নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সাহিত্য, সংস্কৃতি, কবিতা এবং সমসাময়িক সামাজিক বিষয়াদি নিয়ে গঠনমুলক লেখা লেখি ও মুক্ত আলোচনা

ডঃ এম এ আলী

সাধারণ পাঠক ও লেখক

ডঃ এম এ আলী › বিস্তারিত পোস্টঃ

প্রজ্ঞার জয়ধ্বনি বিজ্ঞান ও যুক্তির মহাকাব্য

২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৩৯


ভূমিকা
সকল নবি ও রাসুল প্রতি সালাম ও দুরুদ পর
দাউদের সুরে, মূসার পথে, ঈসার প্রেমের বাণী
মুহাম্মদের মরু পেরিয়ে শুনেছি যুগের ধ্বনি
কৃষ্ণের বাঁশি, বুদ্ধের ধ্যান, সুফির অন্তর সন্ধান
যোগীর তপে, মরমীর গানে খুঁজেছি মহাজ্ঞান।

যে যা পেয়েছে, তাই দিয়েছে আপন সত্য জেনে
মানবমন পথ খুঁজেছে যুগের পর যুগ বেনে
বিশ্বাস, বিধি, আবেগ পেরিয়ে প্রশ্ন জাগে মনে
সত্য কি শুধু মানলেই মেলে, না কি খুঁজতে হয় জ্ঞানে?

তাই আজ আমি নত যত, অন্ধ নই তত
প্রশ্ন হাতে পথ চলেছি মহাবিশ্বের রথে
যুক্তি হবে পথের প্রদীপ, বিজ্ঞান হবে দিশা
প্রজ্ঞা হবে মুক্ত আকাশ সত্য হবে নিশা।
ধর্মের সীমানা পেরিয়ে, মতের প্রাচীর ভেঙে
মানুষ খুঁজুক মানুষকে জ্ঞানের আলো জ্বেলে
যেখানে প্রশ্ন পবিত্র, অনুসন্ধান যেখানে প্রাণ
সেখানেই জাগুক মুক্তি, সেখানেই মহাজ্ঞান।

হে জ্ঞান! হে চির অগ্নি! হে মানুষের মস্তিষ্কের
অমর দীপশিখা! আজ তোমারই বন্দনা গীতি গাই।
যে রাত্রি অনাদি কাল ঢেকে রেখেছিল ধরিত্রীকে
অজ্ঞানের ঘন তিমিরে, যেখানে ভয়ে কাঁপত প্রাণ
যেখানে বজ্রের গর্জনে দেবতার ক্রোধ শুনত
মানুষের আদিম হৃদয় সেই রাত্রির অন্তর থেকে
কে প্রথম তুলেছিল প্রশ্ন? কে বলেছিল, কেন?

কে আগুনের রহস্য খুঁজে দেখেছিল পাথরের বুকে?
কে নক্ষত্র গুনে বলেছিল, ওই দূর জ্যোতিষ্কের
পথও কি নিয়মে বাঁধা? নাকি দেব-ইচ্ছা তার?
সেই ক্ষুদ্র প্রশ্নটি-
আজও শুনি তার প্রতিধ্বনি মহাকাশে।

হে মানুষ! তোমার মস্তিষ্ক ক্ষুদ্র, তোমার জীবন ক্ষণিক
তোমার দেহ ধূলিময়, তোমার শ্বাস মৃত্যুর অধীন
তবু কেন অনন্তকে জানার সাধ জাগে?
কেন তুমি মাপো নক্ষত্রের দূরত্ব?
কেন তুমি খোঁজো কণার অন্তর্গত অন্ধকার?
কেন তুমি মৃত্যুর দ্বারে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করো
জীবন কী?
কেন তুমি নিজের চেতনাকে
নিজেরই মস্তিষ্কের আয়নায় দেখতে চাও?
এই প্রশ্নেই কী মহত্ত্ব অধীক ।

প্রথম সর্গ : আদিম রাত্রি

ছিল রাত্রি-
নিভৃত ধরিত্রী তখন অরণ্যের অন্ধকারে
নিদ্রিত, গুহার ভেতর কাঁপত ক্ষুধার্ত প্রাণ
দূরে কোথাও বিদ্যুৎ হানত আকাশের বুকে
গর্জে উঠত মেঘ, আগুন পড়ত বৃক্ষশিরে।
মানব-শিশু মায়ের বুকে মুখ লুকিয়ে
শুনত প্রকৃতির সেই অমোঘ গর্জন।

সে জানত না কেন মেঘ গর্জে
কেন বিদ্যুৎ জ্বলে,কেন বৃষ্টি নামে
কেন সূর্য যায় অস্ত।
অজানার প্রতি ভয়
হৃদয়ে তার দেবতা নিল জন্ম,
যেখানে ছিল না জ্ঞান
সেখানে কল্পনা করল শূন্যতা পূর্ণ।

বজ্র হল দেবতার ক্রোধ
বৃষ্টি হল বিধাতার কৃপা
রোগ হল অদৃশ্য অভিশাপ
মৃত্যু হল অন্ধকার দ্বারের যমদুত।

মানুষ করল মাথা নত।
কিন্তু
মানুষের অন্তরে, গেল না মরে প্রশ্ন।
একদিন এক শিশু
অরণ্যের প্রান্তে দাঁড়িয়ে দেখল
সূর্য প্রতিদিন একই দিক থেকে উঠে
আবার একই দিকের অন্ধকারে যায় হারিয়ে।

ভাবল সে-
যদি দেবতার রথ হয় চলমান
তবে রথের পথ কি যায়না মাপা?
সেই চিন্তার ভেতরেই
জন্ম নিল জ্যোতির্বিজ্ঞান।

কেউ চাঁদের কলা গুনল
কেউ ঋতুর প্রত্যাবর্তন লিখল
কেউ ছায়ার দৈর্ঘ্যে
সূর্যের উচ্চতা মাপল।
মানুষ বুঝল প্রকৃতি রহস্যময়
কিন্তু বিশৃঙ্খল নয়
তারও আছে বিধান।

দ্বিতীয় সর্গ : প্রশ্নের জন্ম

হে প্রশ্ন!
তুমি যে কত দুর্ধর্ষ, কে জানে?
তোমার ক্ষুদ্র অগ্রভাগে
সাম্রাজ্যেরো প্রাচীর ভাঙে।
একটি প্রশ্ন বলেছিল
পৃথিবী কি সত্যিই স্থির?
আর সেই প্রশ্নের পিছু পিছু
মানুষ দেখল আকাশের গতি।

একটি প্রশ্ন প্রথম করেছিলেন
ভাস্করাচার্য ১২ শতকের
প্রাচীন ভারতীয় এক গণিতবিদ
বস্তু কেন পড়ে?
আর সেই প্রশ্নের গভীরে
মহামতি নিউটনের সুত্র ধরে
মানুষ খুঁজে পেল মহাকর্ষের বিধান।

একটি প্রশ্ন বলেছিল আলো কী?
আর সেই প্রশ্নের পথে
মানুষ পৌঁছাল নক্ষত্রের অন্তঃস্থলে।
একটি প্রশ্ন বলেছিল
জীবন কীভাবে নিজেকে পুনরুৎপাদন করে?
আর মানুষ পড়তে শিখল
জীবনের অদৃশ্য বর্ণমালা।

প্রশ্ন করো!যে প্রশ্নে পুরোনো প্রাসাদ কাঁপে
সে প্রশ্নই করো।
যে প্রশ্নে ধর্মমতি গুরু রুষ্ট হন
রাজা হন ক্রুদ্ধ , বিস্মিত হয় সমাজ
সেই প্রশ্নও করো।
কারণ সত্য
কোনো সিংহাসনের সম্পত্তি নয়।
সত্যের সামনে রাজদণ্ড আর ভিক্ষাপাত্র
একই ধূলির সন্তান।

তৃতীয় সর্গ : যুক্তির আবির্ভাব

তারপর এল যুক্তি
এল না সে রথে
এল না অশ্বারোহী সেনা নিয়ে
তার হাতে ছিল না অস্ত্র
মাথায় ছিল না রাজমুকুট।
সে শুধু বলল
বলেছ যা , তার প্রমাণ কোথায়?
এই একটি বাক্য কত শত অন্ধকারের
ভিত কাঁপিয়ে দিল!

বলল সে আমি শুনেছি,
যুক্তি বলল, তা যথেষ্ট নয়।
সবাই বলে-
যুক্তি বলল, তাও সত্য নয়।
বলল অনেকে এটাই প্রাচীন
যুক্তি বলল, তাই বলে কী সে
নয় পরিবর্তনহীন।

অমুক মহান ব্যক্তি বলেছেন
যুক্তি বলল
তাঁর কথাও পরীক্ষার বাইরে নয়
তারপর নীরব হল সভা।
কারণ যুক্তি
কাউকে অপমান করে না
সে শুধু চায় প্রমান।
সে বলে‌; দেখো, মাপো,
পরীক্ষা করো, পুনরাবৃত্তি করো.
ভুল হলে সংশোধন করো।
এই পাঁচটি দীপ হাতে
মানুষ প্রবেশ করল
অজানার মহাগুহায়।

চতুর্থ সর্গ : বিজ্ঞান

হে বিজ্ঞান!
তোমার জন্ম কোনো একদিনে নয়
তুমি জন্মেছ
অসংখ্য ভুলের ভস্ম থেকে
অসংখ্য ব্যর্থ পরীক্ষার পরে
অসংখ্য রাত জেগে থাকা
নামহীন মানুষের শ্রমে।

তোমার ইতিহাসে শুধু বিজয় নেই
পরাজয়ও আছে ।
আছে ভুল সূত্র, ভ্রান্ত অনুমান
ব্যর্থ যন্ত্র, ভুল পথে দীর্ঘ যাত্রা।
তবু তুমি থামোনি
কারণ তোমার মহত্ত্ব
ভুল না করার মধ্যে নয়
ভুলকে স্বীকার করার মধ্যে।

যে জ্ঞান নিজের ভুল স্বীকার করে
সে-ই সত্যের যোগ্য
যে মত বলে আমিই শেষ কথা
তার দরজা বন্ধ
কিন্তু বিজ্ঞান দরজা রাখে খোলা।
আজকের সত্য
আগামীকালের নতুন প্রমাণে
আরও গভীর সত্যের কাছে
নিজেকে করতে পারে সমর্পন
এই বিনয় তোমার মুকুট, বিজ্ঞান!

