| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
টরন্টো শহরে আজকাল প্রচুর বাংলাদেশি অনুষ্ঠান হয়। কোনটা ছেড়ে কোনটাতে যাওয়া যায়, ভাবতে হয়। একই দিনে যখন অনেক অনুষ্ঠান হচ্ছে। সব অনুষ্ঠানই অনেক জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে ভরপুর থাকে। এক সময় হাতে গোনা কিছু অনুষ্ঠান হতো। তাও শধু গ্রীষ্মকালে। বর্তমানে বছর জুড়ে চলে অনুষ্ঠান। এবং বেশ ভালো মান সম্পন্ন অনুষ্ঠান হচ্ছে।
বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যাল বর্তমানে বেশ গুরুত্তপূর্ণ একটি অনুষ্ঠান হয়ে উঠেছে। টরন্টোতে অবস্থিত বাঙালিরা প্রতি বছর এই অনুষ্ঠান দেখার জন্য আগ্রহ ভরে অপেক্ষা করেন। এই অনুষ্ঠান দেখার জন্য অপেক্ষায় থাকেন প্রচুর মানুষ। এবারের অনুষ্ঠানের ভেনু ছিল অনেক বড় এবং ছিলেন প্রচুর মানুষ। বিশাল অডিটোরিয়াম ভর্তি। এই বিশাল আযোজনের জায়গায় পৌঁছাতে পারি দিতে হয়েছে অনেক গুলো বছর। একটু একটু করে গুছিয়ে উঠেছেন আয়োজক। নতুন করে প্রতিবছর সংযোগ করেছেন, নতুন কিছু উপহার, চমক। যা হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যালের প্রাণ। মানুষের মিলনমেলা এখন শুধু বাঙালিদের মধ্যে থাকে না। সেই শুরুর দিনগুলোতে অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যে শুরু করা অনুষ্ঠান, একটু একটু করে বিশাল উৎসব হয়ে উঠেছে টরন্টো শহরে।
মূলধারার চালিকা শক্তি মেয়র, প্রিমিয়ার কাউন্সিলর, এমপি, কবি, লেখক অনেকেই আসছেন অনুষ্ঠানে। বক্তব্য দিচ্ছেন কিছুটা অংশ বাংলায়ও আগে দুই একটা শব্দ বাংলায় বলতেন। অভ্যস্ত হয়ে গেছেন অনেক এমপি বারবার দেখে বাঙালি অনুষ্ঠান। ধারণ করছেন নিজেদের মধ্যে ভিন্ন সংস্কৃতির বৈচিত্র । এই ধারন বিনিময় মাল্টকিাচোর সোসাইটির মূল সৌন্দর্য। কানাডা জীবনের এক অসাধারন বৈশিষ্ট্য।
এখন খুব একটা অনুষ্ঠানে আমার যাওয়া হয় না, অনেক কিছুই মিস করি। আমার না যাওয়ার মূল কারণ দূরত্ব অনেকটা পথ পেরিয়ে যেতে হয় যা প্রায় সময়ই সম্ভব হয়ে ওঠে না। যদিও অনেক প্রিয়জন সব সময়ই ডাকেন আমাকে।
শেষবার গিয়েছিলাম বেশ আগে বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যালে, এন্ড্রু কিশোর এসেছিলেন গান করতে সে বছর। অনুষ্ঠানের জায়গাটি ছিল ছোট কিন্তু মানুষের ভিড় ছিল উপচে পরা। ভিতরে মানুষের তিলধারনের ক্ষমতা ছিল না। রাস্তার উপর ছিল মানুষের জনস্রোত।
পহেলা মে এর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যালের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম মিন্টু একটি আমন্ত্রণপত্র ধরিয়ে দিলেন হাতে, আপা অবশ্যই আসতে হবে। উনার এই আন্তরিক ডাকে সারা দিয়ে অনেকটা পথ পেরিয়ে হাজির হলাম এবারের উৎসবে ষোলই মে বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যালে।
