| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
নতুন নকিব
যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দল-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না, অত্যাচারীর খড়্গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না- বিদ্রোহী রন-ক্লান্ত। আমি সেই দিন হব শান্ত।
ফেরেশতা; মহান আল্লাহর মহিমান্বিত ও বিস্ময়কর এক সৃষ্টি
ছবি অন্তর্জাল থেকে সংগৃহিত।
ফেরেশতা বা মালাইকা হলেন মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার অসাধারণ ও বিশেষ এক সৃষ্টি। তাঁরা নূরের তৈরি, অদৃশ্য, শক্তিশালী এবং সম্পূর্ণ আনুগত্যশীল বান্দা। ক্ষুধা, তৃষ্ণা, লোভ, মোহ, কাম, আহার, নিদ্রাসহ মানবীয় সাধারণ সকল প্রবৃত্তি থেকে তারা মুক্ত। কুরআন ও হাদিসের আলোকে তাঁদের অস্তিত্ব ঈমানের অন্যতম রুকন। তাঁদের সৃষ্টির রহস্য, সংখ্যা এবং ন্যস্ত দায়িত্বসমূহ মানুষের জ্ঞানের সীমার বাইরে, কিন্তু আল্লাহ তাঁদের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টিজগতের ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করেন। এই প্রবন্ধে কুরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে তাঁদের বিষয়ে গভীর বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ফেরেশতাদের অস্তিত্ব প্রমাণ করে যে, আল্লাহর সৃষ্টি শুধু দৃশ্যমান জগতেই সীমাবদ্ধ নয় বরং অদৃশ্য জগতেও তাঁর অপরিসীম কুদরত পরিবিস্তৃত ও পরিব্যপ্ত।
ফেরেশতাদের মর্যাদা: কুরআন ও হাদিসের আলোকে একটি বিশ্লেষণ
ইসলামী আকীদার অন্যতম মৌলিক স্তম্ভ হলো ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান রাখা। তারা সৃষ্টিজগতের এমন এক অদৃশ্য অধিবাসী, যাদের সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান কেবল ওহীর মাধ্যমেই অর্জিত। কুরআনুল কারীম ও রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সহিহ হাদিসে ফেরেশতাদের যে চিত্র অঙ্কিত হয়েছে, তা তাদের মর্যাদা, পবিত্রতা এবং আল্লাহর নিকট তাদের উচ্চ অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
কুরআনে মহান আল্লাহ ফেরেশতাদের সম্পর্কে বলেন-
بَلْ عِبَادٌ مُّكْرَمُونَ لَا يَسْبِقُونَهُ بِالْقَوْلِ وَهُم بِأَمْرِهِ يَعْمَلُونَ
অর্থাৎ, বরং তারা সম্মানিত বান্দা; তারা কথায় আল্লাহকে অতিক্রম করে না, বরং তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করে। -সূরা আল-আম্বিয়া ২১:২৬–২৭
এই আয়াত ফেরেশতাদের মর্যাদার একটি মৌলিক দিক তুলে ধরে, তারা আল্লাহর নিকট অত্যন্ত সম্মানিত, এবং তাদের প্রতিটি কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর আদেশের অধীন। তারা কোনো প্রকার অবাধ্যতা বা অহংকার প্রদর্শন করেন না। বরং তাদের অস্তিত্বই যেন আল্লাহর আদেশ পালনের জন্য নিবেদিত।
অন্যত্র আল্লাহ বলেন-
لَا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ
অর্থাৎ, আল্লাহ তাদের যা আদেশ করেন, তারা কখনো অবাধ্য হয় না; বরং যা আদেশ করা হয়, তাই করে। -সূরা আত-তাহরীম ৬৬:৬
এই আয়াত থেকে স্পষ্ট হয় যে, ফেরেশতারা সম্পূর্ণ নিষ্পাপ (معصوم) সৃষ্টি। মানুষের মতো তাদের মধ্যে পাপপ্রবণতা বা নাফসের টান নেই। ফলে তারা সর্বদা পরিপূর্ণ আনুগত্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
ফেরেশতাদের আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, তারা সর্বক্ষণ আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন থাকেন। কুরআনে বলা হয়েছে-
يُسَبِّحُونَ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ لَا يَفْتُرُونَ
অর্থাৎ, তারা রাত-দিন আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে, কখনো ক্লান্ত হয় না। -সূরা আল-আম্বিয়া ২১:২০
এই অবিরাম ইবাদত তাদের আধ্যাত্মিক মর্যাদার গভীরতা নির্দেশ করে। মানুষের ইবাদত সীমিত সময় ও শক্তির মধ্যে আবদ্ধ, কিন্তু ফেরেশতাদের ইবাদত নিরবচ্ছিন্ন এবং ক্লান্তিহীন।
ফেরেশতাদের মর্যাদা এতটাই উচ্চ যে, তাদের প্রতি ঈমান রাখা ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। আল্লাহ বলেন-
آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْهِ مِن رَّبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ ۚ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ
অর্থাৎ, রাসূল এবং মুমিনগণ বিশ্বাস স্থাপন করেছেন আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতা, তাঁর কিতাবসমূহ ও তাঁর রাসূলদের প্রতি। -সূরা আল-বাকারাহ ২:২৮৫
অতএব, ফেরেশতাদের অস্বীকার করা ঈমানের পরিপন্থী। তাদের অস্তিত্ব ও মর্যাদা বিশ্বাস করা একজন মুসলিমের জন্য অপরিহার্য।
ফেরেশতাদের মানবজীবনের সঙ্গে গভীর সম্পর্কও রয়েছে। তারা মুমিনদের জন্য দোয়া করেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন-
الْمَلَائِكَةُ تُصَلِّي عَلَى أَحَدِكُمْ مَا دَامَ فِي مُصَلَّاهُ... تَقُولُ: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ، اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ
অর্থাৎ, তোমাদের কেউ যতক্ষণ তার নামাজের স্থানে থাকে, ফেরেশতারা তার জন্য দোয়া করতে থাকেন- ‘হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা করুন, তার প্রতি রহম করুন'। -সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৪৫
এটি ফেরেশতাদের মুমিনদের প্রতি ভালোবাসা ও সহানুভূতির এক উজ্জ্বল নিদর্শন।
তদ্রূপ, জ্ঞান অন্বেষণকারীদের প্রতিও তারা বিশেষ সম্মান প্রদর্শন করেন। হাদিসে এসেছে-
إِنَّ الْمَلَائِكَةَ لَتَضَعُ أَجْنِحَتَهَا رِضًا لِطَالِبِ الْعِلْمِ
অর্থাৎ, নিশ্চয়ই ফেরেশতারা জ্ঞান অন্বেষণকারীর সন্তুষ্টির জন্য তাদের পাখা বিছিয়ে দেয়। -জামে আত তিরমিযি, হাদিস: ২৬৮২
এই বর্ণনা জ্ঞানের মর্যাদা এবং ফেরেশতাদের সেই জ্ঞানচর্চার প্রতি সম্মানকে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
