নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

যত হাসি তত কান্না বলে গেছেন রাম সন্না

ব্লক করা বন্ধ করুন!! ব্লক এইডসের মতো জঘন্য ব্যাধি!!!

জুবায়েরকবির

ভালোবাসি বন্ধুত্ব করতে, আড্ডা দিতে, সুপারন্যাচারাল বিষয়গুলো নিয়ে পড়তে, প্রচুর মুভি দেখতে, বই পড়তে, নিজে সবসময় হাসিখুশি থাকতে এবং মানুষকে হাসিখুশি রাখতে।

জুবায়েরকবির › বিস্তারিত পোস্টঃ

নিরাপদ সড়কের আশায়!

০৫ ই আগস্ট, ২০১৮ দুপুর ১২:০৩

মোটিভেশনাল স্পীকার, ইউটিউবার, ফেসবুক সেলিব্রিটি, এমনকি শ্রদ্ধেয় জাফর ইকবাল স্যার, আমাদের গর্ব বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার সাকিব-আল-হাসান প্রত্যেকেই তাদের নিস্ক্রিয় অথবা দেরিতে সক্রিয়(ঝোপ বুঝে কোপ)হওয়ার ভূমিকায় প্রবল ভাবে সাধারণের কাছে সমালোচিত। অন্যদিকে ঘরে বসে চানাচুর দিয়ে মুড়ি মাখানোতে ব্যাস্ত মুরব্বীগন থেকে শুরু করে প্রাইভেট ও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া বড় ভাইরা আন্দোলনে বিন্দুমাত্র ভূমিকা তো রাখছেনই না বরংচ বাচচাগুলোকে বিভিন্ন জ্ঞানগর্ভ টাইপ বাণী দিয়ে (আমরা শাহবাগে অমুকের ওই কেশ ফেলেছি তমুক করেছি বলে)বিভ্রান্ত করে নিজেদেরকে ইতিমধ্যেই অথর্ব ও বিচিহীন প্রমান করছেন। কেউ বাচ্চাদের আন্দোলনের ভাষা নিয়ে সমালোচনা করছেন তো আবার কেউ ওদের মায়ের কোলে ফিরে যেতে বলছে্ন। প্রথম আলোর মতো সর্বপঠিত পত্রিকাও শাজাহান খানের পদত্যাগকেই একমাত্র সমাধান দেখছে। এক শাজাহান চলে গেলে যে হাজারটা শাজাহান তার জায়গায় বসবে এই ইতিহাস তারা বেমালুম ভুলে বিসে আছেন। কোনো কোনো ধান্দাবাজরা আন্দোলন থেকে ফায়দাও লুটছে। যে যার মতো সুবিধাজনক অবস্থান ঠিক রেখে ফাকা বুলি আউড়াচ্ছেন।
এতকিছুর পরেও, দেশের ভণ্ড শিক্ষা ব্যাবস্থার চক্রে পড়ে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও স্কুল কলেজপড়ুয়া (১৩-১৭) বছরের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা, যারা এতোকাল বইয়ের পাতা থেকে মুখ তুলে সমাজ সেবার কথা চিন্তাও করতে পারে নাই ঠিক তারাই কিন্তু নিজেদের ভাই বোন খুন হওয়ার পর আসল সমাধানটা আসলে!! কি? এটা বুঝতে ১ ঘণ্টা সময়ও ব্যায় করে নাই। ওরা ঠিকই বুঝতে পারছে যে, দেশের পুরো যাতায়াত ব্যাবস্থার ও পরিবহন খাতের আমূল পরিবর্তনই একমাত্র বাস্তব সমাধান। এটা বুঝতে কিন্তু ওদের এক একজনকে জাফর ইকবাল হওয়া লাগে নাই।
একাত্তরেও কিন্তু দেশের সবাই মুক্তিবাহিনীতে ছিলোনা। কিন্তু সুবিধাবাদী দালালচক্র ও রাজাকাররা বাদে পুরো দেশের আপামর মানুষের সমর্থন ছিল। যে যেভাবে পারছে তার অবস্থান থেকে যুদ্ধে সহযোগিতা করছে। উপরে বর্ণিত ডিজিটাল রাজাকারদের বলছি সময় এখন শেষ হয়ে যাইনি অবৈধভাবে ফুলে ফেঁপে ওঠা প্রবল ক্ষমতাবান ব্যাক্তিদের পা চাটা বাদ দিয়ে বাচ্চাদের সমস্যার সমাধান দিয়ে হোক, আর ওদের উদ্ভুদ্ব করে হোক নিজ নিজ জায়গা থেকে এই নোংরা সিস্টেমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন। এই বাচ্চা বাচ্চা শিক্ষার্থী গুলা কিন্তু এ কদিনে আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে গেছে। আমরা যদি এখনো নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্রদের পাশে এগিয়ে না আসি, তাহলে অতিশীঘ্রই একটি মেরুদণ্ডহীন রাষ্ট্রের নূপুংশক জাতিতে পরিনত হব।
নিম্নবর্ণিত হাজারটা উপায়ে সিস্টেমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা যায় সময়ের অভাবে গুছিয়ে লিখতে পারলাম না সম্ভব হলে আপনরাও কিছু এড করেন।

