নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

জাহিদ আহমেদ রাহী

জাহিদ আহমেদ রাহী › বিস্তারিত পোস্টঃ

কেবলই শূণ্যতা চারিদিকে

০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৪:০০


চারিদিকে সুনসান নীরবতা। সারি সারি গাছপালা। সবুজের সমারোহ। ছায়া সুনিবিড় এ জায়গাটি আমার খুব প্রিয়। লাখো মানুষ ঘুমিয়ে আছে এখানে। দেহ বলতে এখন আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। মাঝে মধ্যে ক্ষয়ে যাওয়া হাড়-গোড়, মাথার খুলি পড়ে থাকতে দেখা যায় এখানে-ওখানে। ছেলেবেলায় খুব ভয় পেতাম এখানে আসতে। এখন আর ভয় লাগে না। বরং ‘আপন আপন’ লাগে। গত পাঁচ মাস ধরে প্রতি সপ্তাহে একবার করে আসা হচ্ছে এখানে।
.
সময় পেলেই পুরো জায়গাটা ঘুরে ঘুরে দেখি। মাটির বুকে উঁচু হয়ে থাকা ছোট ছোট ঘরগুলো দেখে নিস্তব্ধ হয়ে যাই। যে মানুষগুলো এক সময় হেসে-খেলে বেড়াত, যাদের দাপটে সবাই চুপ হয়ে থাকত, যারা ছিল শত মানুষের আশ্রয়স্থল, আজ তারা সাড়ে তিন হাত মাটির ঘরে বন্দী। সঙ্গী বলতে এখানে রয়েছে কেবল ব্যাকটেরিয়া, কেঁচো আর নাম না-জানা অসংখ্য পোকা-মাকড়ের দল। বড্ড আপন এ জায়গা আমার কাছে! সবার মত আমাকেও একদিন হাজির হতে হবে এখানে। ভিন্ন রূপে। ভিন্ন পোশাকে। সেই ভাঙ্গা বেড়া, ভেজা মাটি আর মাটির উপর জন্মানো সবুজ কচি ঘাস – আমায় যে বড্ড টানে! না এসে থাকতে পারি না।
.
যে মানুষটা চলে গেল – সে আর কোনোদিনও ফিরে আসবে না। নিষ্ঠুর এ সত্য কেন যেন মেনে নিতে পারছি না। হাজারো মানুষের ভীড়ে সেই চেহারাটা প্রতিনিয়ত খুঁজে ফিরি। কিন্তু না, কারও সঙ্গে মেলে না। চোখের সামনে ভেসে ওঠে সেই দৃশ্যটি – মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন তিনি। দুর্বল শরীরটা বারবার কেঁপে উঠছে। হাতের তালু দৃঢ়ভাবে মুষ্টিবদ্ধ হচ্ছে। খানিকবাদে নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে। প্রাণবায়ু বের হতে গিয়েও বের হচ্ছে না। আহ, কী যন্ত্রণা! ভয়াবহ এক মুহূর্ত। আরও কিছু সময় নিচ্ছেন পৃথিবীর শেষ আলোটুকু দেখে নেবার জন্য। তার বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলো অনবরত কাঁদছেন। কাঁদছি আমি নিজেও। চোখের পানি কোনোভাবেই আটকে রাখতে পারছিলাম না সেদিন।
.
যে হাতঘড়িটা তিনি ব্যবহার করতেন, যে চশমাটা তিনি পরতেন, যে চেয়ারটায় তিনি বসতেন – সবই পড়ে আছে ঠিক আগের মতই। অক্ষত। অব্যবহৃত। শুধু তিনি নেই। শূণ্যতা। কেবলই শূণ্যতা। শূণ্যতা চারিদিকে।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.