পঞ্চম সর্গ : মহাকর্ষ

দেখল মানুষ
আপেল পড়ে মাটির বুকে
কতবার পড়েছে আপেল
কত মানুষ দেখেছে
কিন্তু এক বিজ্ঞানী নিউটন
প্রশ্ন করলেন কেন?
এই কেন এর ভেতরই
লুকিয়ে ছিল মহাকর্ষ।

পৃথিবী যে করে আকর্ষন
চাঁদ যে পৃথিবীকে করে প্রদক্ষিণ
গ্রহ যে সূর্যের বন্ধনে
ঘোরে নির্দিষ্ট পথে
একটি সূত্রের জালে
মানুষ জানল মহাজগতের গতি।
বুঝল সে তখন মাটি আর আকাশ
দুই পৃথক জগত নয়।

একই বিধান রেখেছে ধরে
পড়ন্ত পাথর আর ঘূর্ণায়মান গ্রহকে।
মানুষের ক্ষুদ্র চোখ
তখন প্রথমবারের মতো
মহাবিশ্বের এক গোপন ব্যাকরণ
পড়তে শিখল।

ষষ্ঠ সর্গ : আলো

তারপর মানুষ তাকাল আলোর দিকে
হে আলো!
তুমি কেবল দৃষ্টির সহায় নও
তুমি মহাবিশ্বের দূত।
লক্ষ কোটি বছর দূর থেকে
যে ফোটন ছুটে আসে
তার বুকে বহন করে
এক নক্ষত্রের সংবাদ।
একটি ক্ষুদ্র কণিকা
অতিক্রম করে মহাশূন্য
সময়ের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে
মানুষের চোখে এসে বলে
আমি দেখেছি।

তখন জ্যোতির্বিজ্ঞানী
দূর নক্ষত্রের আলো বিশ্লেষণ করে
জানতে পারে তার উপাদান
তার তাপ,তার গতি,
তার অতীতের বিবরণ।
মানুষ তখন বুঝল দূরত্ব
সবসময় অজ্ঞতার প্রাচীর নয়
আলো দূরের সঙ্গে
কাছে থাকার সেতু।

সপ্তম সর্গ : অণুর রাজ্য

কিন্তু হে মানুষ
তোমার যাত্রা থামল না।
তুমি দেখলে পাথর
তারপর পাথর ভাঙলে
দেখলে ধূলি,
তারপর ধূলির ভেতর তাকালে।
অবশেষে আবিষ্কার করলে
জগতের দৃশ্যমান বস্তু
অদৃশ্য ক্ষুদ্র কণার সমাবেশ।
তারপর সেই কণাকেও ভাঙলে
ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউট্রন
তারপর আরও গভীর রহস্য।
কোয়ার্কের অদৃশ্য নৃত্য
ক্ষেত্রের কম্পন
সম্ভাবনার অদ্ভুত ভাষা।
প্রকৃতি যেন বলল
আমাকে যত জানবে
ততই দেখবে আমি আরও গভীর।

মানুষ বিস্ময়ে নত হল
কিন্তু পরাজিত হল না।
কারণ অজানা তাকে দেখায় না ভয়
বরং আহ্বান করে দুরে যেন না রয়।

অষ্টম সর্গ : জীবনের রহস্য

একদিন মানুষ
নিজের দেহের দিকে তাকাল
হাড়, রক্ত, মাংস এই কি আমি?
তারপর অণুবীক্ষণ যন্ত্রে
দেখল কোষ।
কোষের ভেতরে
আরও ক্ষুদ্র জগত।
তারপর আবিষ্কার করল
ডিএনএর অক্ষর।

চারটি রাসায়নিক অক্ষর
অ্যাডেনিন , থাইমিন,
সাইটোসিন , গুয়ানিন
কী বিস্ময়কর ভাষায়
লিখে রাখে জীবনের নির্দেশ!

মানুষ বুঝল তার দেহ
কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।
সে এসেছে
দীর্ঘ বিবর্তনের স্রোত বেয়ে।
অসংখ্য প্রজন্মের অদৃশ্য সংগ্রাম
পরিবর্তন,বাছাই,অভিযোজন
সব মিলিয়ে আজকের মানুষ।

তখন অহংকারের প্রাসাদে
একটি জানালা গেল খুলে
মানুষ বুঝল আমি প্রকৃতির বাইরে নই
আমি প্রকৃতিরই সন্তান।
আমার শ্বাসে পৃথিবী, আমার রক্তে ইতিহাস,
আমার কোষে উত্তরাধিকার,
আমার দেহে বহমান জীবনের প্রাচীন সুর।

নবম সর্গ : চিকিৎসার বিজয়

কখনো এককালে
রোগ মানে ছিল অভিশাপ
জ্বর মানে অদৃশ্য ক্রোধ
মহামারি মানে বিধাতার রোষ।
তারপর এল পরীক্ষাগার
অণুজীব দেখা গেল
মানুষ বুঝল অদৃশ্য জীবও
মানুষের শরীরে দিতে পারে হানা।
তারপর এল জীবাণুবিদ্যা
টিকা, অ্যান্টিবায়োটিক,শল্যবিদ্যা,
অঙ্গ প্রতিস্থাপন,আধুনিক চিকিৎসা।
মৃত্যু পরাজিত হয়নি
মৃত্যু এখনও মানুষের সীমা।
কিন্তু মৃত্যুর আগে
কমেছে অকারণ যন্ত্রনা ।

অসংখ্য শিশু রোগের হাত থেকে বেঁচেছে
অসংখ্য মানুষ নতুন জীবন পেয়েছে
এটাই বিজ্ঞানের মানবিক মুখ
এখানে জয় মানে
কাউকে পরাজিত করা নয়
একটি প্রাণকে
আরও কিছুদিন বাঁচতে দেয়া।

দশম সর্গ : বিদ্যুতের রথ

একদিন রাত ছিল
অন্ধকারের সাম্রাজ্য
তারপর মানুষ
জানল রহস্য বিদ্যুতের
তারপর জ্বলে উঠল বাতি।
কারখানা,রেলগাড়ি, এরোপ্লেন
টেলিগ্রাফ, রেডিও,
কম্পিউটার মানুষের সভ্যতা
পৃথিবীর গতিকে বদলে দিল।
দূরের মানুষ কাছে এল
শব্দ হল তারহীন
ছবি চিত্র পেরিয়ে গেল পৃথিবী
তারপর এল ডিজিটাল যুগ।

তথ্য প্রায় আলোর গতিতে
লাগল পেরোতে মহাদেশ।
কিন্তু আবার প্রশ্ন
এই শক্তি কি
মানুষকে করবে মুক্ত ?
নাকি গড়বে নতুন শৃঙ্খল ?
বিজ্ঞান দিয়েছে শক্তি
এখন বিবেকের পালা।

একাদশ সর্গ : অগ্নিপরীক্ষা

হে মানুষ!
তুমি পরমাণু করেছ বিভাজন
অদৃশ্য ক্ষুদ্র জগতের
গভীরে করেছ প্রবেশ
অসীম শক্তির দ্বার খুলেছ।
সেই শক্তি দিয়ে
বিদ্যুৎ উৎপন্ন হতে পারে,
চিকিৎসায় হতে পারে সাহায্য;
আবার একই জ্ঞান
হতে পারে ধ্বংসের অস্ত্র।

তাই বিজ্ঞানকে দিও না দোষ
দোষ দিও না জ্ঞানকে
প্রশ্ন করো মানুষের সিদ্ধান্তকে।
ছুরি দিয়ে শল্যচিকিৎসা হয়,
আবার হত্যাও হয়।
দোষ ছুরির নয়, দোষ হাতের সিদ্ধান্তের।
বিজ্ঞান দেয় শক্তি
নৈতিকতা বলে
সে শক্তি কোথায় যাবে।

তাই আগামী যুগের মানুষের
দুই চোখ চাই
এক চোখে বিজ্ঞান
অন্য চোখে মানবতা
এক হাতে জ্ঞান
অন্য হাতে বিবেক।

দ্বাদশ সর্গ : মহাকাশ

তারপর মানুষ
পৃথিবীর মাটি ছাড়ল
আগুনের স্তম্ভে
আকাশ বিদীর্ণ করে
রকেট উঠল।
নীল গ্রহটি
ধীরে ধীরে ছোট হতে লাগল
মানুষ ফিরে তাকিয়ে দেখল পৃথিবী!

