| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বলতে গেলে প্রায় দোরগোড়ায়। আর সেটা নিয়ে আমাদের উত্তেজনা ও যথেষ্ট। তবে সেই উত্তেজনা এবং তাপের প্রায় পুরোটুকুই আসছে রাজনৈতিক দল এবং মনোনয়ন প্রত্যাশীদের থেকে। সাধারণ ভোটারদের ভেতর আপাতত এক ধরনের কৌতুহল এবং কারো কারো ভেতর এক ধরণের শংকা ছাড়া অন্য কিছু কাজ করছে বলে মনে হয় না। আমি সব সময়েই আশা করে থাকি যে, একটি সময় আসবে যখন ভোট নিয়ে আমাদের আগ্রহ এবং কৌতুহল থাকবে কিন্তু কোনো শংকা থাকবে না। কারণ আমরা আগে থেকে জানব, যে দলই আসুক সেই দলই হবে অসাম্প্রদায়িক, আধুনিক প্রগতিশীল এবং দেশ প্রেমিক, অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধের যে স্বপ্ন নিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিল সেই স্বপ্নে বিশ্বাসী। তখন দিনের বেলা ভোট দিয়ে আমরা রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে যাব, ভোর বেলা ঘুম থেকে উঠে আমরা দেখব কারা এই বছর সরকার গঠন করছে!
এ বছরে নির্বাচনের শুরুতে যে বিষয়টা আলাদা ভাবে সবার চোখে পড়েছে সেটি হচ্ছে বড় দল থেকে নির্বাচন করার আগ্রহ। বড় দলের তিনশ সিটের জন্য চার হাজার থেকে বেশি মনোনয়ন প্রত্যাশী। এমন নয় যে একটি ফর্ম পূরণ করে জমা দিলেই হয়ে গেল, এর জন্যে রীতিমত ভালো টাকা খরচ করতে হয়, তারপরও প্রার্থীর কোনো অভাব নেই। প্রার্থীরা যে একা আসছেন তাও নয় রীতিমত দলবল নিয়ে আসছেন, পার্টি অফিস এবং তার আশে পাশের এলাকা লোকে লোকারণ্য। ক্ষমতা দেখানোর জন্য মারামারি গাড়ি পোড়ানো কিছুই বাকী নেই। নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় হেলমেট পরে মারামারি করার একটা নূতন ধারা শুরু হয়েছে, মনে হয় এখন থেকে আমরা প্রায়ই এটা দেখতে পাব।
প্রশ্ন হচ্ছে সাংসদ হওয়ার জন্যে সবার এতো আগ্রহ কেন? যদি এরকম হতো যে একটা আদর্শের ধারক হয়ে দেশ সেবার জন্যে আগ্রহ তাহলে অবশ্যই আমরা খুশি হতাম। কিন্তু মনে হচ্ছে ব্যাপারটা সেরকম কিছু নয়, সাংসদ হতে পারলে অনেক ক্ষমতা এবং সেই ক্ষমতার সঙ্গে সঙ্গে অর্থবিত্ত, ব্যবসা-বাণিজ্য চলে আসে এবং সেটাই মূল আগ্রহ। আমাদের মহামান্য রাষ্ট্রপতি পর্যন্ত সেটা নিয়ে দু:খ করে বলেছেন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বিজ্ঞানী হতে হলে সেই বিষয়ে লেখাপড়া করতে হয়, কিন্তু সাংসদ হতে হলে কিছ্ইু করতে হয় না। সারা জীবন ব্যবসা করে, না হয় আমলা থেকে রিটায়ার করার পর কোনো দলের টিকেট নিয়ে সাংসদ হয়ে যাওয়া যায়! আমি তার সঙ্গে পুরোপুরি একমত, আমিও মনে করি যিনি সারা জীবন নিজের এলাকায় রাজনীতি করেছেন, একেবারে তৃণমূল থেকে উঠে এসেছেন শুধু তাদেরই মনোনয়ন পাওয়া উচিৎ।
