নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি ই ওয়াসিম, আমি ই হ্যাভেন ! আমি ও বলতে চাই !

ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন

ব্লগিং হউক সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার ।

ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন › বিস্তারিত পোস্টঃ

সব ঠিক আছে বলে আর লুকানোর সময় নেই।

২২ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ১:২৫

করোনার ভয়াবহ রূপ আমাদের স্বাস্হ্যখাত কতটা দুর্নীতিগ্রস্হ্য ব্যর্থ ও দেউলিয়া তাই প্রমান করতে স্বার্থক হয়েছে । স্বাস্হ্য খাতের দুর্নীতির চিত্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রচার করে আসলেও এর দিকে তেমন কেউ ই নজর দেননি। কারন ধনী ও ক্ষমতাবনরা সব সমই চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড সিংগাপুর সহ বিশ্বের উন্নত দেশের বড় বড় হাসপাতালের উপর ই নির্ভর করে আসছেন। আর মধ্যবিত্তের জন্য দেশের নামীদামি হাসপাতাল তো আছে। গরীবের চিকিৎসা ব্যবস্হা সেটা অবশ্য দেশের সরকারী হাসপাতাল গুলিতে গেলেই বুঝা যায় যে তাদের স্বাস্হ্য সুরক্ষার সৃস্টি কর্তার ই দয়া।

বাংলাদেশে স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি নতুন কিছুই নয়। সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে কর্তাব্যক্তিদের পরিবর্তন হলেও দুর্নীতির চিত্র পাল্টায়নি বরং আরো ভয়াবহ হয়েছে এই চিত্র। ২০০৯ সালের শুরুতেই বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য নির্বাচিত হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা ক্ষমতাভার গ্রহন করে তার মন্ত্রী সভার স্বাস্হ্য মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয় প্রখ্যাত চিকিৎসক আ ফ ম রুহুল হককে । সেই সময়ই আমাদের স্বাস্হ্যখাত ব্যাপক ভাবে দুর্নীতিগ্রস্হ্য হয়ে পরে। স্বাস্হ্যখাত ব্যাপক ভাবে পারিবারিক ও দলীয় প্রভাবে দখলের আস্তানায় পরিনত হয়। ঐ সময়ের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ঘাটলে স্বাস্হ্যখাতের ভুরিভুরি অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ ও প্রতিবেদন আমরা দেখতে পাই। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে সরকার গঠনকালে শেখ হাসিনা স্বাস্হ্যমন্ত্রীর পরিবর্তন ঘটান। দলের প্রভাবশালী নেতা মোহাম্মদ নাসিমকে দায়িত্ব দেয়া হয় স্বাস্হ্যমন্ত্রনালয়ের । নাসিম সাহেব এই মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রায় ই কাগুজে বাঘের মত অনেক হুংকার দিয়েছেন। কিন্তু যা হবার তাই হচ্ছিল। স্বাস্হ্য বিভাগের দুর্নীতির প্রভাব ছিল আরে উর্ধমুখী।
স্বাস্হ্য খাতের দুর্নীতির মহামারীর ভয়াবহতার চিত্র একের পর এক সংবাদ মাধ্যমে আসতেই থাকে।

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাক্তার মনোয়ারুল আজিজ কথা আমাদের অনেকেরই খেয়াল আছে। মাছরাঙ্গা টিভির সাংবাদিক বদরুদ্দোজা বাবু স্বাস্হ্যখাতের দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করতে গিয়ে তাকে আমাদের সাথে পরিচয় করে দিয়েছিলেন। অশ্রুজলে তাকে বিদায় নিতে হয়ে ছিল পাবনা জেনারেল হাসপাতাল থেকে । অবসরে যাবার মাত্র ১৫ দিন আগে ওএসডি করা হয়েছিল ডাক্তার মনোয়ারুল আজিজকে। পাবনা জেনারেল হাসপাতাল থেকে বিদায়ের মুহর্তে পুরো হাসপাতাল ই ছিল অশ্রুসিক্ত। সততাই অবসরের আগ মুহুর্তে তার ওএসডি হওয়ার মুল কারন। তিনি ঠিকাদারের তৈরি করা প্রায় দেড়লাখ মেশিনপত্রের চাহিদা পত্রে সই করেননি। কর্তাব্যক্তের দুর্নীতিকে পশ্রয় দেন নি। তিনি শুধু একজন আর্দশ চিকিৎসক ই না ছিলেন একজন দক্ষ প্রশাসক ও তার দক্ষতায় পাবনা জেনারেল হাসপাতাল দেশের জেলা পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ হাসপাতালের পুরস্কার। এর পরের অনেক ঘটনাই আমরা সংবাদমাধ্যম থেকে জানতে পারি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল এডুকেশন শাখার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আবজাল হোসেনের কথা তো এখনো কারো ভুলে যাওয়ার কথা নয়। চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে চাকরিতে যোগ দিয়ে টাকার কুমির বনে যায় আবজাল। দেশ বিদেশে বাড়ী গাড়ী ব্যবসা সহ কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক এই আবজাল। যদি স্বাস্হ্য বিভাগের একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর সম্পত্তির এই অবস্হা সেখানকার উচ্চপদস্থদের সম্পত্তির পরিমান কি হতে পারে তা তারা নিজেরা ও সম্ভবত সঠিক ভাবে জানে না। সাবেক স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের পুত্র তমাল মনসুরের নিউইয়র্ক শহরে বড় ব্যবসা ও অঢেল সম্পত্তির কথা ও আমরা শুনেছি।