একটি ক্ষুদ্র নীল গোলক
অন্ধ মহাশূন্যের মধ্যে
অতি কোমল এক আশ্রয়।
সীমান্ত নেই সেখানে
নেই কোনো রাজ্যের রেখা
নেই কোনো পতাকার প্রাচীর
শুধু নীল।

মানুষ তখন বুঝল
যে পৃথিবী নিয়ে
আমরা যুদ্ধ করি
সে পৃথিবী মহাবিশ্বের চোখে
একটি অতি ক্ষুদ্র ঘর।
তবু এই ক্ষুদ্র ঘরেই
আমাদের সকল প্রেম,
সকল দুঃখ, সকল কবিতা
সমস্ত বিজ্ঞান,সমস্ত ইতিহাস
তাই তাকে রক্ষা করো।

বিজ্ঞানকে কেবল
মহাকাশ জয়ের জন্য নয়
পৃথিবী বাঁচানোর জন্যও ব্যবহার করো।


ত্রয়োদশ সর্গ : অন্ধবিশ্বাসের বিরুদ্ধে

হে মানুষ!
ধর্ম বিশ্বাস বা যে কোন বিশ্বাস
তোমার ব্যক্তিগত হতে পারে
কিন্তু যখন বিশ্বাস
প্রমাণের স্থান দখল করে
যখন প্রশ্নকে অপরাধ বানায়
যখন অজ্ঞতাকে সত্যের আসনে বসায়
তখন সতর্ক হও।

কোনো দাবি
শুধু প্রাচীন বলে সত্য নয়
কোন দাবী কোন ধর্ম গ্রন্থে
আছে বলে সত্য নয়
কোনো দাবি
শুধু জনপ্রিয় বলে সত্য নয়
কোনো দাবি
শুধু হৃদয়কে আনন্দ দেয় বলে সত্য নয়
সত্যের নিজস্ব মর্যাদা আছে।

তার প্রয়োজন নেই সোনার মুকুট
সিংহাসন, জনতার করতালি।
একটি পরীক্ষাগারের নিঃশব্দ ফল
কখনো কখনো
হাজার বছরের বিশ্বাসকে
করতে পারে পরিবর্তন
তাতে সত্যের হয় না অপমান
বরং আরও পরিণত হয়
মানুষের জ্ঞান।

চতুর্দশ সর্গ : সন্দেহ

সন্দেহকে করো না ভয়
সন্দেহ মানে সবকিছুকে মিথ্যা বলা নয়
সন্দেহ মানে আমি যাচাই করতে চাই
সন্দেহ সেই দরজা
যার ওপারে গবেষণা।
সন্দেহ সেই প্রশ্ন
যার শেষে আবিষ্কার
সন্দেহ সেই আগুন
যা কুসংস্কারের শুকনো কাঠ পোড়ায়।
কিন্তু সন্দেহেরও শৃঙ্খলা চাই
প্রমাণহীন সন্দেহ যেমন ভুল
তেমনি প্রমাণহীন বিশ্বাসও ভুল
যুক্তির সৌন্দর্য মধ্যপথে নয়
প্রমাণের প্রতি আনুগত্যে।
যেখানে প্রমাণ যাবে, সেখানেই যাও
নিজের প্রিয় ধারণা পিছনে পড়ে থাকলেও।

পঞ্চদশ সর্গ : বিদ্যালয়

হে শিক্ষক!
শিশুর হাতে শুধু দিও না
প্রশ্নের উত্তরের বই
দাও প্রশ্নের অধিকার।
তাকে বলো কেন?
তাকে আবার জিজ্ঞেস করো
তুমি কীভাবে জানলে?
তারপর বলো প্রমাণ কোথায়?
এই তিনটি প্রশ্ন
বদলে দিতে পারে একটি জাতির ভবিষ্যৎ ।
মুখস্থ বিদ্যা পরীক্ষা পাস করাতে পারে
কিন্তু প্রশ্ন করার শিক্ষা
সভ্যতা নির্মাণ করে।
যে শিশু
নিজের শিক্ষককেও সম্মানের সঙ্গে
প্রশ্ন করতে শেখে,সে একদিন
নিজের যুগকেও প্রশ্ন করবে
সেখানেই জন্ম নিবে
নতুন জ্ঞান।

ষোড়শ সর্গ : গবেষণাগার

নীরব রাত
গবেষণাগারের জানালায়
বাইরের শহর নিদ্রিত
ভেতরে এক বিজ্ঞানী একা বসে আছে
একটি পরীক্ষার ফল, আবার ব্যর্থ।
ঘড়ি বলে রাত গভীর
ক্লান্ত চোখে সে তাকায়
সংখ্যার সারির দিক।

অন্য কেউ বলবে
কিছুই তো হল না।
কিন্তু বিজ্ঞানী জানে ব্যর্থতাও তথ্য।
এই পথটি কাজ করেনি।
তাহলে অন্য পথ , আবার পরীক্ষা
আবার হিসাব, আবার ভুল
আবার সংশোধন
এভাবেই একদিন
অন্ধকারের ভেতর
হঠাৎ একটি রেখা
অন্যরকম হয়ে ওঠে।

একটি ফল, একটি সূত্র
একটি নতুন দরজা।
সেই মুহূর্তে
মানবসভ্যতার ইতিহাসে
নিঃশব্দে যুক্ত হয়
আরেকটি ছোট বিজয়।

সপ্তদশ সর্গ : গণিত

হে গণিত!
তুমি বিজ্ঞানের নীরব বীণা
কত ক্ষমতা তোমার দশমিক বিন্দু কণা।
সংখ্যার শুষ্ক মরুভূমি নও তুমি
তোমার সমীকরণে
নক্ষত্রের গতি,তরঙ্গের নৃত্য,
গ্রহের পথ,পরমাণুর সম্ভাবনা,
পৃথিবীর ভর
গোপনে গান গায়।

E=mc Square
একটি সমীকরণ কখনো কখনো
হাজার শব্দের চেয়ে গভীর।
কারণ প্রকৃতি
নিজের ভাষায় কথা বলে।

মানুষ সেই ভাষা শেখে
সংখ্যার অক্ষরে
শূন্য থেকে অনন্ত
এই বিস্ময়কর সেতু পেরিয়ে
মানুষ মাপে যা একদিন
অপরিমেয় বলে হয়েছিল মনে।

অষ্টাদশ সর্গ : কৃষ্ণগহ্বর

তবু রহস্য শেষ নয়
মহাকাশের গভীরে
আছে কৃষ্ণ অন্ধকারের দ্বার
কৃষ্ণগহ্বর।
সেখানে আলোও
সহজে আসে না ফিরে
স্থান-কাল
নিজের পরিচিত রূপ হারায়।
মানুষ দূর থেকে তাকিয়ে
শুধু অনুমান করে।

কিন্তু অনুমানেই থামে না
নাসার বিজ্ঞানিরা দিন রাত
সমীকরণ গড়ে,পর্যবেক্ষণ করে,
তরঙ্গ শোনে,
দূরবর্তী মহাজাগতিক সংঘর্ষের
ক্ষীণ সংবাদ ধরে।
একদিন মানুষ কৃষ্ণগহ্বরের
ছায়ারও ছবি তোলে।
তখন মহাবিশ্ব যেন হাসে
তোমরা সত্যিই
আমাকে জানতে চাও?
মানুষ উত্তর দেয় হ্যাঁ।

ঊনবিংশ সর্গ : চেতনা

কিন্তু সবচেয়ে কঠিন রহস্য
হয়তো আকাশে নয়
মানুষের মাথার ভেতর
এই মস্তিষ্ক, যে মহাবিশ্বকে দেখে
দেখে নিজেকেও
যে প্রশ্ন করে আমি কে?
কীভাবে বৈদ্যুতিক সংকেত
রাসায়নিক বিক্রিয়া,
অসংখ্য নিউরনের সংযোগ
জন্ম দেয় অনুভূতি?
কীভাবে জন্ম নেয় স্মৃতি?
কীভাবে স্বপ্ন? কীভাবে প্রেম?
কীভাবে কবিতা?
মানুষ এখনও জানে না
সব উত্তর।

তাই আবার সেই মহান বাক্য
জানি না, এবং আবারো
গবেষনার সুচনা।

বিংশ সর্গ : কৃত্রিম বুদ্ধি

মানুষ তার মস্তিষ্কের অনুকরণে বানাল যন্ত্র
যন্ত্র শিখল গণনা, ভাষা, ছবি, প্যাটার্ন
মানুষ হল বিস্মিত কিন্তু এখানেও প্রশ্ন
যন্ত্র কীভাবে হবে ব্যবহার ?
জ্ঞান কি মানুষের মুক্তির জন্য?
নাকি ধ্বংসের জন্য?
প্রযুক্তি কি শিক্ষাকে প্রসারিত করবে?
নাকি বিভ্রান্তি বাড়াবে?
সিদ্ধান্ত আবার মানুষের।

যন্ত্রের শক্তির চেয়ে মানুষের নৈতিক প্রজ্ঞা
আরও জরুরি।
কারণ ভবিষ্যৎ কেবল কী বানাতে পারে
তার প্রশ্ন নয়, কী বানানো উচিত
সেই প্রশ্নও।

একবিংশ সর্গ : পৃথিবীর আর্তনাদ

হে সভ্যতা!
তোমার কারখানার ধোঁয়া উঠছে আকাশে
তোমার নদী কখনো বহন করেছে বিষ
তোমার বন কখনো কুঠারের আঘাতে
হয়েছে ক্ষীন হতে ক্ষীন
তোমার সমুদ্র উষ্ণতার দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলেছে
তবু বিজ্ঞান এই বিপদেরও সাক্ষী।

তথ্য সংগ্রহ করে, পরিবর্তন মাপে,
কারণ অনুসন্ধান করে,
সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নিয়ে
মডেল নির্মাণ করে
তাই বিজ্ঞানকে শত্রু ভেবো না।
সে তোমার সামনে আয়না ধরে
এখন মুখ ঢাকবে
নাকি মুখ পরিবর্তন করবে
সিদ্ধান্ত তোমার।

দ্বাবিংশ সর্গ : মানবতার শপথ

বিজ্ঞান যদি হয় শুধু শক্তি
তবে সে অসম্পূর্ণ,
বিজ্ঞান যদি হয়
মানুষের কল্যাণের সেবক
তবেই তার মহিমা পূর্ণ।

ক্ষুধার্ত শিশুর মুখে খাদ্য পৌঁছানো
রোগীর কাছে চিকিৎসা
কৃষকের কাছে উন্নত জ্ঞান
দুর্যোগের আগে সতর্কতা
শিক্ষার দ্বার সকলের জন্য খোলা
এই সবও বিজ্ঞানের বিজয়।