এতোদিন আমরা নিয়োগ বাণিজ্য বলে একটা কথা শুনে এসেছি, আমাদের মতো ‘সৌভাগ্যবান’ মানুষ সেগুলো অল্প বিস্তর দেখেও এসেছি। এই বছর আমার শব্দ ভাণ্ডারে ‘মনোনয়ন বাণিজ্য’ নামে একটা নূতন শব্দ যোগ হয়েছে! নিজের রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য দলের কর্তা ব্যক্তিদের ঘুষ দেওয়া হচ্ছে মনোনয়ন বাণিজ্যের কার্য পদ্ধতি। জাতীয় পার্টি এই নূতন অভিযোগে অভিযুক্ত। যিনি ঘুষ দিয়েও মনোনয়ন পাননি তিনি স্বয়ং এই অভিযোগ করেছেন আমার হিসেবে একেবারে ‘হই হই কাণ্ড রই রই ব্যাপার’ হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু সেরকম কিছু দেখছি না। কিংবা কে জানে রাজনীতির বেলায় এগুলো নেহায়েতই স্বাভাবিক ব্যাপার, আমাদেরই কমনসেন্সের অভাব বলে বুঝতে পারছি না।
নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের হলফনামা প্রকাশ পেতে শুরু করেছে। সবাইকে নিজের ধন সম্পদের বর্ণনা দিতে হচ্ছে। আমি খুবই আগ্রহ নিয়ে সেগুলো পড়ছি। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে কাজেই দশ বছর আগে একজনের যত ধন সম্পদ যত ছিল এতোদিনে সেটা বাড়তেই পারে। কিন্তু যখন দেখি দশগুণ বেড়ে গেছে তখন একটু চমকে উঠি। তবে যখন দেখি স্বামী বেচারা এখনো টেনে টুনে দিন কাটাচ্ছে, কিন্তু স্ত্রীর ব্যাংকে টাকা রাখার জায়গা নেই- তখন একটুখানি কৌতুক অনুভব করি। আশা করছি, স্ত্রীরা বিপদে আপদে তাদের স্বামীদের টাকা পয়সা দিয়ে একটু সাহায্য করবেন। এতোক্ষণ যে সব বিষয় নিয়ে কথা বলেছি সেগুলো ছিল টুকিটাকি বিষয় এবারে বাড়াবাড়ি বিষয় নিয়ে একটু কথা বলি।
তারপর দীর্ঘদিন কেটে গেছে, পৃথিবীর অন্য যেকোনও দেশে স্বাধীনতা বিরোধীরা রাজনীতি করার সুযোগ পায় না। আমাদের অনেক বড় দুর্ভাগ্য তারা শুধু যে রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছে তা নয়, বিএনপি এর হাত ধরে তারা ক্ষমতার অংশ হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে তারা কখনো এই দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চায়নি, কখনো বলেনি যে একাত্তরে তারা ভুল করেছিল। তাই যখন কেউ বলে জামায়াতে ইসলামীতে মুক্তিযোদ্ধা আছে তখন আমি চমকে উঠি। সত্যি যদি কোনো মুক্তিযোদ্ধা জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়ে থাকেন তার অর্থ এই নয় যে জামায়াতে ইসলামী এখন মুক্তিযুদ্ধের ধারক বাহক হয়ে গেছে। বুঝতে হবে সেই মুক্তিযোদ্ধার মতিভ্রম হয়েছে। আমাদের চারপাশে এখন এরকম অনেক মুক্তিযোদ্ধা আছেন, আমরা তাদের দেখি এবং দীর্ঘশ্বাস ফেলি।
আমি চাই আমাদের দেশের তরুণ প্রজন্ম দায়িত্ব নিয়ে স্বাধীনতা বিরোধী এই রাজনৈতিক দলটিকে এই দেশে পুরোপুরি গুরুত্বহীন একটি সংগঠনে পাল্টে দিক।
২|
১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৫:১৩
মাহমুদুর রহমান বলেছেন: পড়লাম।
৩|
২০ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১:১৬
প্রবালরক বলেছেন: চীনপন্থী কম্যিউনিষ্ট পার্টিগুলিও স্বাধীনতা বিরোধী ছিল।
©somewhere in net ltd.
১|
১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৩:৪৫
রাজীব নুর বলেছেন: প্রথম পাতায় পর-পর দুইটা পোষ্ট করলেন যে?
এটা ঠিক না। ব্লগের একটা নিয়ম আছে। আমাদের সকলের নিয়ম মেনে চলা উচিত।