| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সৈয়দ কুতুব
নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!
জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা ছিল, বিগত অনির্বাচিত সরকারের সকল প্রজেক্ট পর্যালোচনা করা হবে। দেশের স্বার্থবিরোধী হলে তা বাদ দেওয়া হবে। কিন্তু সরকার তো আগের দেখানো পথেই হাঁটছে। চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার ভার তারা বিদেশি প্রতিষ্ঠান DP World-কে দিয়ে দিচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ইলেকশনের আগে কম জল ঘোলা হয়নি। আমার তখনই মনে হয়েছিল, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসলেই শেষ পর্যন্ত টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশিদের দিয়ে দেবে। এখন দেখছি, ধারণাটা একেবারে ভুল ছিল না।
নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশিদের দিয়ে দেওয়ার সকল বন্দোবস্ত ইউনূস আমলেই অনেকটা চূড়ান্ত করা হয়েছিল। এর জন্য প্রায় চল্লিশ বছর পর বন্দরের ফি ৪১ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। অথচ নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল এখন চিটাগাং পোর্ট অথরিটিই পরিচালনা করছে এবং এই টার্মিনাল থেকে বেশ ভালো আয়ও করছে। সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থায়নে এর যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছিল। পৃথিবীর অনেক দেশ নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য নিজেদের বন্দর ও টার্মিনাল নিজেরাই পরিচালনা করছে। আর আমরা নিজেদের টাকায় টার্মিনাল বানিয়ে, নিজেরা চালিয়ে, লাভ করে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এবার বিদেশিরা একটু চালিয়ে দেখুক।
বন্দর কোনো সাধারণ জায়গা নয়। এটি একটি দেশের strategic point। একটি দেশের আমদানি রপ্তানি, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং অর্থনীতির সঙ্গে বন্দরের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তাই বন্দরকে যতটা সম্ভব দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করার সক্ষমতা দেশের নিজের থাকা উচিত। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা একটু ভিন্ন। জায়গা আমাদের, অবকাঠামো আমাদের, বিনিয়োগ আমাদের, টার্মিনাল আমাদের, অথচ পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশিদের। এতে অন্তত টার্মিনালটি আন্তর্জাতিক মানের মনে হবে।
তবুও সরকার কেন আগের সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে চায়, সেটা আমার কাছে খুব একটা বোধগম্য নয়। আওয়ামী লীগ সরকারের অনেক সিদ্ধান্তের সমালোচনা করা হয়েছে, অনেক প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু NCT-র ক্ষেত্রে আশ্চর্যজনকভাবে গল্পটা অন্যরকম। আওয়ামী লীগ শুরু করেছে, ইউনূস সরকার এগিয়েছে, আর নির্বাচিত সরকার এসে সেটাই শেষ করার পথে। অর্থাৎ সরকার পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু প্রজেক্টের ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি।
এবার আসি আরও অদ্ভূত একটি ঘটনায়। DP World যেহেতু দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান, তাই আরব আমিরাতে থাকা বাংলাদেশি প্রবাসীদের একটি বড় অংশ মনে করেন, সরকার যদি DP World-কে NCT পরিচালনার দায়িত্ব দেয়, তাহলে হয়তো UAE-তে তাদের ফাঁড়া কাটতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে UAE-তে বাংলাদেশি প্রবাসীদের ভিসা বাতিল, ভিসা নবায়ন এবং ছুটিতে দেশে এসে আবার ফিরে যেতে না পারা নিয়ে যে সমস্যাগুলো তৈরি হয়েছে, দুশ্চিন্তা থাকাটাই স্বাভাবিক।
তাই প্রবাসীদের অনেকের হিসাবটা খুব সহজ। DP World দুবাইয়ের কোম্পানি। DP World-কে NCT দেওয়া হবে। অতএব দুবাই খুশি হবে। দুবাই খুশি হলে প্রবাসীদের ওপরও হয়তো একটু রহমত নেমে আসবে। বন্দরের একটা টার্মিনাল দিয়ে যদি হাজার হাজার প্রবাসীর ভিসা সমস্যার সমাধান হয়ে যায়, তাহলে এর চেয়ে cost effective কূটনীতি আর কী হতে পারে!
সরকারও হয়তো প্রবাসীদের মনের কথা বুঝে ফেলেছে। দেশে একটি strategic terminal পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশিদের দিয়ে দেওয়া হবে, আর বিনিময়ে প্রবাসীদের বিপদ কাটবে । এক সিদ্ধান্তে বন্দরও আন্তর্জাতিক, কূটনীতিও আন্তর্জাতিক। শুধু বাংলাদশ এর দাম কিভাবে চুকাবে , সেটি খুঁজে বের করতে একটু বেশি সময় লাগছে।
তবে একটা কথা জেনে রাখা ভালো। আমরা বাঙালিরা যেটাকে ভালো মনে করি, দিন শেষে সেটাই অনেক সময় আমাদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়ায়। আর না হলে সেটা লস প্রজেক্ট হয়ে যায়। ফলে কোনো সিদ্ধান্তের শুরুতে সবাই খুশি থাকলেই যে শেষেও খুশি থাকবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে NCT-র ক্ষেত্রে অন্তত একটা বড় সাফল্য হয়েছে। এই প্রথম এমন একটি প্রকল্প দেখলাম, যেটা নিয়ে আওয়ামী লীগ, সরকার এবং বিরোধী পক্ষ প্রায় সবাই একমত। কোনো পক্ষ নেই, বিপক্ষ নেই। আছে শুধু ঐকমত্য।
©somewhere in net ltd.
১|
০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৪
রাজীব নুর বলেছেন: আগে দেশের মানুষ বাঁচুক। তারপর বন্দরের জন্য চিন্তা ভাবনা করা যাবে।