ফেরেশতাদের সৃষ্টির রহস্য
ফেরেশতাদের সৃষ্টির উপাদান ও সময় সম্পর্কে কুরআন ও হাদিসে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। তাঁরা নূর (আলো) থেকে সৃষ্টি। এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
خُلِقَتِ الْمَلَائِكَةُ مِنْ نُورٍ وَخُلِقَ الْجَانُّ مِنْ مَارِجٍ مِنْ نَارٍ وَخُلِقَ آدَمُ مِمَّا وُصِفَ لَكُمْ
অর্থাৎ, ফেরেশতাদেরকে নূর থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং জ্বিনদেরকে ধোঁয়াহীন আগুন থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে তা থেকে যেটার বর্ণনা তোমাদের কাছে পেশ করা হয়েছে। -সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ২৯৯৬
এ হাদিস থেকে বোঝা যায় যে, ফেরেশতাদের সৃষ্টি জ্বিন ও মানুষের সৃষ্টি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। নূরের সৃষ্টি হওয়ায় তাঁরা আলোকিত, পবিত্র, শক্তিশালী এবং কোনো জৈবিক চাহিদা (খাওয়া, ঘুমানো, বিয়ে) থেকে মুক্ত। এটি তাঁদের সৃষ্টির অন্যতম রহস্য।
আরও জানা যায় যে, ফেরেশতাদের সৃষ্টি মানুষের পূর্বে হয়েছে। কুরআনে এর স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে:
وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَائِكَةِ إِنِّي جَاعِلٌ فِي الْأَرْضِ خَلِيفَةً ۖ قَالُوا أَتَجْعَلُ فِيهَا مَنْ يُفْسِدُ فِيهَا وَيَسْفِكُ الدِّمَاءَ وَنَحْنُ نُسَبِّحُ بِحَمْدِكَ وَنُقَدِّسُ لَكَ ۖ قَالَ إِنِّي أَعْلَمُ مَا لَا تَعْلَمُونَ
অর্থাৎ, আর স্মরণ কর, যখন তোমার রব ফেরেশতাদেরকে বললেন, ‘নিশ্চয় আমি যমীনে একজন খলীফা সৃষ্টি করছি’, তারা বলল, ‘আপনি কি সেখানে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন, যে তাতে ফাসাদ করবে এবং রক্ত প্রবাহিত করবে? আর আমরা আপনার প্রশংসাসহ তাসবীহ পাঠ করি এবং আপনাকে পবিত্র বলে ঘোষণা করি’। তিনি বললেন, ‘নিশ্চয় আমি যা জানি তোমরা তা জান না’। -সূরা আল-বাকারা, আয়াত নং ৩০
এ আয়াত থেকে প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ ফেরেশতাদেরকে মানুষ সৃষ্টির ইচ্ছা জানিয়েছিলেন, অর্থাৎ তাঁরা মানুষের আগেই সৃষ্ট। তাঁদের প্রশ্নের উত্তরে আল্লাহ বলেন যে, মানুষের মধ্যে অনেক নেককার বান্দা সৃষ্টি হবে যা ফেরেশতারা জানতেন না। এতে ফেরেশতাদের জ্ঞানের সীমা এবং আল্লাহর অসীম জ্ঞানের রহস্য ফুটে ওঠে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আয়াতে ফেরেশতাদেরকে আল্লাহর বার্তাবাহক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে:
الْحَمْدُ لِلَّهِ فَاطِرِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ جَاعِلِ الْمَلَائِكَةِ رُسُلًا أُولِي أَجْنِحَةٍ مَّثْنَىٰ وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ ۚ يَزِيدُ فِي الْخَلْقِ مَا يَشَاءُ ۚ إِنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
অর্থাৎ, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা, যিনি ফেরেশতাদেরকে বার্তাবাহীরূপে নিযুক্ত করেছেন, যারা দু'-দুটি, তিন-তিনটি ও চার-চারটি পাখা বিশিষ্ট। তিনি তাঁর সৃষ্টিতে যা-ইচ্ছা বৃদ্ধি করেন। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। -সূরা ফাতির, আয়াত নং ১
ফেরেশতারা আল্লাহর হুকুমের বাইরে কিছু করেন না এবং তাঁরা কখনো অবাধ্য হন না। কুরআনে বলা হয়েছে:
وَمَا مِنَّا إِلَّا لَهُ مَقَامٌ مَّعْلُومٌ
অর্থাৎ, আর আমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার জন্য নির্ধারিত স্থান নেই। -সূরা আস-সাফফাত, আয়াত নং ১৬৪
বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ফেরেশতাদের সৃষ্টি আল্লাহর কুদরতের এক অপূর্ব নিদর্শন। তাঁরা কোনো পাপ করেন না, কারণ তাঁদের সৃষ্টিই আনুগত্যের জন্য।
ফেরেশতাদের সংখ্যা
ফেরেশতাদের সংখ্যা অগণিত এবং অপরিমেয়। একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই তাঁদের সঠিক সংখ্যা জানেন। কুরআনে জাহান্নামের প্রহরী ফেরেশতাদের সংখ্যা উল্লেখ করে বলা হয়েছে:
عَلَيْهَا تِسْعَةَ عَشَرَ وَمَا جَعَلْنَا أَصْحَابَ النَّارِ إِلَّا مَلَائِكَةً ۖ وَمَا جَعَلْنَا عِدَّتَهُمْ إِلَّا فِتْنَةً لِّلَّذِينَ كَفَرُوا لِيَسْتَيْقِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ وَيَزْدَادَ الَّذِينَ آمَنُوا إِيمَانًا ۙ وَلَا يَرْتَابَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ وَالْمُؤْمِنُونَ ۙ وَلِيَقُولَ الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٌ وَالْكَافِرُونَ مَاذَا أَرَادَ اللَّهُ بِهَٰذَا مَثَلًا ۚ كَذَٰلِكَ يُضِلُّ اللَّهُ مَن يَشَاءُ وَيَهْدِي مَن يَشَاءُ ۚ وَمَا يَعْلَمُ جُنُودَ رَبِّكَ إِلَّا هُوَ ۚ وَمَا هِيَ إِلَّا ذِكْرَىٰ لِلْبَشَرِ
অর্থাৎ, তার উপর আছে উনিশ (ফেরেশতা)। আর আমরা জাহান্নামের প্রহরী কেবল ফেরেশতাদেরকেই করেছি; কাফিরদের পরীক্ষাস্বরূপই আমরা তাদের এ সংখ্যা উল্লেখ করেছি যাতে কিতাবপ্রাপ্তদের দৃঢ় প্রত্যয় জন্মে, আর যারা ঈমান এনেছে তাদের ঈমান বেড়ে যায়। আর যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে তারা এবং কাফিররা বলে, ‘এ দিয়ে আল্লাহ কী বোঝাতে চেয়েছেন?’ এভাবেই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা হেদায়েত দেন। আর তোমার রবের বাহিনী সম্পর্কে কেউ জানে না তিনি ছাড়া। এটা মানুষের জন্য উপদেশ ছাড়া আর কিছু নয়। -সূরা আল-মুদ্দাসসির, আয়াত নং ৩০-৩১
এ আয়াত থেকে বোঝা যায় যে, ফেরেশতাদের সংখ্যা আল্লাহরই জ্ঞাত। হাদিসে আরও বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
فَرُفِعَ لِيَ الْبَيْتُ الْمَعْمُورُ فَسَأَلْتُ جِبْرِيلَ فَقَالَ هَذَا الْبَيْتُ الْمَعْمُورُ يُصَلِّي فِيهِ كُلَّ يَوْمٍ سَبْعُونَ أَلْفَ مَلَكٍ إِذَا خَرَجُوا لَمْ يَعُودُوا إِلَيْهِ آخِرَ مَا عَلَيْهِمْ