সর্বশেষ সরকার গঠনকালে জাহিদ মালিক কে স্বাস্থ্য মন্ত্রী করলেও স্বাস্হ্য খাতের দুর্নীতি চিত্রের কোন পরিবর্তন হয় নি। ২০১৯ এর শুরুতে স্বাস্থ্য খাতে কেনাকাটা, নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি, পদায়ন, চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসা সেবায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ব্যবহার, ওষুধ সরবরাহ সহ ১১টি খাতে দুর্নীতি বেশি হয় বলে উল্লেখ করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)। এক প্রতিবেদনে দুর্নীতির এই খাতগুলো চিহ্নিত করে এসব দুর্নীতি প্রতিরোধে ২৫ দফা সুপারিশও করেছে সংস্থাটি। জানিনা এই সুপারিশ কত টুকু সরকারের কর্তাব্যক্তিদের দৃষ্টি গোচর হয়েছে?

গত ডিসেম্বরের শেষে চীনের উহান করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে আমাদের স্বাস্হ্য বিভাগের সকলকেই বুঝানোর চেস্টা করানো হয়েছে এর ভয়াবহতা। যেহেতু এটা একটি ভীষন ছোয়াচে ভাইরাস এর কোন প্রতিষেধক নাই। তাই বৈশ্বিক যোগাযোগের কারনে এটা দ্রুত ছড়িয়ে পরে সারা বিশ্বে। আমরা ও সেই গ্লোবাল ভিলেজের ই বাসিন্দা। এর ই মধ্যে ইউরোপের দেশ ইতালিতে এর তান্ডব শুরু হয়।
শুরু থেকেই আমাদের দেশের একশ্রেণির মানুষ করোনা নিয়ে প্রচন্ড উদ্বেগের মধ্যে পরেন৷ তারা বার বার আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সহ স্বাস্হ্য বিভাগের উদ্বর্তন কর্মকর্তাদের যেখানেই পেয়েছেন একই কথা জানতে চেয়েছেন তাদের করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের প্রস্তুতি সম্পর্কে। সব সময় তাদের একই উত্তর সব ঠিক আছে আমরা প্রস্তুত। কিন্তু গত ৮ মার্চ যখন দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর দুঃসংবাদ টি পেতে হলো তার পর ই আমাদের সমানে তাদের সব ঠিক আছের চিত্র ফুটে উঠল। করেনার থাবায় আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্হায় এক বিরাট ধস নেমে এলো করোনায় আক্রান্ত রোগীর জন্য কোন হাসপাতালে ব্যবস্হা নেই। আমাদের স্বাস্হ্য সৈনিকদের জন্য কোন পারসোনাল প্রোটেকটিভ ইকুইপমেন্ট এর ব্যবস্হা নেই। নেই কোন করোনা আক্রান্ত রোগী নির্নয়ের জন্য কেন পরীক্ষাগার বা পরীক্ষা কিট। বেশ কয়েক দিন আমাদের করোনায় আক্রান্ত রোগী সনাক্তকরনের পরীক্ষা কিট ১৭৩০ এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে আমাদের চিকিৎসকরা রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে একধরনের ব্যর্থতাই প্রকাশ করেন। বিনা চিকিৎসায় মরতে হয়েছে ও হচ্ছে অনেক কে। আজো শর্দি জ্বর কাশির রেগীকে কোন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আশ্রয় না পেয়ে ঘড়ে ফিরে বিনাচিকিৎসায় মরতে হচ্ছে। করোনারা রোগীদের চিকিৎসার জন্য ডেডিকেটেড হাসপাতাল গুলির চিকিৎসক নার্স সহ অন্যান স্বাস্হ্য কর্মীদের পিপিই থাকা খাওয়া সহ অভিযোগের অন্তনাই। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে ও আমাদের স্বাস্হ্য বিভাগ এন-৯৫ মাস্ক পিপিই নিয়ে নতুন খেলায় মেতে উঠলেন। তাদের ই আস্হাভাজন কোম্পানি জেএমআই হসপিটাল রিকুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেড আসল এন-৯৫ মাস্কের কথা বলে অতি নিন্ম মানের সাধারন মাস্ক সরবরাহ করলো। এই মাস্ক ব্যবহার করে অনেক চিকিৎসক নার্স সহ অনেক স্বাস্থ্যকর্মী আজ করোনায় আক্রান্ত । ইতোমধ্যে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ সহযোগী অধ্যাপক ডাক্তার নাঈম কে জীবন দিতে হলো করোনার থাবায়। করোনানা রোগীদের চিকিৎসার জন্য যে ধরনের পিপিই প্রয়োজন ছিল তা ডাক্তার নাঈমদের সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়েছে আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগ। দিন অনেকটা পার হয়ে গেছে আজো করোনা রুগীদের জন্য পরীক্ষাগার স্হাপন হাসপাতাল নির্মানে ব্যস্ত আমাদের স্বাস্হ্য বিভাগের কর্মকর্তার। করোনায় অর্থাৎ কোভিট-১৯ আক্রান্ত রোগীররা আজো তেমন কোন স্বাস্হ্য সেবা পাচ্ছেন না। আমাদের সবচেয়ে আতংকের বিষয় আমাদের দেশে কোভিট-১৯ আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে সুস্হ হওয়ার চেয়ে মৃত্যুর হার বেশি। