| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
পারু
জাহিদ ভবঘুরে
চকচকে রোদের ঝলকে যা চোখে ভাসে তা কেবলই ঝাপসা। এই মুহূর্তে কেবল দুইটা কচি হাত স্পষ্ট।
- স্যার দুইডা টেকা দেন।
পৃথিবীতে সবচে পুরনো দুই পেশার একটি। অপরটি বেশ্যামী। দুইটাকেই জলিল মিয়া অপরাধ মনে করে। সারাজিবনে সে একবারও ভিক্ষা দেয় নাই। এমন বৈশাখী দুপুরে অনেকখানি পথ হেঁটে এসে মাত্রই দাঁড়িয়েছে মগবাজার মোড়ে।
চোখ তুলে তাকায় জলিল মিয়া। ফুটফুটে একটি মেয়ে। ৯-১০ বছরের হবে।
- স্যার দুইডা টেকা দেন।
মেয়েটি আরও এক পা এগিয়ে আসে রাস্তার পাশে। প্রথমবার কথাগুলো কানে আশার পর জলিল মিয়া ভেবেছিল শুয়োরের বাচ্চা বলে গালি দেবে। মেয়েটার দিকে তাকিয়ে তা আর সম্ভব হয় নি। এর মাঝে কখন যে তার হাত নিজেরে না জানিয়ে পকেট হাতড়ে ১০ টাকার একটা নোট বের করে সামনে ধরেছে। জলিল মিয়া টের পেল মেয়েটার মুখের হাসি দেখে। বুকের ভেতর জমিয়ে রাখা একজিবনের প্রশান্তি জলিল মিয়ার। টাকাটা বাড়িয়ে দেয়। মেয়েটাও হাত বাড়িয়ে দেয় টাকার দিকে। এমন কোমল হাত তার বিষাক্ত টাকার স্পর্শে আসার আগেই একটা গাড়ি চোখের পলকে ছোঁ মেরে নিয়ে যায়।জলিল মিয়ার হাতের টাকা যেমন ছিল তেমনি লেগে থাকে তার হাতে।
মুহূর্তের ঝাপসা বাতাসে কেবল কানে আসে... আহ...........................আ।
কিছুদুরে লোকের ভিড় জমে।সরব রাস্তায় কেবল আহারে, আহারে। জলিল মিয়ার বুঝতে বাকি নেই মেয়েটার পরিণতি। সাহস হয় না কেবল ভিড়ের মধ্যে পড়ে থাকা ক্ষন প্রেমের দিকে তাকাতে। ভরদুপুরে যেমন রোদে এসে দাঁড়িয়েছিল অমনি আবার হাটতে শুরু করে অথর্ব জলিল মিয়া। হঠাৎ করে আর একবার বুলেটের গতিতে এসে ধাক্কা দেয় এক মহিলার চিৎকার।
পারু...... রে
©somewhere in net ltd.