| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ওয়াদুদ সোহেল মোল্লা
Founder & Editor-in-Chief: priyobarishal.com | Journalist | Construction & Real Estate Expert
জীবন মানেই তো ছুটে চলা, অজানা কোনো ঠিকানায় হারিয়ে যাওয়া। গত বুধবার তেমনই এক অন্যরকম টানে বরিশালের চরমোনাই গ্রামে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হলো। উদ্দেশ্য—পৃথিবীর সবথেকে ছোট ও প্রাচীন একটি গায়েবি মসজিদ দেখা। শহর থেকে বেলতলা খেয়াঘাট পার হয়ে টমটমে চড়ে সোজা চলে যাওয়া যায় চরমোনাই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে।
সেখান থেকে একটু সামনে এগোতেই চোখে পড়ে সেই ঐতিহাসিক মসজিদটি। বয়স নাকি এর পাঁচশ বছরেরও বেশি! দূর থেকে দেখলে ছোট একটা স্থাপনা মনে হবে, কিন্তু কাছে গেলেই টের পাওয়া যায় সময়ের কী এক ভারী ছাপ এর গায়ে লেগে আছে। মসজিদের ছাদের ওপর দিব্যি বেঁচে আছে এক শতবর্ষী গাছ। ভেতরের পরিবেশটা কেমন যেন রহস্যঘেরা। ভেতরে আলো নেই বললেই চলে, টর্চ জ্বালিয়ে ঢুকতে হয়। সেখানে কোরআন শরিফ আর জায়নামাজ রাখা আছে। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত বা জুমার নামাজ এখানে হয় না, তবে মানুষ এসে মানত করে আর নামাজ পড়ে যান।
সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো মানুষের লোকবিশ্বাস। এই মসজিদের গাছের ডাল বা পাতা কেউ কাটে না। সবার ধারণা, এগুলো কাটলে নাকি বড় ধরনের বিপদ হতে পারে। সময়ের পরিবর্তনের সাথেও এ ধরনের বিশ্বাস মানুষের মনে নানা ভাবনার জন্ম দেয়।
মসজিদ দেখা শেষে ফেরার পথে দেখা মেলে চারদিকে শুধু কাশফুল আর কাশফুল। দুপুর দুটো বাজে, রোদের মধ্যে একা একা সেই মেঠোপথ ধরে হেঁটে যাওয়ার অনুভূতিটাই অন্যরকম। চারপাশের এই নীরবতা আর প্রাচীন ইতিহাস মিলে মনটা কেমন যেন শান্ত হয়ে যায়। মানুষ আসলে প্রকৃতির মাঝেও যেন এক অদ্ভুত প্রশান্তি খুঁজে পেতে ভালোবাসে।
২|
০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৪৪
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
খুব চমকপ্রদ ভ্রমন বিবরনী ।
একসঙ্গে মাত্র দুজন পড়তে পারেন নামাজ।শুনেছি এটাই নাকি পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট মসজিদ।
মাত্র সাড়ে পাঁচ ফুট দৈর্ঘ্য ও সাড়ে তিন ফুট প্রস্থের এ নামাজঘরটিতে রয়েছে একটি গম্বুজ আর দেয়ালে দুটি
ছোট জানালা। মসজিদটিকে ছায়া দিয়ে রয়েছে বিশালাকার বিরল প্রজাতির লাহর গাছ। এটিকে বটগাছ ভেবে
ভুল করেন অনেকেই। তবে পাতায় রয়েছে ভিন্নতা। দেখে নাকি মনে হয়, গাছের কোটরে প্রকৃতির খেয়ালে
বেড়ে ওঠা মাটির ঢিবি থেকেই যেন তৈরি হয়েছে মসজিদটি। চরহোগলা গ্রামের এ মসজিদের পেছনে নাকি
রয়েছে সমান বয়সি একটি পুকুরও। পানি শুকিয়ে যাওয়ায় এখন এটি আর ব্যবহার হয় না। তবে এ মসজিদ,
ওই গাছ আর পুকুর নিয়ে লোকমুখে গল্পের অন্ত নেই। কারও কাছে এটি গায়েবি মসজিদ, কারও কাছে কানা
মসজিদ, আবার কেউ কেউ জিনের মসজিদও বলেন।
মসজিদটি কবে তৈরি এর কোনো লিখিত দলিল বা উপযুক্ত প্রমাণ নেই।
স্থানীয়দের কারও ভাষ্য মতে কয়েকশ বছর আগে নাকি এই মসজিদটি মাটি ফুঁড়েই বের হয়েছিল। কারও মতে,