অর্থাৎ, অতঃপর আমাকে বাইতুল মা‘মূরের দিকে উত্তোলন করা হয়। তখন আমি জিব্রাইলকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন: এটি আল-বাইতুল মা‘মূর। এখানে প্রতিদিন সত্তর হাজার ফেরেশতারা নামায আদায় করেন। একবার যারা বেরিয়ে যায় তারা আর ফিরে আসে না। অপর দল একই আমল করে। -সহীহ বুখারী, হাদিস নং ৩২০৭
আরেক হাদিসে বলা হয়েছে, জাহান্নামের সত্তর হাজার লাগাম থাকবে এবং প্রত্যেক লাগামে সত্তর হাজার ফেরেশতা থাকবে। এসব বর্ণনা থেকে প্রমাণিত হয় যে, ফেরেশতাদের সংখ্যা মানুষের কল্পনারও অতীত। এটি আল্লাহর সৃষ্টির বিশালত্বের প্রমাণ।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
يُؤْتَى بِجَهَنَّمَ يَوْمَئِذٍ لَهَا سَبْعُونَ أَلْفَ زِمَامٍ، مَعَ كُلِّ زِمَامٍ سَبْعُونَ أَلْفَ مَلَكٍ يَجُرُّونَهَا
অর্থাৎ, কিয়ামতের দিন জাহান্নামকে আনা হবে, তার জন্য থাকবে সত্তর হাজার লাগাম (বা শিকল), প্রত্যেক লাগাম ধরে থাকবে সত্তর হাজার ফেরেশতা, যারা তা টেনে আনবে। -সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ২৮৪২; জামি‘ আত-তিরমিযী, হাদিস নং ২৫৭৩
এ হাদিসটি ফেরেশতাদের অগণিত সংখ্যা ও আল্লাহর কুদরতের বিশালত্ব প্রকাশ করে।
কুরআনুল কারিমে আরও বলা হয়েছে:
تَعْرُجُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ إِلَيْهِ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ
অর্থাৎ, ফেরেশতারা এবং রূহ তাঁর কাছে উঠে যায় এমন এক দিনে যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর। -সূরা আল-মা‘আরিজ, আয়াত নং ৪
এ আয়াত থেকে ফেরেশতাদের শক্তি ও সংখ্যার বিশালত্ব আরও স্পষ্ট হয়।
ফেরেশতাদের প্রতি আরোপিত দায়িত্ব
ফেরেশতাদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বৈচিত্র্যময়। আল্লাহ তাঁদেরকে তাঁর সৃষ্টিজগতের বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত করেছেন। কুরআনে বলা হয়েছে:
الْحَمْدُ لِلَّهِ فَاطِرِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ جَاعِلِ الْمَلَائِكَةِ رُسُلًا أُولِي أَجْنِحَةٍ مَّثْنَىٰ وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ ۚ يَزِيدُ فِي الْخَلْقِ مَا يَشَاءُ ۚ إِنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
অর্থাৎ, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা, যিনি ফেরেশতাদেরকে বার্তাবাহীরূপে নিযুক্ত করেছেন, যারা দু’-দুটি, তিন-তিনটি ও চার-চারটি পাখা বিশিষ্ট। তিনি তাঁর সৃষ্টিতে যা-ইচ্ছা বৃদ্ধি করেন। ১ নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান। -সূরা ফাতির, আয়াত নং ১
এ আয়াতে ফেরেশতাদেরকে রাসূল (বার্তাবাহী) হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তাঁদের প্রধান দায়িত্বসমূহ নিম্নরূপ:
১. ওহী প্রেরণ: হযরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম নবীদের কাছে ওহী নিয়ে আসতেন। কুরআনে বলা হয়েছে:
قُلْ مَنْ كَانَ عَدُوًّا لِّجِبْرِيلَ فَإِنَّهُ نَزَّلَهُ عَلَىٰ قَلْبِكَ بِإِذْنِ اللَّهِ مُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَهُدًى وَبُشْرَىٰ لِلْمُؤْمِنِينَ
অর্থাৎ, বল, ‘যে জিবরীলের শত্রু, (সে জেনে রাখুক) নিশ্চয় তিনি তোমার অন্তরে এটি (কুরআন) অবতীর্ণ করেছেন আল্লাহর অনুমতিক্রমে, যা তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী, আর মুমিনদের জন্য হেদায়েত ও সুসংবাদ’। -সূরা আল-বাকারা, আয়াত নং ৯৭
জিবরাইলের বর্ণনায় আরও বলা হয়েছে:
إِنَّهُ لَقَوْلُ رَسُولٍ كَرِيمٍ ذِي قُوَّةٍ عِندَ ذِي الْعَرْشِ مَكِينٍ مُّطَاعٍ ثَمَّ أَمِينٍ
অর্থাৎ, নিশ্চয় এটা সম্মানিত রাসূলের (জিবরাইলের) কথা, যিনি শক্তিশালী, আরশের অধিকারীর কাছে মর্যাদাসম্পন্ন, সেখানে আনুগত্যশীল ও বিশ্বস্ত। -সূরা আত-তাকভীর, আয়াত নং ১৯-২১
২. আমল লিপিবদ্ধকরণ: প্রত্যেক মানুষের ডানে-বামে দুই ফেরেশতা আমল লিখেন।
إِذْ يَتَلَقَّى الْمُتَلَقِّيَانِ عَنِ الْيَمِينِ وَعَنِ الشِّمَالِ قَعِيدٌ
অর্থাৎ, যখন দুই গ্রহণকারী (ফেরেশতা) গ্রহণ করে চলেছেন, ডানে ও বাঁয়ে বসে। -সূরা কাফ, আয়াত নং ১৭
আরও বলা হয়েছে:
وَإِنَّ عَلَيْكُمْ لَحَافِظِينَ كِرَامًا كَاتِبِينَ يَعْلَمُونَ مَا تَفْعَلُونَ
অর্থাৎ, আর নিশ্চয় তোমাদের উপর রক্ষক রয়েছে, সম্মানিত লেখক, তারা জানে তোমরা যা কর। -সূরা আল-ইনফিতার, আয়াত নং ১০-১২
হাদিসে আরও বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
إِنَّ أَحَدَكُمْ يُجْمَعُ خَلْقُهُ فِي بَطْنِ أُمِّهِ أَرْبَعِينَ يَوْمًا، ثُمَّ يَكُونُ عَلَقَةً مِثْلَ ذَلِكَ، ثُمَّ يَكُونُ مُضْغَةً مِثْلَ ذَلِكَ، ثُمَّ يَبْعَثُ اللَّهُ مَلَكًا، فَيُؤْمَرُ بِأَرْبَعِ كَلِمَاتٍ، وَيُقَالُ لَهُ اكْتُبْ عَمَلَهُ وَرِزْقَهُ وَأَجَلَهُ وَشَقِيٌّ أَوْ سَعِيدٌ، ثُمَّ يُنْفَخُ فِيهِ الرُّوحُ
অর্থাৎ, মানুষের সৃষ্টি মায়ের গর্ভে চল্লিশ দিন নুতফা আকারে থাকে, অতঃপর তা অনুরূপ সময়ের জন্য আলাকা (জমাট রক্ত) হয়, তারপর অনুরূপ সময়ের জন্য মুদগা (গোশতের টুকরা) হয়। অতঃপর আল্লাহ একজন ফেরেশতা পাঠান, যিনি তার আমল, রিযিক, আয়ু এবং সে সৌভাগ্যবান না দুর্ভাগ্যবান হবে তা লিখে দেন। তারপর তার মধ্যে রূহ ফুঁকে দেওয়া হয়। -সহীহ বুখারী, হাদিস নং ৩২০৮
(এই হাদিসটি মানুষের গর্ভস্থ সৃষ্টির বিভিন্ন পর্যায় এবং ফেরেশতার দ্বারা ক্বদর লিপিবদ্ধকরণের বিস্তারিত বর্ণনা দেয়, যা আমল লিখনের ফেরেশতাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের প্রমাণ।)
৩. হেফাজত ও রক্ষণাবেক্ষণ: প্রত্যেক মানুষের সাথে ফেরেশতা পাহারায় নিয়োজিত।
لَهُ مُعَقِّبَاتٌ مِّن بَيْنِ يَدَيْهِ وَمِنْ خَلْفِهِ يَحْفَظُونَهُ مِنْ أَمْرِ اللَّهِ
