নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অপ্‌সরা

যেখানে ঘর বাঁধবো আমি, আসে আসুক বান, তুমি যদি ভাসাও মোরে, চাইনে পরিত্রাণ!!

অপ্‌সরা › বিস্তারিত পোস্টঃ

এসো ঈদের গল্প লিখি..... পড়ি

১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:১১


আরও অনেকের গল্প পড়ার অপেক্ষায়..... স্বপ্নের শঙ্খচিলভাইয়া, নতুন নকিবভাইয়া, প্রবাসীকালোভাইয়া,ওমর খাইয়ামভাইয়া, হুমায়রা হারুন আপুনি, করুনাধারা আপুনি, মেহবুবা আপুনি, রাজীব নূর ভাইয়া, রানার ভাইয়ার গল্প পড়তে চাই, জানতে চাই..... কামাল ভাইয়াও চুপি চুপি পড়ে গেলেন কিন্তু তার গল্প বলে গেলেন না..... :( মনে হয় তার ঈদও অনেক মজার ছিলো ছেলেবেলায়.....

সামুতে নেই আর সেই আগের দিনের ঈদগুলো। ঈদের পোস্ট, গল্প লেখা,কবিতা, স্মৃতিচারণ কিছুই আর আজ নেই। সব কোলাহল ছাপিয়ে সামু আজ দাঁড়িয়ে আছে প্রায় অনেকটাই নিশ্চুপ। কেউ কেউ এখনও উঁকিঝুকি দেয় তবে সবাই যেন আজ বড়ই ক্লান্ত, লিখতে, কথা বলতে, কমেন্ট করতে বড়ই আলস্য।

তবুও যখন ঈদ আসে আমি জানি আমাদের কোনো না কোনো ঈদের দিনের স্মৃতি বিশেষ করে ছেলেবেলার ঈদ সবারই কিছু না কিছু মনে পড়ে যায়। আমাদের ছেলেবেলার ঈদে সব যেন ছিলো একই রুটিন, সব বাড়িতেই একই মেন্যু, প্রায় সবারই একই টাইপ জামা কাপড় জুতো। এখনকার মত একটাই একজন ফ্যাশন তখনও আসেনি।

আমার আজ মনে পড়ছে একটা ঈদের দিনের স্মৃতি। তখন আমি ক্লাস সিক্স বা সেভেনে। লেমন কালারের একটা ভীষন সুন্দর তুলতুলে রেশম সাটিন কাপড়ের উপরে টান টান দেওয়া সিলভার জরির কাজ। এত পছন্দের জামাটা ঈদের দিন পরতেই সন্ধ্যা বেলা দেখা গেলো ফেসে গেছে একটু। মা তো তখনই দোকানদারকে এই মারে কি সেই মারে। ভাগ্যিস ঈদের দিন দোকান বন্ধ ছিলো। যাইহোক মা বললেন, দোকান খুললেই এই জামা ফেরৎ দেওয়া হবে। আমার সেই জামাটা এতই প্রিয় হয়ে গেছিলো যে সেই ফেসে যাওয়া জামাটাই আমার কিছুতেই দিতে ইচ্ছা করছিলো না। :(

তখন আমি খুব ছোট। মনে হয় স্কুলে যাওয়াও শুরু করিনি। আমরা আমাদের ছেলেবেলায় সবাই পাড়া প্রতিবেশীদের বাড়িতে ঢু মারা ছিলো অবশ্য কর্তব্য। বড়রা বলত ঈদের দিনে নাকি সবার দূয়ার খোলা। সবার বাড়িতেই সবাই যেতে পারে। সে কথা কেউ মানুক না মানুক আমরা ছোটরা ঠিকই মানতাম। ঈদের দিন সকাল সকাল গোসল করে সেজে গুজে বড়রা নামাজ পড়ে বাসায় ফিরতেই শুরু হত আমাদের অভিযান।তেমনই কোনো এক ঈদে কোনো এক প্রতিবেশী খালাম্মর বাসায় খেয়েছিলাম অদ্ভুৎ এক মজাদার কমলা রঙের পুডিং বা হালুয়া। ঈদের সুন্দর স্মৃতিগুলির মাঝে এই স্মৃতিটাও আমার মনে হানা দেয় প্রায়ই। আমরা তখনও আন্টি বলতাম না, খালাম্মা বা চাচীআম্মাই বলতাম পাড়া প্রতিবেশীদেরকে। :)

ঈদের মেহেদী সে ছিলো আরেক আনন্দের নাম। পাটার উল্টো পিঠে বাঁটা হত মেহেদী পাতা। সেই বাটা মেহেদীর গোবর গোবর গন্ধ তবুও বড়ই অদ্ভূৎ যেন ঈদের ঘ্রান মিশে থাকতো সেখানে। কাঁঠি দিয়ে ডট ডট ফুল পাতা এঁকে দিত বড় আপুরা বা চাচী মামীরা। তখনও আমি সর্বগুনে পণ্ডিত হয়ে উঠিনি। কাজেই আমার টার্নের জন্য মলিন মুখে ওয়েট করে থাকতাম। পণ্ডিত বানানটা লিখতে গেলেই মনে পড়ে যায় একজন হারিয়ে যাওয়া মানুষের কথা।

সে যাইহোক সব কিছুই একদিন হারিয়ে যায়, মানুষ হারায়, ভালোবাসা হারায় বেদনারাও হারায়, শুধু জেগে থাকে স্মৃতি। কখনও আনন্দের , কখনও বেদনার। ঈদ যদিও শুধুই আনন্দ আনে তবুও কোনো কোনো ঈদ হয় ভয়ংকর বিষাদের। এমনই এক ঈদে আমার এক ছোটমামার মৃত্যু সংবাদ এসেছিলো। যারা ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার টানে ছুটে যায় তাদেরও কখনও কখনও মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় বাড়ি ফেরা হয় না। বেঁচে থাকেন যারা পরিজন সেই ভয়াবহ দুঃখের স্মৃতি তাদেরও কাতর করে কোনো কোনো ঈদে।

এমনই নানান স্মৃতি ঘিরে থাকে আমাদের ঈদকে। এই মুহুর্তে অনলাইনে আছেন ১২ জন ব্লগার আমাকে নিয়ে। অনলাইনে আছেন
১২ জন ব্লগার, ৭০৫ জন ভিজিটর,৫০৯ জন মোবাইল থেকে ,অপ্‌সরা, ঘোর অমানিশায় একলা.....আমি নিশাচর, রানার ব্লগ, শেহজাদ আমান, ডঃ এম এ আলী, প্রবাসীকালো, নজসু, মহাজাগতিক চিন্তা, সৈয়দ কুতুব, এইচ এন নার্গিস,সুলাইমান হোসেন, ওমর খাইয়াম

সবাইকে জানাই ঈদের শুভেচ্ছা। আর সবার কাছে ঈদের স্মৃতি জানতে চাই। হোক না দু এক লাইনের। সে সব স্মৃতি নিয়ে জুড়ে দেবো আমার এই স্মৃতিকাতর ঈদ আনন্দ লেখায় ...

গল্প হলো শুরু
সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ঈদ মোবারক আপু।

সকল ব্লগারের প্রতি ঈদের শুভেচ্ছা। জানা আপার প্রতি বিশেষ দোয়া ও ভালোবাসা, আল্লাহ তাকে দীর্ঘায়ু দান করুন।

খুবই ছোটোবেলার ঈদের কথা মনে পড়ে। ঈদের আগের দিন বাজার থেকে কাগজের রঙিন টুপি আর পটকা কিনে দিতেন বাবা। চাঁদ দেখার সাথে সাথে সেই পটকা ফোটানোর ধুম পড়ে যেত। রঙিন টুপিটা খুব যত্ন করে রাখতাম, ঈদের দিন সকালে কড়ার শীতের মধ্যে নামাজের আগে পুকুরে গোসল করতাম দল বেঁধে। তারপর ঈদের নামাজে যেতাম। তবে প্রথম প্রথম নামাজে না দাঁড়িয়ে বাইরে অন্য পোলাপানের সাথে একত্রে দাঁড়িয়ে দেখতাম কীভাবে নামাজ পরা হয়।

আমাদের বয়সী মানুষদের ছোটোবেলাকার ঈদ প্রায় একইরকমই হওয়ার কথা। অধুনার মতো মানুষের এত সচ্ছলতা ছিল না, এত রান্নাবান্নাও ছিল না। ঈদের আগের রাতে মা-চাচিদের দেখতাম হাতে-কাটা শেমাই বানাতো, ঈদের দিন সকালে রাঁধতো। সাথে খির, বাজার থেকে আনা কলের শেমাই তখনো এত সুলভ এবং জনপ্রিয় হয় নাই, এবং সেগুলো তত মজাও লাগতো না।


নীল-দর্পণ বলেছেন: ঈদের স্মৃতি বললেই মনে পড়ে পায়ের সাইজের চেয়ে একসাইজ বড় সু কিনে দিতেন আম্মা বাটা থেকে, সেই জুতোর ভেতর কাপড় গুঁজে পুরো এলাকা ঘুরে বেড়াতাম। পায়ে ফোস্কা পড়লেও জুতো হাতে নিয়ে হাঁটলে প্রেস্টিজ যাবে তাই খুলে হাতে নিতাম না অন্যদের মত।

অন্যের বাড়ীর রংয়ের সেমাই, সিরিঞ্জের ফুল পিঠা বা সাবু দানার পিঠার দিকে ছিল লোভ বেশি।

এখন ঈদ হচ্ছে কন্যাদের। গত বছর পার্স গলায় ঝুলিয়ে ঘুরেছে আর একটু পর পর সালামী এনে আমার কাছে এসে বলেছে ''মা দেকো আবার টাকা এনেচি"।
আমার খুবই মজা লাগে ওর দাদা বাড়ীর দিকের বাচ্চাদের দেখে। সকালে এসে সালাম দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে চুপচাপ। কী খাবে জিজ্ঞেস করলে বলবে, "আঁই কিছু নঁ হাইয়ুমদে, গরোত হাই আইসসি, ফ্যাড বরা" । খাবে না যাবেও না, মানে হল সালামী দাও। সালামী দিলে খুশি মনে অন্য বাড়ীতে যাবে সালাম করতে। :D

সৈয়দ কুতুবভাইয়ার স্মৃতির অপেক্ষায় আছি।

নজসু বলেছেন:

ছোটোবেলাকার ঈদের পোশাকটা ছিলো যেন সাত রাজার ধন। সেসময় তো ফ্যাশনের এতো ছড়াছড়ি ছিলো না। আমি ছিলাম মফস্বলের। দেখা যেতো ঈদে আমি যে পোশাকটা পড়েছি, সেই একই রকম পোশাক, আরেকজন সেও কিনেছে। কোনো মাথা ব্যথা ছিলো না। আমাদের সময়ের ঈদ ছিলো সহজ, সরল আর সুন্দর।

এখন তো বাসায় ঈদের আগের দিন আগে থেকে বিভিন্ন রান্না বান্নার আয়োজন শুরু হয়। সেসব দেখি আর ভাবি, আমি যখন ছোটো ছিলাম তখন আমাদের মফস্বলের প্রায় ঘরে বেশিরভাগ সময় দুই পদের সেমাই রান্না হতো। একটা ছিলো লাচ্ছা সেমাই, আরেকটা ছিলো সাদা সেমাই। অবস্থপন্নরা সাদাটায় নারকেল মেশাতেন। এই দুইটা পদের সেমাই ছিলো যেন অমৃত!

