| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বহু বছর ধরে বাচ্চাদের সাথে কাজ করছি। নানা রকম শিশু কিশোর দেখে দেখে চোখ, কান, মাথা, প্রায় অভ্যস্থ হয়ে গেছে। বাচ্চারা বাড়িতে এক, বাড়ির বাইরে খেলার মাঠে বা স্কুলে বা লোকচক্ষুর অন্তরালে যে আরেক তাহা অনেক বাবা, মা, নানু, দাদুরা বিশ্বাসই করতে পারেন না। সত্যিই পারেন না কারণ বাচ্চারা বড়ই বুদ্ধিমান কোন কোন টিচার বা কোন কোন বাবা মা তাদের ভুল আচরণের জন্য একশনে যাবেন তারা খুবই ভালো বুঝে আর তাই তাদেরকে খুশি রাখতে ঘাটায় না তেমন। যা কিছু করেন তাদের চক্ষুর অন্তরালেই করেন। আর তাই কিছুতেই আমাদের বিশ্বাস হয় না আমার বাচ্চা এটা করেছে বা করতে পারে!!!
সে যাইহোক আমার এত বছরের শিশু কিশোর নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতার আলোকেও আমি কখনও এতটুকুন একটা বাচ্চাকে এইভাবে দীর্ঘক্ষন যাবৎ আরেকটা বাচ্চাকে এমন নির্দয়ভাবে নানা স্টাইলে নানা ভঙ্গিমায় মাইরপিট করতে দেখিনি। সত্যিই দেখিনি। মারামারির যত রকম আইটেম আছে, কিল, চড়, ঘুষি, খামচি, কামড়, এটা সেটা টেনে নিয়ে, ভেঙ্গে নিয়ে সেসব দিয়ে বাড়ি মারা, দেওয়ালে দরজার মাথা, কাঁধ ঠুকে ঠুকে ঘায়েল করা, তুলে আছাড় দেওয়া স্টাইলে ধাক্কা মেরে বুকে পিঠে চেপে বসা, শুধুমাত্র লাথিটা মনে হয় সে ইউজ করেনি তাছাড়া সব কিছুই একজন অভিজ্ঞ রেসলারের মত সে ইউজ করেছে। এমন জিঘাংসামূলক আচরণে দেখে আজ বিশ্ববাসী হতবাক! নানা রকম কমেন্ট শেয়ারে ভরে গেছে নিউজফিড।
যাইহোক সবার আগে বলবো, বাবামায়েরা সচেতন হউন। বাচ্চাকে সঠিক আচরন শেখাতে স্কুলে আসার আগেই বাড়িতেই অভ্যস্থ করে তুলুন। সঠিক আচরনের শিক্ষা দিন। ও শিশু তাই মারতেই পারে, ও শিশু তাই যা খুশি তাই করতেই পারে, ও শিশু তাই বোঝে না, বড় হলে বুঝবে এসব বলে বেঠিক আচরনকেও সঠিক বলে আল্লাদ দিয়েন না। বাচ্চারা কেউ ক্রিমিনাল হয়ে জন্মায় না। বড় হতে হতে পরিবেশ ও শিক্ষার কারণেই সে ক্রিমিনাল হয়।
যাইহোক আমার শিক্ষাজীবনে তখন আমার অনার্স চলছে। একটা থিসিসের কাজে আমি টঙ্গীর বাংলাদেশ শিশু কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে গিয়েছিলাম। সেখানে সর্বকনিষ্ঠ শিশুটি যার সংশোধনের প্রয়োজনে সে সেখানে অবস্থান করছিলো তার বয়স ছিলো ৭। মানে সে অনেক কিছুই তখন বুঝতো। তার বিধবা মায়ের সাথে চাচার অত্যাচার সে মেনে নিতে না পেরে চাচাকে কিভাবে যেন খুন করে ফেলেছিলো। সেই বাচ্চাটা খুব গম্ভীর হয়ে বসেছিলো। আমাদের নিষেধ ছিলো তার সাথে কোনো কথা বলার। সে যাইহোক সেই বাচ্চাটার জন্য আমার অনেক মায়া লেগেছিলো। খুনের মত অপরাধ করার পরেও আমি তাকে দোষী মনে করতে পারিনি। কারণ সে যেই নেতিবাচক পরিবেশের শিকার তাতে মনে হয় আর তার এছাড়া কিছু করার ছিলো না।
