নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

তত্কালীন পূর্ববাংলার পাগল​

http://www.facebook.com/xico.vince

তত্কালীন পূর্ববাংলার পাগল​

তৎলীন পূর্ববাংলার পাগল​

তত্কালীন পূর্ববাংলার পাগল​ › বিস্তারিত পোস্টঃ

"ইয়া উলু উলু কুলু কুলু ফুলুলুল বাহার।ইয়া কালা কুতুবিহি দামরাতুল মতিয়ার?"

২৫ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ১২:৩৮

"কোন ও এক গ্রামের মসজিদ-এ একদল হুজুর চিল্লাতে গেল। চিল্লা কি? তা তো জানেন সবাই? একদল হুজুর ঘুরে ঘুরে ইসলাম এর দাওয়াত দেয় ৭ দিন অথবা ৪০ দিন এরকম সময় এর জন্য। সবাইকে শান্তির পথে আসার দাওয়াত দেয়।নামাজ রোজা করার দাওয়াত দেয়। যাইহোক গ্রামে আসার পর সব হুজুর রা গ্রামের মানুষ দের নামাজ পরার দাওয়াত দিতে শুরু করলো। ঐ গ্রামে ছিল এক চোর, যার জ্বালায় গ্রামের মানুষ জন অতিষ্ট। হুজুরের দল ওই চোরের বাড়িতে এসে হাজির হল। হুজুর রা আবার দাওয়াত দেয়ার সময় খুবই খেদমত করে হাত পা টিপে টিপে আর মসজিদে আসার জন্য দাওয়াত দেয়:



হুজুর: মকবুল সাহেব (চোর) ! আজ কে আসেন আমাদের সাথে নামাজে শরিক হন।আল্লাহর পথে আসেন।



চোর তো পরে গেল বিশাল বিপদে।পালানোর রাস্তা খোজা শুরু করে দিল। কিভাবে পালানো যায়? এই চিন্তায় অস্থির।



চোর: আমার তো আসলে শরীর পবিত্র নাই। আপনারা যান, আমি গোসল করে আসতেছি।



হুজুর রা তো নাছোরবান্দা।বললো আপনি গোসল করে আসেন একসাথেই যাই।মহাবিপদ! চোর বাধ্য হয়ে গোসল করে রওনা দিল মসজিদে। মসজিদে এসে নামাজ পড়তে দাঁড়িয়ে চিন্তা করতে শুরু করলো, যে এসেই য্খন পরলাম খালি হাতে যাওয়া যাবে না। অন্তত একজোড়া জুতা চুরি করতে হবেই। কিন্তু দুইপাশের চাপে পিছনে তাকানো সম্ভব হচ্ছে না।দেখতে না পারলে তো চুরি করাও সম্ভব না।

যাইহোক নামাজ তো হল কিন্তু হুজুরদের খেদমতে জুতা আর চুরি করা হল না।আর খেদমত আর হুজুরদের জ্বালায় চোর একেবারে চিল্লাতে যাওয়ার স্বিদ্ধান্ত নিয়ে নিল। নামাজ পরে যখন চুরি করা গেল না, চিল্লায় যেয়ে পুষিয়ে নেয়া যাবে। এইভাবে সে চলে গেল চিল্লাতে। আর ৪০ দিনের লম্বা এক চিল্লা দিয়ে গ্রামে ফিরে আসলো। চুল দাড়ি বড়-বড় হয়ে গেল। গ্রামে ফিরতেই সব মানুষ জন তো চোরকে সালাম দেয়া শুরু করলো। মকবুল চোর তো মহাখুশি। সবাই এখন সালাম দেয় তাকে। ভাবতে থাকলো এখন চুরি করাটা সহজ হবে, কারন সবাই সন্দেহ কম করবে।



স্বভাব বশত নামাজ পড়া সে চালিয়ে গেল। কিন্তু প্রতিদিন ইমাম এর পিছনে নামাজ পড়ত আর ভাবতো, গ্রামের মানুষ জন এত সম্মান করে আর ইমামের পিছনে দাড়িয়ে নামাজ পড়ব তা তো হতে পারে না। যেই ভাবা সেই কাজ। এক দিন নামায শেষে মকবুল চোর চিৎকার করে বললো ইমাম সাহেব ভুল নামাজ পড়ায়। সবাইতো অবাক! মকবুল বলতে শুরু করলো ইমাম সাহেব ভুল উচ্চারন করে আর ভুল নামাজ পড়ে। এই নিয়ে তো মহা গন্ডগোল শুরু হয়ে গেল গ্রামে। একদল হুজুরের পক্খে আরেক দল চোরের পক্খে। অবশেষে মকবুল বলেই ফেললো তাহলে একটা প্রতিযোগিতা হবে যেখানে দুই জন দুই জনকে প্রশ্ন করবে। ইমাম শাহেব তো রাজি হয়ে গেল। গ্রামে বিশাল মাঠে প্রতিযোগিতার আয়োজন হল। বড়-বড় দুইটা স্টেজ বানানো হলো মাঠের দুই পাশে। মাইক লাগানো হলো, যেন সবাই প্রশ্ন আর উত্তর শুনতে পায়।



