| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মা বরাবরই পাতে ভাত কম নিতো , বলতো- ভাতে না-কি বাত বাড়ে।
বিশেষ বিশেষ দিনে বাড়ি পোষা মোরগের ঝোল কিংবা রুই মাছের তরকারীর সবটুকু আমাদের পাতে তুলে দিয়ে মা বলতেন, ওইসব তেল-মশলা তাঁর পেটে সয় না।
কচি শাপলা, বুনো শাক- ডাটা, কাঁচা মরিচ আর লবন দিয়ে ভাত মাখিয়ে মা যখন একমুঠো ভাত মুখে তুলতেন, আমি তখন ভাবতাম— মা বোধহয় বড্ড বেশি স্বাস্থ্যসচেতন!
গ্রীষ্মের প্রখর রোদে মায়ের পরনে থাকত ছেঁড়া আঁচলের এক জীর্ণ শাড়ি। জিজ্ঞেস করলেই মা বলতেন— "পুরনো সুতোর যে আরাম, নতুন কাপড়ে কি আর তা পাওয়া যায়? " আর শীতে, সুতো-ওঠা সেই পুরনো মোটা সোয়েটারটা!
পরম আদরে গায়ে জড়িয়ে মা বলতেন, "এ তো কেবল একটা শীতের পোশাক নয়, এর প্রতিটি খাঁজে আমার মায়ের ঘামের গন্ধ জড়িয়ে আছে।এ আমি ছাড়ি কি করে ।"
আমার ছোট মন খুব সহজে মায়ের সেই সব গল্পগুলো বিশ্বাস করে নিতো।
আজ কত বছর হলো, এতদিনে পৃথিবীর রূঢ় বাস্তবতায় জ্ঞান চক্ষু খুলে গেছে —ক্রমশ কত কিছু জানা হলো বোঝা হলো।পরিশেষে উপলব্ধি করা হলো ওই সব ঘটনাগুলো মায়ের কোনো শখ বা সচেতনতা ছিল না; ওসব ছিল আমাদের সংসারের পরম দারিদ্র্যের ওপর মায়ের ছড়িয়ে রাখা একখানা বিয়োগের রূপকথা।
সন্তানের পেটের ক্ষুধা মেটাতে মা যে নিজের ক্ষুধাকেই রূপকথা বানিয়ে রেখেছিলেন, তা ঠিক ঠাক বুঝতে বুঝতে আমার শৈশব, কৈশোর ,যৌবন পেরিয়ে বার্ধক্য এসে গেছে।
এত দিন পর আজ সেই না-বলা বিয়োগের স্মৃতি ছাড়া,
পাশে আর তেমন কিছুই অবশিষ্ট নেই।
© রফিকুল ইসলাম ইসিয়াক
©somewhere in net ltd.
১|
২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২০
অপ্সরা বলেছেন: অনেক সুন্দর লেখা ভাইয়া! মায়ের জন্য ভালোবাসা।