অর্থাৎ, তার জন্য পর্যায়ক্রমে ফেরেশতা রয়েছে, সামনে ও পিছনে; তারা আল্লাহর নির্দেশে তাকে রক্ষা করে। -সূরা আর-রা‘দ, আয়াত নং ১১
এ বিষয়ে সহীহ হাদিসে আরও বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
يَتَعَاقَبُونَ فِيكُمْ مَلَائِكَةٌ بِاللَّيْلِ وَمَلَائِكَةٌ بِالنَّهَارِ، وَيَجْتَمِعُونَ فِي صَلَاةِ الْعَصْرِ وَصَلَاةِ الْفَجْرِ، ثُمَّ يَعْرُجُ الَّذِينَ بَاتُوا فِيكُمْ فَيَسْأَلُهُمْ وَهْوَ أَعْلَمُ بِكُمْ فَيَقُولُ: كَيْفَ تَرَكْتُمْ عِبَادِي؟ فَيَقُولُونَ: تَرَكْنَاهُمْ وَهُمْ يُصَلُّونَ، وَأَتَيْنَاهُمْ وَهُمْ يُصَلُّونَ
অর্থাৎ, তোমাদের মধ্যে রাতের ফেরেশতা ও দিনের ফেরেশতা পর্যায়ক্রমে আসা-যাওয়া করে। তারা আসর ও ফজরের নামাজের সময় একত্রিত হয়। অতঃপর যারা তোমাদের কাছে রাত কাটিয়েছে তারা ঊর্ধ্বে আরোহণ করে। আল্লাহ তাদের জিজ্ঞেস করেন (যদিও তিনি তাদের চেয়ে তোমাদের সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত): “তোমরা আমার বান্দাদের কী অবস্থায় ছেড়ে এসেছ?” তারা বলে: “আমরা যখন তাদের ছেড়ে এসেছি তখন তারা নামাজে ছিল এবং যখন তাদের কাছে গিয়েছি তখনও তারা নামাজে ছিল।” -সহীহ বুখারী, হাদিস নং ৫৫৫; সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ৬৩২
এ হাদিস থেকে স্পষ্ট হয় যে, দিনের একদল ফেরেশতা এবং রাতের আরেক দল ফেরেশতা পর্যায়ক্রমে (تعاقب) মানুষের হেফাজত ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করে। তারা আল্লাহর নির্দেশ অনুসারে মানুষকে রক্ষা করে এবং তার অবস্থা সম্পর্কে আল্লাহর কাছে প্রতিবেদন দেয়। এটি সূরা আর-রা‘দের আয়াতের ব্যাখ্যা হিসেবেও বিবেচিত হয়।
ফেরেশতারা আল্লাহর ইচ্ছা অনুসারে বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করেন, তবে কোনো বিষয় যদি আল্লাহর পূর্বনির্ধারিত কদর অনুসারে হয়, তখন তারা তা থেকে সরে যান। এভাবে হেফাজতের ফেরেশতারা মানুষের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে আল্লাহর অনুমতিক্রমে কর্তব্য পালন করেন।
৪. তাসবীহ পাঠ, আরশ বহন ও দোয়া: ফেরেশতারা সর্বদা আল্লাহর প্রশংসা ও তাসবীহ করে এবং মুমিনদের জন্য দোয়া করেন। কুরআনে ফেরেশতাদের তাসবিহ সম্পর্কে বলা হয়েছে-
يُسَبِّحُونَ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ لَا يَفْتُرُونَ
অর্থাৎ, তারা রাত-দিন আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে, কখনো ক্লান্ত হয় না। -সূরা আল-আম্বিয়া ২১:২০
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, ফেরেশতাদের তাসবিহ নিরবচ্ছিন্ন এবং অবিরাম। তারা কখনো বিরতি নেয় না।
আরেকটি আয়াতে তাদের তাসবিহের ভাষা আরও স্পষ্টভাবে এসেছে-
وَنَحْنُ نُسَبِّحُ بِحَمْدِكَ وَنُقَدِّسُ لَكَ
অর্থাৎ, আমরা আপনার প্রশংসাসহ তাসবিহ পাঠ করি এবং আপনাকে পবিত্র ঘোষণা করি। -সূরা আল-বাকারাহ ২:৩০
এখানে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ তাসবিহের ধরন উল্লেখ হয়েছে-
تَسْبِيح (তাসবিহ) → “সুবহানাল্লাহ” (আল্লাহ পবিত্র)
تَقْدِيس (তাকদিস) → আল্লাহকে সকল ত্রুটি থেকে মুক্ত ঘোষণা
ফেরেশতারা শুধু “সুবহানাল্লাহ”ই বলেন না, বরং আল্লাহর প্রশংসা যুক্ত করে বলেন-
يُسَبِّحُونَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ
অর্থাৎ, তারা তাদের রবের প্রশংসাসহ তাসবিহ পাঠ করে। -সূরা আশ-শূরা ৪২:৫
এই আয়াতের মর্ম অনুধাবন করলে বুঝা যায় যে, তাদের তাসবিহে সাধারণত “সুবহানাল্লাহ ওয়া বিহামদিহি” ধরনের প্রশংসা অন্তর্ভুক্ত থাকে।
الَّذِينَ يَحْمِلُونَ الْعَرْشَ وَمَنْ حَوْلَهُ يُسَبِّحُونَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَيُؤْمِنُونَ بِهِ وَيَسْتَغْفِرُونَ لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا وَسِعْتَ كُلَّ شَيْءٍ رَّحْمَةً وَعِلْمًا فَاغْفِرْ لِلَّذِينَ تَابُوا وَاتَّبَعُوا سَبِيلَكَ وَقِهِمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ
অর্থাৎ, যারা আরশ বহন করে এবং যারা তার চারপাশে আছে তারা তাদের রবের প্রশংসাসহ তাসবীহ পাঠ করে, তাঁর প্রতি ঈমান আনে এবং মুমিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে (বলে): ‘হে আমাদের রব! আপনি সবকিছুতে রহমত ও জ্ঞান দ্বারা পরিব্যাপ্ত, অতএব যারা তওবা করেছে এবং আপনার পথ অনুসরণ করেছে তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং তাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন’। -সূরা আল-মুমিন/গাফির, আয়াত নং ৭
আরও বলা হয়েছে:
تَكَادُ السَّمَاوَاتُ يَتَفَطَّرْنَ مِن فَوْقِهِنَّ وَالْمَلَائِكَةُ يُسَبِّحُونَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَيَسْتَغْفِرُونَ لِمَن فِي الْأَرْضِ ۚ أَلَا إِنَّ اللَّهَ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
অর্থাৎ, আকাশমণ্ডলী প্রায় বিদীর্ণ হয়ে পড়ে তাদের উপর থেকে এবং ফেরেশতারা তাদের রবের প্রশংসাসহ তাসবীহ পাঠ করে এবং পৃথিবীর অধিবাসীদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। জেনে রাখো, নিশ্চয় আল্লাহই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। -সূরা আশ-শূরা, আয়াত নং ৫
আরও একটি আয়াতে বলা হয়েছে:
إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ ۚ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا
অর্থাৎ, নিশ্চয় আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর উপর দরূদ পাঠ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর উপর দরূদ পাঠ কর এবং পূর্ণ শান্তি বর্ষণ কর। -সূরা আল-আহযাব, আয়াত নং ৫৬
ফেরেশতারা যে তাসবীহাত পাঠ করেন তা কুরআনে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ বলেন:
لَا يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِهِ وَلَا يَسْتَحْسِرُونَ يُسَبِّحُونَ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ لَا يَفْتُرُونَ