মহাকাশে যাওয়া মহৎ
কিন্তু পৃথিবীর ক্ষুধার্ত মানুষকে
বাঁচানোও মহৎ।
পরমাণু বোমা বিস্ময়কর
কিন্তু একটি শিশুর জীবন রক্ষা
তার চেয়ে কম নয়।
মানুষের মহত্ত্ব শুধু সে কতদূর যেতে পারে
তাতে নয়-
সে কাকে সঙ্গে নিয়ে যায় তাতেও।

ত্রয়োবিংশ সর্গ : ভবিষ্যৎ

দূরে আমি দেখি
এক নতুন প্রভাতের আভা
শিশুরা বই খুলেছে
তাদের চোখে নেই অন্ধ ভয়ের ছায়া
তারা প্রশ্ন করে তারা পরীক্ষা করে
তারা ভুল করে তারা আবার শেখে
কেউ নক্ষত্রের দিকে তাকিয়ে
নতুন মহাকাশযানের স্বপ্ন দেখে,
কেউ কোষের ভেতর
নতুন চিকিৎসার সন্ধান করে।
কেউ গণিতের পাতায়
অজানা সমীকরণ লেখে,
কেও হাতে ধরে আর্শিতে
নক্ষত্রের অবস্থান মাপে ।

কেউ পৃথিবীর উষ্ণতা কমানোর
নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে
কেউ শেখে ভিন্ন মত মানেই শত্রু নয়
প্রমাণের সামনে
নিজের মত পরিবর্তন করা
পরাজয় নয়।
সত্যের কাছে আত্মসমর্পণ
মানুষের পরম স্বাধীনতা।

চতুর্বিংশ সর্গ : মহাজাগতিক আহ্বান

হে মানবজাতি! তোমার যাত্রা দীর্ঘ
পেছনে তাকাও গুহা থেকে নগর
আগুন থেকে বিদ্যুৎ
চাকা থেকে মহাকাশযান
অন্ধবিশ্বাস থেকে পরীক্ষা
অজ্ঞতা থেকে জ্ঞান
কত পথ! সামনে কিন্তু
পথ আরও দীর্ঘ।

মঙ্গলগ্রহের লাল প্রান্তর
ধুলিময় দূর উপগ্রহ
অজানা নক্ষত্রের গ্রহ
সমুদ্রের গভীরতম গহ্বর
মানবমস্তিষ্কের অন্ধকার কক্ষ
সবখানেই অপেক্ষা করছে প্রশ্ন।

যাও, কিন্তু সঙ্গে নিও
তোমার যুক্তি
যাও, কিন্তু সঙ্গে নিও
তোমার মানবতা
যাও, কিন্তু মনে রেখো
অজানাকে জয় করা মানে
তাকে ধ্বংস করা নয়
তাকে বোঝা।

পঞ্চবিংশ সর্গ : চূড়ান্ত আহ্বান

আজ তাই
আমি কোনো বিধাতার কাছে
প্রার্থনা করি না অলৌকিক জয়ের জন্য।
আমি প্রার্থনা করি মানুষের কাছে
আরও সাহসী হও
প্রশ্ন করতে সাহসী হও
নিজের ভুল স্বীকার করতে সাহসী হও।
প্রমাণের কাছে
নিজের অহংকার বিসর্জন দিতে সাহসী হও।
যে কথা তোমার প্রিয়
তার বিরুদ্ধেও প্রমাণ শুনতে সাহসী হও।

যে মানুষ তোমার মত নয়
তার কথাও শুনতে শেখো।
কারণ সত্য কোনো দলের নয়
সত্য কোনো জাতির নয়
সত্য কোনো যুগের নয়
সত্য কোনো সিংহাসনের দাস নয়
সত্যের সামনে সব মানুষ সমান।

হে মানবসভ্যতা!
তোমার হাতে আজ
আগুনের চেয়েও শক্তিশালী শক্তি।
তাই তোমার হৃদয়ও
আগুনের চেয়ে উজ্জ্বল হওয়া চাই।

জ্ঞান তোমাকে উচ্চতর করুক,
অহংকারী নয়।
প্রযুক্তি তোমাকে দ্রুত করুক,
অমানবিক নয়।
বিজ্ঞান তোমাকে শক্তিশালী করুক,
নির্মম নয়।
যুক্তি তোমাকে স্বাধীন করুক,
নিষ্ঠুর নয়।
কারণ মানুষের শেষ পরিচয়
সে কত জানে নয়
সে তার জ্ঞান দিয়ে
কী করে
এখানেই প্রজ্ঞার জয়।

এখনও রাত আছে
মহাকাশ এখনও অন্ধকার
অজানা এখনও অসীম
প্রশ্ন এখনও অগণিত
তবু দূরে একটি আলো জ্বলেছে
সে আলো সূর্যের নয়
সে আলো মানুষের মস্তিষ্কে
সে আলো একটি প্রশ্নের
সে আলো একটি পরীক্ষার
সে আলো একটি সত্যের সন্ধানের
সে আলো সন্দেহের ভেতর জন্মানো
অদম্য বিশ্বাসের
সত্যকে জানা সম্ভব
যদিও সব সত্য আজ জানা নেই।

তাই এসো, মানুষ!
অন্ধকারকে অভিশাপ দিও না
দীপ জ্বালো।
অজানাকে দেবতা বানিও না
অনুসন্ধান করো।
ভুলকে লজ্জা ভেবো না
সংশোধন করো।

প্রমাণকে ভয় করো না
স্বাগত জানাও।
প্রশ্নকে হত্যা করো না
তাকে ডানা মেলতে দাও।
কারণ যে শিশুর হাতে প্রশ্নের প্রদীপ
তার ভবিষ্যৎ অন্ধকার নয়।
যে জাতির বিদ্যালয়ে যুক্তির আলো
তার ভবিষ্যৎ স্থবির নয়।
যে জাতি, যে সভ্যতা
নিজের ভুল সংশোধন করতে পারে
তার যাত্রা শেষ নয়।

আর যে মানুষ
অজানার সামনে দাঁড়িয়ে
মাথা উঁচু করে বলে
আমি জানি না
তাই জানতে চাই
তার মাঝেই মানবজাতির ভবিষ্যৎ।

হে বিজ্ঞান! তোমার জয় হোক
মানুষের অন্নে, মানুষের আরোগ্যে,
মানুষের শিক্ষায়,মানুষের মুক্ত চিন্তায়।
হে যুক্তি!
তোমার দীপ জ্বলুক প্রতিটি বিদ্যালয়ে
প্রতিটি গবেষণাগারে,প্রতিটি মুক্ত মস্তিষ্কে।
হে জ্ঞান!
তুমি হিংসার অস্ত্র হয়ো না,
হও সেতু , হও আলো , হও মুক্তির পথ।
আর হে মানুষ
তোমার ক্ষুদ্র দেহে যে মহাবিশ্বের ধূলি
তোমার ক্ষুদ্র মস্তিষ্কে
যে মহাবিশ্বকে বোঝার স্বপ্ন
সেই স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রেখো।

কারণ তুমি ক্ষুদ্র তবু প্রশ্ন করো অসীমকে
তুমি মরণশীল তবু সত্য খোঁজো অনন্তে
তুমি একদিন ধূলি হবে
তবু তোমার আবিষ্কৃত সত্য
পরবর্তী প্রজন্মের হাতে
আবার আলো হয়ে জ্বলবে
এই তো তোমার অমরত্ব।

রাজ্যের নয়, সিংহাসনের নয়
পাথরের স্মৃতিস্তম্ভের নয়
জ্ঞানের অগ্রযাত্রায়।
যতদিন কোনো শিশু
আকাশের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করবে
যতদিন কোনো গবেষক ব্যর্থ পরীক্ষার পরও
আবার যন্ত্র চালাবে
যতদিন কোনো মানুষ
নিজের বিশ্বাসের চেয়ে
সত্যকে বড় করে দেখবে
যতদিন কোনো মুক্ত মস্তিষ্ক বলবে-
প্রমাণ কোথায়?
ততদিন নিভবেনা
মানবসভ্যতার প্রদীপ ।

রাত যত গভীর হোক
প্রভাত আসবেই।
অজানা যত বিশাল হোক
প্রশ্ন চলবেই।
পথ যত দুর্গম হোক
মানুষ চলবেই।

আর মহাকালের নিস্তব্ধ মঞ্চে
একদিন, বহুদূর ভবিষ্যতে,
যখন আমাদের নাম
ধূলির নিচে হারিয়ে যাবে,
তখনও হয়তো কোনো নতুন মানুষ
কোনো নতুন নক্ষত্রের দিকে তাকিয়ে
নিঃশব্দ বিস্ময়ে বলবে
ওখানে কী আছে?

