নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি আমার দেশকে ভালবাসি। দেশের জন্য কাজ করতে চাই। লিখতে চাই মানুষ ও মানবতার জন্য।

জুবােয়র েমাস্তফা

েদশ ও েদেশর মানুষেক ভালবািস।

জুবােয়র েমাস্তফা › বিস্তারিত পোস্টঃ

এইদেশ ও একজন পথিক

২২ শে এপ্রিল, ২০১৫ রাত ১১:২৫

আজ থেকে ত্রিশ বছর আগে কোন এক মুহুর্তে আমি নিজেকে মুসলমান থেকে মুসলিম বলে আবিষ্কাার করি। পাঠকের মনে হয়ত প্রশ্ন জাগতে পারে মুসলমান থেকে কিভাবে মুসলিম হওয়া যায়। আমার জানা মতে, মুসলিম শুধু মাত্র আব্দুর রহমান, আব্দুল মালেক, মোহাম্মদ আলী কিংবা অন্য কোনো মুসলিম নামের মাধ্যমে বিবেচিত হয় না। যদিও আমি একটি মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেছি। আমার নামও একজন মুসলিমের নাম। আমার পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব সবাই ইসলাম ধর্মের অনুসারী। মুসলিম পরিবারিক ও সামাজিক পরিবেশে আমি বেড়ে উঠেছি। অথচ আমার জীবন আচরনে কোথাও একজন প্রকৃত মুসলিমের কর্মকান্ড খুঁজে পাওয়া যেত না। শুধুমাত্র জীবনকে ভোগবাদী সমাজে স্বাধীনভাবে উপভোগ কারার লক্ষে সাতত্রিশ বছর আগে দেশে ছেড়ে বিদেশের মাটিতে পাড়ি জমিয়েছিলাম। এ দীর্ঘ প্রবাস জীবনে ইউরোপের সুইজারল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, রাশিয়া, ইটালি, জার্মানি, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, যুগোস্লাভিয়া, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক এশিয়ার সিংগাপুর, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া এবং আমেরিকার নানা শহরে ঘুরে জীবনকে চরমভাবে উপভোগের কোনো চেষ্টাই বাকী রাখিনি। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারামারি করে বিভিন্ন দেশে জেল খেটেছি। এক দেশ থেকে অন্য দেশে পালিয়ে বেড়িয়েছি। নাইট ক্লাবে চাকরি, নানা রঙের বন্ধুদের সাথে আড্ডা, নেশার রাজ্যে হারিয়ে যাওয়া, এক হাতে আয় - দু’হাতে ব্যয়, পিছুটানহীন স্বাধীন জীবন, এসবই আমার সময়ের চাকাটিকে দ্রুত বেগে এগিয়ে নিয়ে গেছে। এখন জীবন খাতায় হিসেবের পাতায় হারানো সময়ের ফলাফল শূন্য ছাড়া কিছুই পাই না। কোথায় হারিয়ে ফেলেছি আমার ক্ষুদ্র জীবনের মূল্যবান সময়গুলো- যা আমি উপভোগ করেছি!

দিনগুলো আমার মত করে ভালই কেটে যাচ্ছিল। একজন মুসলিমের উপর ফরজ হওয়া দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ তো দূরের কথা জুম্মা কিংবা ঈদের নামাজও যখন আমাকে মসজিদের ধারে কাছে নিতে পারেনি তখন কোন এক জুম্মাবারে অনেক দিন পর কানাডায় খ্রিস্টানদের চার্জ কিনে বানানো প্রথম মসজিদ দেখার উদ্দেশ্যে বের হলাম। সবার সাথে আমিও নামাজের উদ্দেশ্যে মসজিদে প্রবেশ করলাম। যেখানে খুৎবা দিচ্ছিলেন ব্রাদার আব্দুল হাকিম কুইক নামের একজন নও মুসলিম। যিনি আমেরিকায় জেলখানায় কোরআন পড়ে খ্রিষ্টান থেকে মুসলিম হয়ে কানাডার সেই মসজিদের ইমামের দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর অনেক কথার মাঝে কিছু কথা আমাকে প্রচন্ডভাবে আলোড়িত করে। খুৎবার এক পর্যায়ে তিনি বলেন “তোমরা পাক ভারতের মুসলমানরা নিজেদের বাড়িতে রাখা কোরআন মানুষের মৃত্যুর পর পাঠ কর। কিন্তু আমি কোরআনে এমন কোন আয়াত পাইনি যা মৃত মানুষের সাথে কথা বলে। দয়া করে তোমাদের সেলফে পরে থাকা কোরআনের ময়লা পরিষ্কার করে একটু অর্থসহ পড়ে দেখ। এটা তোমার হৃদয়ের ময়লা পরিষ্কার করবে।”। সেদিন নামাজ আদায় করে আসার পর ইমাম সাহেবের কথা গুলো আমার হৃদয়ে দাগ কাটে এবং চিন্তার খোরাক হয়। সে রাতেই কোরআনের বাংলা অনুবাদ পড়তে বসি। পবিত্র কোরআন বুঝে পড়ার পর কোরআনই আমার চলার পথের গতি পরিবর্তন করে দেয়।