কিন্তু কাল যখন ঐ পুচকে ৩/৪ বছরের বাচ্চাটার ননস্টপ মাইরপিট দেখলাম তখন অবাক হলাম! একজন মদ্যপ রেসলার ঠিক যেভাবে আচরণ করে তেমনিভাবে তখন আমার মাথায় প্রথমে বিস্ময় ছাড়া কিছুই আসেনি। পরে আরও ভালোভাবে বুঝবার জন্য আবার দেখলাম। যে বাচ্চাটাকে মারা হচ্ছিলো তার জন্য কলিজা ছিড়ে যাচ্ছিলো। তবুও আরেকটা বাচ্চাও কেনো এমন করলো সেই গবেষনায় রত হলাম যা আজকালকার ফেসবুকবাসীরা আমরা করি তেমনি ভাবে।
১। বাচ্চাটা ভীষন ডিসটার্বড তাই সে এটাক করেছিলো।
২। অন্যের কান্না বা চিৎকার সে সহ্য করতে পারে না বা বাড়িতে কাঁদলে তাকে ওভাবেই মেরে থামানো হয় তাই হয়ত সে ঐ কাজ করেই চলেছিলো কারণ বাচ্চাটা কান্না থামাচ্ছিলো না।
৩। তার মাইরপিটের স্টাইল একজন টিভি রেসলারের মত আর আমার ধারনা সে অনেক রেসলিং দেখে হয় পরিবারের মানুষের সাথে নয়ত তাকে এমন টাইপ গেম দিয়ে দেওয়া হয় হাতে।
নয়ত কোনোভাবেই এমন স্টাইলে কোনো বাচ্চা কখনও মারামারি করতে পারবেই না ।
সে যাইহোক সবার আগে তদন্ত করে এই বাবা মায়ের পারিবারিক বিষয়টি দেখতে হবে। গুড প্যারেন্টিং এখন শুধু তাদের জন্য না সকলের জন্যই অবশ্য কর্তব্য। আমাদের আমলে বা আমাদের বাচ্চাদের আমলেও যত না দরকার ছিলো এখন এটা অবশ্য কর্তব্য হয়ে পড়েছে। প্রেগনেনসিতে শুধু বাচ্চাকে বড় করে তোলাই না স্কুলে যাবার আগ পর্যন্ত এমনকি পাবলিক প্লেস বা অন্য যে কোনো স্থানে কি করে গুড ম্যানার মেইনটেইন করতে হবে, সহমর্মিতা সহযোগীতা শিখতে হবে তা শুধু বড় হবার অপেক্ষায় না থেকে খুব ছোট বয়স থেকেই পরিবার থেকেই শেখাতে হবে। অনেকে বলে একটা মাইর খেলে আরেকটা দিয়ে আসবি। এই মেন্টালিটির বাবামায়ের বাচ্চারা ছোট থেকে বুঝে যায় তাকে বড় হয়ে ক্রিমিনাল টাইপ কিছু হতে হবে।
বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (সংশোধন কেন্দ্রে) পাঠানোর জন্য শিশুর বয়স ১৮ বছরের কম হতে হবে। 'শিশু আইন, ২০১৩' (Children Act, 2013) অনুযায়ী, যেকোনো ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যক্তিকে শিশু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অপরাধে জড়িত ১৮ বছরের কম বয়সীদের সাধারণ কারাগারে না রেখে সংশোধনের জন্য কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে রাখা হয়।