বোন, আসলেই আগের ঈদগুলোর মধ্যে যে সরলতা আর আন্তরিকতা ছিল, সেটা এখন খুব কমই চোখে পড়ে। পাড়া প্রতিবেশীর বাড়িতে নির্দ্বিধায় ঢুকে পড়তাম। খালা চাচীদের সেই আন্তরিক ডাক কতোই না সুন্দর ছিলো। আমরা সবার বাড়ি যেতাম। সেমাই খেতে দিতেন যখন, তখন বলতাম অল্প করে দিয়েন পেটে আর জায়গা নাই। বলতাম ঠিকই, কিন্তু খাওয়া কমতো না। এসব যেন এখন গল্পের মতোই লাগে।

আপনার আজকের লেখায় আনন্দের সাথে বিষাদের এই ছোঁয়াটা খুবই বাস্তব। আসলে ঈদ শুধু আনন্দ নয়। অনেক সময় কিছু না বলা কষ্টও সাথে করে নিয়ে আসে। আপনি খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন বোন।

ধন্যবাদ আপনাকে স্মৃতিজাগানিয়া, অনুভূতিময় লেখাটি শেয়ার করার জন্য। পড়তে পড়তে নিজের ছোটবেলার ঈদগুলোকেও আবার নতুন করে মনে পড়ে গেল। ঈদের শুভেচ্ছা রইলো। সবার ঈদ হোক আনন্দময়। ঈদ মোবারক।


আজব লিংকন বলেছেন:

শৈশবের ইদের আনন্দ স্মৃতি কথা যেমন আনন্দের তেমনি বর্তমানে তা মনে করলে চরম বেদনাদায়ক। কত পুরনো অমলিন স্মৃতি... উফ!!

সেই একান্নবর্তী পরিবারে সবাই মিলে ঈদ উদযাপন। শহরের বুকে একটা ছয় রুমের ছোট টিনের বাসায় আমার বেড়ে ওঠার গল্প। যার ছোট একটা আঙ্গিনা। রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে সেই আঙিনায় বসতো এক আকাশ তারার মেলা। সে কতরাত বসে বসে রাতের আকাশের রকেট খুঁজেছি। হ্যাঁ ছবির মতো টিনের বাসা।

আমার বাবার ছয় ভাই এবং দুই বোন। আমার জন্মের আগে ফুপুদের বিয়ে হয়ে যায়। আমি জন্মের পর ছয় চাচার সংসার চোখের সামনে দেখার সুযোগ পাই। যৌথ পরিবারের হাসি, কান্না, সুখ, দুঃখ এবং ভয়ংকর ঝগড়াঝাটি দেখার সৌভাগ্য কিংবা দুর্ভাগ্য বলা যায় আমার হয়েছে বটে।।

শৈশবের একদল চাচাতো ভাই বোনের সাথে বেড়ে ওঠা এবং তাদের সাথে ইদের আনন্দ ভাগাভাগি করা। চোখ বন্ধ করলে এখনো চোখের সামনে ভেসে ওঠে। নতুন জামা পড়ে একসাথে ঈদগাহ মাঠে জামাতে যাওয়া। ওহ হ্যাঁ, ইদগাহের স্মৃতি আসলে একটা কথা মনে পড়লো, তখন আমাদের রংপুরের ইদগাহে প্রতি ইদের জামাতে উপস্থিত থাকতেন মরহুম হোসেন মোহাম্মদ এরশাদ সাহেব। আমাদের জন্য সেসময় তিনি সেলিব্রেটি ছিলেন। ইদের জামাত শেষে দল বেঁধে লাইনে দাঁড়িয়ে তার সাথে কোলাকুলির একটু সুযোগ, তার আনন্দই ছিল অন্যরকম।

ইদের নামাজ শেষে বাসা ফেরার সময় বাবা আমাদেরকে গ্যাস বেলুন কিনে দিতেন। কি সুন্দর রং-বেরঙের সেই গ্যাস বেলুনগুলো শূন্যে ভেসে থাকতো, আমরা অবাক হয়ে দেখতাম। আমরা ভাই-বোনরা মিলে প্রত্যেক ইদে প্রায় একটা কাজ করতাম। সেটা হচ্ছে বাসায় এসে চিঠি লিখে গ্যাস বেলুনের মধ্যে বেঁধে দিয়ে হাওয়ায় উড়িয়ে দিতাম। হা হা হা, কে জানে সেই চিঠি কেউ পেত কিনা!!! তারপর দল বেঁধে সবাই মিলে সারাদিন আত্মীয়দের বাসায় যাওয়া। চকচকের নতুন পাঁচ টাকা, দশ টাকার সালামী পেয়ে সে কি মহাআনন্দ আমাদের।

আচ্ছা তুমি তো ছোট্ট করে লিখতে বলেছো, এত কথা কেন লিখছি জানিনা। এত কথা পড়ার এনার্জিও হবে কিনা তোমার জানা নেই। আর এইসব তো এখন আমি গুছিয়ে গুছিয়ে লিখতেও পারছি না। যা মনে আসছে তাই লিখছি। তাই পড়তে হয়তো ইন্টারেস্টিং নাও লাগতে পারে। আসলেই শৈশবের স্মৃতি বলে শেষ করা যাবে না।

বড় হয়ে যাওয়ার পর ঈদ আনন্দ কর্পোরেটিভ ওয়ার্ল্ড এর মত জটিল হয়ে গেছে শায়মা আপা। যার কোনো স্বাদ নেই। ঈদ মানে খুশি, বিষাদের গল্প নয়। তবুও... কিছু গল্প চলে আসে। আমার একমাত্র ছোট বোন আজ পৃথিবীতে নেই, প্রায় ১৩ বছর হতে চললো তার না থাকা। প্রতি ইদে তাকে খুব মিস করি। তার উপর এই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে আমার বাবাও পালাতক। তিনি কোনো বড় নেতা কিংবা দূর্নীতিবাজ ছিলেননা। আফসোস!!! এলাকায় লীগের একটা ছোট পদে নাম মাত্র ছিলেন তিনি। সেটাই তার জন্য কাল হলো। সরকার পতনের পর তার নাম দেওয়া হলো গণ মিথ্যা মামলায়। সেই থেকে সে পালাতক। কত দিন বাবাকে দেখিনা। এখন বাসায় শুধু আমরা দুইজন মানুষ, আমি এবং আমার মা। অনেক কষ্টে থাকলেও যতটুকু পারার যায় আমরা হাসি মুখে থাকার চেষ্টা করি। যাইহোক, এইসব কথায় আর না যাই।

তোমার সাথে গল্প করতে বসলে অনেক কথাই ভেসে ওঠে শায়মা আপা। সেদিন এক দাওয়াতে গিয়ে হঠাৎ তোমার সেই মরার বাড়ির বুড়ির কথা মনে পড়লো। আমার হাসি প্রায় থামেই না। আর আমার সাথের জন কিছুই বোঝে না, আমি কেন হাসি।। এমনি অবশ্য মনে পড়ে নাই, সামনে এক বৃদ্ধা ছিলেন এবং তার কান্ড কারখানা প্রায় মিলে গিয়েছিল।।


খায়রুল আহসান বলেছেন:
আমি ছোটবেলা থেকেই যেহেতু একটু অন্তর্মুখি ছিলাম, সেহেতু ঈদের আনন্দ তেমন একটা উপভোগ করতাম না, শুধু খাওয়া দাওয়া ছাড়া। ঈদে নতুন জামাকাপড় পেতাম, তবে সেটা পাওয়ার জন্য আব্বাকে যে আর্থিক চাপ সামলাতে হতো, সেটা ভেবে নতুন জামা কাপড়ের প্রতিও তেমন আগ্রহ জন্মাতো না। ঈদের পরের দুদিনে অন্ততঃ দুটো আত্মীয় পরিবারের সাথে অবশ্যই দেখা করতে যেতে হতো। তারাও আমাদের বাসায় হয় সকালে নাহয় সন্ধ্যায় বেড়াতে আসতেন এবং একবেলা খেয়ে যেতেন। তাদের একজন ছিলেন আব্বার আপন মামা, অপরজন ছিলেন সেই মামার আপন শ্যালক। তাদের উভয়ের স্ত্রী ছিলেন কোলকাতার মহিলা; তাদের ভাষা এবং ভাব একটু অন্য রকমের ছিল বিধায় আমি তাদের উপস্থিতি উপভোগ করতাম না। দাদী হিসেবে তারা নাতির (আমার) সাথে একটু ঠাট্টা মশকরা করতে চাইতেন, তবে আমার সেটা ভালো লাগতো না। তাদের সন্তানদের, অর্থাৎ চাচা-ফুফুদেরকে অবশ্য আমার ভালোই লাগতো। আব্বার মামা ছিলেন তখনকার দিনে হাইকোর্টের একজন আইনজীবি, আর তার শ্যালক ছিলেন বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঠিকাদার। এ কারণে তারা আমাদের তুলনায় ছিলেন অনেক উচ্চবিত্ত। এটাও আমার অস্বস্তিবোধের একটা বড় কারণ ছিল।

ঈদের স্মৃতির সাথে আমারও একটা বিষাদময় স্মৃতি জড়িয়ে আছে। সেটা সম্ভবতঃ ১৯৯৫/৯৬ সালের কথা। আমার একজন অধঃস্তন কর্মচারী রোযার ঈদের আগের রাতে নাইটকোচে রওনা দিয়ে তার বাড়ি খুলনায় যাচ্ছিল। কিন্তু বাড়ির প্রায় কাছাকাছি জায়গায় তার বাসটি মারাত্মক দুর্ঘটনায় পতিত হয় এবং সে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। পরিবারের সদস্যদের জন্য সে অনেক কেনাকাটা করেছিল। সেগুলো দূুর্বৃত্তরা নিয়ে যায়। ঈদের দিন শুধু তার লাশটি পরিবারের নিকট পৌঁছে। এই হৃদয়িদারক সংবাদটি আমি পাই ঈদের পরেরদিন। তারপর থেকে বেশ কিছুদিন তার মুখটি ক্রমাগতভাবে আমার মনে ভেসে উঠতো। এখনও প্রতি রমজানে তাকে স্মরণ করি।