এবছর নবম বাংলাদেশ ফেস্টিভাল পালিত হল। প্রথম কয়েক বছর প্রতিবছরই যেতাম। কারণ ভিনদেশের যে মানুষগুলোর সাথে চলাচল করি সবাই একে অপরের সাথে জড়িত। বিশেষ করে যারা সাহিত্য সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করেন অভিবাসী জীবনে। তাদের সাথে একটা প্রাণের টান অনুভব করি। এখন অনেক দিন দেখা না হলেও যোগাযোগটা হৃদয় রয়েছে। আজ যারা অনেক বড় বড় আয়োজন করছেন শহরে তাদের শুরুর সময়টায় সব সময় আমরা একসাথে ছিলাম।
অনুষ্ঠানের ভিতরে বাহিরে জমজমাট অবস্থা। বাইরে খাবার দোকান কেনাকাটা শাড়ি গহনা। জমিয়ে আড্ডা হচ্ছে প্রিয়জনের মধ্যে। কেনকাটা এবং খাওয়া দাওয়া চলছে। সাথে ছবি উঠানো প্রিয় জনের সাথে।
ভিতরে অনুষ্ঠানের একটার পর একটা আয়োজন চলছে। এবছরের নতুন আকর্ষণ একজন সাহিত্যিককে কবি ইকবাল হাসান পুরস্কার প্রদান। ভ্যানকুভার থেকে উড়ে এসেছেন, সম্মানিত পুরস্কার প্রাপ্ত সাহিত্যিক শাহানা আখতার মহুয়া পুরস্কার গ্রহণের জন্য। একজন লেখককে পুরস্কৃত করা এটা একটি নতুন উদ্যোগ ভালোলাগল দেখে। কবি ইকবাল হাসান প্রয়াত হয়েছেন, উনার নামে এই পুরস্কার দেয়া শুরু করা একটি সুন্দর উদ্যোগ। দেশে থাকতে উনার সাথে পরিচয়। তিনি ছিলেন সাংবাদিক, কবি, জাতীয় কবিতা পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক। বিদেশে প্রথম আসার পর উনার এবং উনার পরিবারের সাথে সম্পর্ক পরিবারের মতন হয়ে গেলো।
অনেকদিন পর অনুষ্ঠানে দেখা হলো অনেক প্রিয় মানুষের সাথে। অনেকদিন পরে দেখা হল,ব্যারিস্টার কামরুল হাফিজরে সাথে । আবার অনেক মানুষের মাঝে থাকা অনেক প্রিয়জনের উপস্থিতি জানতে পারলাম পরে ছবি দেখে।
আহমেদ হোসেন প্রিয় আরেক মানুষ, গুণি আবৃত্তি শিল্পী নাট্যকর্মি যার মাথায় সারাক্ষণ শিল্প খেলা করে। বেশ কয়েকটা ভালো নাটক দেখার সুযোগ হয়েছে বিদেশের মাটিতে তার নির্দেশনায়। পাশাপাশি বসেছিলাম অনেকক্ষণ। অনেক গল্পের মাঝে টরন্টো শহরে প্রথম আবৃত্তির ইতিহাস টেনে আনল। শুরুর অনুষ্ঠানে আমার সংশ্লিষ্টতা ছিল, যা সে নতুন অনেক মানুষের কাছে জানিয়েছে চিনিয়েছে জানাল। জেনে ভালোলাগল আমি দূরে সরে গেলেও আমার করা কাজ এখনো কেউ হৃদয়ে রেখেছে। শুরুর সময়টা অনেক বাধা বিপত্তি ছিল। ছিল অনেক মতবিরোধ । তারপরও অনুষ্ঠান ছিল। ভালো অনুষ্ঠান করার চেষ্টা ছিল।
বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যালে বিভিন্ন মতের মানুষের উপস্থিতি দেখলাম। মিন্টু এক সাথে করতে পেরেছে সবাইকে এটা অনেক বড় অর্জন।