আমার দেখা সেই শিশু অপরাধির বয়স ছিলো ৭ । আর আমার চোখে এই ভিডিওতে দেখা শিশু অপরাধীর বয়স ৩ কিংবা ৪। আর অনেকেই হয়ত আমার উপরে রাগ করবেন, বলবে আহা সেও শিশু কিছু বুঝে না। তবুও বলছি এই শিশু নামের অপরাধীকে অবশ্যই এখুনি শিশু কিশোর সংশোধনি কেন্দ্রে পাঠানো হোক। এর মা বাবা এই শিশুকে মানুষ করার যোগ্য না। অনেকেই হয়ত বলবে ছোট বাচ্চা কিছু বুঝে না। কিন্তু এই টাইপের বাচ্চা কিছু না বুঝেই এমন আচরণ করা মানে অবশ্যই তাকে সংশোধনের বিশাল প্রয়োজন রয়েছে। নয়ত তার দ্বারা অন্যের যেমন ক্ষতি হবে তার নিজেরও ক্ষতি হবে। তার ভালোর জন্যই তাকে কঠোর আওতায় এনে যোগ্য শিক্ষা দেওয়া উচিৎ।
আবারও বলছি অবশ্যই শিশুরা অবুঝ এবং তারা যা দেখে তাই শেখে। সে কারণে অনেকেই বলছে ও এসব ফ্যামিলী থেকে শিখেছে। মনে হয় বাবা মাকে মারামারি করতে দেখে শিখেছে, এই বাচ্চার সাথে নিশ্চয় কঠোর আচরণ করা হয়। কথা সত্য, কঠোর আচরণে বাচ্চারাও অন্যের সাথে কঠোর আচরণ শেখে সে কথা সত্য আর কেউ কেউ হয় ভীতু আর কেউ কেউ মেনে নেয়। এই বাচ্চা সম্পর্কে আমি কিছুই জানিনা। একটু একটু শব্দে মনে হচ্ছিলো বাচ্চাটা ঠিক মত কথা বলতে পারেনা হয়ত। আর এ কারণেই সে বেশি বিরক্ত। তবে এটাও খুব অবাক করা সে ননস্টপ মেরেই চললো বাচ্চাটাকে। এমনটা হবার কথা না। এতটা সময় ধরে তার রাগ পড়ছেই না এটা কেমন কথা! এঙ্গার ম্যানেজমেন্ট প্রবলেম নাকি অকারণ আনন্দে মারছে? এটা খুব এবনরমাল লেগেছে। তার সংশোধন প্রয়োজন। যে কোনো মূল্যে। বাবা মার উচিৎ অবিলম্বে শিশু মনোবিজ্ঞানী দেখানো এবং আমার ধারণা ধৈর্য্য নিয়ে তাদের নিজেদেরকেও সংশোধন হতে হবে। একটা বাচ্চাকে জন্ম দেওয়াই সব না। তার শাররিক মানসিক নিরাপত্তা ও সঠিক শিক্ষা দানও অবশ্য কর্তব্য!
এরপর আসি সেই ডে কেয়ার সেন্টারের কথায়। ঐ বাচ্চার মারামারির স্টাইল এতটাই ভয়ানক ছিলো যে সবাই মিলে আরেক অপরাধীকে ছেড়ে ঐ বাচ্চা আর বাবা মায়ের শিক্ষার পিছে লাগলো। আর ঐ আসল অপরাধী ডে কেয়ার সেন্টার। যে বাচ্চার দায়িত্ব টাকা দিয়ে নিয়েছিলো অথচ এক বাচ্চাকে অমানুষিক কষ্ট পেতে হলো ১১/১২ মিনিট যাবৎ! পশুর মত কামড় আচড় মাইর পিট তো সাপের ছোবলের থেকেও, ভালুকের আক্রমন থেকেও ভয়ংকর লেগেছে আমার। সেসব করতে দিলো যারা এই ডে কেয়ার সেন্টার তাদের লাইসেন্স বাতিলসহ জেইলে পোরা হোক।
এই প্রিস্কুল অথবা ডে কেয়ারে বেবি রেসলার এর কান্ড ভিডিও
২৯ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০
অপ্সরা বলেছেন: এই বাচ্চার ক্ষেত্রে অন্ধ স্নেহ তার বখে যাবার কারণ নাকি সে নিজেই মানসিকভাবে অসুস্থ নাকি তার উপরে ঠিক এমনই অত্যাচার চলে কে জানে!