সেই প্রশ্নের মধ্যেই আমাদের উত্তরাধিকার
সেই প্রশ্নের মধ্যেই আমাদের অমর গান
সেই প্রশ্নের মধ্যেই বিজ্ঞানের সূর্যোদয়
সেই প্রশ্নের মধ্যেই যুক্তির বিজয়
সেই প্রশ্নের মধ্যেই মানুষের জয়।

জয় হোক প্রশ্নের, জয় হোক প্রজ্ঞার
জয় হোক যুক্তির দীপ্তি
বিজ্ঞান হোক মানবতার
মুক্তির মহাদীপশিখা।

প্রজ্ঞার জয়ধ্বনি বিজ্ঞান ও
যুক্তির মহাকাব্য
এখানেই সমাপ্ত ।

এতক্ষন ধৈর্য ধরে সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

মন্তব্য ২৯ টি রেটিং +৬/-০

মন্তব্য (২৯) মন্তব্য লিখুন

১| ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫১

সুলাইমান হোসেন বলেছেন: প্রথম লাইক এবং কমেন্ট করে নিলাম।পাঠ শেষে আবারও আসছি মন্তব্যে ফিরে

২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২১

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:


মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
অপেক্ষাকরছি আপনার মুল্যবান মন্দব্যের জন্য ।

শুভেচ্ছা রইল ।

২| ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:০২

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: একাই তো বাজিমাৎ করে দিলেন ।
সামুর প্রথম পাতায় আপনার বিরাট অনুসন্ধানী লেখা ।
প্রাসঙ্গিক কথার জন্য আবার আসব সময় নিয়ে ও পাঠ করে ।
শুভ ব্লগিং ।

২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৩

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



পরের বার পাঠের পর আপনার মুল্যবান মন্ত্যব্যের অপেক্ষায় রইল ।
শুভেচ্ছা রইল

৩| ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৮

রাজীব নুর বলেছেন: ধর্ম এবং বিজ্ঞান মিলেমিশে একাকার করে ফেলেছেন।
ধর্ম এবং বিজ্ঞান একসাথে যায় না। এটাই মহা সত্য। সত্য কথা বলতে বিজ্ঞান ধর্মকে প্রায় কোণঠাসা করে ফেলেছে।

২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:








আপনি পোস্টের একটি অক্ষরো পড়েননি এটা শতভাগ নিশ্চিত । শুধু নবি রাসুলদের ছালাম দিয়ে তারপর পুরা পোস্টিই
ধর্মকে বাদ দিয়ে পুরা পোস্ট জুরেই বিক্ষান ও যুক্তিকে অনুসরন করার জন্য বলা হয়েছে । এই বিশাল লেখাটি রচনার
করার জন্য দিন রাত দুইদিন খাটতে হয়েছে। আপনার উল্টা পাল্টা মন্তব্য দেখে আপনার উস্তাদের কথার সুর ধরেই
বলতে বাধ্য হচ্ছি সেরকম দৃস্টিকোন নিয়ে এর চেয়ে আর ভাল কী বলবেন । এটাই মনে হয় আমার সামু ব্লগ জীবনে
কাওকে একটু ভিন্ন সুরে কথা বলা । সকলেই আমাকে একজন বিনয়ি ব্লগার হিসাবেই জানে । যাহোক যদি পারেন
তাহলে ধীর স্থিরভাবে মনযোগ দিয়ে প্রতিটি কথার অর্থ বুঝে পুরাটা পোস্ট পড়ে তার পরে ভেবে দেখবেন আপনি
কতটুকু ভুল ।

শুভেচ্ছা রইল

৪| ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৫

হুমায়রা হারুন বলেছেন: মানব অস্তিত্বের গভীরে যে চেতনা, তা কেবল ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য জ্ঞান বা তথ্য নয়; বরং তারও ঊর্ধ্বে এক গভীর উপলব্ধি, অন্তর্দৃষ্টি ও সত্য অনুধাবনের শক্তি প্রোথিত আছে ।
এরই নাম প্রজ্ঞা।
প্রজ্ঞা মানব সভ্যতার মৌলিক চালিকাশক্তি। মানব সভ্যতার চূড়ান্ত সার্থকতা তখনই আসে, যখন সে প্রজ্ঞার আলোয় আলোকিত হয়ে সত্য, ন্যায় ও চেতনার সর্বোচ্চ স্তরে উন্নীত হয়ে সত্তার পূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারে।
আধ্যাত্মিক উৎকর্ষে বিজয়ী হওয়াই চেতনার বিকাশের চূড়ান্ত লক্ষ্য । না হলে কিসের মানব জন্ম। এই সত্য উপলব্ধির মাধ্যমেই মহাকালের যাত্রাপথে নিজেকে চেনা সম্ভব, নিজেকে অনুধাবন করা সম্ভব।
সেই আদি হতে বর্তমান ছাড়িয়ে ভবিষ্যতের যে চিত্র আপনি এ মহাকাব্যে অংকন করেছেন, তা অসাধারণ একটি রচনা। প্রজ্ঞা থাকলে মানব সভ্যতা জয়যুক্ত হবেই।

২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৩৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




আপনার এই মননশীল মন্তব্যটি পড়ে সত্যিই মুগ্ধ হলাম। কোনো সৃষ্টিকর্মের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বোধহয় তখনই,
যখন তা পাঠকের মনে শুধু ভালো লাগার অনুভূতি জাগায় না, বরং তাকে নিজের অস্তিত্ব, চেতনা ও মানবজীবনের
অর্থ নিয়ে নতুন করে ভাবতে শেখায়।

‘প্রজ্ঞা’কে আপনি যেভাবে নিছক জ্ঞান বা তথ্যের ঊর্ধ্বে এক গভীর অন্তর্দৃষ্টি ও সত্য অনুধাবনের শক্তি হিসেবে
ব্যাখ্যা করেছেন, সেটিই আপনার মন্তব্যটিকে বিশেষ তাৎপর্য দিয়েছে। জ্ঞান আমাদের অনেক কিছু জানায়, কিন্তু
প্রজ্ঞা সেই জানা বিষয়গুলোর অন্তর্নিহিত সত্যকে উপলব্ধি করতে শেখায়। আর সম্ভবত মানুষের প্রকৃত উত্তরণ
সেখানেই যেখানে জানা থেকে বোঝা, বোঝা থেকে উপলব্ধি এবং উপলব্ধি থেকে আত্মজিজ্ঞাসার জন্ম হয়।

মানবসভ্যতার ইতিহাসও যেন সেই আত্মজিজ্ঞাসারই দীর্ঘ অভিযাত্রা। মানুষ শুধু প্রকৃতিকে জয় করতে চায়নি
একই সঙ্গে সে জানতে চেয়েছে আমি কে, কেন আমার এই অস্তিত্ব, আমার পথ কোথায় এবং আমার যাত্রার চূড়ান্ত
অর্থই বা কী? আপনার মন্তব্যে সেই চিরন্তন প্রশ্নগুলোরই অনুরণন খুঁজে পেলাম।

আপনি যে আধ্যাত্মিক উৎকর্ষে বিজয়ী হওয়া’র কথা বলেছেন, সেটিও গভীরভাবে ভাববার মতো। বাহ্যিক সাফল্য
মানুষকে সমৃদ্ধ করতে পারে, কিন্তু নিজের ভেতরের অন্ধকার, অহং, লোভ, হিংসা ও অজ্ঞতাকে অতিক্রম করতে না
পারলে সেই সাফল্য কতটা পূর্ণ সেটিই হয়তো বড় প্রশ্ন। আত্মজয়ই তাই শেষ পর্যন্ত বৃহত্তর মানবজয়ের একটি
পথ হয়ে উঠতে পারে।

আর আমার লেখাকে আপনি আদি হতে বর্তমান ছাড়িয়ে ভবিষ্যতের চিত্র হিসেবে যে দৃষ্টিতে দেখেছেন, সেটি
আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও প্রেরণার। একজন লেখকের কাছে পাঠকের এমন গভীর পাঠই সবচেয়ে বড় পাওয়া।
কারণ লেখক যখন কোনো ভাবনা কাগজে রেখে দেন, তার পরবর্তী জীবন শুরু হয় পাঠকের চেতনায়। পাঠক
নিজের অভিজ্ঞতা, দর্শন ও উপলব্ধির আলো দিয়ে সেই লেখাকে নতুন অর্থ দেন।

আপনার শেষ কথাটি প্রজ্ঞা থাকলে মানবসভ্যতা জয়যুক্ত হবেই আমার কাছেও একটি আশাবাদী মানবিক বিশ্বাসের
মতো প্রতিধ্বনিত হলো। জ্ঞান আমাদের পথ দেখাক, প্রজ্ঞা আমাদের সেই পথের অর্থ বুঝতে শেখাক, আর মানবিকতা
আমাদের সেই পথকে সুন্দর করে তুলুক তবেই হয়তো মানুষের দীর্ঘ যাত্রা সত্যিকার অর্থে সার্থকতার দিকে এগিয়ে
যাবে।

এমন গভীর মননশীল পাঠ ও হৃদয়স্পর্শী প্রতিক্রিয়ার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা। আপনার মন্তব্য আমার
লেখাকে শুধু মূল্যায়ন করেনি, বরং তার অন্তর্নিহিত ভাবনাগুলোকে আরও এক ধাপ গভীরে নিয়ে গেছে।

শুভেচ্ছা রইল

৫| ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৮

কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত) বলেছেন: প্রথম বন্দনা থেকে শেষ তক!
মানব জীবনের সকল সূত্রপাত-
একি অপরূপ স্তরের বিন্যাস;
করিলাম আস্বাদন-
করিলাম অবগাহন;
নগ্ন চোখে যা করিনি
এতোদিন অবলোকন!!


২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৩

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




আপনার এই কয়েকটি পঙ্‌ক্তি পড়ে মনে হলো আমার লেখাটিকে আপনি শুধু পড়েননি, তার ভেতর দিয়ে যেন
হেঁটে গেছেন; অনুভব করেছেন তার জন্ম থেকে পরিণতি পর্যন্ত প্রতিটি বাঁক, প্রতিটি আলো-আঁধারি।

প্রথম বন্দনা থেকে শেষ তক এই একটি বাক্যেই যেন সৃষ্টির সমগ্র পরিক্রমাকে ধারণ করে ফেলেছেন। শুরু থেকে
শেষ পর্যন্ত মানবজীবনের যে অদৃশ্য সূত্র, যে রহস্যময় বিন্যাস, যে অনন্ত যাত্রা আপনার শব্দে তারই এক অপূর্ব
প্রতিধ্বনি শুনতে পেলাম।

‘করিলাম আস্বাদন, করিলাম অবগাহন’ এই দুটি শব্দবন্ধ আমাকে বিশেষভাবে স্পর্শ করেছে। কারণ কোনো লেখা
যখন পাঠকের চোখের সামনে থেকে সরে গিয়ে তার অনুভূতির ভেতরে প্রবেশ করে, তখনই বোধহয় পাঠ সত্যিকার
অর্থে সার্থক হয়। আপনি শুধু অক্ষর দেখেননি; অক্ষরের আড়ালে থাকা অনুভূতির জলে অবগাহন করেছেন
একজন লেখকের কাছে এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে!

