নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

যাপন একজন গনমাধ্যম শ্রমিক

নীল নীর্জন

সাধারন প্রামান্যচিত্র নির্মাতা ও সৃষ্টির সকল আঙ্গিকের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ।

নীল নীর্জন › বিস্তারিত পোস্টঃ

বৃষ্টি দিনের চিঠি

২৭ শে আগস্ট, ২০০৭ রাত ১১:৪১

এলাহী ভরসা

প্রিয় ভাল লাগা
পত্রে আমার শত কোটি সালাম না নিলেও হবে । হৃদয় থেকে একবার সালাম গ্রহন করলেই শান্তিতে থাকব। আশা করি ভাল আছো , মাঝে মাঝে মনে হয় তোমাকে ভালো থাকতেই হবে। কারন অনেক তুচ্ছ; তবে তুমি ভাল থাকলে আরো অনেকেই ভালো থাকবে।

পরসমাচার এই যে, ল্যান্ড ও সেল ফোনের বহুল ব্যাবহারে আমরা পত্র লেখা একেবারেই হয়তো ভুলতে বসেছি। ভাল মন্দ যে অনুভূতিই আমাদের হোক না কেন ফোন কম্পানিকে কিছু পয়সা দিয়ে নাম্বার চাপলেই ওপাশ থেকে তোমার কন্ঠ ভেসে আসে .....কেমন আছো তুমি? কি করছো? এখোনো খাওনি ? এসব পরিচিত প্রশ্নের ভিতর দিয়ে আলাপচারিতা যমে উঠলে -আরো পরিচিত শাব্দিক ভালোবাসা চলে অনেক্ষন। তাতে আমরা একে অপরের বুলি থেকে ভালবাসা পাই বা না পাই ফোন কম্পানি পয়সা ঠিকই পাবে।
আজ দু-একটি কথা লেখার জন্য বসেছি ঠিকই, তবে কলমের ব্যাবহার হচ্ছে না। আমার প্রিয় কম্পিউটারেই লেখছি। এ হলো সময়কে কোলে নিয়ে আদর করা। এই সময়কে গ্রহন না করতে পারলে সময়ও আমাদের গ্রহন করে না, ফলে আমরা অতীত মানসের সেকেলে সাব্যস্ত হই। সত্যিকার অর্থে জিবনের পথ তখনই স্থায়ী যখন সময় আমাদের গ্রহন করে।
আমি সময়কে গ্রহন করতে পেরেছি কিনা জানি না তবে একদিন সময়ের কাছ থেকে ভালবাসা নিয়েছিলাম ।

দিনটি বর্ষা ঋৃতুর হওয়ায় উন্মাদ বৃষ্টি মোটেও অনাকাঙ্খিত ছিল না। সারাদিন বৃষ্টি ছিল। আমরা, অর্থাৎ আমি আর তুমি টেক্সির কাঁচের জানালা দিয়ে বৃষ্টির ছান্দিক উন্মাদনা দেখছিলাম। কখনো জানালার বাহিরে হাত বাড়িয়ে বৃষ্টিকে আদর করেছি আবার কখনো বৃষ্টির তাপে শীতল করেছি আমাদের শারিরিক কোষ। বৃষ্টিকে একটু বেশি করে পাওয়ার ব্যাকুল ইচ্ছা শেষ হওয়ার আগেই রবি ঠাকুরের অনেক গান সক্্িরয় ঢেউ তুলেছে আমার হৃদয়ে।
শুনেছি বৃষ্টির দিনে প্রিয়তম মানুষের অস্তিত্ব বেশি করে ধরাদেয় নারী-পুরুষের চেতনায়। আমরা একে অপরের প্রিয়তম ছিলাম কিনা জানি না। তবে তুমি নারী বলেই হয়তো বা পুরুষ মানস বার বার তোমাকে বৃষ্টির কংকাবতী ভেবেছিল্। তুমি কি ভেবেছিলে জানি না। কিংবা বৃষ্টির শিথীলতা কেন যে তুমাকে নারী করতে পারেনি তাও জানি না।সত্যিই এখনো বেশ অবাগ লাগছে আমার ।
তুমি নারী হও;প্রচন্ড কোমলতার নারী, অস্থির নারী , একটি আঙ্গীক স্পর্শে আমি উন্মাদ পুরুষ হবো তাই চেয়েছিলাম সে দিন। না, তুমি তা হওনি । তাই আমিও বিকশিত হইনি যে ভাবে বিকশিত হওয়ার কথা ছিল।
বৃৃষ্টিকে ধরা না দিয়ে আমরা পৌঁছে গেলাম যেখানে আমাদের গন্তব্য। টেক্সির বাঁকা ছাদ থেকে আকাশের নিচে। বৃষ্টি তখনো থামেনি। আমরা বৃষ্টির পানি থেকে বাঁচার চেষ্টায় আশ্রয় নিলাম তোমার ছোট্ট ছাতার নিচে তাতে আমরা কেউ-ই- বৃষ্টির হাত থেকে রেহাই পেলাম না । তবে আমার কিন্তু ভিজতে দারুন লাগছিল। বৃৃুষ্টি আমার ভালো লাগে।অনেক ভিঁজেছি বৃষ্টিতে কিন্তু সেদিন তোমার উপস্থিতি বৃষ্টিকে আরো বেশি কাব্যিক রস দিয়েছিল।
অনেকদিন পরে সেদিন ছৈই ওয়ালা নৌকায় উঠলাম । এর আগে কবে যে এই প্রচীন বাহনে ভ্রমন করেছি মনে নেই ।শহর থেকে একটু দূরে ; বর্ষার আর্শিবাদে ছোট নদীর আকার অনেক দীর্ঘ আর প্রসস্থ হয়েছিল সেদিন ।ছৈয়ের ভিতর থেকে প্রবল বৃষ্টির আস্তর ছেদ করে দুরে মেঘের মিছিল গ্রামের মাথায় ছুঁয়ে যাওয়ার ছবি দেখতে দেখতে ... চোখের সামনে ভাসতে থাকে বালিকা বধূর নোলকের দোল।ছৈয়ের ছাঁয়ায় যে স্বপ্ন দেখতো গিরস্ত বাড়ির দু-বেলা ভরপেট ভাত আর গভীর অন্ধকারে একটু শররী ভাল বাসা।

