| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
কেমন যেন ছিল ছেলেটা।কেমন?কেউ জানেনি,জানতে চায়নি।বারবার অন্যকোন রং এ একেছে শুধু,সেটাও ছিল ভুল রং।সন্ধ্যার ঐ বাতাসের হাহাকার করা আর্তনাদে ওর মিশে যাওয়া সুরগুলোর একমাত্র শ্রোতা ছিলাম আমি।আমি তখন ফার্স্ট ইয়ার।ভার্ষিটির পাশেই ঐ ব্রক্ষপুত্রের তীরটাতে বসে যখন চোখেমুখে দুর্দান্ত দার্শনিক ভাব ফুটিয়ে তারা গুনতাম,তখনও ওর কথা ভাবতাম।আমরা তীরটার নাম দিয়েছিলাম নিঝুম দ্বীপ।সন্ধ্যার পরে কেউ যেত না ওখানে।আমি যেতাম।আরো অনেকেই যেত,রা্তের ঝিঝিপোকারা।আমার সহপাঠীরা হয়ত তখন ব্যস্ত, প্রিয় কোন ফুল নিয়ে কাউকে মুগ্ধতার আবেশে সারা পৃথিবীকে ভুলিয়ে দিতে।আমি তখন নিঝুম দ্বীপে,ঝিঝিপোকাদের সাথে।আর ঐ ছেলেটার একটা হাত আমার কাধে।আমরা তারা গুনতাম।একটা তারা যখন হারিয়ে যেত আমরা তার কষ্ট মেজার করার সূত্র খুজতাম।
আামি তখনও ফার্স্ট ইয়ার।অনেক স্বপ্নেরা ততদিনে আত্মাহুতি দেয়া শুরু করেছে।কিন্তু তারা হওয়ার স্বপ্নটা,সেটা বেচেছিল।ছেলেটা তখনও কেমন যেন।ওর সুর আমাকে কেমন আচ্ছন্ন করে রেখেছে।অচেনা,অজানা একটা সুর।আবিস্কার করতে গিয়ে দেখি ঐ সুরটায় অনেক কষ্ট মেশাানো,অনেক অনেকটা।নাহ আমিতো তারা হবো,কষ্ট নেবো কেন?ছেলেটা তখনও আগেরই মত।ওর একটা হাত আমার কাধে।
আবার সেই নিঝুম দ্বীপ,সেই তারা গোনা,ঘুম ঠেকে দেরী করে উঠে সকালের ক্লাসে না যাওয়া।তত দিনে সব সয়ে গেছে।খুব প্রিয় মানুষগুলোর সহানুভূতি মাখা করুণ চাওনি আর আমার তারাদের প্রতি অজস্র বিদ্রুপ।আমি তখন সেকেন্ড ইয়ার।সেই অদ্ভূত ছেলেটা তখনো ামার পাশে।নাহ ওকে নিয়ে আর লিখতে ইচ্ছে করছে না।ভালবাসাটা জমা থাক..
পরিশিষ্ট
সেই নিঝুম দ্বীপ,আমি আর ক্লাসের অদ্ভুত ছেলেটা মুখোমুখি।আর ঝিঝি পোকা।ওর একটা হাত তখনো আমার কাধে।আমি আস্তে করে ওর হাতটা ধরে আমার কাধ থেকে নামিয়ে দিচ্ছি।ওর চোখের দিকে তাকালাম ।কি যেন চিকচিক করে উঠল।তাতে আমার কি?আমি শুয়ে আছি ,তারাদের দেখছি।অদ্ভুত ছেলেটা তখন হাটছে কোন দিকে না তাকিয়েই।আকাশটা তখন মেঘে ছেয়ে যাচ্ছে।ও কোনদিকে তাকাচ্ছেনা।ওর চিকচিক করা পানিগুলো বৃষ্টি এসে রাঙিয়ে দিচ্ছে।ঝিঝিপোকারা তখন ছুটছে আশ্রেয়ের খোজে।আমার কাধটার দিকে তাকালাম ।নাহ ওখানে কারো হাত নেই ।আমি মুক্ত,মুক্ত সকল বন্ধুত্বের বেড়াজালের অচেনা সুর থেকেও।প্লিজ ভালো থাকিস....।
©somewhere in net ltd.