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
তোমার আহ্নবানে শুধু গল্প নয় সাথে ঈদের গানও লিখলাম একটা এই খানে ।
ঈদ শুরু হতে না হতেই ঈদ বিষযাদি নিয়ে সুন্দর পোষ্ট ,সুন্দর সুন্দর মধুর স্মৃতি কথায় ভরপুর । এবার ঈদপুর্ব
আয়োজন এত পানসে কেন? খানা দানা প্রস্তুতির ছবি নেই কেন ?, সাজুগুজু পরের কথা, তবে শনিবার ঈদের দিন
সন্ধায় পোস্ট এডিট করে খানা দানা সাজু গুজু আর যত মনে চায় সব দিয়ে পোস্ট আপডেট করে দিলে হবে ।
যাহোক এখনকার তোমার বলা কথামালায় আমারো মনে পরে যায় সেই আদ্যিকালের ছেলে বেলাকার ঈদের
স্মৃতিময় কত কথা ।

বাল্যকালটা কেটেছে গ্রাম বাংলায় । সে সময় ঈদ শুধু আমাদের কাছে ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং ছিল সামাজিক
সম্প্রীতি ও পারিবারিক বন্ধনের এক আনন্দঘন মিলনমেলা। গ্রামকেন্দ্রিক সহজ জীবনে ঈদ উপলক্ষে আন্তরিকতার
বিশেষ প্রকাশ দেখা যেত। চাঁদ দেখার মধ্য দিয়ে উৎসবের শুরু হতো, আর চাঁদ রাত ছিল প্রস্তুতি ও আনন্দের
সময়। আহা এই সামু জীবনে এমনটি হলে কতই না হতো ভাল ।

ঈদের সকালে সবাই পরিচ্ছন্ন পোশাক পরে ঈদগাহে নামাজ আদায় করতে যেতাম এবং পরস্পরকে আলিঙ্গন
করে শুভেচ্ছা বিনিময় করতাম , যা ভ্রাতৃত্ব ও সমতার প্রতীক ছিল। পরিবারে বিশেষ খাবার তৈরি হতো, আর
আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে যাতায়াত ও শুভেচ্ছা বিনিময় চলত সারা দিন । আমরা ছোটরা বড়দের
সালাম করতাম , বড়রা দোয়া ও উপহার দিতেন সে যে কি খুশি লাগত ।

দান-সদকার মাধ্যমে ধনী-গরিবের মধ্যে সহমর্মিতা গড়ে উঠত, যাতে সবাই ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে পারে।
আমাদের ঈদগা মাঠের পাশেই বসত গ্রামীণ মেলা, সেখান হতে কিনতাম ছোট ছোট খেলনা , বাশের বাশি
আর বেলুন। বাশীর মুখে বেলুন লাগিয়ে ফু দিয়ে সেই বেলুন ফুলিয়ে ছেড়ে দিলে বাশী হতে বের হতো পে পো
আওয়াজ , যা ঈদের আনন্দকে আরও প্রাণবন্ত করত। বিকালে পাল তোলা কেয়া নৌকায় বড়দের সাথে আমরা
মাইক লাগিয়ে গান গাইতে গাইতে গ্রামের এ প্রান্ত হতে অপর প্রান্তে ঘুরে বেড়াতাম , যে যার মত গান গাইতাম
হেরে গলায় , তবে ছেলে বুড়ো সকলের ভাই, ময়না ভাইয়ের গলা ছিল গানের দরাজ কন্ঠ ।তিনি যখন মাইকে
গানে দিতেন টান তখন ছোট্ট নদীটির দুপারের বউ ঝি, ছেলে মেয়ে, বুড়া বুড়ি সকলেই সেই মধুর কন্ঠের গান
শুনত মুগ্ধ হয়ে ।

কই গেল সেই দিন আর সেই সেই গান । এই ব্লগের স্বনাম ধন্য গীতিকার , সুরকার আর গায়ক সোনাবীজ;
অথবা ধুলোবালি ছাই ভাইকে দেখলাম প্রথমেই মন্তব্যের ঘরে, তাই তোমার বাড়ীতে তারই জন্য লিখে রেখে
গেলাম একটি ঈদের গান , অপেক্ষায় থাকলাম সামুর এই নিরস ঈদের দিনে একটি মনোমুগ্ধকর ঈদের গান
শুনার জন্য। তুমিও ভাল আবৃতি কর ও গান গাও, ঈদ নিয়ে তোমার কন্ঠগীতও শুনার অপেক্ষায় রইলাম ।

ঈদের অগ্রীম শুভেচ্ছা রইল

‍@ সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই

চাঁদের কোলে নরম আলো, আকাশ ভরা হাসি
গ্রাম গঞ্জের পথে পথে ঈদের সুখের বাঁশি
খেজুর পাতার ঘরে ঘরে আলো জ্বেলে রাত
চাঁদ রাতের স্বপ্ন গাঁথে ছোট্ট শিশু হাত।

ঈদ এলো, ঈদ এলো, হৃদয় ভরা গান
ভাই-বোনে, বন্ধু সবে সুখের আয়োজন
হাসির রঙে রাঙা হলো পাড়া প্রতিবেশ
ভালোবাসায় ভরে ওঠে প্রতিটি পরিবেশ।

ভোর বেলায় কুয়াশা ভেজা মাঠের সবুজ ঘাস
ঈদগাহে সারি বেঁধে দাঁড়ায় মানুষ হাসিমুখে পাশ
নামাজ শেষে কোলাকুলি, মুছে যায় সব দুঃখ
ধনী গরিব এক হয়ে পায় আনন্দের সুখ।

ঈদ এলো, ঈদ এলো, মনের মাঝে ঢেউ,
পিতা-মাতা দোয়া দেন, সুখের নেই তো শেষ
বন্ধু ডাকে, চলো ভাই, বাড়ি বাড়ি যাই,
সেমাই-পিঠার মিষ্টি ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ে ঠাঁই।

মায়ের হাতে সেমাই রান্না, দুধে মাখা সুখ
বাবার চোখে স্নেহ ঝরে, ভুলে যায় সব দুঃখ
ছোটরা পায় ঈদের খুশি, মুঠো ভরা দান
বৃদ্ধরা বসে গল্প করে, স্মৃতিরই গান।

মেলায় বাজে বাশির সুর, রঙিন খেলার মেলা
গ্রাম গঞ্জের প্রাণের মাঝে সুখের ঢেউ খেলা
সরল জীবনে গভীর টান, হৃদয় ভরা নূর
ঐতিহ্যের সেই ঈদ আজও করে মন ভরপুর।

ঈদ এলো, ঈদ এলো, মিলনেরই দিন
ভালোবাসায় বাঁধা থাকে চিরন্তন রঙিন
ছোটকালের সেই গল্প আজও বেঁচে রয়
মানুষে মানুষে বন্ধনে ঈদের সত্য জয়।

মন্তব্য ৩৮ টি রেটিং +৯/-০

মন্তব্য (৩৮) মন্তব্য লিখুন

১| ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৩৪

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ঈদ মোবারক আপু।

সকল ব্লগারের প্রতি ঈদের শুভেচ্ছা। জানা আপার প্রতি বিশেষ দোয়া ও ভালোবাসা, আল্লাহ তাকে দীর্ঘায়ু দান করুন।

খুবই ছোটোবেলার ঈদের কথা মনে পড়ে। ঈদের আগের দিন বাজার থেকে কাগজের রঙিন টুপি আর পটকা কিনে দিতেন বাবা। চাঁদ দেখার সাথে সাথে সেই পটকা ফোটানোর ধুম পড়ে যেত। রঙিন টুপিটা খুব যত্ন করে রাখতাম, ঈদের দিন সকালে কড়ার শীতের মধ্যে নামাজের আগে পুকুরে গোসল করতাম দল বেঁধে। তারপর ঈদের নামাজে যেতাম। তবে প্রথম প্রথম নামাজে না দাঁড়িয়ে বাইরে অন্য পোলাপানের সাথে একত্রে দাঁড়িয়ে দেখতাম কীভাবে নামাজ পরা হয়।

আমাদের বয়সী মানুষদের ছোটোবেলাকার ঈদ প্রায় একইরকমই হওয়ার কথা। অধুনার মতো মানুষের এত সচ্ছলতা ছিল না, এত রান্নাবান্নাও ছিল না। ঈদের আগের রাতে মা-চাচিদের দেখতাম হাতে-কাটা শেমাই বানাতো, ঈদের দিন সকালে রাঁধতো। সাথে খির, বাজার থেকে আনা কলের শেমাই তখনো এত সুলভ এবং জনপ্রিয় হয় নাই, এবং সেগুলো তত মজাও লাগতো না।

আপাতত এটুকুই।

সুন্দর পোস্ট। এ পোস্টে এবারের ঈদ জমজমাট হয়ে উঠুক।

১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৩৭

অপ্‌সরা বলেছেন: ভাইয়া
পটকা তো আজও ফোটায় বাচ্চারা। বিশেষ করে পুরান ঢাকায়।

তবে কাগজের রঙ্গীন টুপি পরে নামাজ পড়তে নাকি!!!

২| ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৩৫

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: দারুণ স্মৃতিচারণ করেছেন ; এখনও কি বাটা মেহেদি দেন ?

১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৩৯

অপ্‌সরা বলেছেন: না এখন আর বাটা মেহেদী দেই না। তবে মেহেদী গাছ আছে বাসায়। এখন কোন মেহেদী অরগানিক দিচ্ছি। কয়েক বছর ধরে দিতাম কাভেরী মেহেদী।

তবে এইটুকু বললে চলিবেক লাই ভাইয়া। তোমার ঈদের আনন্দ বা বেদনার স্মৃতি লিখে দাও ...

৩| ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৩৮

নীল-দর্পণ বলেছেন: ঈদের স্মৃতি বললেই মনে পড়ে পায়ের সাইজের চেয়ে একসাইজ বড় সু কিনে দিতেন আম্মা বাটা থেকে, সেই জুতোর ভেতর কাপড় গুঁজে পুরো এলাকা ঘুরে বেড়াতাম। পায়ে ফোস্কা পড়লেও জুতো হাতে নিয়ে হাঁটলে প্রেস্টিজ যাবে তাই খুলে হাতে নিতাম না অন্যদের মত।

অন্যের বাড়ীর রংয়ের সেমাই, সিরিঞ্জের ফুল পিঠা বা সাবু দানার পিঠার দিকে ছিল লোভ বেশি।

এখন ঈদ হচ্ছে কন্যাদের। গত বছর পার্স গলায় ঝুলিয়ে ঘুরেছে আর একটু পর পর সালামী এনে আমার কাছে এসে বলেছে ''মা দেকো আবার টাকা এনেচি"।
আমার খুবই মজা লাগে ওর দাদা বাড়ীর দিকের বাচ্চাদের দেখে। সকালে এসে সালাম দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে চুপচাপ। কী খাবে জিজ্ঞেস করলে বলবে, "আঁই কিছু নঁ হাইয়ুমদে, গরোত হাই আইসসি, ফ্যাড বরা" । খাবে না যাবেও না, মানে হল সালামী দাও। সালামী দিলে খুশি মনে অন্য বাড়ীতে যাবে সালাম করতে। :D

১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৪১

অপ্‌সরা বলেছেন: গুড গুড মনে পড়ে গেলো পায়ে ফোস্কার স্মৃতি। বাপরে কি ভয়ানক কষ্টের পানি ভরা ফোসকা!! :(


হা হা ছেলেবেলার স্মৃতির সাথে কি শুনালে!!! গরোত ফ্যাড...... তোমার বাচ্চাদের দাদাবাড়ি কোথায়??? সিলহট নাকি?