আর আপনার শেষ পঙ্‌ক্তি

নগ্ন চোখে যা করিনি
এতোদিন অবলোকন!!

এ যেন পাঠের সবচেয়ে গভীর স্বীকৃতি। আমাদের চারপাশে কত কিছু প্রতিদিন ঘটে, অথচ সবকিছু আমরা সত্যিকার
অর্থে দেখি না। কখনো কখনো একটি লেখা সেই অদেখাকে দেখার চোখ তৈরি করে দেয়; পরিচিত জীবন, পরিচিত
মানুষ ও পরিচিত অস্তিত্বের ভেতর লুকিয়ে থাকা অপরিচিত সত্যকে হঠাৎ দৃশ্যমান করে তোলে।

আপনার এই মন্তব্য তাই আমার লেখার ওপর শুধু একটি প্রতিক্রিয়া নয়; বরং আমার লেখাকে আপনি নিজের
অনুভবের আলোয় পুনর্নির্মাণ করেছেন। লেখক একটি দরজা খুলে দেন, কিন্তু সেই দরজা দিয়ে পাঠক কোথায়
যাবেন, কতদূর যাবেন এবং কী আবিষ্কার করবেন তার কোনো শেষ সীমানা নেই।

আপনার পাঠ সেই অসীম যাত্রারই এক সুন্দর সাক্ষ্য।

কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ছোট করতে চাই না শুধু এটুকু বলি, লেখকের শব্দ যদি পাঠকের হৃদয়ে গিয়ে নতুন কোনো
উপলব্ধির জন্ম দেয়, তবে সেই মুহূর্তেই লেখাটি তার দ্বিতীয় জীবন লাভ করে। আপনার এই কয়েকটি পঙ্‌ক্তিতে
আমার লেখাটি যেন সেই দ্বিতীয় জীবনটুকু পেল।

অন্তরের গভীর থেকে ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা রইল আপনার জন্য।

৬| ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭

হুমায়রা হারুন বলেছেন: ৩ নং মন্তব্যের উত্তরের প্রতিউত্তরঃ
আলী ভাই, আমি নিশ্চিত আপনি ৩ নং মন্তব্যদাতার কাছ থেকে আপনার মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে কোন উত্তর পাবেন না।
বরং কিছুক্ষণ পর দেখবেন উনি এসে বলছেন, 'পোষ্টে কে কি মন্তব্য করলো দেখতে এলাম।'
সুতরাং বুঝতেই পারছেন এই দুইজন দুটি আলাদা সত্তা ।
তারা অবশ্যই ভীনগ্রহী। তাদের পরস্পরের টাইম -লাইন, রিয়্যালিটি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




আপনার কথাগুলো পড়ে মনে হলো, আপনি শুধু আমার প্রতিমন্তব্যটিই পড়েননি তার পেছনের মানুষটিকেও খুব
সূক্ষ্মভাবে চিনে নিয়েছেন। আর সত্যি বলতে কী, আপনার উপলব্ধির জায়গাটিই আমাকে সবচেয়ে বেশি ছুঁয়ে গেল।

৩ নম্বর মন্তব্যকারীর সঙ্গে আমার পরিচয় আজকের নয় দীর্ঘ এক যুগের। এতটা দীর্ঘ সময়ের পরিচয়ে একজন
মানুষের চিন্তার ধরন, অনুভবের গভীরতা, ভাষার ভঙ্গি এবং সত্যকে দেখার নিজস্ব দৃষ্টিটুকু কিছুটা হলেও চিনে
ফেলা যায়। তাই তাঁর ওই কয়েকটি পঙ্‌ক্তির মধ্যে যে অনুভবটি ছিল, সেটিকে আমি কেবল একজন সাধারণ
পাঠকের তাৎক্ষণিক মন্তব্য হিসেবে দেখিনি; বরং দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত একজন মানুষের চিরাচরিত দৃষ্টিভঙ্গি
হিসেবেই গ্রহণ করেছি।

আপনি যে জায়গাটি ধরেছেন, সেটিই আসলে আমার কাছে বিশেষ। অনেকেই লেখা পড়েন, কেউ কেউ প্রশংসা
করেন; কিন্তু খুব অল্পসংখ্যক পাঠক আছেন, যারা লেখার আড়ালে থাকা লেখককে এবং শব্দের আড়ালে থাকা
অনুভূতিকে পড়তে পারেন। আপনার মন্তব্যে সেই পাঠকসত্তাটিই আমি অনুভব করেছি।

আর একটি কথা আপনার এই পর্যবেক্ষণ আমাকে মনে করিয়ে দিল, একজন লেখকের সৌভাগ্য শুধু তার লেখা
পাঠকের কাছে পৌঁছানোতে নয়; বরং এমন কিছু পাঠক পাওয়া, যারা কখনো কখনো লেখকের নিজের চেয়েও
তার লেখার অন্তর্লীন অর্থটিকে স্পষ্ট করে তুলতে পারেন।

আপনি সেই বিরল পাঠকদেরই একজন।

তাই আমার আগের প্রতিমন্তব্যের প্রতিটি শব্দের সঙ্গে আপনার এই উপলব্ধিটিও আজ যেন জুড়ে গেল। একজন
দীর্ঘদিনের পরিচিত পাঠকের গভীর অনুভবকে যেমন আমি সম্মান করি, তেমনি একজন গুণমুগ্ধ পাঠকের এমন
তীক্ষ্ণ ও আন্তরিক পাঠকেও হৃদয়ের বিশেষ জায়গায় রাখি।

আপনার এই কথাগুলো আমার কাছে প্রশংসার চেয়েও বেশি কিছু এ যেন আমার লেখকসত্তার প্রতি একজন সহৃদয়
পাঠকের নীরব অথচ গভীর স্বীকৃতি।

অশেষ কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা রইল।

৭| ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৯

কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত) বলেছেন: আপনি অনেক জ্ঞানী, গুণী ও মহান হৃদয়ের মানুষ। তাই আপনি প্রতিটি পাঠককে পরম মমতায় আগলে রাখেন ~এটা আমার কাছে আর্শীবাদের মতোই প্রশান্তিকর! আপনি লিখতো থাকুন, সুস্থ থাকুন, প্রাণবন্ত থাকুন ~এই কামনায়।

২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:১০

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




আপনার এত আন্তরিক, স্নেহমাখা ও হৃদয়ছোঁয়া কথাগুলোর জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। একজন লেখকের
জন্য পাঠকের এমন মমতাভরা অনুভূতি নিঃসন্দেহে বড় প্রাপ্তি; আপনার কথাগুলোও তাই আমার কাছে নিছক
প্রশংসা নয়, বরং এক ধরনের স্নেহের আশ্রয় বলেই মনে হয়েছে।

তবে আপনি আমাকে যে উচ্চতায় বসিয়ে দেখেছেন, সত্যি বলতে নিজেকে তার যোগ্য বলে মনে করতে পারি না।
আপনার ভালোবাসার চোখে হয়তো আমার লেখায় জ্ঞান, গুণ কিংবা হৃদয়ের কোনো বিশেষ সৌন্দর্য ধরা পড়েছে
কিন্তু নিজের সম্পর্কে আমার উপলব্ধি অনেকটাই সাধারণ। সমাজের কিংবা এই ব্লগের আর দশজন মানুষের মতোই
আমিও একজন খুব সাধারণ মানের ব্লগার-লেখক। আমারও সীমাবদ্ধতা আছে, ভুলত্রুটি আছে, ভাবনার অপূর্ণতা
আছে। তাই নিজেকে অসাধারণ কিছু ভাবার মতো কোনো দাবিই আমার নেই।

আমি শুধু আমার সামান্য বোধ, বিবেক ও জীবন থেকে যতটুকু উপলব্ধি করি, তার মধ্য থেকেই কথা বলার চেষ্টা করি।
যা নৈতিক বলে মনে হয়, যা বলা উচিত বলে মনে হয়, যা মানুষের প্রতি দায়িত্ব ও মর্যাদাকে অক্ষুণ্ণ রাখে সাধ্যমতো
শুধু সেই কথাগুলোই বলার চেষ্টা করি। সব কথা যে যথার্থ হয়, এমন দাবিও করি না; বরং ভুল হলে তা থেকে শেখার মানসিকতাটুকু ধরে রাখতেই চাই।আমার লেখালেখির পথটুকু তাই কোনো বড়ত্বের প্রকাশ নয়, বরং একজন সাধারণ
মানুষের নিজের দেখা, ভাবা ও অনুভব করা কথাগুলো অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার একান্ত প্রয়াস মাত্র।

আপনার চোখে যে সম্মান ও ভালোবাসা পেয়েছি, সেটিকে নিজের কৃতিত্ব হিসেবে না দেখে বরং আপনার উদার
হৃদয়েরই পরিচয় হিসেবে গ্রহণ করছি। মানুষের ভালোবাসা ও শুভকামনা লেখার পথকে যেমন আনন্দময় করে,
তেমনি নিজের কথাগুলোকে আরও সংযত, দায়িত্বশীল ও সত্যনিষ্ঠ রাখার কথাও মনে করিয়ে দেয়।

আমার জন্য আপনার যে সুন্দর আশীর্বাদ ও শুভকামনা লিখে যেতে, সুস্থ থাকতে, প্রাণবন্ত থাকতে তা আন্তরিক শ্রদ্ধা
ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে গ্রহণ করছি। আপনার এই মমতা ও শুভকামনা যেন আমার লেখার পথে নীরব প্রেরণা হয়ে থাকে।
আপনিও ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, আনন্দে থাকুন। আপনার মতো একজন সংবেদনশীল পাঠকের আন্তরিকতা
একজন সাধারণ লেখকের জন্য সত্যিই বড় এক প্রাপ্তি।

শুভ কামনা রইল

৮| ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:১৮

শায়মা বলেছেন: ভাইয়া
এতো কবিতা নহে পুরাই কবিতা সমগ্র ।

তুমি আজকাল অনেক ভাবছো!!!