তবে তার রেসলিং স্টাইলে মারার দৃশ্য দেখে মনে হয়েছে তাকে এসব দেখানো হয় বা শেখানো হয়। এই বাবামাকে সন্তান পালন শিক্ষা দেবার পাশাপাশি অযোগ্যতার জন্য জরিমানা করা দরকার।
এই শিশুকে অতি অবশ্য শিশুমনোবিজ্ঞানীর কাছে নেওয়া উচিৎ
আর ঐ ডে কেয়ারের চৌদ্দ গুষ্ঠি উপড়ে ফেলা দরকার।
২|
২৯ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৫
রাজীব নুর বলেছেন: যেসব বাবা মা ব্যস্ত। বাচ্চাদের সময় দিতে পারে না। তারা বাচ্চা নেয় কেন?
২৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:১৯
অপ্সরা বলেছেন: হ্যাঁ বাচ্চা জন্ম দেওয়াই সব না! সঠিক শিক্ষা খুব বেশি দরকার! নয়ত মানুষ আর পশুর পার্থক্য থাকবে না।
আমাদের দেশে গুড প্যারেন্টিং যেমন দরকার তেমনই দরকার সঠিক শিক্ষা শিশুদের জন্য। আর ডে কেয়ার সেন্টারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে লাইসেন্স দেওয়া উচিৎ।
৩|
২৯ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২
হুমায়রা হারুন বলেছেন: শিশুরা অবুঝ। কিন্তু একটা সোশিওপ্যাথের soul যখন reincarnate করে body তে আসে, তখন বাচ্চার এ ধরণের আচরণে অবাকই হতে হয়।
আবার কিছু বাচ্চা বড়দের মত আঙ্গুলের সঞ্চালনে পিয়ানো বাজায়। দেখে অবাক হয়ে যাই। খুশী হই। কারণ তার এই গুণ, মনকে আনন্দিত করে। কিন্তু যে পরিবারে সোশিপ্যাথের আগমন ঘটে, সে পরিবার কোন না কোন পর্যায়ে এই সন্তানটির জন্য suffer করে। পরবর্তীতে সমাজও suffer করে। ক্রিমিনাল অ্যাক্টিভিতে পারদর্শী ছেলেমেয়ে - আমার দেখা - সেই ক্লাশ ফোর থেকে । তারা আমার সহপাঠীই ছিল। তারা কি আজ ভেতরে ভেতরে বদলে গেছে? তখন্ তাদের বাবা -মা কি তাদের স্বরূপ জানতো? এখন বুদ্ধি হয়ে বড় হয়ে হয়তো মুখোশের আড়ালে রাখে নিজেকে। কিন্তু সুযোগ পেলে যে তারা তাদের নখ বের করে না, কে জানে?
২৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৫
অপ্সরা বলেছেন: ঠিক বলেছো আপুনি!
শুধু বাড়িতে দেখে নেগেটিভ আচরণ শেখা ছাড়াও কিছু বাচ্চা নিজের ভেতরেই এই রকম কিছু স্বভাব নিয়ে আসে যা বড় হবার সাথে সাথে বৃদ্ধি পায়। সব শিশু যদি এক রকম হত তো দুনিয়া পাল্টে যেত। ছোট থেকেই ডিফারেন্ট বাচ্চাদের ডিফারেন্ট মেন্টালিটি বুঝা যায় তবুও আমরা সকল শিশুকেই একই ক্যাটাগরীতে ফেলে ফেরেস্তা বানিয়ে বসে থাকি।
সকল শিশুকেই খুব ছোট থেকে গভীর পর্যবেক্ষনে কিভাবে সঠিক শিক্ষা দিতে হয় তা বাবা মায়েদের ট্রেনিং দেবার বা সচেতন হবার সময় এসেছে।
৪|
২৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৭
আলামিন১০৪ বলেছেন: innate behaviour
২৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:৫৩
অপ্সরা বলেছেন: ভাইয়া কেমন আছো?