৪| ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৫৫

নীল-দর্পণ বলেছেন: নয় নয়, সিলেট নয়। ইতারার বাড়ী হাইস্ সোবাজার (কক্সবাজার)। B-)

১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:০৬

অপ্‌সরা বলেছেন: হাইস সোবাজার!!!!!!!!!!! হা হা হা

আমাদের সুফিয়া বলেছিলো হেবাইজ লাগবে হেবাইজ!

আমি যত বলি হেবাইজ কি মা জান?

সে তত বলে হেবাইজ চিনন না হেবাইজ!! এই যে গুল গুল ছুড ছুড!!!

আমি না চিনতে পেরে ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙ্গেছিলাম। তবুও চিনতে পারিনি..... :(

৫| ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৫৬

নজসু বলেছেন:




বোন, আপনার লেখাটা পড়তে পড়তে সত্যি বলতে একটা অন্যরকম নস্টালজিয়ায় ভেসে গেলাম। বিশেষ করে জামার গল্পটায়। ছোটোবেলার ঈদ সবারই মনে হয় একই রকমের থাকে। কত ছোট্ট ছোট্ট ঘটনা, কিন্তু এক সাগর মায়া লেগে আছে তাতে। এই লেখাটি পড়তে পড়তে মনে হলো আমি যেন নিজেরই কোনো হারিয়ে যাওয়া ঈদের দিনের কথা পড়ছি।

ছোটোবেলাকার ঈদের পোশাকটা ছিলো যেন সাত রাজার ধন। সেসময় তো ফ্যাশনের এতো ছড়াছড়ি ছিলো না। আমি ছিলাম মফস্বলের। দেখা যেতো ঈদে আমি যে পোশাকটা পড়েছি, সেই একই রকম পোশাক, আরেকজন সেও কিনেছে। কোনো মাথা ব্যথা ছিলো না। আমাদের সময়ের ঈদ ছিলো সহজ, সরল আর সুন্দর।

এখন তো বাসায় ঈদের আগের দিন আগে থেকে বিভিন্ন রান্না বান্নার আয়োজন শুরু হয়। সেসব দেখি আর ভাবি, আমি যখন ছোটো ছিলাম তখন আমাদের মফস্বলের প্রায় ঘরে বেশিরভাগ সময় দুই পদের সেমাই রান্না হতো। একটা ছিলো লাচ্ছা সেমাই, আরেকটা ছিলো সাদা সেমাই। অবস্থপন্নরা সাদাটায় নারকেল মেশাতেন। এই দুইটা পদের সেমাই ছিলো যেন অমৃত!

বোন, আসলেই আগের ঈদগুলোর মধ্যে যে সরলতা আর আন্তরিকতা ছিল, সেটা এখন খুব কমই চোখে পড়ে। পাড়া প্রতিবেশীর বাড়িতে নির্দ্বিধায় ঢুকে পড়তাম। খালা চাচীদের সেই আন্তরিক ডাক কতোই না সুন্দর ছিলো। আমরা সবার বাড়ি যেতাম। সেমাই খেতে দিতেন যখন, তখন বলতাম অল্প করে দিয়েন পেটে আর জায়গা নাই। বলতাম ঠিকই, কিন্তু খাওয়া কমতো না। এসব যেন এখন গল্পের মতোই লাগে।

আপনার আজকের লেখায় আনন্দের সাথে বিষাদের এই ছোঁয়াটা খুবই বাস্তব। আসলে ঈদ শুধু আনন্দ নয়। অনেক সময় কিছু না বলা কষ্টও সাথে করে নিয়ে আসে। আপনি খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন বোন।

ধন্যবাদ আপনাকে স্মৃতিজাগানিয়া, অনুভূতিময় লেখাটি শেয়ার করার জন্য। পড়তে পড়তে নিজের ছোটবেলার ঈদগুলোকেও আবার নতুন করে মনে পড়ে গেল। ঈদের শুভেচ্ছা রইলো। সবার ঈদ হোক আনন্দময়। ঈদ মোবারক।

১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:০৮

অপ্‌সরা বলেছেন: আরেকটা সেমাইও ছিলো জর্দা সেমাই বা শুকনা সেমাই।

আমাদের সেই সহজ সুন্দর ঈদ আজ কোথায় হারালো!!! সব কিছু কঠিনের সাথে সাথে কঠিনতর হয়ে গেছে যেন ....... :(

৬| ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১০

নীল-দর্পণ বলেছেন: হেবাইজ কী পেঁয়াজ নাকি?
তোমাদের সুফিয়ার বাড়ী কোথায়?

১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১২

অপ্‌সরা বলেছেন: হা হা বুঝলাম তুমি ময়মনসিঙ্গা!!!!!!!!! নেত্রকোনা!!!!!!! হা হা হা

৭| ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:৪১

নীল-দর্পণ বলেছেন: না না আমিতো দক্ষিনবঙ্গের। মাদারীপুর :P তবে যেকোন আঞ্চলিক ভাষা আমার খুব ভালো লাগে। এই কারনেই কিনা জানি না কক্সবাজারের ভাষা কঠিন হওয়া সত্বেও অনেক কিছু বুঝতে পারি!

২০ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:৩৯

অপ্‌সরা বলেছেন: তাই তো দেখছি।
আমি আমার নিজের দেশের ভাষাও বুঝতে পারলেও বলতে তেমন পারিনা।

আমি কবিতার ভাষা বলতে পারি হা হা

সারাজীবন অন্যস্থানগুলোতে কাটানোর ফল .... :)

৮| ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:৫৪

আজব লিংকন বলেছেন: অনেকদিন পর তোমার লেখা পড়লাম প্রিয় শায়মা আপা। আশাকরি ভালো আছো। হ্যাঁ আমিও প্রায় ব্লগে হাল্কা ঢু মেরে চলে যাই। তবে (ব্লগে/ব্লগার) কিছু মানুষের কথা মনে হয় প্রায়। খুব অল্প সামান্য পরিচয় তবুও মনে হয়। যাদের মধ্যে ইমন জুবায়ের ভাই, জানা আপা, গাজী সাহেব, মিরোর আপা, শেরজা তপন দাদা, জাজির দাদা, সন্ধ্যা রাতের ঝিঁঝি, রাজিব ভাই, জুনভার্ন ভাই, কুতুব ভাই এবং সবার মাঝে অনন্য তুমিও একজন প্রিয় শায়মা আপা (সবচেয়ে বেশি)।।

শৈশবের ইদের আনন্দ স্মৃতি কথা যেমন আনন্দের তেমনি বর্তমানে তা মনে করলে চরম বেদনাদায়ক। কত পুরনো অমলিন স্মৃতি... উফ!!

সেই একান্নবর্তী পরিবারে সবাই মিলে ঈদ উদযাপন। শহরের বুকে একটা ছয় রুমের ছোট টিনের বাসায় আমার বেড়ে ওঠার গল্প। যার ছোট একটা আঙ্গিনা। রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে সেই আঙিনায় বসতো এক আকাশ তারার মেলা। সে কতরাত বসে বসে রাতের আকাশের রকেট খুঁজেছি। হ্যাঁ ছবির মতো টিনের বাসা।

আমার বাবার ছয় ভাই এবং দুই বোন। আমার জন্মের আগে ফুপুদের বিয়ে হয়ে যায়। আমি জন্মের পর ছয় চাচার সংসার চোখের সামনে দেখার সুযোগ পাই। যৌথ পরিবারের হাসি, কান্না, সুখ, দুঃখ এবং ভয়ংকর ঝগড়াঝাটি দেখার সৌভাগ্য কিংবা দুর্ভাগ্য বলা যায় আমার হয়েছে বটে।।

শৈশবের একদল চাচাতো ভাই বোনের সাথে বেড়ে ওঠা এবং তাদের সাথে ইদের আনন্দ ভাগাভাগি করা। চোখ বন্ধ করলে এখনো চোখের সামনে ভেসে ওঠে। নতুন জামা পড়ে একসাথে ঈদগাহ মাঠে জামাতে যাওয়া। ওহ হ্যাঁ, ইদগাহের স্মৃতি আসলে একটা কথা মনে পড়লো, তখন আমাদের রংপুরের ইদগাহে প্রতি ইদের জামাতে উপস্থিত থাকতেন মরহুম হোসেন মোহাম্মদ এরশাদ সাহেব। আমাদের জন্য সেসময় তিনি সেলিব্রেটি ছিলেন। ইদের জামাত শেষে দল বেঁধে লাইনে দাঁড়িয়ে তার সাথে কোলাকুলির একটু সুযোগ, তার আনন্দই ছিল অন্যরকম।

ইদের নামাজ শেষে বাসা ফেরার সময় বাবা আমাদেরকে গ্যাস বেলুন কিনে দিতেন। কি সুন্দর রং-বেরঙের সেই গ্যাস বেলুনগুলো শূন্যে ভেসে থাকতো, আমরা অবাক হয়ে দেখতাম। আমরা ভাই-বোনরা মিলে প্রত্যেক ইদে প্রায় একটা কাজ করতাম। সেটা হচ্ছে বাসায় এসে চিঠি লিখে গ্যাস বেলুনের মধ্যে বেঁধে দিয়ে হাওয়ায় উড়িয়ে দিতাম। হা হা হা, কে জানে সেই চিঠি কেউ পেত কিনা!!! তারপর দল বেঁধে সবাই মিলে সারাদিন আত্মীয়দের বাসায় যাওয়া। চকচকের নতুন পাঁচ টাকা, দশ টাকার সালামী পেয়ে সে কি মহাআনন্দ আমাদের।

আচ্ছা তুমি তো ছোট্ট করে লিখতে বলেছো, এত কথা কেন লিখছি জানিনা। এত কথা পড়ার এনার্জিও হবে কিনা তোমার জানা নেই। আর এইসব তো এখন আমি গুছিয়ে গুছিয়ে লিখতেও পারছি না। যা মনে আসছে তাই লিখছি। তাই পড়তে হয়তো ইন্টারেস্টিং নাও লাগতে পারে। আসলেই শৈশবের স্মৃতি বলে শেষ করা যাবে না।