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে যতটুকু জেনেছি করোনারা রোগীদের চিকিৎসার জন্য ডেডিকেটেড হাসপাতাল গুলিতে চিকিৎসার কোন সু ব্যবস্হা নাই বললেই চলে। জুনিয়র কিছু চিকিৎসক ও নার্স দিয়েই পারিচালিত হচ্ছে এখানকার চিকিৎসা ব্যবস্হা। কোন অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকে এখানে এখনো নিয়োগ দেওয়া হয় নি। সব মিলে আমাদের স্বাস্হ্য ব্যবস্হায় একটা অনিশ্চিত অবস্হার তৈরি হয়েছে। স্বাস্হ্য বিভাগের হর্তাকর্তাদের মধ্যে প্রচন্ড সমন্বয়হীনতা আজো বিদ্যমান। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এখনো সত্য আড়াল করতে তৎপর স্বাস্হ্যখাতের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরা। অযোগ্য হয়ে ও নিজেদের যোগ্য প্রমানে ব্যস্ত তারা। বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন ( বিএমএ) ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ ( স্বাচিপ) এর নেতার আজ অনেক কথাই বলছেন। আপনাদের কাছে প্রশ্ন কেন এতদিন চুপ ছিলেন? আপনরাতো নিজেদের পক্ষের চিকিৎসকদের প্রমেশন আর চিকিৎসকদের গ্রাম থেকে ঢাকায় আনার কাজে ব্যস্ত থেকে দেশের প্রান্তিক মানুষগুলিকে যথাযথ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত করেছেন। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে এখন আর দোষারোপের সময় নাই স্বাস্হ্য বিভাগের উচিত হবে নিজেদের ব্যর্থতা শিকার করে নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহ দেশবাসীর কাছে আসল সত্য প্রকাশ করে সবার সহযোগিতা নিয়ে দেশকে করোনার ভয়াবহ থাবা থেকে জাতিকে উদ্ধার করা। আর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আজ জনমানুষের দাবী দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে যে যেমন ভুমিকা পালন করছে ভবিষ্যতে সেই অনুসারে যথাযথ ব্যবস্হা নেওয়া।

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ২২ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ১:৩৮

শের শায়রী বলেছেন: আমাদের কান আছে দেখি না, চোখ আছে শুনি না।

২| ২২ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ১:৪৬

রাজীব নুর বলেছেন: শুধু স্বাস্থ্যখাত না। বাংলাদেশে সব খাতেই দূর্নীতি হয়।

৩| ২২ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ২:৫১

নেওয়াজ আলি বলেছেন: গ্রামে জোরালোভাবে ডাকাতি করা শুরু হয়েছে

৪| ২২ শে এপ্রিল, ২০২০ সকাল ১১:৪৪

সাইন বোর্ড বলেছেন: স্বাক্ষরবিহীন ফাকা কলসি, বাজনাটুকুই যার সম্বল...

৫| ২৩ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ১:২৫

ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন বলেছেন: এটা শুধু মাত্র একটা সেক্টেরর চিত্র। প্রতি সেক্টরেরই একই অবস্হ। অন্য সেক্টরে দুর্নীতি হয়তো আরো বেশি কিন্তু এই মুহুর্তে আমরা তা দেখছিনা। ধন্যবাদ ভাইয়া

৬| ২৩ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ১:২৫

ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন বলেছেন: এটা শুধু মাত্র একটা সেক্টেরর চিত্র। প্রতি সেক্টরেরই একই অবস্হ। অন্য সেক্টরে দুর্নীতি হয়তো আরো বেশি কিন্তু এই মুহুর্তে আমরা তা দেখছিনা। ধন্যবাদ ভাইয়া

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.