| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সৈয়দ কুতুব
নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!
মুফতি মোহাম্মদ আলী কাসেমীর জন্য খারাপ লাগছে। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনার ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে প্রকাশ এবং এ নিয়ে লাইভ করার অভিযোগে তাঁকে আটক করা হয়েছে। তবে তাঁর আটকের ঘটনা ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এখনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশে বসে সৌদি আরবের গুণগান গাওয়া আর সৌদি আরবে বসে কিছু একটা প্রকাশ করা যে এক জিনিস নয়, সেটা কি হুজুর বুঝতে পারেননি?
বাংলাদেশে হুজুররা যে পরিমাণ বাক্স্বাধীনতা ভোগ করেন, সৌদি আরবে তার হাজার ভাগের এক ভাগও পাবেন কি না, সন্দেহ আছে। এ দেশে শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করা যায়, প্রতিবাদ করা যায়। ধর্মীয় বক্তারা চাইলে ৬৪ জেলায় ৬৪টি বিয়ের স্বপ্নও দেখতে পারেন। মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠলেও দুর্বল আইন প্রয়োগ ও প্রভাবশালীদের কারণে অনেক সময় অপরাধীরা পার পেয়ে যান। কোথাও একটু খাসজমি পেলেই মানুষের কাছ থেকে টাকা তুলে মসজিদ বা মাদ্রাসা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া যায়। ধর্মের নামে যা খুশি বলার স্বাধীনতাও কম নয়।
এত স্বাধীনতা দুনিয়ার আর কোথায় পাবেন? কাসেমী হুজুর নবীর দেশে গিয়ে এমন এক রাজতন্ত্রের মুখোমুখি হয়েছেন, যেখানে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত ঘটনার ভিডিও প্রকাশ করাও আইনি বিপদের কারণ হতে পারে। অভিযোগ সত্য হলে তাঁর প্রতি সহানুভূতি থাকা উচিত। কিন্তু বাংলাদেশে বসে যে শাসনব্যবস্থার প্রশংসা করা হয়, সেই ব্যবস্থার অধীনে নিজের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কতটুকু থাকবে, তা কি কখনো ভেবে দেখা হয়েছে ?
এখন দেখার বিষয়, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কী করে। হুজুরের জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হলে আমি সেটাকে স্বাগত জানাব। কারণ, মতাদর্শ যা-ই হোক, বিদেশের মাটিতে নিজের নাগরিকের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।
তবে একটা প্রশ্ন থেকেই যায়। বাংলাদেশে বসে সৌদি রাজতন্ত্রের প্রশংসা করা যায়, অথচ সেই সৌদি আরবেই গিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশের অভিযোগে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। তাহলে হুজুরের কি শরিয়াহ আইনে বিচার হবে, নাকি রাজতন্ত্রের আইনে? আর যাঁরা সৌদি শাসনব্যবস্থাকে আদর্শ মনে করেন, তাঁরা কি এবার ব্যাখ্যা করবেন, স্বাধীনতা আসলে কোন দেশে বেশি?
ফটোকার্ড ও লেখা : সংগৃহীত
২|
১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:২০
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: গরিব দেশের গরিব নাগরিক- এটাকেও ঝুলিয়ে দাও। আইন সব গরিবের জন্য।
সৌদি আরবে গত ১০ বছরে ৭৫% শিরচ্ছেদ হয়েছে শুধু বাইরের গরিব দেশের নাগরিকদের।
©somewhere in net ltd.
১|
১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৮
মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন:
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন—দুটিই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয় পরিচয় বা মতাদর্শ যা-ই হোক, প্রত্যেক নাগরিকের ন্যায়বিচার ও অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বিষয়টি নিয়ে সময়োপযোগী প্রশ্ন তুলেছেন।