বড় হয়ে যাওয়ার পর ঈদ আনন্দ কর্পোরেটিভ ওয়ার্ল্ড এর মত জটিল হয়ে গেছে শায়মা আপা। যার কোনো স্বাদ নেই। ঈদ মানে খুশি, বিষাদের গল্প নয়। তবুও... কিছু গল্প চলে আসে। আমার একমাত্র ছোট বোন আজ পৃথিবীতে নেই, প্রায় ১৩ বছর হতে চললো তার না থাকা। প্রতি ইদে তাকে খুব মিস করি। তার উপর এই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে আমার বাবাও পালাতক। তিনি কোনো বড় নেতা কিংবা দূর্নীতিবাজ ছিলেননা। আফসোস!!! এলাকায় লীগের একটা ছোট পদে নাম মাত্র ছিলেন তিনি। সেটাই তার জন্য কাল হলো। সরকার পতনের পর তার নাম দেওয়া হলো গণ মিথ্যা মামলায়। সেই থেকে সে পালাতক। কত দিন বাবাকে দেখিনা। এখন বাসায় শুধু আমরা দুইজন মানুষ, আমি এবং আমার মা। অনেক কষ্টে থাকলেও যতটুকু পারার যায় আমরা হাসি মুখে থাকার চেষ্টা করি। যাইহোক, এইসব কথায় আর না যাই।

তোমার সাথে গল্প করতে বসলে অনেক কথাই ভেসে ওঠে শায়মা আপা। সেদিন এক দাওয়াতে গিয়ে হঠাৎ তোমার সেই মরার বাড়ির বুড়ির কথা মনে পড়লো। আমার হাসি প্রায় থামেই না। আর আমার সাথের জন কিছুই বোঝে না, আমি কেন হাসি।। এমনি অবশ্য মনে পড়ে নাই, সামনে এক বৃদ্ধা ছিলেন এবং তার কান্ড কারখানা প্রায় মিলে গিয়েছিল।।

আর কিছু লিখতে ইচ্ছা করছে না। লেখায় কোন ভুল ত্রুটি হলে পড়ার সময় নিজে ঠিক করে পড়ে নিও। আমি আজ আসি। ভালো থেকো আল্লাহাফেজ। ল্যাভিউ...

২০ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:৫১

অপ্‌সরা বলেছেন:
অনেক অনেক ভালোবাসা ভাইয়ামনি। ঠিক তাই আজ যেন ঈদের স্মৃতিগুলি যেমন আনন্দের তেমনই কিছু বিষাদ মিশে থাকে। আনন্দের স্মৃতিগুলিও হারিয়ে যাবার বেদনায় দুঃখ হয়ে বুকে বাজে কিন্তু জীবন তো এমনই শুধুই হারায়। তবুও সেই শূন্যস্থান পূরণ হয়ে যায় কিছু না কিছু প্রত্যাশিত বা অপ্রত্যাশিত ঘটনা প্রবাহে।

তোমার একান্নবর্তী পরিবারের ঈদ আনন্দ আর বিদ্যুৎ গেলে তারার মেলায় ভেসে যাওয়া এসব তো আমাদেরও স্মৃতি। নানী বা দাদীবাড়ির ঈদগুলোতে এমন কত স্মৃতই আছে আমাদের। আমার এক মামাত ভাই ছোট্ট পুচকে থাকতে একদিন আমাদের ছোটখালাকে বললো, ফুপি ফুপি চাঁদ কি খাওয়া যায়? তার ওমন বোকার মত কথা শুনে আমাদের সে কি হাসি। রাতের আকাশে তাকালে আজও বিদ্যুৎ না চলে যাওয়া রাত গুলোতেও সেই কথা মনে পড়ে যায়। হায়!

আমি আজও বারান্দা দিয়ে চেয়ে থাকি নতুন জামা পড়ে একসাথে ঈদগাহ মাঠে জামাতে যাওয়া ছোট ছোট ছেলে মেয়েদেরকে দেখি। । আর এরশাদ সাহেব ঢাকার বাসার আমাদের প্রতিবেশী ছিলেন। আমাদের পহেলা বৈশাখের প্রতি অনুষ্ঠানেই আসতেন শেষ বয়সের দিকে। মন দিয়ে গান শুনতেন কবিতা শুনতেন।

আহা গ্যাসবেলুন ছিলো আমার কাছে ছোটবেলার এক বিস্ময়! তোমার বোনটার জন্য অনেক দোয়া রইলো। ভালো থাকুক ওপারে। বাবা নিশ্চয়ই ফিরে আসবেন। সবাই মিলে আবার তোমাদের সুন্দর জীবন হবে ভাইয়া।

আমার সাথে গল্পের কথা যদি বলো তো মানুষ আটকায় যায় আমার কথার জালে। হা হা হা সেদিন এক ইফতারের দাওয়াতেও ঠিক এমনই হলো হঠাৎ দেখি আমি একাই বক বক বক্তা সবাই শ্রোতা। মানে কথা শুরু করে আর কোনো ফাক ফোকোরে কেউ ঢুকতেই পারে না। হা হা


অনেক ভালোবাসা ভাইয়া। অনেক ভালো কাটুক এবারের ঈদ। তাড়াতাড়ি পরিবারের সবাই এক হয়ে যাও.....

২০ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৪

অপ্‌সরা বলেছেন: বুড়ির টিস্যু পেপারকে সন্দেশ ভাবার মত আরেকটা গল্প শোনো।

আমাদের এক চাচী ছিলেন তার শ্বশুরবাড়ি পুরান ঢাকা। তারা খুব খানাপিনাওয়া মানুষ ছিলেন। তাদের বাসায় প্রতি রাতে সেহরী ছিলো রাজকীয় আয়োজন। সেই চাচী গল্প করছিলো প্রথমে নাকি পোলাও মাংস খায়। তারপর ভাবে সারাদিন না খেয়ে থাকবো তাই ভাত আর মাছও খায় আবার ভাবে সারাটা দিন না খেয়ে থাকবো একটু দুধ ভাত খায় তারোর ভাবে এখটু ফিরনী পায়েশ খায় এইভাবে খেতে খেতে গলা পর্যন্ত খায়!

তারপর ফজরের নামাজ পড়তে গিয়ে ওক করে বমি ঠেলে আসে। তবুও খায় ...... এই কথা শুনে আমার চোখ গুলু গুলু আর তার বলার স্টাইলে আমি হাসতে হাসতে শেষ!

প্রতি রমজানে সেহরীর সময় আমার তার কথা মনে পড়ে।

৯| ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:০৪

খায়রুল আহসান বলেছেন: চমৎকার একটি উদ্যোগ নিয়েছেন; এজন্য অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

১২ জনের পর ১৩ নম্বর ব্লগার হিসেবে আমি আপনার এ পোস্টে যোগ দিলাম। এখন অবশ্য সংখ্যাটা ১৪ জন হয়ে গেছে।
আমি ছোটবেলা থেকেই যেহেতু একটু অন্তর্মুখি ছিলাম, সেহেতু ঈদের আনন্দ তেমন একটা উপভোগ করতাম না, শুধু খাওয়া দাওয়া ছাড়া। ঈদে নতুন জামাকাপড় পেতাম, তবে সেটা পাওয়ার জন্য আব্বাকে যে আর্থিক চাপ সামলাতে হতো, সেটা ভেবে নতুন জামা কাপড়ের প্রতিও তেমন আগ্রহ জন্মাতো না। ঈদের পরের দুদিনে অন্ততঃ দুটো আত্মীয় পরিবারের সাথে অবশ্যই দেখা করতে যেতে হতো। তারাও আমাদের বাসায় হয় সকালে নাহয় সন্ধ্যায় বেড়াতে আসতেন এবং একবেলা খেয়ে যেতেন। তাদের একজন ছিলেন আব্বার আপন মামা, অপরজন ছিলেন সেই মামার আপন শ্যালক। তাদের উভয়ের স্ত্রী ছিলেন কোলকাতার মহিলা; তাদের ভাষা এবং ভাব একটু অন্য রকমের ছিল বিধায় আমি তাদের উপস্থিতি উপভোগ করতাম না। দাদী হিসেবে তারা নাতির (আমার) সাথে একটু ঠাট্টা মশকরা করতে চাইতেন, তবে আমার সেটা ভালো লাগতো না। তাদের সন্তানদের, অর্থাৎ চাচা-ফুফুদেরকে অবশ্য আমার ভালোই লাগতো। আব্বার মামা ছিলেন তখনকার দিনে হাইকোর্টের একজন আইনজীবি, আর তার শ্যালক ছিলেন বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঠিকাদার। এ কারণে তারা আমাদের তুলনায় ছিলেন অনেক উচ্চবিত্ত। এটাও আমার অস্বস্তিবোধের একটা বড় কারণ ছিল।

ঈদের স্মৃতির সাথে আমারও একটা বিষাদময় স্মৃতি জড়িয়ে আছে। সেটা সম্ভবতঃ ১৯৯৫/৯৬ সালের কথা। আমার একজন অধঃস্তন কর্মচারী রোযার ঈদের আগের রাতে নাইটকোচে রওনা দিয়ে তার বাড়ি খুলনায় যাচ্ছিল। কিন্তু বাড়ির প্রায় কাছাকাছি জায়গায় তার বাসটি মারাত্মক দুর্ঘটনায় পতিত হয় এবং সে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। পরিবারের সদস্যদের জন্য সে অনেক কেনাকাটা করেছিল। সেগুলো দূুর্বৃত্তরা নিয়ে যায়। ঈদের দিন শুধু তার লাশটি পরিবারের নিকট পৌঁছে। এই হৃদয়িদারক সংবাদটি আমি পাই ঈদের পরেরদিন। তারপর থেকে বেশ কিছুদিন তার মুখটি ক্রমাগতভাবে আমার মনে ভেসে উঠতো। এখনও প্রতি রমজানে তাকে স্মরণ করি।

২০ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:৫৮

অপ্‌সরা বলেছেন: ভাইয়া ঈদের দিনের সেই আত্মীয়দের সাথে তোমার অসস্তির কারনগুলো যেন আমি বুঝতে পারছি দেখতে পারছি। তুমি অন্তর্মুখী বটে তবে অনেক অনেক বেশী গভীরতায় সমৃদ্ধ! তোমার তুলনা তুমি নিজেই ভাইয়া। খোদা তোমাকে এখন অনেক দিয়েছেন কারণ তুমি একজন প্রকৃত ভালো মানুষ। নাতি নাতনী ছেলেমেয়ে নিয়ে আমার চোখে তোমার আর কোনো অপূর্নতাই নেই ভাইয়া। তুমি একজন পরিপূর্ন সুখী মানুষ।

আহারে ভাইয়া। এসব স্মৃতি কি সত্যিই ভোলা যায়! এই যে এই ঈদে আমাদের ড্রাইভার দারোয়ানেরা কেউ কেউ বাড়ি যাচ্ছিলো যখন তখন আমার চিন্তা হলো চারিদিকে এত এক্সিডেন্টে ভয় হলো। তারা বাড়ি পৌছেচে সহি সালামতে দেখে এখন একটু নিশ্চিন্ত হলাম। কিন্তু ভাইয়া এবারের লঞ্চ দূর্ঘটনা সহ্য করা কঠিন।