ঠিকই বলেছো। তবে এমন বিহেভ কিন্তু শিশুদের সহজাত বিহেভে চোখে পড়ে না। আমি আমার জীবনে অনেক লড়াকু বদরাগী বাচ্চা দেখেছি কিন্তু এমনটা কখনও দেখিনি। আমার ধারনা কেউ এমন দেখেনি আমার জানা মতে।
৫|
৩০ শে জুন, ২০২৬ রাত ১২:১৩
সন্ধ্যা রাতের ঝিঁঝিঁ বলেছেন: গতকাল ভিডিওটা দেখার সময় আমি অপেক্ষা করছিলাম বাচ্চাটা কখন ক্লান্ত হয়, বাচ্চাটা ক্লান্তই হচ্ছে না। ইভেন ওই বাচ্চাটা যে কাঁদছিল সে সেটা বন্ধ করার জন্য কালার পেপার ছিড়ে মুখে চেপে ধরছিল। মুভিতে যেমন দেখায় মুখে ট্যপ লাগিয়ে দেয়। একটা বাচ্চা কতটা ভালনারেবল পরিবেশে বড় হলে এরকম আচরণ করতে পারে! মাইর খাওয়া বাচ্চাটা কি ট্রমার মধ্যে দিয়ে যাবে সৃষ্টিকর্তা ভাল জানে। একটা জায়গায় পড়েছিলাম, একটা বাচ্চা ছিল যে আশেপাশে যত কুকুর, বিড়াল বাচ্চা দেখত এদেরকে মেরে ড্রেনে ফেলে আসত এবং সে এটাতে অদ্ভুত আনন্দ পেত। কিন্তু সবাই জানত সে খুব ভালো ছেলে। এরকম রেয়ার কিছু বাচ্চা পাওয়া যায়, যেগুলো বড় হয়ে সিরিয়াল কিলার হয়।
৬|
৩০ শে জুন, ২০২৬ রাত ২:১৬
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: আমাদের দেশে অটিজমের ভালো চিকিৎসা কেন্দ্র কোথায় আছে?
©somewhere in net ltd.
১|
২৯ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৩
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: যখন আমার কোচিং সেন্টার ছিল, তখন মাঝবয়সী এক দম্পতি এলেন। তাদের সন্তান দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। আমাদের কাছে পরামর্শ চাইলেন—বাচ্চার মোবাইল আসক্তি কীভাবে দূর করা যায়? আমি সরাসরিই বললাম, "আঙ্কেল, দু-একটা থাপ্পড় লাগান, সব ঠিক হয়ে যাবে! এত ছোট বয়সে কিসের এত আসক্তি?" শুনে তারা বললেন, বাচ্চার মুখটা একটু মলিন দেখলেই নাকি তাদের বুক কেঁপে ওঠে! তখনই বুঝলাম, এই বাচ্চার পড়াশোনার বারোটা বাজতে আর বাকি নেই। আরেকটি ঘটনা—দশম শ্রেণির এক ছাত্র, যে তার পুরো জীবনে কোনোদিন কোনো শাকসবজি বা মাছ ছূঁয়েও দেখেনি। শুধু মাংস আর আলু তার পছন্দ। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছিল যে, বাসায় মাংস রান্না না হলে সে মায়ের ব্যাগ থেকে জোর করে টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যেত। অথচ মা তাকে কিছুই বলতে পারতেন না! আমি যখন বললাম, "আচ্ছা মতো ধোলাই দিন", তখন মা বললেন, "ছেলের মুখটা অন্ধকার দেখলে আমার বড্ড মন খারাপ হয়।" যে ছেলে ক্লাস টেনে পড়ে, সে নাকি এখনো মাংস ছাড়া ভাতই মুখে তোলে না! এমনও অনেক বাবা-মায়ের অভিযোগ পেয়েছি যে, সন্তানকে একটু ধমক দিলেই সে আত্মহত্যার ভয় দেখায়। আজকাল পরিবারে সন্তান সংখ্যা কম; একটি বা দুটি সন্তানকে মানুষ করতেই বাবা-মা তাদের সবটুকু উজাড় করে দেন। কিন্তু এই 'অন্ধ ভালোবাসা' বা অন্ধ স্নেহ কোনোভাবেই কাম্য নয়।