অর্থাৎ, তারা আল্লাহর ইবাদতে অহংকার করে না এবং ক্লান্ত হয় না। তারা রাত ও দিন তাসবীহ পাঠ করে, কখনো ক্লান্ত হয় না। -সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত নং ১৯-২০
এ সম্পর্কে সহীহ হাদিসেও ফেরেশতাদের অবিরাম তাসবীহ ও ইবাদতের বর্ণনা রয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
يَتَعَاقَبُونَ فِيكُمْ مَلَائِكَةٌ بِاللَّيْلِ وَمَلَائِكَةٌ بِالنَّهَارِ، وَيَجْتَمِعُونَ فِي صَلَاةِ الْعَصْرِ وَصَلَاةِ الْفَجْرِ، ثُمَّ يَعْرُجُ الَّذِينَ بَاتُوا فِيكُمْ فَيَسْأَلُهُمْ وَهْوَ أَعْلَمُ بِكُمْ فَيَقُولُ: كَيْفَ تَرَكْتُمْ عِبَادِي؟ فَيَقُولُونَ: تَرَكْنَاهُمْ وَهُمْ يُصَلُّونَ، وَأَتَيْنَاهُمْ وَهُمْ يُصَلُّونَ
অর্থাৎ, তোমাদের মধ্যে রাতের ফেরেশতা ও দিনের ফেরেশতা পর্যায়ক্রমে আসা-যাওয়া করে। তারা আসর ও ফজরের নামাজের সময় একত্রিত হয়। অতঃপর যারা তোমাদের কাছে রাত কাটিয়েছে তারা ঊর্ধ্বে আরোহণ করে। আল্লাহ তাদের জিজ্ঞেস করেন (যদিও তিনি তাদের চেয়ে তোমাদের সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত): “তোমরা আমার বান্দাদের কী অবস্থায় ছেড়ে এসেছ?” তারা বলে: “আমরা যখন তাদের ছেড়ে এসেছি তখন তারা নামাজে ছিল এবং যখন তাদের কাছে গিয়েছি তখনও তারা নামাজে ছিল।” -সহীহ বুখারী, হাদিস নং ৫৫৫; সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ৬৩২
এ হাদিস থেকে প্রমাণিত হয় যে, ফেরেশতারা দিন-রাত পর্যায়ক্রমে মানুষের কাছে অবস্থান করেন এবং তাদের মূল কাজের মধ্যে রয়েছে আল্লাহর ইবাদত ও তাসবীহ পাঠ। তারা কখনো ক্লান্ত হন না এবং সর্বদা আল্লাহর প্রশংসা ও পবিত্রতা ঘোষণা করেন।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন-
أَطَّتِ السَّمَاءُ وَحُقَّ لَهَا أَنْ تَئِطَّ، مَا فِيهَا مَوْضِعُ أَرْبَعِ أَصَابِعَ إِلَّا وَمَلَكٌ وَاضِعٌ جَبْهَتَهُ سَاجِدًا لِلَّهِ
অর্থাৎ, আসমান শব্দ করছে, এবং তার এমন শব্দ করা যথার্থ। সেখানে চার আঙুল পরিমাণ জায়গাও নেই, যেখানে কোনো ফেরেশতা সেজদায় লিপ্ত নয়। -জামে আত তিরমিযি, হাদিস: ২৩১২
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, ফেরেশতাদের তাসবিহ কেবল জিকির নয়, বরং সেজদা, রুকু ও বিভিন্ন ইবাদতের মাধ্যমেও প্রকাশ পায়।
ফেরেশতাদের এই অবিরাম তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার ইত্যাদি) আল্লাহর মহিমা ঘোষণার এক অবিচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া, যা কুরআন ও হাদিস উভয়েই তাদের সৃষ্টির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এতে করে আমরা বুঝতে পারি যে, ফেরেশতারা আল্লাহর ইবাদতে কখনো শিথিলতা দেখান না।
৫. মৃত্যু, কবর প্রশ্ন, জান্নাত-জাহান্নামের দায়িত্ব: হযরত আজরাইল আলাইহিস সালাম মৃত্যু দান করেন, মুনকির-নাকির কবরে প্রশ্ন করেন, রিদওয়ান জান্নাতের দারোগা এবং জাহান্নামের প্রহরীরা কঠোর দায়িত্ব পালন করেন।
يَتَوَفَّاهُمُ الْمَلَائِكَةُ طَيِّبِينَ يَقُولُونَ سَلَامٌ عَلَيْكُمُ ادْخُلُوا الْجَنَّةَ بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ
অর্থাৎ, যাদেরকে ফেরেশতারা মৃত্যু দান করে পবিত্র অবস্থায়, তারা বলে, ‘তোমাদের প্রতি সালাম, তোমরা তোমাদের আমলের কারণে জান্নাতে প্রবেশ কর’। -সূরা আন-নাহল, আয়াত নং ৩২
আরও বলা হয়েছে:
قُلْ يَتَوَفَّاكُم مَّلَكُ الْمَوْتِ الَّذِي وُكِّلَ بِكُمْ ثُمَّ إِلَىٰ رَبِّكُمْ تُرْجَعُونَ
অর্থাৎ, বল, ‘তোমাদের মৃত্যু দান করেন মৃত্যুর ফেরেশতা যাকে তোমাদের উপর নিয়োজিত করা হয়েছে, অতঃপর তোমরা তোমাদের রবের কাছে ফিরে যাবে’। -সূরা আস-সাজদাহ, আয়াত নং ১১
লাইলাতুল কদরে ফেরেশতাদের বিশেষ দায়িত্বের বর্ণনায় বলা হয়েছে:
تَنَزَّلُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِم مِّن كُلِّ أَمْرٍ
অর্থাৎ, সেই রাতে ফেরেশতারা এবং রূহ (জিবরাইল) তাদের রবের অনুমতিক্রমে প্রত্যেক কাজের জন্য অবতরণ করে। -সূরা আল-কদর, আয়াত নং ৪
লাইলাতুল কদর সম্পর্কে হাদিসে বলা হয়েছে যে, সেই রাতে ফেরেশতারা প্রচুর সংখ্যায় অবতরণ করেন এবং শান্তি ও বরকত নিয়ে আসেন।
এ সম্পর্কে সহীহ হাদিসে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
إِذَا وُضِعَ الْمَيِّتُ فِي قَبْرِهِ وَتَوَلَّى عَنْهُ أَصْحَابُهُ حَتَّى إِنَّهُ لَيَسْمَعُ قَرْعَ نِعَالِهِمْ، أَتَاهُ مَلَكَانِ فَيُقْعِدَانِهِ فَيَقُولَانِ: مَا كُنْتَ تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَأَمَّا الْمُؤْمِنُ فَيَقُولُ: أَشْهَدُ أَنَّهُ عَبْدُ اللهِ وَرَسُولُهُ...
অর্থাৎ, যখন মৃত ব্যক্তিকে তার কবরে রাখা হয় এবং তার সঙ্গীরা চলে যায় (যাতে সে তাদের জুতার আওয়াজ শুনতে পায়), তখন তার কাছে দুজন ফেরেশতা আসেন। তাঁরা তাকে বসিয়ে জিজ্ঞেস করেন: “এই ব্যক্তি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে তুমি কী বলতে?” মুমিন বলে: “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি আল্লাহর বান্দা ও রাসূল...” (অতঃপর ফেরেশতারা তাকে সুসংবাদ দেন এবং তার কবর প্রশস্ত ও আলোকিত করে দেন)। -সহীহ বুখারী, হাদিস নং ১৩৭৪; সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ২৮৭০
এ হাদিসে মুনকির ও নাকির নামে দুই ফেরেশতার কবরে প্রশ্ন করার বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। তাঁরা মৃত ব্যক্তিকে তার আকীদা ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। সঠিক উত্তর দিলে কবর প্রশস্ত ও আলোকিত হয়, অন্যথায় শাস্তি হয়।
মৃত্যুর ফেরেশতা (মালাকুল মাওত) সম্পর্কে একটি সহীহ ঘটনা বর্ণিত হয়েছে:
أُرْسِلَ مَلَكُ الْمَوْتِ إِلَى مُوسَى عَلَيْهِ السَّلَامُ فَلَمَّا جَاءَهُ صَكَّهُ فَرَجَعَ إِلَى رَبِّهِ...