সবার উপরে তোমার ভেতরের মানবিকতা উদারতা তোমার লেখায় প্রকাশ পায়।

২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:৪৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




আপুমনি, তোমার এমন মমতাভরা কথাগুলো পড়ে সত্যিই কিছুক্ষণ থেমে যেতে হয়। কিছু কিছু মন্তব্য শুধু পড়া
হয় না, মনের ভেতর গিয়ে নীরবে বসে থাকে তোমার এই কথাগুলোও ঠিক তেমনই। একজন লেখকের কাছে
পাঠকের আন্তরিক অনুভূতি নিছক প্রশংসা নয়; তার ভেতরে যে ভালোবাসা, বিশ্বাস, স্নেহ আর এক ধরনের নীরব
উৎসাহ মিশে থাকে, সেটিই হয়তো লেখালেখির পথে এগিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে বড় প্রেরণাগুলোর একটি। তাই
তোমার কথাগুলোকে নিজের কোনো কৃতিত্ব বলে গ্রহণ করার মতো দুঃসাহস আমার নেই; বরং এগুলোকে
তোমার উদার ও স্নেহময় হৃদয়েরই এক অপূর্ব প্রকাশ বলে মনে করছি।

তুমি বলেছ এত কবিতা নহে, পুরাই কবিতা সমগ্র।

আপুমনি, কথাটা আমার মতো একজন সাধারণ লেখকের জন্য সত্যিই অনেক বড় একটি প্রাপ্তি। এত বড় করে
আমাকে দেখার মতো চোখ আমার নিজের নেই। তোমার ভালোবাসার চোখে হয়তো আমার লেখার মধ্যে কবিতার
কোনো অনুরণন ধরা পড়েছে; কিন্তু নিজের দিকে ফিরে তাকালে আমি সেখানে কোনো কবিসত্তার মহিমা খুঁজে পাই
না। আমি তো কেবল আমার ভেতরে জমে থাকা কিছু অনুভব, কিছু প্রশ্ন, কিছু বিস্ময়, কিছু অস্থিরতা আর জীবন
থেকে কুড়িয়ে পাওয়া সামান্য কিছু উপলব্ধিকে নিজের মতো করে শব্দে সাজানোর চেষ্টা করি। সেই শব্দগুলো যদি
তোমার মতো একজন সংবেদনশীল পাঠকের মনে কবিতার আবেশ সৃষ্টি করে, তবে সেটিকে আমার লেখার
মাহাত্ম্য না বলে তোমার পাঠক-হৃদয়ের সৌন্দর্য বলতেই আমার বেশি ভালো লাগে।

তোমার পুরাই কবিতা সমগ্র কথাটির মধ্যে যে ভালোবাসা আছে, সেটিই আমার কাছে আসল কথা। কারণ একজন
লেখক যতই লিখুক, তার লেখার প্রকৃত জীবন তো পাঠকের অনুভবেই। লেখক কেবল শব্দগুলোকে পৃথিবীতে
পাঠিয়ে দেয়; তারপর সেই শব্দ কোথায় গিয়ে কোন হৃদয়ে কী অর্থ তৈরি করবে, তার ওপর তার আর কোনো
অধিকার থাকে না। আমার লেখার শব্দগুলোও তোমার মনের ভেতর গিয়ে যদি অন্য কোনো অর্থ, অন্য কোনো
অনুভূতি কিংবা অন্য কোনো সৌন্দর্যের জন্ম দিয়ে থাকে, তবে সেই সৌন্দর্যের অংশীদার তুমি নিজেও।

আর তুমি যখন বলেছ তুমি আজকাল অনেক ভাবছো!!!

এই কথাটাও আমাকে বেশ ভাবিয়ে তুলেছে, আপুমনি। হয়তো সত্যিই ভাবছি। তবে জ্ঞানী হয়ে ভাবছি এমনটা
ভাবার কোনো কারণ নেই। বরং যত বেশি ভাবি, ততই বুঝতে পারি কত অল্প জানি, কত কিছুই আমার অজানা
রয়ে গেছে। পৃথিবী, মানুষ, জীবন, বিজ্ঞান, যুক্তি, নৈতিকতা, মানবিকতা এসবের কোনো বিষয়কেই নিজের
সামান্য জ্ঞান দিয়ে সম্পূর্ণ বুঝে ফেলার মতো ঔদ্ধত্য আমার নেই। বরং প্রতিটি প্রশ্ন আমাকে নতুন প্রশ্নের সামনে
দাঁড় করায়। প্রতিটি উত্তর আবার অন্য কোনো অজানার দরজা খুলে দেয়।

তাই আমার এই ভাবনাগুলোকে কোনো চূড়ান্ত সত্যের ঘোষণা হিসেবে দেখার অবকাশ নেই। এগুলো একজন
সাধারণ মানুষের নিজের দেখা, নিজের বোঝা, নিজের অনুভব করা এবং নিজের কাছে বারবার প্রশ্ন করার সামান্য
প্রয়াস মাত্র। আমি হয়তো কিছু লিখি, কিন্তু সেই লেখার আড়ালে আসলে অনেক প্রশ্নই রেখে যেতে চাই। কারণ
আমার কাছে মনে হয় প্রশ্ন করার ক্ষমতাটিই মানুষকে ক্রমাগত অনুসন্ধিৎসু রাখে; আর অনুসন্ধিৎসাই হয়তো জ্ঞানের
পথে মানুষের সবচেয়ে সুন্দর যাত্রা।

প্রজ্ঞার জয়ধ্বনি বিজ্ঞান ও যুক্তির মহাকাব্য এই নামটিও তাই আমার কাছে কোনো আত্মগৌরবের ঘোষণা নয়,
আপুমনি। বরং বিজ্ঞান ও যুক্তির সেই বিশাল মহাসমুদ্রের তীরে দাঁড়িয়ে একজন সাধারণ মানুষের বিস্ময় প্রকাশের
সামান্য প্রয়াস। বিজ্ঞান আমাকে শেখায় প্রশ্ন করতে হয় যুক্তি শেখায় নিজের বিশ্বাসকেও যাচাই করতে হয়, আর
মানবিকতা শেখায় জ্ঞান যতই অর্জিত হোক, মানুষকে ছোট করে সেই জ্ঞান কখনো বড় হয়ে উঠতে পারে না।

তুমি আমার লেখার মধ্যে মানবিকতা আর উদারতা দেখতে পেয়েছ এই কথাটিই হয়তো তোমার মন্তব্যের সবচেয়ে
গভীর ও মূল্যবান অংশ। কিন্তু এখানেও তোমার প্রতি আমার একটু আপত্তি আছে, আপুমনি। কারণ নিজেকে আমি
কোনো বিশেষ মানবিক বা উদার মানুষ বলে মনে করি না। সমাজের আর দশজন সাধারণ মানুষের মতোই আমারও
সীমাবদ্ধতা আছে, ভুল আছে, দুর্বলতা আছে, কখনো কখনো নিজের অজান্তেই সংকীর্ণতার ছায়াও হয়তো আমার
কথায় এসে পড়ে। মানুষ হিসেবে আমি তার ঊর্ধ্বে নই।

শুধু চেষ্টা করি মানুষকে মানুষ হিসেবেই দেখতে। মতের অমিল থাকলেও মানুষের মর্যাদাটুকু যেন অক্ষুণ্ণ থাকে।
কোনো কথাকে ভুল মনে হলে যুক্তি দিয়ে তার সঙ্গে দ্বিমত করতে, কিন্তু মানুষটিকে অসম্মান না করতে। যা নৈতিক
বলে মনে হয়, যা উচিত বলে মনে হয়, যা বিবেকের কাছে সঠিক বলে প্রতীয়মান হয় সাধ্যমতো শুধু সেই কথাগুলোই
বলার চেষ্টা করি। হয়তো সবসময় পারি না, হয়তো আমার উপলব্ধিতেও ভুল থাকে, তবু অন্তত সেই চেষ্টাটুকু করে
যেতে চাই।

আসলে আপুমনি, তোমার এই প্রশংসাগুলো আমাকে যতটা আনন্দ দেয়, তার চেয়ে বেশি এক ধরনের দায়িত্বের
অনুভূতি তৈরি করে। কারণ কেউ যখন একজন লেখার মধ্যে মানবিকতা দেখতে পান, তখন সেই লেখকের নিজের
কাছেই প্রশ্ন জেগে ওঠে আমি কি সত্যিই আমার কথার প্রতি সুবিচার করছি? আমার শব্দগুলো কি সত্যিই মানুষের
প্রতি সম্মান বহন করছে? আমার যুক্তির মধ্যে কি অহংকার ঢুকে পড়ছে না? আমার মতের দৃঢ়তা কি কখনো
অন্যের প্রতি অবজ্ঞায় পরিণত হচ্ছে না?