#যাদের প্রতিদিন বাসে চড়ে কর্মস্থলে যেতে হয় তারা ওই সকল মুড়ির টিন মার্কা বাস গুলোকে বর্জন করেন। প্রয়োজনে দাবী না মানা পর্যন্ত পায়ে হেটে অফিস করেন।
#১৭ কোটি মানুষের দেশে ১৮ কোটি টিভি চ্যানেল ভাইরা, আলু পটলের ফলন প্রচার না করে আন্দোলন ফলাও করে প্রচার করেন। মন্ত্রীদের লাইভে নিয়ে দেশের জনগনের দাবী দাওয়া সম্পর্কে অবহিত করেন। নাটক সিনেমা নির্মাতারাঅ শিক্ষণীয় ফিল্ম অথবা শর্ট ফিল্ম বানিয়ে প্রচার করেন।
#আইনজীবীরা সড়ক ও যানবাহনের সঠিক ব্যাবহারের নতুন আইন তৈরি করেন।
# লেখকরা দেশের বেহাল ব্যাবস্থার তথ্যমূলক সমস্যা ও সমাধান নিয়ে লিখেন।
#দেশের কাপ্তান সাকিব ভাই দলের সবাইকে নিয়ে আজকের টি টুয়েন্টি ম্যাচে কালো ব্যাজ পরে মাঠে নামলে আরও ভাল্লাগতো। ভাই বোনের মৃত্যুর শোককে শক্তিতে পরিনত করে, একটি জয় আমাদের উপহার দিয়েছেন। এখন যদি লাইভে এসে বাচ্চাদের বাসায় ফিরার কথা না বলে কিভাবে নিরাপদ সড়ক আদায় করা যায় তার উপায় বলেন তাহলে আমরা আরও অনেক খুশি হবো।
#জাফর ইকবাল স্যারসহ আরও অনেক গণ্যমান্য ব্যাক্তিরা যারা দীর্ঘদিন যাবত আমাদের ছাত্র সমাজের মুখপাত্র হয়ে আছেন, সবাই ছাত্রদের পাশে এসে দাঁড়ান।
#রাস্তায় নামা সমস্ত বাসগুলো যেন যোগ্য চালকের হাতে থাকে এটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব অবশ্যই বাস মালিক সমিতির। নিজের বাসটি চালকের হাতে তুলে দেওয়ার আগে পরীক্ষা করে নেন যে চালকটি ড্রাগ এডিকটেড অথবা বৈধ লাইসেন্স ধারী কিনা।
#রাজনীতিকরনের জিলাপীর প্যাচে সরকারের সকল প্রতিষ্ঠান আর্মি, র‍্যাব, পুলিশ, বিজিবি, কিংবা সরকারি কর্মকর্তা। নিজেদের সন্তানদের কথা ভেবে ভবিষ্যত প্রজন্মের কথা ভেবে অন্তত সরকারি দলে চামচামি বন্ধ করেন। প্রত্যক্ষভাবে কিছু না করতে পারলেও পরোক্ষ ভাবে আমাদের মৌন সমর্থন হলেও করেন।
# সরকারি দলের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ ভাইদের বলছি আপনাদের ভাই,বোন, পরিবারের যে কেউ আজ দিয়া, রাজীবের জায়গায় থাকতো তাহলে আপনারা কি করতেন? সরকারি দলের লোক বলে আজ হয়তো প্রতিবাদও করতে পারতেন না। বিভিন্ন জনের আশ্বাস ও কিছু টাকা নিয়ে বাসায় ফিরে যাইতেন। অন্তত নিজের পরিবারের কথা ভেবে ওদের সমর্থন করুন।
#দেশের সকল মানুষের যেমন দায়িত্ব আদায় করে নেওয়া তেমনি সরকারের উচিত জনগনের পাওনা সর্বোপরি দেশের পাওনা দেশকে বুঝিয়ে দেওয়া। দেশের পুরো সিস্টেমটাই এতো ঘুনে ধরা যে সরকারের একার পক্ষে আসলে নিরাপদ সড়ক দেওয়া সম্ভব না। যেহেতু “দেশ আমার, দোষ ও আমার”
তাই সবার উচিত নিজ নিজ অবস্থানে থেকে সঠিক পদক্ষেপটি গ্রহন করা।

"এখনই সময় সত্যের সাথে দাঁড়ানোর
একটি নিরাপদ সড়কের জন্য
একটি নিরাপদ সমাজের জন্য
একটি নিরাপদ রাষ্ট্রের জন্য"

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.