অর্থাৎ, মৃত্যুর ফেরেশতাকে হযরত মূসা আলাইহিস সালামের কাছে পাঠানো হয়েছিল। তিনি এসে যখন মূসা আলাইহিস সালামকে বললেন, তখন মূসা আলাইহিস সালাম তাকে চড় মারলেন... (এ ঘটনা থেকে বোঝা যায় যে, মালাকুল মাওত আল্লাহর নির্দেশে মৃত্যু দান করেন)। -সহীহ বুখারী, হাদিস নং ১৩৩৯
প্রধান চার ফেরেশতার কার্যাবলী
প্রধান চার ফেরেশতা হলেন যথাক্রমে-
১. হযরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম (রূহুল আমীন / রূহুল কুদুস)
তিনি ফেরেশতাদের সর্দার এবং ওহী বহনকারী। আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে নবী-রাসূলদের কাছে আসমানী কিতাব ও ওহী প্রেরণ করেন। কুরআনে বলা হয়েছে:
قُلْ مَنْ كَانَ عَدُوًّا لِّجِبْرِيلَ فَإِنَّهُ نَزَّلَهُ عَلَىٰ قَلْبِكَ بِإِذْنِ اللَّهِ
অর্থাৎ, “যে জিবরীলের শত্রু... নিশ্চয় তিনি তোমার অন্তরে এটি (কুরআন) অবতীর্ণ করেছেন আল্লাহর অনুমতিক্রমে...” -সূরা আল-বাকারা, আয়াত ৯৭
আরও বলা হয়েছে:
إِنَّهُ لَقَوْلُ رَسُولٍ كَرِيمٍ ذِي قُوَّةٍ عِندَ ذِي الْعَرْشِ مَكِينٍ
অর্থাৎ, সম্মানিত রাসূল (জিবরাইল), যিনি শক্তিশালী, আরশের অধিকারীর কাছে মর্যাদাসম্পন্ন। -সূরা আত-তাকভীর, আয়াত ১৯-২০
হাদিসে তাঁকে “নামূস” (বিশ্বস্ত দূত) বলা হয়েছে। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে কুরআন নিয়ে এসেছেন এবং মিরাজের রাতেও সঙ্গী ছিলেন।
২. হযরত মিকাইল আলাইহিস সালাম
তিনি রিযিক, বৃষ্টি, বাতাস, ঋতু ও প্রকৃতির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত। তাঁর মাধ্যমে আল্লাহ সৃষ্টির জন্য খাদ্য, পানি ও জীবনধারণের উপকরণ প্রেরণ করেন।
কুরআনে তাঁর নাম সরাসরি এসেছে (সূরা বাকারা ৯৮)। হাদিসে বলা হয়েছে যে, তিনি বৃষ্টি ও উদ্ভিদের তত্ত্বাবধান করেন। তিনি রহমতের ফেরেশতা হিসেবেও পরিচিত।
৩. হযরত ইসরাফিল আলাইহিস সালাম
তিনি শিঙ্গা (সূর) বাজানোর দায়িত্বে নিয়োজিত। কিয়ামতের দিন তিনি প্রথমবার শিঙ্গায় ফুঁ দিয়ে সবকিছু ধ্বংস করবেন এবং দ্বিতীয়বার ফুঁ দিয়ে সবাইকে পুনরুত্থিত করবেন। হাদিসে বর্ণিত আছে যে, তিনি শিঙ্গা মুখে নিয়ে সর্বদা প্রস্তুত অবস্থায় আছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
كَيْفَ أَنْعَمُ وَصَاحِبُ الْقَرْنِ قَدِ الْتَقَمَ الْقَرْنَ وَحَنَى جَبْهَتَهُ وَأَصْغَى سَمْعَهُ يَنْتَظِرُ أَنْ يُؤْمَرَ أَنْ يَنْفُخَ فَيَنْفُخَ
অর্থাৎ, “আমি কীভাবে আরামে থাকব, অথচ শিঙ্গার অধিকারী (ইসরাফিল আলাইহিস সালাম) ইতোমধ্যে শিঙ্গা মুখে নিয়েছেন, তাঁর কপাল নত করেছেন এবং কান পেতে শুনছেন, কখন তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হবে যাতে তিনি ফুঁ দিতে পারেন।” -সুনান আত-তিরমিযী, হাদিস নং ২৪৩১; সহীহ, আলবানী কর্তৃক সহীহ বলা হয়েছে; অনুরূপ বর্ণনা সহীহ বুখারী ও মুসলিমের সমর্থক সূত্রে পাওয়া যায়
এ হাদিসটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, হযরত ইসরাফিল আলাইহিস সালাম শিঙ্গা (সূর) মুখে নিয়ে সর্বদা প্রস্তুত অবস্থায় আছেন এবং আল্লাহর নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছেন। কিয়ামতের দিন তিনি প্রথমবার ফুঁ দিয়ে সবকিছু ধ্বংস করবেন এবং দ্বিতীয়বার ফুঁ দিয়ে সবাইকে পুনরুত্থিত করবেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়ায় প্রায়ই বলতেন: “হে আল্লাহ, জিবরাইল, মিকাইল ও ইসরাফিলের রব...”
اللَّهُمَّ رَبَّ جِبْرَائِيلَ وَمِيكَائِيلَ وَإِسْرَافِيلَ، فَاطِرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ، عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ، أَنْتَ تَحْكُمُ بَيْنَ عِبَادِكَ فِيمَا كَانُوا فِيهِ يَخْتَلِفُونَ، اهْدِنِي لِمَا اخْتُلِفَ فِيهِ مِنَ الْحَقِّ بِإِذْنِكَ، إِنَّكَ تَهْدِي مَنْ تَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ
অর্থাৎ, “হে আল্লাহ! জিবরাইল, মিকাইল ও ইসরাফিলের রব, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা, গায়েব ও উপস্থিতের জ্ঞানী, আপনি আপনার বান্দাদের মধ্যে যে বিষয়ে তারা মতভেদ করত তাতে ফয়সালা করেন। আপনি আমাকে সেই সত্যের দিকে হেদায়েত করুন যে বিষয়ে মানুষ মতভেদ করেছে, আপনার অনুমতিক্রমে। নিশ্চয় আপনি যাকে ইচ্ছা সরল পথের দিকে হেদায়েত করেন।” -সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ৭৭০ (কিতাব সালাতিল মুসাফিরীন ওয়া কাসরিহা, বাব আদ-দু‘আ ফি সালাতিল লাইল), এটি সহীহ বুখারীতেও অনুরূপ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে (যেমন হাদিস নং ৭৪২০ এর কাছাকাছি বর্ণনায়)।
এ দোয়াটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিয়ামুল লাইলের (রাতের নামাজ) শুরুতে পড়তেন। এতে তিনি প্রধান তিন ফিরিশতার (জিবরাইল, মিকাইল ও ইসরাফিল) নাম উল্লেখ করে আল্লাহর রব হিসেবে সম্বোধন করেছেন, যা তাঁদের মর্যাদা ও আল্লাহর কুদরত প্রকাশ করে।
৪. হযরত আজরাইল আলাইহিস সালাম (মালাকুল মাওত)
তিনি মৃত্যুর ফেরেশতা। আল্লাহর নির্দেশে প্রত্যেক প্রাণীর রূহ কবজ করেন। কুরআনে বলা হয়েছে:
قُلْ يَتَوَفَّاكُم مَّلَكُ الْمَوْتِ الَّذِي وُكِّلَ بِكُمْ
অর্থাৎ, “বল, তোমাদের মৃত্যু দান করেন মৃত্যুর ফেরেশতা যাকে তোমাদের উপর নিয়োজিত করা হয়েছে...” -সূরা আস-সাজদাহ, আয়াত ১১
হাদিসে বর্ণিত আছে যে, তিনি রূহ কবজ করার সময় মানুষের কাছে আসেন এবং আল্লাহর ইচ্ছানুসারে কাজ করেন। একটি সহীহ হাদিসে হযরত মূসা আলাইহিস সালামের সাথে তাঁর ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
أُرْسِلَ مَلَكُ الْمَوْتِ إِلَى مُوسَى عَلَيْهِمَا السَّلَامُ فَلَمَّا جَاءَهُ صَكَّهُ فَفَقَأَ عَيْنَهُ فَرَجَعَ إِلَى رَبِّهِ فَقَالَ أَرْسَلْتَنِي إِلَى عَبْدٍ لَا يُرِيدُ الْمَوْتَ فَرَدَّ اللَّهُ عَلَيْهِ عَيْنَهُ وَقَالَ ارْجِعْ فَقُلْ لَهُ يَضَعُ يَدَهُ عَلَى مَتْنِ ثَوْرٍ فَلَهُ بِكُلِّ مَا غَطَّتْ يَدُهُ بِكُلِّ شَعْرَةٍ سَنَةٌ قَالَ أَيْ رَبِّ ثُمَّ مَاذَا قَالَ ثُمَّ الْمَوْتُ قَالَ فَالْآنَ فَسَأَلَ اللَّهَ أَنْ يُدْنِيَهُ مِنَ الْأَرْضِ الْمُقَدَّسَةِ رَمْيَةً بِحَجَرٍ
