নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নতুন প্রজন্ম

স্মরণ জাকির

দু’চোখ ভরা স্বপ্ন আমার...

স্মরণ জাকির › বিস্তারিত পোস্টঃ

অবসরে পুরুষতন্ত্র ওনব্য পুরুষতন্ত্র

০৮ ই মার্চ, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:৪১





আমার মনের আয়নায় ও অবিজ্ঞতার ভাবনায়: পিতৃতন্ত্রের যাতাকলে পিষ্ঠ নারী:





পিতৃতন্ত্র কি তার গতাুগতিক কোন কথাবার্তায় না গিয়ে যা বলতে চাই, পিতৃতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ ও পিতৃতান্ত্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা হল তাই, যার মধ্যে দিয়ে একজন মানুষ পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করে শুধুমাত্র শারীরিক কিছু ভিন্নতার কারণে সারাজীবন মেয়ে, কন্যা, স্ত্রী আর মা হয়ে যথাক্রমে পিতা, স্বামী আর ছেলের অধীনে বেঁচে থাকে ও মৃত্যুবরণ করে। পিতৃতন্ত্র আমাকে শিখিয়েছে যে, নারী মহাজগতের সবচে আলোচিত ও রহস্যময়ী একটি প্রাণী।বিশ্ববিখ্যাত পদার্র্থ বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংস এইতো কদিন আগেও বলেেছন, নারী হচ্ছে সষ্টার সৃষ্টির সবচে রহস্যময়ী একটি সৃষ্টি(অষ্টম অষ্টাচার্য)। তারা দুর্বল, কোমল, রমনী, বশ্যতা স্বীকারকারি, আপোষকারি, চুপচাপ আর শ্রেষ্ঠত্যে পুরুষের এক স্তর নিচে। আরো...............।

তবে সবক্ষেত্রে আমার পূর্ব ধারণা ঠিক নয়। যদি পুরুষকে শ্রেষ্ঠও মনে করা হয তাহলে তার জন্ম তো কোনএক নারীর গর্ভেই। তাহলে সেই নারীতো আরো বেশি শক্তিশালী ও উত্তম হওয়ার কথা। নারী দুর্বল নয়। পুরুষতন্ত্র তাদের দুর্বল করে রেখেছে। নারী, নারী হয়ে জন্ম গহণ করছে না পিতৃতন্ত্রের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ ব্যবস্থার মধ্যে তাকে একটু একটু করে নারী হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।

জেন্ডার কমিউনিকেশনে নারী বৈষম্যের মূলকারণ পিতৃতন্ত্র।



পুরুষতন্ত্র/পিতৃতন্ত্র যভোবে নারীকে নারী হিসেবে গড়ে তুলছে:






সমাজ ব্যবস্থা, সংস্কৃতি রীতিনীতি আইন-আদালত লেখাপড়া, জানাশুনা, সাফল্য আর ব্যর্থতার মানদ- কি হবে তা যেমন পুরুষতন্ত্র ঠিক করছে। একই ভাবে কোনটি ভাল কাজ কোনটি খারাপ কাজ, কোন কাজটি ছেলের আর কোনটি মেয়ের, কোন পোষাকটি ছেলের আর কোনটি মেয়েদের। ছেলেদের কি নাম আর কোন বীরের পদবিতে ডাকা হবে আর মেয়েদের কোন আদুরে নাম আর রোমান্টিক অভিধায় ডাকা হবে তা পুরুষতন্ত্র যেমন ঠিক করে দিচ্ছে।একইভাবে কোন গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কাজটি ছেলেরা আর কোন টুকিটাকি হালকা মূল্যহীন কাজ মেয়েরা করবে তাও ঠিক করে দিচ্ছে এই পুরুষতন্ত্রই। এভাবেই নারীরা নারীকে নারী করে তুলছে সুনিপণ পুরুষতান্ত্রিক ভাবাদর্শের মধ্যে দিয়ে।যেমন করে পুজিবাদ তার ভাবাদর্শ প্রচার করছে সারা বিশ্বে।





রিটারমেন্টে/অবসরে পুরুষতন্ত্র:




ইসলাম ধর্মে আছে যে, রমজান মাসে আল্লাহ শয়তান (ইবলিশ)কে বেধে রাখে যাতে কোন পাপ কাজ না হয়। কিন্তু রমজান মাসেও অনেক পাপ কাজ হয়।কেন? উত্তরে আলেমরা বলে, শয়তান তার খারাপ ভাবাদর্শ মানুষের মাঝে এমনভাবে ছরিয়ে দিয়েছে যে, তার আর কোন খারাপ কাজ করতে হয় না। তার হয়ে অনুসারিরাই তা করে। আমি বলতে চাচ্ছি যে, একইভাবে আমাদের পুর্বপুরুষরা তাদের পুরুষতান্ত্রিক ভাবাদর্শের এমন একটি সমাজ ব্যবস্থা, রাষ্ট্র ব্যবস্থা, ধর্মববস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থা, এমনকি আমাদের শিল্প সাহিত্য, ইতিহাস এমনভাবে রচনা ও সৃষ্টি করেছে যার কারণে এখন আর পুরুষতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখাতে পুরুষকে কিছু করতে হয় না। সিস্টেমটাই এরকম হয়ে গেছে।



ভিন্নমত:



পুরুষতন্ত্র আর তাদের শেষ্ঠত্ব নিয়ে নারীদের সাথে তর্ক করে না। পুরুষের হয়ে নারীরাই তা করছে। মা, তার মেেেয়র চেয়ে ছেলেটার গুরুত্ব বেশি দিচ্ছে। মেয়ে সন্তানের চেয়ে ছেলে সন্তানের জন্ম দিতে পেরে নিজেকে অনেক বেশি শ্রেষ্ঠ মনে করছে।ছেলেটাকে দিচ্ছে সর্বোচ্চ স্বাধীনতা আর মেয়েটাকে যতটা পারা যায় পর্দার মধ্যে রেখে কীভাবে একজন আদর্শ নারীর গুনে গুনান্বিত করা যায়,পুরুষের ভোগবাসনার জন্য বিয়ের আগ পর্যন্ত কুমারী রাখা যায় তার জন্য নানারকম বিধিনিষেধ আরোপ করছে।মেয়েটি যখন বউ হয়ে কোন পুরুষের ঘরে গিয়ে শাশুড়ী কর্তৃক পিতৃতন্ত্রের যাতাকলে পিষ্ট হচ্ছে, আবার সেই অত্যাচারিত বধুই শাশুড়ী হয়ে আবার সেই পুরূষতন্ত্র্রের শাসনটাই চালু রাখছে। রবিন্দ্র নাথের স্ত্রীর পত্র আর হৈমন্তী নামক ছোট গল্প দুটির ন্যায় বাংলা সাহিত্যের সবখানেই তা দেখা যায় ।

পুরুষের মনোরঞ্জনের আড়ালে মিডিয়ায় নারীর ক্ষমতায়ন মিথ:

বরাবরের ন্যয় বর্তমানেও মিডিয়ায় নারীকে অধস্তন আর পুরুষের মনোরঞ্জনের পণ্য হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।বিভিন্ন সুন্দরী প্রতিযোগিতা, সিনেমা, নাটক আজকাল বিজ্ঞাপনেও তা দেখা যাচ্ছে।এডাল্ট মুভিগুলোতেও দেখা যায় পুরুষরা ধর্ষকামী আর নারীরা মর্শকামী।পুরুষতন্ত্র ধর্ষণকে দেখাচ্ছে নারীকে শায়েস্তা করার ও শাস্তি দেয়ার একটা উপায় হিসেবে । সর্বোপরি পুরুষতন্ত্রের আদর্শেই প্রচার পাচ্ছে মিডিয়া কমিউনিকেশনে।



যা পরিবর্তন করা দরকার:



 পুরুষ তার নিজের স্ত্রী আর কন্যাকে ঘরে রেখে নিজের মনোরঞ্জনের জন্য পতিতালয় বানিয়ে তার বৈধতা দিচ্ছে।তা বাতিল করতে হবে।

 পুরুষতান্ত্রিক ভাষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার মধ্যেদিয়ে নারীদের নারী করে রাখার প্রক্রিয়া থেকে বের হতে হবে।

 ধর্মের দোহাই দিয়ে নারীকে তার প্রাপ্প্য পৈত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার শাসন বন্ধ করতে হবে।

 প্রচলিত শিক্ষা, সমাজ, রাষ্ট্র আর সাংস্কৃতিক ব্যবস্থার পরিবর্তন।

 নারীকে ভোগের পণ্য হিসেবে নয় একজন মানুষ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।



নব্য পুরুষতন্ত্র:



সাদা চোখে দেখলে মনে হবে পুরুষতন্ত্রের সর্বগ্রাসী নিয়ন্ত্রণের বিলোপ ঘটছে। নারীরা অনেক বেশি স্বাধীনতা পাচ্ছে। তবে আমার মনে হচ্ছে এটা পুরুষতন্ত্রের নব্যরূপ। প্রথম বিশ্বের দেশগুলো আমাদের মত তৃতীয়বিশ্বের উপনিবেশ দেশগুলোকে স্বাধীনতা দিয়েও নব্যউপনিবেশিকতাবাদের দ্বারা এখনো অর্থনৈতিক ও আদর্শিক জায়গা থেকে যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। ঠিক একইভাবে পুরুষতন্ত্র নারীদের রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী আরও নানা গুরুত্বপূর্ণ আসনে বসালেও সেই নারীরা নব্যপুরুষতন্ত্রের আদর্র্শই বাস্তবায়ন করছে।

নারীবাদিদের সম্পর্কে আমার ধারণার প্রেক্ষিতে বলছি, পুরুষতন্ত্রের শাসন ও নিয়ন্ত্রণ তারা বন্ধ করতে পারবে না ; যদি না, সমাজ, রাষ্ট্র, শিক্ষা আর পুরুষতন্ত্রের হাজার বছরের লালিত সংস্কৃতির বিদ্যমান যোগাযোগ ব্যবস্থার পরিবর্তন না করা যায়।



(আমি নিজেও একজন পুরুষ তবে নারীকে দুর্বল আর আর ফ্রয়েডের মতো বিকৃতিগ্রস্ত কোন প্রাণী হিসেবে দেখি না।নারীকে মানুষ ও জীবনের একজন অত্যাবশ্যকীয় সহযোগী হিসেবে ভাবতেই ভালবাসি।)

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.