১০| ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৩৮

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



তোমার আহ্নবানে শুধু গল্প নয় সাথে ঈদের গানও লিখলাম একটা এই খানে ।
ঈদ শুরু হতে না হতেই ঈদ বিষযাদি নিয়ে সুন্দর পোষ্ট ,সুন্দর সুন্দর মধুর স্মৃতি কথায় ভরপুর । এবার ঈদপুর্ব
আয়োজন এত পানসে কেন? খানা দানা প্রস্তুতির ছবি নেই কেন ?, সাজুগুজু পরের কথা, তবে শনিবার ঈদের দিন
সন্ধায় পোস্ট এডিট করে খানা দানা সাজু গুজু আর যত মনে চায় সব দিয়ে পোস্ট আপডেট করে দিলে হবে ।
যাহোক এখনকার তোমার বলা কথামালায় আমারো মনে পরে যায় সেই আদ্যিকালের ছেলে বেলাকার ঈদের
স্মৃতিময় কত কথা ।

বাল্যকালটা কেটেছে গ্রাম বাংলায় । সে সময় ঈদ শুধু আমাদের কাছে ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং ছিল সামাজিক
সম্প্রীতি ও পারিবারিক বন্ধনের এক আনন্দঘন মিলনমেলা। গ্রামকেন্দ্রিক সহজ জীবনে ঈদ উপলক্ষে আন্তরিকতার
বিশেষ প্রকাশ দেখা যেত। চাঁদ দেখার মধ্য দিয়ে উৎসবের শুরু হতো, আর চাঁদ রাত ছিল প্রস্তুতি ও আনন্দের
সময়। আহা এই সামু জীবনে এমনটি হলে কতই না হতো ভাল ।

ঈদের সকালে সবাই পরিচ্ছন্ন পোশাক পরে ঈদগাহে নামাজ আদায় করতে যেতাম এবং পরস্পরকে আলিঙ্গন
করে শুভেচ্ছা বিনিময় করতাম , যা ভ্রাতৃত্ব ও সমতার প্রতীক ছিল। পরিবারে বিশেষ খাবার তৈরি হতো, আর
আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে যাতায়াত ও শুভেচ্ছা বিনিময় চলত সারা দিন । আমরা ছোটরা বড়দের
সালাম করতাম , বড়রা দোয়া ও উপহার দিতেন সে যে কি খুশি লাগত ।

দান-সদকার মাধ্যমে ধনী-গরিবের মধ্যে সহমর্মিতা গড়ে উঠত, যাতে সবাই ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে পারে।
আমাদের ঈদগা মাঠের পাশেই বসত গ্রামীণ মেলা, সেখান হতে কিনতাম ছোট ছোট খেলনা , বাশের বাশি
আর বেলুন। বাশীর মুখে বেলুন লাগিয়ে ফু দিয়ে সেই বেলুন ফুলিয়ে ছেড়ে দিলে বাশী হতে বের হতো পে পো
আওয়াজ , যা ঈদের আনন্দকে আরও প্রাণবন্ত করত। বিকালে পাল তোলা কেয়া নৌকায় বড়দের সাথে আমরা
মাইক লাগিয়ে গান গাইতে গাইতে গ্রামের এ প্রান্ত হতে অপর প্রান্তে ঘুরে বেড়াতাম , যে যার মত গান গাইতাম
হেরে গলায় , তবে ছেলে বুড়ো সকলের ভাই, ময়না ভাইয়ের গলা ছিল গানের দরাজ কন্ঠ ।তিনি যখন মাইকে
গানে দিতেন টান তখন ছোট্ট নদীটির দুপারের বউ ঝি, ছেলে মেয়ে, বুড়া বুড়ি সকলেই সেই মধুর কন্ঠের গান
শুনত মুগ্ধ হয়ে ।

কই গেল সেই দিন আর সেই সেই গান । এই ব্লগের স্বনাম ধন্য গীতিকার , সুরকার আর গায়ক সোনাবীজ;
অথবা ধুলোবালি ছাই ভাইকে দেখলাম প্রথমেই মন্তব্যের ঘরে, তাই তোমার বাড়ীতে তারই জন্য লিখে রেখে
গেলাম একটি ঈদের গান , অপেক্ষায় থাকলাম সামুর এই নিরস ঈদের দিনে একটি মনোমুগ্ধকর ঈদের গান
শুনার জন্য। তুমিও ভাল আবৃতি কর ও গান গাও, ঈদ নিয়ে তোমার কন্ঠগীতও শুনার অপেক্ষায় রইলাম ।

ঈদের অগ্রীম শুভেচ্ছা রইল

‍@ সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই

চাঁদের কোলে নরম আলো, আকাশ ভরা হাসি
গ্রাম গঞ্জের পথে পথে ঈদের সুখের বাঁশি
খেজুর পাতার ঘরে ঘরে আলো জ্বেলে রাত
চাঁদ রাতের স্বপ্ন গাঁথে ছোট্ট শিশু হাত।

ঈদ এলো, ঈদ এলো, হৃদয় ভরা গান
ভাই-বোনে, বন্ধু সবে সুখের আয়োজন
হাসির রঙে রাঙা হলো পাড়া প্রতিবেশ
ভালোবাসায় ভরে ওঠে প্রতিটি পরিবেশ।

ভোর বেলায় কুয়াশা ভেজা মাঠের সবুজ ঘাস
ঈদগাহে সারি বেঁধে দাঁড়ায় মানুষ হাসিমুখে পাশ
নামাজ শেষে কোলাকুলি, মুছে যায় সব দুঃখ
ধনী গরিব এক হয়ে পায় আনন্দের সুখ।

ঈদ এলো, ঈদ এলো, মনের মাঝে ঢেউ,
পিতা-মাতা দোয়া দেন, সুখের নেই তো শেষ
বন্ধু ডাকে, চলো ভাই, বাড়ি বাড়ি যাই,
সেমাই-পিঠার মিষ্টি ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ে ঠাঁই।

মায়ের হাতে সেমাই রান্না, দুধে মাখা সুখ
বাবার চোখে স্নেহ ঝরে, ভুলে যায় সব দুঃখ
ছোটরা পায় ঈদের খুশি, মুঠো ভরা দান
বৃদ্ধরা বসে গল্প করে, স্মৃতিরই গান।

মেলায় বাজে বাশির সুর, রঙিন খেলার মেলা
গ্রাম গঞ্জের প্রাণের মাঝে সুখের ঢেউ খেলা
সরল জীবনে গভীর টান, হৃদয় ভরা নূর
ঐতিহ্যের সেই ঈদ আজও করে মন ভরপুর।

ঈদ এলো, ঈদ এলো, মিলনেরই দিন
ভালোবাসায় বাঁধা থাকে চিরন্তন রঙিন
ছোটকালের সেই গল্প আজও বেঁচে রয়
মানুষে মানুষে বন্ধনে ঈদের সত্য জয়।

২০ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:১১

অপ্‌সরা বলেছেন:
বাহ ভাইয়ু!!!!!!!!!! ঈদের লেখা ঈদের গান ঈদের কবিতা, ঈদের ছবিতা সব পেয়ে মুগ্ধ হলাম!

ভাইয়া এবার ঈদপুর্ব আয়োজন খুব একটা পানসে নহে। খানা দানা প্রস্তুতি চলিতেছে।

সাজুগুজু পরের কথা, তবে শনিবার ঈদের দিন সন্ধায় পোস্ট এডিট করে খানা দানা সাজু গুজু আর যত মনে চায় সব দিয়ে পোস্ট আপডেট করে দিলে হবে ।
গুড গুড গুড আইডিয়া!!!!!!! সাথে সবার সাজুগুজু খানাদানা ছবি চাই চাই চাই

সবারই বাল্যকাল সে গ্রাম হোক আর শহরে হোক চাঁদ দেখা ছিলো অতি অবশ্য জরুরী। আজকাল ছেলেমেয়েরা আর ছাদে ওঠে না মাঠে যায়না চাঁদ দেখতে। বিশেষ করে শহুরে ছেলেমেয়েরা। সেই আগের মত ঈদের জামার মজা আর নেই কারণ রোজ রোজই নতন জামা প্রায় সবাই পায়।

এখনও মেলা হয় ঈদমেলার নামে নানা রং এ ঢংএ মেলা কিন্তু সেই আনন্দ কোথায়?

বিকালে পাল তোলা কেয়া নৌকায় বড়দের সাথে আমরা
মাইক লাগিয়ে গান গাইতে গাইতে গ্রামের এ প্রান্ত হতে অপর প্রান্তে ঘুরে বেড়াতাম , যে যার মত গান গাইতাম
হেরে গলায় , তবে ছেলে বুড়ো সকলের ভাই, ময়না ভাইয়ের গলা ছিল গানের দরাজ কন্ঠ ।তিনি যখন মাইকে
গানে দিতেন টান তখন ছোট্ট নদীটির দুপারের বউ ঝি, ছেলে মেয়ে, বুড়া বুড়ি সকলেই সেই মধুর কন্ঠের গান
শুনত মুগ্ধ হয়ে ।
এটা তো বড়ই আনন্দ স্মৃতি ভাইয়া!!!!!! এমনটা আমার জীবনে ঘটেনি কিন্তু বুঝতে পারছি এর আনন্দ!

হাহা সোনাবীজ ভাইয়ার গান আমার গান আর তোমার কবিতা থাকবে ঈদের দিনে ওকে???
ঈদের গানা বড়ই মধুর হয়েছে। তোমার জন্য রইলো ঈদ শুভেচ্ছা!!!!!

১১| ২০ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:৫৩

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: সকালে উঠে এ পোস্টে এলাম। কমেন্টগুলো পড়তে পড়তে আমিও নস্টালজিক হচ্ছিলাম। স্মৃতিগুলো কত না মধুর, কত না সুখ ও বেদনায় ভরপুর! সবার স্মৃতিগাথাই হৃদয়ে দাগ কেটে গেল।

প্রিয় আলী ভাইয়ের কমেন্টে এসে থমকে যেতে হলো, যার ফলে আরেকটা কমেন্ট না লিখে পারা গেল না। চমৎকার কবিতা লিখেছেন প্রিয় আলী ভাই। আমাকে মেনশন করায় তার প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। অনেক অনেক ধন্যবাদ প্রিয় আলী ভাই সুন্দর কবিতাটি লেখার জন্য।

***

আপু, আমাদের ছোটোবেলায় ঈদের জন্য রঙিন কাগজের টুপির প্রচলন ছিল। রঙিন জামা - হাফ প্যান্ট, হাফ হাতা শার্ট আর রঙিন টুপি - এক অসাধারণ কম্বিনেশন ছিল। তবে টুপিগুলোর বয়স ছিল খুবই কম, অল্প কয়েকদিনের মাথায় তা ময়লা হয়ে যেতো ও ছিঁড়ে যেতো। অনলাইনে পুরোনো আমলের কাগজের টুপি খুঁজলাম অনেক, সেই টুপিগুলো পেলাম না।

২০ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫

অপ্‌সরা বলেছেন: আলীভাইয়া এটা তোমার জন্য গান লিখেছে ভাইয়া।

এখন গেয়ে শোনাও। এটা তোমার ঈদ আয়োজনের হোম ওয়ার্ক! :)

রঙিন কাগজের টুপি আমি কখনও দেখিনি। শুনিওনি মনে হয়। তবে তোমার বর্ণনায় এক বালককে দেখতে পাচ্ছি।

৭/৮ বছর বয়স। হাফ হাতা প্রিন্টের শার্ট হাফ প্যান্ট আর তেল চকচক গোসল করা মাথায় এক ঝিলিমিলি রঙিন টুপি। জীবনের আনন্দময় হাসি জেগে আছে সেই মুখে :)

১২| ২০ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:



ছোটবেলার ঈদের স্মৃতিগুলো মনে পড়ে গেলো।

সবার আগে মনে পড়লো সাড়ে ১২ হাজার টাকার পাঞ্জাবী কেনার কথা। আব্বু সরকারী চাকুরে ছিলেন। আর, আমরা তখন ৪ ভাই ছিলাম। আমি এতো টাকা দিয়ে পাঞ্জাবী কেনার পরে, অন্যদের ভাগ্যে তেমন ভালো কিছু পড়লো না!!!

