| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
গত শুক্রবার, অর্থাৎ ১৬ অক্টোবর ২০২৪ (বা ২০২৬), আমি একটি মসজিদে নামাজ পড়তে গেলাম। মসজিদে ঢোকামাত্রই শুনি—ইমাম সাহেব মিম্বারে দাঁড়িয়ে তাঁর আলোচনায় বলছেন, “আপনারা কোনোভাবেই কোনো হিন্দুকে ‘শারদীয় শুভেচ্ছা’ বলবেন না এবং কোনোভাবেই পূজার ব্যাপারে সহযোগিতা করবেন না বা চাঁদা দেবেন না। মনে রাখবেন, কোনোভাবেই মূর্তিপূজারিরা আপনাদের বন্ধু হতে পারে না।” এরপর তিনি কোরআনের এই আয়াতটি পাঠ করে শোনালেন:
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَتَّخِذُوا الۡیَهُوۡدَ وَ النَّصٰرٰۤی اَوۡلِیَآءَ ۘؔ بَعۡضُهُمۡ اَوۡلِیَآءُ بَعۡضٍ ؕ وَ مَنۡ یَّتَوَلَّهُمۡ مِّنۡكُمۡ فَاِنَّهٗ مِنۡهُمۡ ؕ اِنَّ اللّٰهَ لَا یَهۡدِی الۡقَوۡمَ الظّٰلِمِیۡنَ ﴿۵۱﴾
(সূরা আল-মায়েদা, আয়াত: ৫১)
“হে মুমিনগণ! তোমরা ইয়াহুদী ও নাসারাদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, তারা একে অপরের বন্ধু। আর তোমাদের মধ্যে কেউ যদি তাদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করে, তবে সে তাদেরই একজন বলে গণ্য হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে হেদায়েত দেন না।”
কথাগুলো শুনে আমার মনে হলো, কোরআনে তো শান্তির অনেক বাণী আছে—তিনি সেসবও শোনাতে পারতেন।
যাই হোক, বক্তব্য শুনতে শুনতেই হঠাৎ প্রায় ৫ বছর বয়সী একটি শিশু দুষ্টুমি করতে করতে আমার গায়ে ঢলে পড়ল। আমি তাকে আদর করতে লাগলাম। কিন্তু হঠাৎ সে আমাকে বলে উঠল, “এত বড় চুল রেখেছ, আবার নামাজ পড়তে এসেছ কেন?” আমি ভালোবেসে হেসে বিষয়টি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলাম। পাশ থেকে তার বাবা বাচ্চার এমন আচরণ দেখে বেশ বিব্রত হলেন এবং তাকে থামালেন।
কিন্তু কয়েক সেকেন্ড পরেই দেখলাম, বাচ্চাটি পেছনের কাতারের একজনের মাথা থেকে টুপি খুলে নিল। এবারও তার বাবা তাকে নিরস্ত করলেন।
এরপর হুজুর সবাইকে সুন্নত নামাজ পড়ার আহ্বান জানালেন। সুন্নত নামাজ চলাকালীন দেখলাম, শিশুটি সামনের কাতারে গিয়ে রীতিমতো নাচতে শুরু করেছে। কখনো কারও কাপড় ধরে টানছে, এভাবে চারপাশের মুসল্লিদের বিরতিহীনভাবে ডিস্টার্ব করে যাচ্ছে।
সুন্নত নামাজ শেষে হুজুর খুতবা শুরু করলেন। তখন শিশুটি হুজুরকে নিয়ে কিছু একটা মন্তব্য করল। সে ঠিক কী বলেছিল তা আমি স্পষ্ট শুনতে পাইনি, তবে তার বাবার উত্তরটি শুনতে পেলাম। বাবা বলছেন, “হুজুর সম্পর্কে খারাপ কথা বললে আল্লাহ গুনাহ দেন, উনারা ইসলামের কথা বলেন।”
এবার শিশুটি যা বলল, তা শুনে আমার চোখ কপালে ওঠার জোগাড়! সে বলল, “বাবা, আমি ইসলামের জন্য জীবন দেব, তাহলে আমার অনেক সওয়াব হবে।” এরপরই শিশুটি আবার চারপাশের মানুষকে প্রচণ্ড ডিস্টার্ব করতে লাগল।
এভাবেই হুজুরের ফরজ নামাজ শুরু করার সময় চলে এল এবং যথারীতি জামাতে নামাজ শুরু হলো। শিশুটি তার বাবার পাশ থেকে সরে গিয়ে ঠিক আমার সামনে এসে দাঁড়াল। কিন্তু সে ১০ সেকেন্ডের বেশি শান্ত থাকতে পারল না। ফরজ নামাজ চলাকালেই সে এবার 'লুঙ্গি ড্যান্স' দিতে শুরু করল এবং চারপাশের মানুষকে বিরক্ত করতে লাগল, এমনকি যারা নামাজে ছিল তাদের মাথার টুপিও খুলে নিতে লাগল।
অবশেষে এক দমবন্ধ করা অস্বস্তি আর বিস্ময় নিয়ে ফরজ নামাজ শেষ করে মসজিদ থেকে বেরিয়ে এলাম। তবে মনে কিছু প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে লাগল—যে শিশুটি ইসলামের জন্য জিহাদ করা আর জীবন দেওয়ার কথা শিখল, সে কেন শিখল না যে নামাজ সুশৃঙ্খলভাবে পড়তে হয়? সে কেন শিখল না যে বড়দের সম্মান করতে হয়? আর সে কেন শিখল না যে, ধর্মে শান্তির যেসব বার্তা রয়েছে, তা মানুষের কাছে ছড়িয়ে দিতে হয়?
২|
১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:২৯
কামাল১৮ বলেছেন: ধর্ম ধৃণা শিক্ষার কারখানা।
৩|
১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪২
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: মসজিদে প্রতি জুমাবার নাম ধরে ইয়াহুদি নাসাদের ধ্বংস কামনা করা হয় । আর এটা তো মামুলি ঘটনা ।
©somewhere in net ltd.
১|
১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৩৪
সামছুল আলম কচি বলেছেন: এমন অনেক শিশুই মসজিদে আসে। প্রতিবন্ধিরাও আসে। এখানে ঘৃণা দেখলেন কোথায় ?? কার বিরুদ্ধে শিশুটি ঘৃণা দেখালো ?? ইসলামে জিহাদ সম্পর্কে জানা বা জিহাদের ইচ্ছা প্রকাশ করা কি ধর্মের নামে ঘৃণা শেখা হলো ??? যুদ্ধের মাঠ ছাড়াও তো একজন মুসলিম-কে প্রতিনিয়ত জিহাদ করতে হচ্ছে।। হুজুর তো ১০০% সত্যি কথা-ই বলেছেন। মুসলমানের পক্ষে সবচেয়ে বড় গুনাহ্- শিরক করতে নিষেধ করেছেন। এমনটিই তো হতে হবে। শিশুদের কথা বাদ দেই; আমাদের সমগ্র কিশোর, যুবক, বুড়াদের ৫% এরও নামাজ কি শুদ্ধ হয় ????!!!! নিজেরটা-ই আগে ভালো করে দেখেন।