সমস্যার সমাধানের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করে। তার ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় "বাংলাদেশের বন্যাঃ আঞ্চলিক ও ভূমন্ডলীয় পরিবেশগত প্রেক্ষাপট" শীর্ষক আর্ন্তজাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এই সেমিনারে বিদেশ থেতে আগত ৩৫জন বিজ্ঞানীসহ ১৮২জন বিজ্ঞানী অংশগ্রহণ করেন।
৮) প্রাকৃতিক দুর্যোগে তিগ্রস্থ কৃষক সমাজের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবের জন্য কৃষকদের ঋণের সুদের বোঝা থেকে রক্ষা করার লক্ষ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণের সুদ মওকুফ করা হয়। যার পরিমাণ ছিল ৬শ কোটি টাকা।
৯) পল্লীবন্ধু এরশাদ সরকার আমলে জাতীয় ঐক্যমত গড়ে তোলার লক্ষ্যে শুধূমাত্র বন্যা ও বন্যা পরিস্থিতি সর্ম্পকে আলোচনার জন্য জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১০) পল্লীবন্ধু এরশাদ সরকারের নির্মাণ নীতিতে সমস্ত নির্মাণ কাজে বন্যা সমস্যাকে বিবেচনায় রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল।
১১) পল্লীবন্ধু এরশাদ সরকারের আমলে বন্যার পরে রোপন করা যায় এমন জাতের ধান উদ্ভাবন করা হয়েছে এবং বন্যায় টিকে থাকতে পারে এমন জাতের ধান উদ্ভাবনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিলো।
১২) পল্লীবন্ধু এরশাদ সরকারের আমলে দুটো ভয়াবহ বন্যা এবং দুটি ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড় ও সামুদ্রিক জলোচ্ছাস হয়েছে। এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু পল্লীবন্ধু এরশাদের আপ্রাণ ও নিরলস সর্বাত্মক প্রচেষ্টা, যোগ্যতা ও দক্ষতার ফলে অতি অল্প সময়ে এসব অকল্পনীয় দুর্যোগ মোকাবেলায় সম হন। এজন্য তিনি দেশে বিদেশে সমানভাবে প্রশংসিত হয়েছেন। এসব দুর্যোগকালে প্রতিবারই দেশে-বিদেশে মহা দুর্ভিক্ষের আশংকা ব্যক্ত করা হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই পল্লীবন্ধু এরশাদ সেই আশংকাকে অমুলক প্রমান করতে সক্ষম হয়েছেন।
১৩) ১৯৮৭ সালে নজীরবিহীন ভয়াবহ বন্যার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে কৃষি ঋণ গ্রহীতাদের উপর থেকে সকল প্রকার সার্টিফিকেট মামলা ও মাল ক্রোক প্রভৃতি স্থগিত রাখার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
১৪) ১৯৮৮ সালের মহা প্রলংয়করী বন্যায় ধ্বংসলীলা, চরম বিপর্যয় থেকে কৃষকদের রক্ষা করার জন্য এবং স্বাভাবিক জীবন-যাত্রা ফিরিয়ে আনার জন্য বন্যাত্তোর কৃষি পূণর্বাসনের আওতায় পর্যাপ্ত পরিমাণ অর্থ বরাদ্দসহ বীজ-ধান, গমের বীজ, রবি শষ্যের বীজ ও পশু খাদ্যের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
১৫) ১৯৮৮ সালের নভেম্বরের ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছাসে তিগ্রস্থ , ধ্বংসপ্রাপ্ত ঘড়-বাড়ী নির্মাণ ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠার জন্য কৃষকদের সকল প্রকার ঋণ সহজলভ্য করার জন্য ঋণদান সংস্থা ও ব্যাংকসমূহকে জরুরী নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।
১৬) ঘুর্নিঝড়ে বিধ্বস্ত উড়িরচরের প্রতিটি পরিবারকে রেজি
©somewhere in net ltd.