অনুষ্টানে বিশিষ্ট শিল্পী গান করলেন ক্যালিফোর্নিয়ার গায়ক আরজিন কামাল। উনার সম্পর্কে আমার আগে জানা ছিল না। শুরতেই আমার প্রিয় মম কাজীর কাছে উনার নাম শুনলাম প্রথম। উনার গান শোনার জন্যই ওরা বন্ধুরা সব দল বেঁধে এসেছে।
অন্যরকম নতুন গান। গানের সাথে উনার কোরিওগ্রাফি অনেক বেশি আকর্ষণীয়। সবচেয়ে ভালো বিষয় আরজিন কামাল বিদেশিদের মাঝে বাংলা গানকে জনপ্রিয় করছেন। উনার বাংলা ফোক গানের সাথে নাচছে বিদেশি দর্শক । বাংলা ভাষাকে হৃদয়গ্রাহী করে তোলার উনার এই প্রচেষ্টাকে আন্তরিক অভিনন্দন। বেশ ভালো গান, নাচ করলেন স্থানীয় অনেক শিল্পীরা। সবার শেষ আকর্ষন মুজার গান। সিলিটি এই শিল্পী শাহ অব্দুল করিমের গান থেকে এখন দারুণ সব বাংলা র্যাপ করে বিখ্যাত ।
মানুষের গুণের শেষ নাই। কত ভিন্ন ভাবে মানুষ ভাবে এবং উপস্থাপন করে।
অনুষ্ঠান শেষে জমজমাট আড্ডা তখনও চলছিল। কারো যেন বাড়ি ফেরার তাগদা নেই। সারাক্ষণ সাথে থাকা সৈয়দ ইকবাল ভাইকে বললাম, আমাকে যেতে হবে দূরে...এবার যাই।
পথ পেরুতে পেরুতে শেষের ত্রিশ কিলোমিটার পথ আমার আনন্দিত মনকে আতঙ্কিত করে দিল। কুয়াশার পরত এসে ঢেকে দিচ্ছিল চোখের সামনের দৃশ্যাবলী। দুই হাত দূরে কিছুই দেখা যাচ্ছে না। এমন ঘন কুয়াশা ঘেরা চারপাশ। তবে একটার পর একটা ঢেউয়ের মতন কুয়াশা আসছিল। তাই এগিয়ে যেতে পাছিলাম। রাস্তার সাদা দাগ টুকু দেখা ছাড়া আর কিছুই দেখা যাচ্ছে না।
সেটুকু সম্বল করে খুব সাবধানে ধীরে চলতে হচ্ছিল। তবে শেষের দুই কিলোমিটার ছিল মারাত্তক । এখানে রাস্তায় কোন সাদা লাইন নেই মাটির রাস্তায়। গাড়ির সেন্সরও বুঝতে পাছিলনা লাইন ক্রস করছে কিনা। এখানে কুয়াশা ছিল আরো তীব্র ঘন। ঠিক জানি না কোথায় যাচ্ছি। রাস্তা খুব চেনা জন্য আন্দাজে ছুটছিলাম। কিছু কঠিন বাঁক ছিল সেগুলো সামলে নিলাম ধারনা থেকে, কিছুই দেখা যাচ্ছে না চলার পথ। অথচ আজ সারাদিন ছিল প্রচুর রোদের আলো অনেকদিন পরে। এই রোদের আলো আর গরমই রাতের বেলার ঠান্ডা মিশে কুয়াশা ছড়িছে মাঠ জুড়ে। মনে হচ্ছে যেন কুয়াশার আভরণে ঘেরা অপূর্ব রহস্যময় কোন জগতে যেন আমি চলছি।
পথ শেষ হলো আকাশ ভরা তারা ঝকমক করছে কিন্তু চারপাশ ঘিরে আছে কুয়াশার চাদর। আনন্দময় অনুষ্ঠান এডভেন্চার চলার মধ্য দিয়ে শেষ হলো।
©somewhere in net ltd.
১|
২০ শে মে, ২০২৬ রাত ১:০২
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: আনন্দময় অনুষ্ঠান এডভেন্চার চলার মধ্য দিয়ে শেষ হলো।
.....................................................................................
এখানে ই সারা দিনের সার্থকতা ।
ঘটনাবহুল দিনটি ভালো লাগল,কানাডা তো যাওয়া হবেনা
তাই, কাঙালের মতো গল্পগুলো শুনি ।
আমার ভ্রমন, থাইল্যান্ড,সিঙ্গাপুর, জার্মানী আর অষ্ট্রেলিয়া ।
এবার অবশ্য চেক প্রজাতন্ত্র গিয়েছিলাম ।