এসব ভাবতে ভাবতে আমরা অনেক দূরে পৌঁছে গেলাম। যতই দূরে যাচিছ বৃষ্টির বেগ ততই বেড়ে যাচেছ । মাঝির শক্ত হাতও তখন কাঁপছে বৃষ্টির অবিরাম শীতলতায়। ইতমধ্যে নদী পার হয়ে বিলের ভিতর আমাদের ছৈওয়ালা নৌকা শাপলা- শালুকের পান, আড়াইল ঘাঁস , তরুন কুচুরি পানার ভিতরদিয়ে হালকা হেলে দোলে চলছে । কিছুক্ষন চলার পর বাহুর দুর্বলতায় মাঝি বৈঠা চালাতে অপারগতা জানালো।

সামনেই বিলের মাঝখানে জেগে থাকা পুরোনো গাছে মাঝি নৌকা বাঁধলো । সেখানে আরো অনেক নৌকাই বাঁধা ছিল । বৃষ্টির কারনে সব গুলো নৌকার ছৈই দু-পাশ থেকে আড়াল করা ছিল। তাই ভিতরের মানুষদের দেখতে পেলাম না । তবে বুঝতে কষ্ট হলোনা যে শুধু বৃুষ্টি নয়, ছৈয়ের এ আড়াল করার অন্য কারন ও আছে। আমাদের পাশের নৌকা থেকে দু-একটি শব্দ আসছিলো ;সুখকর অনুভূতির। এক জোড়া তরুন তরুনি নিজেদের একটু কাছে পাওয়ার জন্য বদ্ধ ছৈয়ের ভিতর দোলছে। এদের কেউ কেউ একে অপরের কাঁধে মাথা রেখে স্বপ্ন দেখতে এসেছে। আবার কেউ হয়তোবা একটু গোপন সম্ভারের জন্য ছৈয়ের নিচে আড়াল করেছে নিজেদের।

আমাদের মাঝি ছৈয়ের দু-পাশ আড়াল করতে চাইলে আমি তোমার দিকে তাকিয়ে হাসতে শুরু করেছিলাম তুমিও হাসলে। আমরা দু-জন অনেকক্ষন হেসেছি। হাসতে হাসতে লজ্জার আভা দেখতে পেয়েছিলাম তোমার চেহারায়। আমি আজো হাসি। তোমাকে কেমন অপ্রস্তুত দেখাচ্ছিল সেদিন ।আমি তোমার চোখে তাকাতেই দৃষ্টি গোটিয়ে নিয়েছিলে আর আমি দৃষ্টি সরিয়ে নিয়েছিলাম কলমির ডগায়।বৃষ্টির ফোঁটা বিলের পানির গভীর আস্তরন ভেদ করতে চেষ্ঠা করছিল, পারেনি। তবে প্রবল বৃষ্টি বাতাসের সহযোগীতায় ছৈয়ের বেড়া উপেক্ষা করে ভিতরে পানি ঠিকই ঢুকিয়ে ছিল। দু-জনের শরির পুরোটাই প্রায় ভিজে গেল। কি মনে করে যেন তুমি ছৈয়ের বাইরে বৃষ্টিতে ভিজলে। আমি ছৈয়ের ভিতর থেকে তোমাকে দেখছিলাম। ”শরির খারাপ করবে” বলে বেশ কয়েকবার তোমাকে নিষেধ করেছিলাম;শুনোনি।

তারপর তোমার ভেজা চুলের গন্ধে আমি অন্য এক টান অনূভব করলাম। তোমার কাছা-কাছি যাচ্ছি আস্তে আস্তে , শুধু ভেজা চুলের টানেই না বৃষ্টিও তাড়িয়েছিল তোমার দিকে। আমি বৃষ্টির শীতল আর তোমার শরীরের উষ্ণতায় নিজের অস্তিত্ব বিসর্জনে তোমাকে ভালো বাসা দিয়েছিলাম। কিন্তু তুমি কিছুই দাওনি। আজও আবার আমিই তোমাকে দিলাম , এই চিঠি।

ইতি

আমি...
তোমার শুভকামী



মন্তব্য ১ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ২৮ শে আগস্ট, ২০০৭ রাত ১২:৪২

নাজমুল আলম বলেছেন: ভীষণ বড় হয়ে গেল না? আমার একটা ছিচে অসুবিধে আছে, বড় কিছু পড়তে গেলে ঘুমিয়ে পড়ি। তবুও বৃষ্টি নিয়ে যখন লিখেছেন তখন একদিন সময় নিয়ে পরব। আমি এটাকে ফ্যাভারিট করে রেখে দিলাম।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.