আমি কি আর সেদিকটা চিন্ত্য করি? আমি তখন ক্লাস এইটে পড়ি। আব্ব্য ঠিকই সেই পাঞ্জাবী কিনে দিয়েছিলেন!!!

২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:২৮

অপ্‌সরা বলেছেন: আহারে ভাইয়া। এত টাকা দিয়ে নিজেই কিনলে!!!!
ভায়েদের নিশ্চয় মন খারাপ হয়েছিলো.....

একই সাথে আনন্দ আর বিষাদের ঈদ ছিলো।

১৩| ২১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৩৫

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আমার জন্য ঘটনাটা একটু বিব্রতকর হয়ে গেছে। আলী ভাইয়ের পোস্ট পড়তে পড়তে নীচে নামতে নামতে নিজের নাম দেখে হুট করে ওখানেই চলে যাই, মূল কমেন্টের শেষের অংশ না পড়েই। ফলে, আলী ভাই যে আমাকে একটা গান করার জন্য লিরিক লিখেছেন, তা আমি বুঝতে পারি নি।

গত পরশু আমার ছেলেকে বললাম, আব্বু, তুমি একটা ঈদের গান লেখো। এ কথা শুনে মেয়ে হেসে দিল। মেয়েকে বললাম, তোমরা দুজনে মিলেই লেখো। মেয়ে গানের ভক্ত হলেও ছেলেদের মতো গানে আসক্ত না, সে তার প্রফেশন নিয়ে ব্যস্ত। ছেলেরা দেশের সম্ভাব্য বড়ো মিউজিশিয়ান ভেবেই অন্তত ছেলের কাছে এ আবদার করেছিলাম। কিন্তু ছেলেও হেসেই উড়িয়ে দিল আমার অনুজ্ঞা।

আমি এবার একটা ঈদের গান করার কথা ভাবছিলাম বেশ কিছুদিন ধরেই। হাতের প্রজেক্টটা শেষ হলে ওটা ধরবো, প্ল্যান ছিল এমন। ঐ প্রজেক্ট শেষ হয়েছে দুদিন আগে, কিন্তু পারিবারিক ব্যস্ততার কারণে আর নতুন গানে হাত দেয়া হয় নি, ঈদের গানের কথাও বাদ পড়ে গিয়েছিল।

সকাল বেলা আলী ভাইয়ের কবিতা পড়তে পড়তে ভাবছিলাম, যেহেতু আমাকে মেনশন করে কবিতাটা লেখা, এটাকেই চেষ্টা করে দেখবো নাকি গান করা যায় কিনা? কিন্তু ব্যস্ততার কারণে আর অ্যাটেম্পট নেই নি।

পরে আমার দ্বিতীয় কমেন্টে আপনার উত্তর পড়ে আমি বিব্রত ও লজ্জিত বোধ করি। আলী ভাই তো অলরেডি এটাকে গানই করতে বলেছেন। কিন্তু হাতে সময় একেবারেই নাই। আমি সেই লেভেলের মিউজিশিয়ানও না যে, শুরু করলাম আর হয়ে গেল। অন্তত কন্ঠটা ভালো হলে তবু একটা কথা ছিল, খালি গলায়ই সম্মান রক্ষা করার কথা ভাবা যেতো!

শুরু করতে যেয়ে দেখি, লিরিক অনেক বড়ো। এত দীর্ঘ গান এই অল্প সময়ে এ-আই দিয়ে কভার সং জেনারেট করা ও এডিট করা সম্ভব নয়। তাহলে কী করা? গত কয়েকদিনে 'ঈদ মোবারক, ঈদ মোবারক' কথা দিয়ে একটা খসড়া সুর তৈরি করা ছিল। সেই অংশটার সাথেই মিল রেখে আলী ভাইয়ের লিরিকে হাত (মানে কণ্ঠ) দিলাম। প্ল্যান করলাম, খুব ছোটো আকারে মাত্র এক অন্তরার একটা গান করবো। প্ল্যান মোতাবেক দীর্ঘ লিরিক থেকে পছন্দমতো কয়েকটা লাইন বেছে নিয়ে সে-কটা সুরের সাথে মিলিয়ে এডিট করলাম।

এক অন্তরাকেই দুবার ইউজ করে এ-আই-তে আপলোড দিয়ে কভার সং জেনারেট করলাম। মাত্র দুবার ট্রাই করেছি, তাতে ৪টা গান পাওয়া গেছে। উচ্চারণ প্রায় নির্ভুল। দুটো ভার্সনকে একত্র করে একটা ফাইনাল প্রডাক্ট বানালাম।

একবার প্ল্যান করেছিলাম, যেহেতু সময় নেই, এটা আগামী বছরের জন্য রেখে দেই। পরে ভাবলাম, এতদিন ধরে আলী ভাইকে অপেক্ষায় রাখা হবে এক অমার্জনীয় ক্রাইম। তার বদলে যা কিছু হয়, তা দিয়েই ট্রাই করা যাক।

আশা করি মন্দ হয় নি।

কথা : ড: এম এ আলী
সুর ও মূল কণ্ঠ : খলিল মাহ্‌মুদ
এ-আই কভার : সোনারু ও সহেলিয়া

নতুন চাঁদের নরম আলো, আকাশ ভরা হাসি
দিকে দিকে খুশির মাতম, আনন্দ রাশি রাশি

ঈদ এলো, ঈদ এলো, মহামিলনের দিন
চিরন্তন ভালোবাসায় সুরভিত রঙিন

হৃদয় জুড়ে বাজছে ঈদের পবিত্র সঙ্গীত
ঈদ মোবারক ঈদ মোবারক ঈদ মোবারক ঈদ

২০ মার্চ ২০২৬

লিংক : ঈদ মোবারক, ঈদ মোবারক। কথা এম এ আলী ভাই। এ-আই কভার - সোনারু ও সহেলিয়া

অথবা নীচের লিংকে ক্লিক করুন।




২৩ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:৩০

অপ্‌সরা বলেছেন: গান শুনে আমি মুগ্ধ ভাইয়া!!!
যোগ্য গানের যোগ্য উপহার ... :)

অনেক ভালোবাসা ভাইয়ামনি....

১৪| ২১ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৫:৪৩

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



@ সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই
মন্তব্যের ঘরে লেখা ও আপনার সুরারোপিত গানটি শুনে আমিতো রিতীমত বাকবোধ হয়ে গেছি । ভাবছি করলেনটা
কি সোনাবীজ ভাই । আমিতো শুধু কথাচ্ছলে বলেছিরাম লিরিকটি নিয়েআপনার সুমধুর কন্ঠে এই ঈদে একটি
গান শুনার জন্য । কিন্তু আপনি যে বিষয়টিকে এত সিরিয়াসলি নিবেন তা ভাবতে পারি নাই , জানলে আরো
ছোট করে এডিট করে দেয়া যেতো ।

তবে গানটির বর্তমান রূপ দেয়ার বিষয়ে আপনার এক দারুন আন্তরিকতা, পরীক্ষামূলক সাহস আর সৃষ্টিশীলতার
সুন্দর সমন্বয় ধরা পড়ে। দীর্ঘ লিরিককে সীমিত সময় ও প্রযুক্তিগত বাস্তবতার মধ্যে এনে নতুনভাবে উপস্থাপন
করার যে চেষ্টা, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। বিশেষ করে নিজের লেখা কথাকে সুর, কণ্ঠ এবং এ আই প্রযুক্তির
সহায়তায় ধাপে ধাপে পরিমার্জন করার যে প্রক্রিয়া আপনি বর্ণনা করেছেন তা একদিকে যেমন আধুনিক সঙ্গীত
চর্চার প্রতিফলন, তেমনি অন্যদিকে একজন সৃষ্টিশীল মানুষের ধৈর্য ও নিষ্ঠারও প্রমাণ।

ছোট ছোট অংশ বেছে নিয়ে সুরের সঙ্গে মানানসইভাবে লিরিক সম্পাদনা করা, বারবার ট্রাই করে কাঙ্ক্ষিত আউট
পুট বের করে আনা এই পুরো যাত্রাটা খুবই জীবন্তভাবে উঠে এসেছে আপনার কথায় । এতে বোঝা যায়, একটি
ভালো গান তৈরি হওয়া শুধু অনুপ্রেরণার ফল নয়, বরং সচেতন পরিকল্পনা ও নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টারও ফসল।

সবচেয়ে ভালো লেগেছে আপনার এই দৃষ্টিভঙ্গি সময়, সীমাবদ্ধতা কিংবা অপেক্ষার চেয়ে কাজকে এগিয়ে নিয়ে
যাওয়াকেই আপনি বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। এই মনোভাবই একজন প্রকৃত স্রষ্টাকে আলাদা করে তোলে।

আপনার এই উদ্যোগ ও প্রয়াস নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণাদায়ক। আশা করি, এই ধারাবাহিকতায় আরও অনেক সুন্দর
সৃষ্টি আমাদের উপহার দেবেন।আপনি চাইলে এরকম গানের লিরিকের আরো প্রাথমিক খসড়া দিতে পারব
ইনশাআল্লা।

গানটি আমরা পরিবারের সকলে মুগ্ধ হয়ে শুনেছি । ঈদ মোবারক হিসাবে গানটির লিংক আমার দেশের ও
বিদেশে বিশেষ করে আমিরিকা , কানাডা , অস্ট্রেলিয়া , জার্মানী , ইতালী , সুইডেনে নিকট আত্মীয় প্রবাসী
দেরকে পাঠিয়েছি , সকলেই গানটি শুনে তাদের মুগ্ধতার কথা জানিয়ে গানটির গীতিকার , সুরকার, গায়ক
ও এ আই সহায়তাকারী সোনারু ও সহেলিয়াকে ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন । সকলের প্রতি আমারো
ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা রইল । গানটি মনে হয় আন্তর্জাতিকভাবে ভাইরাল হওয়ার পথে।
ইন্টার নেটে গানটির বিষয়ে কি ওয়ার্ড দিয়ে ব্রাউজ করলেও দেখা যায় সেখানেও ইউ টিউবে গানটির সগর্ব
উপস্থিতি রয়েছে । যে কেও ইচ্ছা করলে গানটি শুনতে পারবে ।

গানটি সকলের ঈদ আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তুলুক এ কামনাই রইল।

সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা!