অর্থাৎ, মৃত্যুর ফেরেশতাকে হযরত মূসা আলাইহিস সালামের কাছে পাঠানো হয়। যখন তিনি তাঁর কাছে আসলেন, তখন মূসা আলাইহিস সালাম তাঁকে চড় মারলেন এবং তাঁর একটি চোখ ফেটে গেল। ফেরেশতা তাঁর রবের কাছে ফিরে গিয়ে বললেন, “আপনি আমাকে এমন এক বান্দার কাছে পাঠিয়েছেন যিনি মৃত্যু চান না।” আল্লাহ তাঁর চোখ ফিরিয়ে দিলেন এবং বললেন, “ফিরে যাও এবং তাঁকে বলো, তিনি যেন একটি ষাঁড়ের পিঠে হাত রাখেন। তাঁর হাত যতগুলো লোম ঢেকে ফেলবে, প্রতিটি লোমের বিনিময়ে এক বছর করে আয়ু পাবেন।” মূসা আলাইহিস সালাম বললেন, “হে আমার রব! তারপর কী?” আল্লাহ বললেন, “তারপর মৃত্যু।” মূসা বললেন, “তাহলে এখনই।” অতঃপর তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন যেন তাঁকে পবিত্র ভূমির (বাইতুল মুকাদ্দাস) কাছে একটি পাথর নিক্ষেপের দূরত্বে নিয়ে যাওয়া হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যদি আমি সেখানে থাকতাম, তাহলে তোমাদেরকে তাঁর কবর দেখিয়ে দিতাম – রাস্তার পাশে লাল বালির ঢিবির নিচে।” -সহীহ বুখারী, হাদিস নং ১৩৩৯; সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ২৩৭২, লফজ মুসলিমের
এ হাদিসটি আজরাইল আলাইহিস সালাম (মালাকুল মাওত)-এর দায়িত্ব ও আল্লাহর নির্দেশ অনুসারে কাজ করার স্পষ্ট প্রমাণ। এটি দেখায় যে, মৃত্যুর ফেরেশতা আল্লাহর হুকুম ছাড়া কোনো প্রাণ কবজ করেন না এবং নবীদের মর্যাদাও অত্যন্ত উঁচু।
এই চারজন ফেরেশতা আল্লাহর সৃষ্টিজগতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত। তাঁদের দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে আল্লাহর কুদরত ও নিয়ন্ত্রণ প্রকাশ পায়। কুরআন ও হাদিসে তাঁদের মর্যাদা ও কাজ বারবার তুলে ধরা হয়েছে, যাতে মানুষ আল্লাহর অসীম ক্ষমতা ও পরিকল্পনার সামনে নত হয়।
এসব হাদিস থেকে স্পষ্ট হয় যে, মৃত্যু, কবরের প্রশ্ন এবং পরকালীন দায়িত্বসমূহ ফেরেশতাদের মাধ্যমেই আল্লাহর নির্দেশে সম্পন্ন হয়।
ফেরেশতাদেরকে আল্লাহর কন্যা সাব্যস্ত করে মিথ্যা অপবাদ আরোপ
আরবের কাফের মুশরিকগণ (বিশেষ করে কুরাইশ ও অন্যান্য গোত্রের মুশরিকরা) ফেরেশতাদেরকে আল্লাহ তা‘আলার কন্যা (দুহিতা) সাব্যস্ত করে আল্লাহর নামে মিথ্যা অপবাদ আরোপ করতো। এটি তাদের অন্যতম ঘৃণ্য বিশ্বাস ও শিরকের একটি রূপ ছিল। তারা ফেরেশতাদেরকে আল্লাহর কন্যা বলে দাবি করত, অথচ নিজেদের জন্য কন্যা সন্তানকে অপছন্দ করত এবং তাদেরকে জীবিত কবর দিত। কুরআনুল কারীম এই মিথ্যা অপবাদকে বারবার খণ্ডন করেছে এবং একে “ভয়ানক কথা” (قَوْلٌ عَظِيمٌ) বলে আখ্যায়িত করেছে। এ বিষয়ে সরাসরি কুরআনের আয়াতসমূহ এখানে উল্লেখ করা হলো। ইরশাদ হয়েছে-
وَيَجْعَلُونَ لِلَّهِ الْبَنَاتِ سُبْحَانَهُ وَلَهُمْ مَّا يَشْتَهُونَ
অর্থাৎ, আর তারা আল্লাহর জন্য কন্যা সাব্যস্ত করে, তিনি পবিত্র মহান! আর নিজেদের জন্য যা তারা কামনা করে। -সূরা আন-নাহল, ১৬:৫৭
এখানে “বানাত” অর্থ কন্যা, আর তাফসীরকারকগণ (যেমন ইবনে কাসীর, মু‘জামুল কুরআন) বলেন যে, এটি ফেরেশতাদেরকে আল্লাহর কন্যা বলে দাবি করার প্রতি ইঙ্গিত করে। মুশরিকরা ফেরেশতাদেরকে আল্লাহর কন্যা মনে করে তাদের উপাসনা করত বা তাদের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশা করত।
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআ'লা বলেন-
أَفَأَصْفَاكُمْ رَبُّكُمْ بِالْبَنِينَ وَاتَّخَذَ مِنَ الْمَلَائِكَةِ إِنَاثًا ۚ إِنَّكُمْ لَتَقُولُونَ قَوْلًا عَظِيمًا
অর্থাৎ, তোমাদের রব কি তোমাদের জন্য পুত্র সন্তান নির্বাচন করেছেন আর নিজের জন্য ফেরেশতাদেরকে কন্যারূপে গ্রহণ করেছেন? নিশ্চয় তোমরা তো ভয়ানক কথা বলছ! -সূরা আল-ইসরা, ১৭:৪০
এ আয়াতে সরাসরি ফেরেশতাদেরকে আল্লাহর কন্যা বলার অপবাদকে “قَوْلًا عَظِيمًا” (ভয়ানক মিথ্যা অপবাদ) বলা হয়েছে। ইবনে কাসীরের তাফসীরে বলা হয়েছে যে, এটি মক্কার মুশরিকদের প্রতি সম্বোধিত, যারা ফেরেশতাদেরকে আল্লাহর কন্যা সাব্যস্ত করে শিরক করত।
আরেক স্থানে ইরশাদ হয়েছে-
أَمِ اتَّخَذَ مِمَّا يَخْلُقُ بَنَاتٍ وَأَصْفَاكُمْ بِالْبَنِينَ وَإِذَا بُشِّرَ أَحَدُهُم بِمَا ضَرَبَ لِلرَّحْمَٰنِ مَثَلًا ظَلَّ وَجْهُهُ مُسْوَدًّا وَهُوَ كَظِيمٌ وَأَجْعَلُوا لِلَّهِ الْمَلَائِكَةَ إِنَاثًا ۚ أَشَهِدُوا خَلْقَهُمْ ۚ سَيُكْتَبُ شَهَادَتُهُمْ وَيُسْأَلُونَ
অর্থাৎ, নাকি তিনি তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে কন্যা গ্রহণ করেছেন আর তোমাদেরকে পুত্র দান করেছেন? ... আর তারা আল্লাহর জন্য ফেরেশতাদেরকে নারী সাব্যস্ত করেছে। তারা কি তাদের সৃষ্টির সাক্ষী? তাদের সাক্ষ্য লিপিবদ্ধ করা হবে এবং তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে। -সূরা আয-যুখরুফ, ৪৩:১৬-১৯
এখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, তারা ফেরেশতাদেরকে নারী (কন্যা) বানিয়ে আল্লাহর সাথে সম্পর্কিত করেছে।
আরেক আয়াতে বর্ণিত হয়েছে-
فَاسْتَفْتِهِمْ أَلِرَبِّكَ الْبَنَاتُ وَلَهُمُ الْبَنُونَ أَمْ خَلَقْنَا الْمَلَائِكَةَ إِنَاثًا وَهُمْ شَاهِدُونَ
অর্থাৎ, অতএব তুমি তাদেরকে জিজ্ঞাসা কর: তোমাদের রবের কি কন্যা আছে আর তাদের জন্য পুত্র? নাকি আমরা ফেরেশতাদেরকে নারী করে সৃষ্টি করেছি এবং তারা সাক্ষী? -সূরা আস-সাফফাত, ৩৭:১৪৯-১৫০
তাফসীরে মা‘আরিফুল কুরআন ও অন্যান্যতে বলা হয়েছে যে, এটি কুরাইশ, জুহাইনা, বনু সালিমা প্রভৃতি গোত্রের বিশ্বাসের প্রতি ইঙ্গিত করে, যারা ফেরেশতাদেরকে আল্লাহর কন্যা বলত।
অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে-
