নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

জুয়েল তাজিম

জুয়েল তাজিম

অলস হবেন, তো হতাশা পাবেন। শুরু করুন,শেষ হবেই। সামনে এগোতে থাকুন, পথ কমবেই।

জুয়েল তাজিম › বিস্তারিত পোস্টঃ

রাজনীতির ভাষা যখন সহিংসতার দিকে ঝুঁকে পড়ে

২০ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

বাংলাদেশের রাজনীতিতে মতপার্থক্য নতুন কিছু নয়। বরং ভিন্ন মত, তর্ক-বিতর্ক ও সমালোচনাই একটি গণতান্ত্রিক সমাজের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক বক্তব্য ও সামাজিক আচরণ এমন এক জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে মতবিরোধ ধীরে ধীরে শালীনতার সীমা অতিক্রম করে বিদ্বেষ, হুমকি ও সহিংস ভাষায় রূপ নিচ্ছে। আর এই পরিবর্তনই অনেক সচেতন মানুষকে উদ্বিগ্ন করে তুলছে।

তারেক রহমানকে ঘিরে সাম্প্রতিক একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আবারও সেই উদ্বেগ সামনে এসেছে। একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে অপছন্দ করা, তার সমালোচনা করা কিংবা তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া দাবি করা—এসব গণতান্ত্রিক অধিকারের মধ্যেই পড়ে। কিন্তু কোনো ব্যক্তির উপর সংঘটিত নির্যাতন বা অবৈধ সহিংসতাকে সমর্থন করা কিংবা ভবিষ্যতে একই ধরনের সহিংসতার আহ্বান জানানো শুধু রাজনৈতিক অসভ্যতাই নয়, এটি সমাজের নৈতিক ভিত্তিকেও দুর্বল করে দেয়।

১/১১-এর সময় তারেক রহমানের উপর নির্যাতনের অভিযোগ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি আলোচিত অধ্যায়। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানুষের ভিন্ন মত থাকতে পারে। কিন্তু একটি মৌলিক সত্য অস্বীকার করার সুযোগ নেই—বিচারবহির্ভূত নির্যাতন কখনো সভ্য রাষ্ট্রের ভাষা হতে পারে না। আইনের বাইরে গিয়ে কাউকে শারীরিকভাবে নিপীড়ন করা যেমন অপরাধ, তেমনি সেই ঘটনাকে “ন্যায্য” হিসেবে উপস্থাপন করাও বিপজ্জনক মানসিকতার পরিচয় বহন করে।

সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, আজকের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে অনেকেই প্রতিপক্ষকে মানুষ হিসেবে দেখার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিপক্ষকে অপমান করা, হেয় করা, এমনকি সহিংসতার ভাষায় কথা বলাকে অনেকেই “সাহসী অবস্থান” মনে করছেন। অথচ ঘৃণা ও উগ্রতা কখনো নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে আটকে থাকে না। আজ যেটা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবহার হচ্ছে, কাল সেটাই নিজের দিকেও ফিরে আসতে পারে।

রাজনীতির নামে যদি অসভ্যতা ও বিদ্বেষকে স্বাভাবিক করে তোলা হয়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে পুরো সমাজ। নতুন প্রজন্ম তখন শিখবে না কীভাবে যুক্তি দিয়ে মত প্রকাশ করতে হয়; বরং শিখবে কীভাবে চিৎকার, অপমান আর হুমকির মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে দমন করতে হয়। এতে রাজনৈতিক সংস্কৃতি যেমন নষ্ট হবে, তেমনি সমাজের সহনশীলতাও ধীরে ধীরে ভেঙে পড়বে।

সভ্য সমাজের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো—ন্যায়বোধ। সেই ন্যায়বোধ নিজের পছন্দের মানুষের জন্য যেমন প্রযোজ্য, প্রতিপক্ষের ক্ষেত্রেও তেমনি প্রযোজ্য হতে হবে। কারণ প্রতিপক্ষের জন্য ন্যূনতম মানবিকতা ও শালীনতার পক্ষে দাঁড়ানো আসলে নিজের ভবিষ্যৎ নিরাপদ রাখারই নাম।

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ২০ শে মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: বিচারবহির্ভূত নির্যাতন কখনো সভ্য রাষ্ট্রের ভাষা হতে পারে না।
...........................................................................................
বিষয়টি সবার জন্য প্রযোজ্য হতে হবে ।
কিন্ত কি হচ্ছে ? বলা হলো এবার সবার জন্য আইন সুবিচার করবে !
তাহলে কেন নারায়ণগন্জের আইভি রহমানকে বারবার জেল গেটে অন্য বানানো অজুহাতে
আটকে রাখা হচ্ছে ? অখচ হাই কোর্ট বলছে ছেড়ে দাও !
কেন আইন সচিবালয় বিলুপ্তির ঘোষনা এলো ???

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.