২৩ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:৩১

অপ্‌সরা বলেছেন: সোনাবীজ ভাইয়া আর তুমি তোমরা দু'জনের তুলনা তোমরা শুধু নিজেরাই.....
অনেক অনেক ভালোবাসা ভাইয়ামনি.....

১৫| ২৩ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৫

অপ্‌সরা বলেছেন:


এই যে ঈদের খানার একটা ছবি আনলাম। পরে আরও ছবি এনে দেবো। তোমাদের বাসায় ছবিগুলিও দেখতে চাই ভাইয়া ....

১৬| ২৪ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:২৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




মাশাল্লাহ পায়েশ/ফিরনী বেশ মজাদার হয়েছে ।

আমার খানা দানার ছবি দিব কী? নীজেইতো খানা পিনা হয়ে গেছি বিবিধ উপায়ে বেশি খানা খেয়ে ।
ঈদের দিন কয়েক আগে থেকেই, যার সাথে দেখা সেই বলেন ঈদের দাওয়াত রইল। শুধু কী দাওয়াত! জানতে
চায় বলুন কবুল। কী যামেলা! আমিউ বলি কবুল ইনশাআল্লাহ (যদি আল্লা চাহেন)। যার দাওয়াত করেছি কবুল
তাকেও ফিরতি দাওয়াত দিতেই হয় । এখন মুছিবত হল মসজিদের কাছেই বাড়ী হওয়াত ঈদের জামাত
শেষে অনেকেই বাড়ী ফেরার পথে দাওয়াতী হিসাবে আমার বাড়ীতে ঢু-মেরে যান । কিন্তু যাবার বেলায়
বলে যান তার বাড়ীতে যেতেই হবে ঈদের দিন , যে কোন সময়ে গেলেও হবে, তবে যেতেই হবে । মুমিনের
এক কথা, দাওয়াত যেহেতু কবুল করেছিলাম তখনতো যেতেই হবে । মসজিদ কমিটির শীর্ষ পর্যায়ের লোক
আমি, আমার প্রতি তাদের প্রত্যাশাটাও বেশী । যেতেতো অসুবিধা নেই তবে মুখ রক্ষার খাতিরে মুখে তো
কিছু তুলতেই হয় । আর তাতেই হয়েছে বিপদ , বার পদের খানায় পেটে জট পাকিয়ে গেছে। দুদিন ধরে
যায়খানায় যাই আর আসি, সেভাবে ঢুকেছে খানা পেটে, তার থেকে বেশি যায় ছুটে । খানা খাদ্য যতই
ভালবাসী, ততই জীবনটা দুদিনেই হয়ে গেছে ভুষি ভুষি । এখন শুয়ে বসে শুধু ওর-সেলাইন চুষি ।
বল এখন এর মাঝে খানা খাদ্যের কি ছবি দিব তোমায় । তবে নিরাশও করবোনা, ঈদের দিনের
কিছু সাধারণ মানের খানা পিনার ছবি তুলে দিলাম এখানে ।


ঈদ শুভেচ্ছা রইল

২৬ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:২০

অপ্‌সরা বলেছেন: বাব্বাহ ভাইয়া খুব খুব খুবই সুন্দর আয়োজন। সাধারণ তুমি বললেও আমাদের সবার কাছেই অসাধারন!!!

তাড়াতাড়ি সুস্ত হয়ে ওঠো!!! রোজার পরে হঠাৎ খানাপিনা আমাদেরকে অসুস্থ করে দেয়! :(

১৭| ২৪ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৪

কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: আপু ঈদে ঘরবাড়ি পরিস্কার করতে করতেই ছুটি শেষ হয়ে গেল। উদয়পুর গেছিলাম শুধু। সারাটা ছুটি বাসাতেই কাটল

২৬ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:২১

অপ্‌সরা বলেছেন: আহা তাই বলে তুমি সেমাই ফিরনী জর্দা রাঁধবে না তাই কি হয় নাকি!!!!!!!!

মিছা কথা বলিবেক লাই!!!!!!!!!

আমরা গেছিলাম নিজস্ব রিসোর্ট বাতায়নে...... এটা শুধুই ফ্যামিলী আর ফ্রেন্ডসদের জন্য......

১৮| ২৫ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:৫০

রাজীব নুর বলেছেন: পোষ্ট এবং মন্তব্য গুলো পড়লাম।

২৬ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:২২

অপ্‌সরা বলেছেন: নো ফাকিবাজী ভাইয়া.....
ঈদের গল্প বলোনি এবার ঈদের দিনে ও পরের এ ক'দিন কি কি করলে লিখে দাও!!!!!!

১৯| ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:১৯

নাজনীন১ বলেছেন: ছোট্টবেলার ঈদের স্মৃতি আগেও ব্লগে অল্প স্বল্প লিখেছি, কিন্তু আমরা তো ব্লগার হিসেবে এখন পাকাচুল, তাই সেই অনেক আগের লেখা নিজের খুঁজে পেতেও সময় লাগে! তাই ভাবছি, বরঞ্চ এখানেই কিছু লিখি!

আমার একতা লাল পুঁতির কাজ করা পার্স ছিল। ঈদের সালামী সেখানেই রাখতয়াম, কড়কড়ে নোট। আজকাল আমার ছেলেও কড়কড়া নোট জমায়, আমার মেয়েও একসময়ে এরকম জমাতো। তবে ওদের পার্সগুলো/ পকেট ঠিক আমারটার মতো রঙিন নয়!
আমার মেয়েকে একটা এরকম পার্স কিনে দিয়েছিলাম, তেমন একটা তাকে ব্যবহার ক্রতে দেখি না, হয়তো এখন বড় হয়ে গেছে! আজকাল আর আমার সাথে বেড়াতে যেতেও চায় না। নিজের বন্ধু বান্ধব হয়েছে!

আমার ছোটবেলার ঈদের অন্যতম আকর্ষণ ছিল, স্কুল বান্ধবীরা সবাই মিলে আম্মাকে না জানিয়েই সারা শহরের এই মাথা, ওই মাথা সকল বান্ধবীদের বাসায় বেড়াতে যাওয়া। এরকমটা পূজার সময়ও করি। ঈদের দিন আমাদের হিন্দু বান্ধবিরাও আমাদের সাথে বের হতো। তারাও ঈদ উপলক্ষে নতুন জামা কিনতো। আবার তাদের পূজায় আমরাও দল বেঁধে বেড়িয়েছি। সবার বাসা থেকে সন্দেশ ব্যাগ ভরে নিয়ে আসতাম।
আরেকটা আনন্দ ছিল, সন্ধ্যা থেকে ফুফুর বাসায় কাটাতাম, টানা তিনদিন। ইত্যাদি, ঈদ আনন্দমেলা এসব আমি আমার কাজিনসহ একসাথে দেখতাম, সে আবার মাঝে মাঝে তার মাকে কাজে সাহায্য করতো, যেটা আমি একেবারেই না! আমি তো ফুফুর বাসায়, বাসায় আম্মাকে কি কাজের সাহায্য করবো!
আর কুরবান ঈদ আগে প্রতিবছর গ্রামেই করতাম। সেটা আরেক রকমের আনন্দ! সেসময়ে ক্ষেতে ক্ষেতে আখ চাষ হতো। চুরি করে সবাই মিলে অন্যের ক্ষেতের আখ খেতাম! আর নতুন বাড়ি, পুরোন বাড়ির সকল দাদুদের বাড়িতে তো যেতামই। ফুফু, চাচা সবার সাথে দেখা, সবার বাসায় খাওয়া, আমাকে ভাতিজির জেনারেশনে সবাই এক নামে চেনে! বাড়ির এক নম্বর ভাতিজি! সবার প্রিয়!

২০| ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:২২

নাজনীন১ বলেছেন: ছোট্টবেলার ঈদের স্মৃতি আগেও ব্লগে অল্প স্বল্প লিখেছি, কিন্তু আমরা তো ব্লগার হিসেবে এখন পাকাচুল, তাই সেই অনেক আগের লেখা নিজের খুঁজে পেতেও সময় লাগে! তাই ভাবছি, বরঞ্চ এখানেই কিছু লিখি!

আমার একতা লাল পুঁতির কাজ করা পার্স ছিল। ঈদের সালামী সেখানেই রাখতয়াম, কড়কড়ে নোট। আজকাল আমার ছেলেও কড়কড়া নোট জমায়, আমার মেয়েও একসময়ে এরকম জমাতো। তবে ওদের পার্সগুলো/ পকেট ঠিক আমারটার মতো রঙিন নয়!
আমার মেয়েকে একটা এরকম পার্স কিনে দিয়েছিলাম, তেমন একটা তাকে ব্যবহার ক্রতে দেখি না, হয়তো এখন বড় হয়ে গেছে! আজকাল আর আমার সাথে বেড়াতে যেতেও চায় না। নিজের বন্ধু বান্ধব হয়েছে!

আমার ছোটবেলার ঈদের অন্যতম আকর্ষণ ছিল, স্কুল বান্ধবীরা সবাই মিলে আম্মাকে না জানিয়েই সারা শহরের এই মাথা, ওই মাথা সকল বান্ধবীদের বাসায় বেড়াতে যাওয়া। এরকমটা পূজার সময়ও করি। ঈদের দিন আমাদের হিন্দু বান্ধবিরাও আমাদের সাথে বের হতো। তারাও ঈদ উপলক্ষে নতুন জামা কিনতো। আবার তাদের পূজায় আমরাও দল বেঁধে বেড়িয়েছি। সবার বাসা থেকে সন্দেশ ব্যাগ ভরে নিয়ে আসতাম।
আরেকটা আনন্দ ছিল, সন্ধ্যা থেকে ফুফুর বাসায় কাটাতাম, টানা তিনদিন। ইত্যাদি, ঈদ আনন্দমেলা এসব আমি আমার কাজিনসহ একসাথে দেখতাম, সে আবার মাঝে মাঝে তার মাকে কাজে সাহায্য করতো, যেটা আমি একেবারেই না! আমি তো ফুফুর বাসায়, বাসায় আম্মাকে কি কাজের সাহায্য করবো!
আর কুরবান ঈদ আগে প্রতিবছর গ্রামেই করতাম। সেটা আরেক রকমের আনন্দ! সেসময়ে ক্ষেতে ক্ষেতে আখ চাষ হতো। চুরি করে সবাই মিলে অন্যের ক্ষেতের আখ খেতাম! আর নতুন বাড়ি, পুরোন বাড়ির সকল দাদুদের বাড়িতে তো যেতামই। ফুফু, চাচা সবার সাথে দেখা, সবার বাসায় খাওয়া, আমাকে ভাতিজির জেনারেশনে সবাই এক নামে চেনে! বাড়ির এক নম্বর ভাতিজি! সবার প্রিয়!

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.