إِنَّ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ لَيُسَمُّونَ الْمَلَائِكَةَ تَسْمِيَةَ الْأُنثَىٰ
অর্থাৎ, নিশ্চয় যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না, তারাই ফেরেশতাদেরকে নারীবাচক নামে নামকরণ করে। -সূরা আন-নাজম, ৫৩:২৭
এটি তাদের ফেরেশতাদেরকে কন্যা সাব্যস্ত করার মিথ্যা দাবির প্রত্যক্ষ খণ্ডন।
তাফসীর ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট থেকে আরও কিছু তথ্য:
প্রখ্যাত তাবেয়ী মুজাহিদ (রহ.)-এর বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, কুরাইশরা বলত, “ফেরেশতারা আল্লাহর কন্যা।” আবু বকর সিদ্দীক (রা.) তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “তাদের মা কারা?” তারা বলেছিল, “জিনদের সম্মানিত কন্যারা।” (তাফসীরে তাবারী ও ইবনে কাসীর)।
এই বিশ্বাসের সাথে তাদের তিনটি প্রধান দেবী (আল-লাত, আল-উজ্জা, মানাত)-কে আল্লাহর কন্যা বা ফেরেশতাদের সাথে যুক্ত করার শিরকও জড়িত ছিল, যা সূরা আন-নাজমে খণ্ডিত হয়েছে।
কুরআন এই অপবাদকে এজন্য খণ্ডন করেছে যে, এতে আল্লাহর একত্ববাদ (তাওহীদ) লঙ্ঘন হয়, ফেরেশতাদেরকে সৃষ্টি হিসেবে অস্বীকার করা হয় এবং আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করা হয়।
এভাবে কুরআন স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, আরবের মুশরিকরা ফেরেশতাদেরকে আল্লাহর কন্যা বলে মিথ্যা অপবাদ আরোপ করেছিল, যা তাদের শিরকের একটি বড় প্রমাণ। আল্লাহ তা‘আলা এই অপবাদ থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র।
উপসংহার:
উপরে বর্ণিত এসব দায়িত্ব থেকে বোঝা যায় যে, ফেরেশতারা আল্লাহর নির্দেশে অবিচলভাবে কাজ করেন। তাঁরা কখনো অবাধ্য হন না। এটি তাঁদের সৃষ্টির অন্যতম উদ্দেশ্য। বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ফেরেশতাদের দায়িত্ব মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে জড়িত। এতে করে মানুষের ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং তাঁরা আল্লাহর প্রতি আরও বেশি আনুগত্যশীল হন। ফেরেশতাদের অস্তিত্ব আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, আল্লাহর সৃষ্টি অসীম এবং তাঁর ব্যবস্থাপনা নিখুঁত।
ফেরেশতা মহান আল্লাহর অসাধারণ এবং মহান এক সৃষ্টি। তাঁদের রহস্যময় সৃষ্টি, অগণিত সংখ্যা এবং বিচিত্র দায়িত্ব আমাদেরকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লার কুদরতের সামনে মাথা নত করতে শেখায়। কুরআন ও হাদিসের আলোকে তাঁদের প্রতি ঈমান আনা আমাদের জন্য অবশ্যকর্তব্য। এটি আমাদের ঈমানকে পূর্ণতা দেয়। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লা আমাদেরকে তাঁদের মতো আনুগত্যশীল করে দিন। আমীন।
রেফারেন্স
সূরা আল-আম্বিয়া ২১:২৬–২৭
সূরা আত-তাহরীম ৬৬:৬
সূরা আল-আম্বিয়া ২১:২০
সূরা আল-বাকারাহ ২:২৮৫
সহীহ বুখারী, হাদিস নং ৪৪৫
সুনান আত-তিরমিযী, হাদিস নং ২৬৮২;
সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ২৯৯৬
সূরা আল-বাকারা, আয়াত নং ৩০
সূরা ফাতির, আয়াত নং ১
সূরা আস-সাফফাত, আয়াত নং ১৬৪
সূরা আল-মুদ্দাসসির, আয়াত নং ৩০-৩১
সহীহ বুখারী, হাদিস নং ৩২০৭
সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ২৮৪২; জামি‘ আত-তিরমিযী, হাদিস নং ২৫৭৩
সূরা আল-মা‘আরিজ, আয়াত নং ৪
সূরা ফাতির, আয়াত নং ১
সূরা আল-বাকারা, আয়াত নং ৯৭
সূরা আত-তাকভীর, আয়াত নং ১৯-২১
সূরা কাফ, আয়াত নং ১৭
সূরা আল-ইনফিতার, আয়াত নং ১০-১২
সহীহ বুখারী, হাদিস নং ৩২০৮
সূরা আর-রা‘দ, আয়াত নং ১১
সহীহ বুখারী, হাদিস নং ৫৫৫; সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ৬৩২
সূরা আল-আম্বিয়া ২১:২০
সূরা আল-বাকারাহ ২:৩০
সূরা আশ-শূরা ৪২:৫
সূরা আল-মুমিন/গাফির, আয়াত নং ৭
সূরা আশ-শূরা, আয়াত নং ৫
সূরা আল-আহযাব, আয়াত নং ৫৬
সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত নং ১৯-২০
সহীহ বুখারী, হাদিস নং ৫৫৫; সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ৬৩২
সূরা আন-নাহল, আয়াত নং ৩২
সূরা আস-সাজদাহ, আয়াত নং ১১
সূরা আল-কদর, আয়াত নং ৪
সহীহ বুখারী, হাদিস নং ১৩৭৪; সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ২৮৭০
সহীহ বুখারী, হাদিস নং ১৩৩৯
সূরা আল-বাকারা, আয়াত ৯৭
সূরা আত-তাকভীর, আয়াত ১৯-২০
সুনান আত-তিরমিযী, হাদিস নং ২৪৩১; সহীহ, আলবানী কর্তৃক সহীহ বলা হয়েছে; অনুরূপ বর্ণনা সহীহ বুখারী ও মুসলিমের সমর্থক সূত্রে পাওয়া যায়
সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ৭৭০ (কিতাব সালাতিল মুসাফিরীন ওয়া কাসরিহা, বাব আদ-দু‘আ ফি সালাতিল লাইল), এটি সহীহ বুখারীতেও অনুরূপ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে (যেমন হাদিস নং ৭৪২০ এর কাছাকাছি বর্ণনায়)।
সূরা আস-সাজদাহ, আয়াত ১১
সহীহ বুখারী, হাদিস নং ১৩৩৯; সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ২৩৭২, লফজ মুসলিমের
সূরা আন-নাহল, ১৬:৫৭
সূরা আল-ইসরা, ১৭:৪০
সূরা আয-যুখরুফ, ৪৩:১৬-১৯
সূরা আস-সাফফাত, ৩৭:১৪৯-১৫০
সূরা আন-নাজম, ৫৩:২৭
২৬ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:০৮
নতুন নকিব বলেছেন:
আপনাকে অসংখ্য মোবারকবাদ। দীর্ঘ কলেবরের এই লেখাটি পাঠ করে আপনার সুচিন্তিত ও মূল্যবান মতামত শেয়ার করার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। প্রকৃতপক্ষে, এ ধরনের বৃহৎ পরিসরের লেখা সবার জন্য সমানভাবে সুখপাঠ্য নাও হতে পারে; বরং চিন্তাশীল, ভাবুক ও অনুসন্ধিৎসু হৃদয়ের অধিকারী বিজ্ঞজনদের জন্যই এগুলো অধিক উপযোগী। অনেক সময় ও শ্রমসাধ্য গবেষণার ফল হিসেবেই এমন লেখা রচিত হতে পারে।
জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।
©somewhere in net ltd.
১|
২৬ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ফেরেশতাদের নিয়ে অসাধারণ লিখেছেন ।