মকবুল তো চিন্তায় পরে গেল। তার তো আসলে কোন কিছুই নাই মাথায়, প্রশ্ন করবে কিভাবে? যাইহোক প্রতিযোগিতার দিন আসলো সমস্ত গ্রামবাসী মাঠে হাজির। এক স্টেজ এ ইমাম রেডি কিন্তু অন্যপাশে মকবুল চোরের কোনও খবর নাই। অনেক পরে মকবুল আসলো। মকবুল পক্খের লোক জন তো মকবুল মকবুল বলে চিৎকার শুরু করে দিল। কিন্তু এই সময় হল মহা-বিপদ। মকবুল এর পায়খানা চাপ দিল। মকবুল তার ভক্তদের বললো আমার তো যেতেই হবে, না গেলে মহা-বিপদ। ভক্তরা বললো আশে পাশে কোনও টয়লেট তো নাই। মকবুল তারাহুরা করে জঙ্গলের দিকে দৌড় দিল। শান্তি করে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে দিতে মকবুল চোর গেল ঘুমিয়ে। হঠাৎ ঘুম ভাংতেই মকবুল দেখে তার আশে পাশে অনেক উলু-পোকা (উইপোকা)।



দেখেই তো মকবুল বলে ফেললো : " ইয়া উলু উলু।"



আরেহ! এই তো আরবী পেয়ে গেলাম। পোকার কিলবিল করা দেখে মকবুল চিন্তা করে বের করলো :



"ইয়া উলু উলু কুলু কুলু।"



মহাখুশি মকবুল এইটাই জিগ্গেশ করবে ইমাম কে। চিন্তা করতে করতে বদনা হাতে পুকুরের দিকে হাটা দিল। আর দেখলো অনেক ফুল। তখনি মাথায় আসলো।



"ফুলুলুল বাহার।" বাহ্! "ইয়া উলু উলু কুলু কুলু ফুলুলুল বাহার।"



মকবুল তো চিন্তা করলো আজকে ইমামের খবর আছে। কাজ শেষ করে মকবুল স্টেজ এর দিকে যাচ্ছে আর দেখে একটা কালো কুকুর একটা দামড়া গরু কে ধাওয়া করছে আর গরুর মালিক মতিয়ার পিছনে দৌড়াচ্ছে। সাথে সাথেই মকবুলের মাথার আসলো:



"ইয়া কালা কুতুবিহি দামরাতুল মতিয়ার।"



মকবুল তো মহাখুশি কারন পুরো একটা আরবী প্রশ্ন পেয়ে গেছে।



"ইয়া উলু উলু কুলু কুলু ফুলুলুল বাহার।ইয়া কালা কুতুবিহি দামরাতুল মতিয়ার?"



আজকে তো ইমামের খবর-ই আছে।যাইহোক স্টেজ এ উঠেই মকবুল মাইকে ইমাম কে জিগেশ করলো, কে আগে প্রশ্ন করবে ? ইমাম সাহেব ভদ্রমানুষ, বললেন: "আপনি-ই আগে করেন।"

মকবুল তো বলেই ফেললো: আমি জানতাম আপনি প্রশ্নও করতে পারবেন না। বলেন দেখি : "ইয়া উলু উলু কুলু কুলু ফুলুলুল বাহার।ইয়া কালা কুতুবিহি দামরাতুল মতিয়ার?" এর মানে কি?



ইমাম তো পরে গেল মহা ফাপরে।কারন পুরা কুরআন শরীফে এই রকম আরবী তো সে জীবনেও পড়ে নাই। যাইহোক এই প্রশ্নে ইমামের-ই পরাজয় স্বাভাবিক।



বাকি গল্প বলার প্রয়োজন পরে না কারন গল্প বলার যেটা উদ্দেশ্য, তা হল- আমরা মুসলমান রা কিন্তু নামাজ পড়ি ইমামের পিছনেই কিন্তু কখনোও জানতে চাইনি আসলে আমরা ভুল নাকি শুদ্ধ নামাজ পড়ি?



জানা টা কি প্রয়োজন না???

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.