এক সময় আমি নামে মুসলমান ছিলাম। কোরআন পড়ে আমি মুসলিম হয়েছি। কোরআন আমাকে শিখিয়েছে কিভাবে জীবনকে প্রকৃত ভাবে উপোভোগ করতে হয়। কোরআনের প্রকৃত শিক্ষা মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া একজন মুসলিমের পবিত্র দায়িত্ব। আর সেই দায়িত্ববোধ থেকে বিগত ত্রিশ বছর যাবত দেশে-বিদেশে, পথে-প্রান্তরে মানুষের কাছে কোরআন আমাকে যা শিখিয়েছে তাই বলে যেতে চেষ্টা করে যাচ্ছি। এই চেষ্টার ক্ষুদ্র প্রয়াস “এইদেশ ও একজন পথিক”।


শমসের আলী হেলাল
এপ্রিল ২০১৫
কাটাসুর, মোহাম্মদপুর, ঢাকা

অনুলিখন ও সম্পাদনা
জুবায়ের মোস্তফা

মন্তব্য ৩ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৩) মন্তব্য লিখুন

১| ২২ শে এপ্রিল, ২০১৫ রাত ১১:২৮

জুবােয়র েমাস্তফা বলেছেন: Call For Your Copy : 01711289313

২| ২২ শে এপ্রিল, ২০১৫ রাত ১১:৪৪

চাঁদগাজী বলেছেন:


সবার গল্প থাকে

৩| ২২ শে এপ্রিল, ২০১৫ রাত ১১:৫২

চাঁদগাজী বলেছেন:


"আজ থেকে ত্রিশ বছর আগে কোন এক মুহুর্তে আমি নিজেকে মুসলমান থেকে মুসলিম বলে আবিষ্কাার করি। "

-৩০ বছর আগেই আপনি সঠিক মুসলিম হয়েছেন;

" শুধুমাত্র জীবনকে ভোগবাদী সমাজে স্বাধীনভাবে উপভোগ কারার লক্ষে সাতত্রিশ বছর আগে দেশে ছেড়ে বিদেশের মাটিতে পাড়ি জমিয়েছিলাম। এ দীর্ঘ প্রবাস জীবনে ইউরোপের সুইজারল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, রাশিয়া, ইটালি, জার্মানি, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, যুগোস্লাভিয়া, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক এশিয়ার সিংগাপুর, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া এবং আমেরিকার নানা শহরে ঘুরে জীবনকে চরমভাবে উপভোগের কোনো চেষ্টাই বাকী রাখিনি। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারামারি করে বিভিন্ন দেশে জেল খেটেছি। এক দেশ থেকে অন্য দেশে পালিয়ে বেড়িয়েছি। নাইট ক্লাবে চাকরি, নানা রঙের বন্ধুদের সাথে আড্ডা, নেশার রাজ্যে হারিয়ে যাওয়া, এক হাতে আয় - দু’হাতে ব্যয়, পিছুটানহীন স্বাধীন জীবন, এসবই আমার সময়ের চাকাটিকে দ্রুত বেগে এগিয়ে নিয়ে গেছে। এখন জীবন খাতায় হিসেবের পাতায় হারানো সময়ের ফলাফল শূন্য ছাড়া কিছুই পাই না। কোথায় হারিয়ে ফেলেছি আমার ক্ষুদ্র জীবনের মূল্যবান সময়গুলো- যা আমি উপভোগ করেছি! "



-৩৭ বছর আগে দেশ ছেড়েছেন; কত বছর ক্লাব ইতয়াদি নিয়ে ব্যস্ট ছিলেন? কত বছর পর, কানাডার মসজিদে গিয়ে বুঝতে পারলেন জীবনকে?


-এবার যোগ বিয়োগ করে সংখ্যাটা ঠিক করার চেস্টা করেন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.