একরাতের মধ্যে তৈরি এটি। অনেকে দাবি করেন জিন এটি তৈরি করেছিল। আজও গভীর রাতে সাদা কাপড়ে
মোড়া লম্বাকৃতির মানুষের মতো অবয়বকে নামাজ আদায় করতে দেখা যায়-দাবি অনেকের।
মসজিদ ঘিরে থাকা লাহার গাছ নিয়েও রয়েছে কল্প-কাহিনী। এলাকাবাসীর দাবি, এই গাছের উপরে একটি
মস্ত গুঁই সাপ ও দুটি সাপ রয়েছে। যারা পাহারা দেয় এই মসজিদটি। এক যুবক জানান, একদিন সন্ধ্যায় তার
দাদি দুই সাপ দেখেছিলেন। এরপর আর দেখা যায়নি। সন্ধ্যার পর আর মসজিদের আশপাশে যান না তিনি।
লাহার গাছের পাতা পড়ে ‘কালো হয়ে যাওয়া’ পুকুরে একসময় টলমল করত স্বচ্ছ পানি। অমাবস্যা ও পূর্ণিমায়
ভেসে উঠত স্বর্ণের নৌকা, স্বর্ণের বৈঠা, সোনা-রুপার থালা-বাসন, চামচ। তবে এক লোভী ব্যক্তি একবার
একটি চামচ নিজের কাছে রেখে দেওয়ার পর আর ভেসে ওঠে না।
মসজিদের চারপাশে পড়ে থাকে লাহার গাছের পাতা। পাতা শুকিয়ে পচে মাটিতেই মিশে যায়। ক্ষতির ভয়ে
স্থানীয়রা কেউ ভুল করেও পাতা কুড়িয়ে আগুন জ্বালান না। বিশালাকৃতির গাছটির ডাল-পালাও কাটেন না কেউ।
এক তরুণ নাকি জানান, বেশ কয়েক বছর আগে এক লোক গাছের ডাল কেটেছিল, তার কয়েক দিন পর তার
একপাশ অচল হয়ে যায়। যদিও এসব কল্পকাহিনীর বৈজ্ঞানিক সত্যতা মেলেনি। এই মসজিদে অবশ্য হয় না
পাঁচ ওয়াক্তের নামাজ। তবে প্রতিদিনই আদায় হয় নফল। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসেন মনস্কামনা পূরণের
আশায়। তারা পড়েন নামাজ। মসজিদের কোনায় থাকা ছোট্ট দানবাক্সে যার যা খুশিমতো দান করেন মানতের
টাকা।
পাঞ্জেগানা এ মসজিদের দেখ-ভালের জন্য দানের টাকাই ভরসা। তিন মাস পরপর খোলা হয় দান বাক্স। এই টাকা
দিয়ে দেয়া হয় বিদ্যুৎ বিল। আয়োজন করা হয় খিচুড়ি ভোজের। কাউকে দাওয়াত দিতে হয় না, তখন এমনিতেই
লোকারণ্য হয়ে ওঠে এই ছোট প্রাঙ্গণ।
জানা মতে বহুবছর ধরে ভারতের হায়দ্রাবাদে থাকা জিন মসজিদকে পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট মসজিদ বলা হতো ।
কিন্তু ওই মসজিদ যেখানে লম্বায় ১২ ফুট এবং প্রস্থে ৯ ফুট সেখানে আমাদের গ্রামের এই মসজিদটি দৈর্ঘ্যে সাড়ে
৫ আর প্রস্থে মাত্র ৩ ফুট। জিন মসজিদে একসাথে পাঁচজন নামাজ পড়তে পারে আর এখানে স্বাভাবিকভাবে
নামাজ পড়তে পারে মাত্র দুজন। সরকারের উচিত যাচাই বাছাই করে বিশ্বের সবচেয়ে ছোট মসজিদ হিসাবে
এটিকে ঘোষণা দেয়া ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টা করা।’ এছাড়া এই মসজিদে যাতায়াতের যে
দুরবস্থা তা দূর এবং অবিকল নকশায় মসজিদটির সংস্কারেরও স্থানীয়রা দাবি করে আসছেন বলে জানা যায় ।
তথ্য ও ছবি সুত্র :দৈনিক যুগান্তর ।
শুভেচ্ছা রইল
©somewhere in net ltd.
১|
০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:২৭
নাহল তরকারি বলেছেন: খুব সুন্দর ভ্রমণবর্ণনা। প্রাচীন মসজিদের ইতিহাস, স্থানীয় লোকবিশ্বাস এবং চারপাশের কাশফুলে ভরা প্রকৃতির সৌন্দর্য—সব মিলিয়ে লেখাটি পড়তে পড়তে মনে হলো আমিও যেন চরমোনাইয়ের সেই মেঠোপথ ধরে হাঁটছি। এমন ঐতিহাসিক স্থানের তথ্য ও ইতিহাস আরও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলে পাঠকদের জন্য আরও মূল্যবান হবে।