এই আত্মজিজ্ঞাসাগুলো আমার কাছে খুব প্রয়োজনীয়। কারণ আমি মনে করি, লেখকের সবচেয়ে বড় বিপদ অজ্ঞতা
নয় নিজের অজ্ঞতা সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা। আর তার চেয়েও বড় বিপদ হলো নিজের সামান্য জ্ঞানকে সম্পূর্ণ সত্য বলে
ধরে নেওয়া। তাই যত লিখি, ততই চাই নিজের কথাকেও প্রশ্ন করতে, নিজের ভুলের সম্ভাবনাকেও স্বীকার করতে
এবং অন্যের ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির জন্যও মনের দরজাটা খোলা রাখতে।

তুমি হয়তো আমার লেখায় অনেক কিছু খুঁজে পাও, কিন্তু নিজের চোখে আমি এখনো সেই আগের মতোই খুব সাধারণ
একজন মানুষ সমাজের আর দশজনের মতোই একজন সাধারণ মানের ব্লগার-লেখক। আমার কোনো বিশেষ জ্ঞানীর
আসন নেই, কোনো মহত্ত্বের দাবিও নেই। আমি শুধু আমার সামান্য বোধ, বিবেক, অভিজ্ঞতা ও অনুভূতির জায়গা
থেকে কথা বলি। যা নৈতিক ও উচিত বলে মনে হয়, সাধ্যমতো শুধু সেই কথাটুকু বলেই যেতে চাই। এর বাইরে
নিজেকে বড় করে দেখার কোনো কারণ আমি দেখি না।

আর হয়তো এই কারণেই তোমার মতো পাঠকের ভালোবাসা আমার কাছে এত মূল্যবান। কারণ একজন সাধারণ
লেখক যখন কোনো পাঠকের হৃদয়ে সামান্য জায়গা করে নিতে পারে, তখন তার লেখার সার্থকতা সেখানেই।
লেখাটি কত বড় হলো, কতটা জ্ঞানগর্ভ হলো, কত মানুষ পড়ল এসবের বাইরেও যদি একটি মানুষের মনে একটি
প্রশ্ন জাগে, একটি অনুভূতি জন্ম নেয়, কিংবা কোনো একটি মানবিক ভাবনা একটু গভীর হয় তাহলেই মনে হয়,
শব্দগুলো একেবারে বৃথা যায়নি।

তোমার এই কথাগুলো তাই আমার জন্য শুধু প্রশংসা নয়, এক ধরনের স্নেহমাখা আয়না। সেই আয়নায় তুমি
আমাকে যেভাবে দেখেছ, তার যোগ্য হয়ে ওঠা হয়তো আমার পক্ষে সম্ভব হবে না; তবু তোমার এই বিশ্বাসটুকুকে
যেন কখনো অসম্মান না করি সেটুকু চেষ্টা অবশ্যই থাকবে।

আর একটা কথা, আপুমনি তুমি আমাকে যেভাবে ভালোবাসার চোখে দেখো, সেটি যেন আমার জন্য অহংকারের
কারণ না হয়ে বরং আরও বিনয়ী হওয়ার শিক্ষা হয়ে থাকে। কারণ মানুষের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসার সবচেয়ে
সুন্দর প্রতিদান বোধহয় সেই ভালোবাসাকে নিজের বড়ত্বের প্রমাণ না বানিয়ে, আরও ভালো মানুষ হওয়ার
অনুপ্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করা।

আমি লিখে যেতে চাই, আপুমনি। তবে জ্ঞানের অহংকার নিয়ে নয় জানার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে। নিজের শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা
নিয়ে নয় সত্যকে একটু কাছ থেকে দেখার চেষ্টা নিয়ে। কাউকে ছোট করার জন্য নয় মানুষকে, জীবনকে এবং
পৃথিবীকে একটু গভীরভাবে বোঝার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে। আর সবকিছুর ওপরে, মানুষের প্রতি সামান্য মমতা, যুক্তির
প্রতি শ্রদ্ধা এবং নৈতিকতার প্রতি যতটুকু দায়বোধ আছে, সেটুকু আঁকড়ে ধরেই লিখে যেতে চাই।

তোমার এই স্নেহমাখা মন্তব্য আমার পথচলায় নিঃসন্দেহে একটি সুন্দর স্মৃতি হয়ে থাকবে। তোমার চোখে আমার
লেখায় যে কবিতা, যে প্রজ্ঞা, যে মানবিকতা ধরা পড়েছে তার সবটুকু হয়তো আমার নয়; তার অনেকটাই তোমার
নিজের সুন্দর মন থেকে এসে আমার লেখাকে আলোকিত করেছে।

তাই তোমাকে শুধু ধন্যবাদ বললে হয়তো কথাটা খুব ছোট হয়ে যায়। তোমার এই ভালোবাসা, এই মমতা, এই উদার
পাঠক-দৃষ্টি আমি গভীর কৃতজ্ঞতায় গ্রহণ করলাম। আমার জন্য দোয়া রেখো যেন লিখতে গিয়ে কখনো নিজেকে বড়
মনে না করি, যেন ভুল হলে তা বুঝতে পারি, সত্য মনে হলে তা যুক্তি দিয়ে বলতে পারি, আর মানুষকে ভালোবাসার
জায়গাটুকু কোনোদিন হারিয়ে না ফেলি।

তুমি ভালো থেকো, আপুমনি। তোমার এই স্নেহময় পাঠকসত্তা, এই আন্তরিকতা আর এই মমতার আলো আমার
মতো একজন সাধারণ লেখকের পথচলায় নীরব প্রেরণা হয়ে থাকুক। আর আমার কলম যতদিন চলে সে যেন
কোনো অহংকারের জয়ধ্বনি না তোলে, বরং সত্য, যুক্তি, নৈতিকতা, মানবিকতা আর মানুষের প্রতি ভালোবাসার
সামান্য কথাগুলোই বিনয়ের সঙ্গে বলে যেতে পারে এইটুকুই আমার চাওয়া।

অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল

৯| ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৩৬

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




ভাই সাহেব,
আপনার গত পোস্ট আমার সমাধিতে কোনো ফলক রেখো না - আমি মন্তব্য করে এসেছি খুব সম্ভব গতকাল।

জ্ঞান যদি আলো হয়, বিবেক তার দীপশিখা,
বিজ্ঞান যদি পথ দেখায়, মানুষ হোক তার দিশা।
আকাশ ছুঁয়েছে মানুষ, মুঠোয় ধরেছে চাঁদ,
তবু কেন মানুষের মনে জমে থাকে এত বিষাদ?

যন্ত্র বানিয়ে বিশ্ব জিতি, হৃদয়টা কি জিতেছি?
অজানাকে জানার নেশায়, মানুষকে কি চিনেছি?
বইয়ের পাতায় জ্ঞান বাড়ে, বিবেক বাড়ে কবে?
বিজ্ঞান তখনই সুন্দর, যখন মানবতা রবে।
জ্ঞান হোক সত্যের সন্ধান, বিজ্ঞান হোক কল্যাণ,
বিবেক জাগুক মানুষের মাঝে - এই হোক সভ্যতার প্রাণ।


আপনার প্রতি শুভ কামনা রইলো।

২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:০৫

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



প্রিয় ভাই ঠাকুরমাহমুদ,
গতকাল আমার সমাধিতে কোনো ফলক রেখো না একটি প্রতিমন্তব্য লিখে রেখে এসেছি ।

আজকের আমার এ লেখাটির বিষয়ে আপনার এই অসাধারণ পঙ্‌ক্তিমালার সামনে দাঁড়িয়ে প্রথমেই মনে হলো
এখানে আমার লেখার ওপর কোনো সাধারণ মন্তব্য নেই; বরং আমার লেখার অন্তর্নিহিত ভাবনাগুলোরই যেন এক
নির্মল, গভীর ও আলোকিত প্রতিধ্বনি ফিরে এসেছে। আমি কিছু কথা লিখেছিলাম জ্ঞান, বিজ্ঞান, যুক্তি, বিবেক ও
মানবতার সন্ধানে; আর আপনি সেই ভাবনাগুলোকে নিজের হৃদয়ের আলোয় এমনভাবে রূপ দিয়েছেন যে, আমার
সীমিত শব্দগুলো যেন আপনার কবিতায় এসে আরও বিস্তৃত এক আকাশ পেয়েছে।

আপনার লেখা কবিতার প্রথম দুই পঙ্‌ক্তিই যেন সমগ্র কথাটির মর্মবাণী
“জ্ঞান যদি আলো হয়, বিবেক তার দীপশিখা,
বিজ্ঞান যদি পথ দেখায়, মানুষ হোক তার দিশা।”
কী গভীর অথচ কী সরল একটি সত্য আপনি এই কয়েকটি শব্দে ধারণ করেছেন, ভাই! জ্ঞান সত্যিই আলো সে
অন্ধকার দূর করে, অজানাকে জানার দ্বার খুলে দেয়, মানুষের চিন্তার পরিধিকে প্রসারিত করে। বিজ্ঞান আমাদের
প্রকৃতির রহস্য উন্মোচন করতে শেখায়, মহাবিশ্বের দূরতম প্রান্তে দৃষ্টি পৌঁছে দেয়, অসম্ভবকে সম্ভব করার পথ
দেখায়। কিন্তু সেই আলো যদি বিবেককে আলোকিত না করে, সেই বিজ্ঞান যদি মানুষের কল্যাণের পরিবর্তে
মানুষের বিনাশের উপকরণ হয়ে ওঠে, তবে সেই জ্ঞান ও বিজ্ঞান তার মহত্তম উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হতে পারে।
তাই হয়তো জ্ঞানের সঙ্গে বিবেকের, বিজ্ঞানের সঙ্গে মানবতার এবং শক্তির সঙ্গে নৈতিকতার বন্ধন অপরিহার্য।

মানুষ অন্ধকার থেকে আলোয় এসেছে আগুন আবিষ্কার করেছে, চাকা আবিষ্কার করেছে, আকাশ জয় করেছে,
সমুদ্রের গভীরতা পরিমাপ করেছে, মহাকাশে যন্ত্র পাঠিয়েছে, চাঁদের মাটিতে পা রেখেছে, অণুর ভেতরের রহস্য
উন্মোচন করেছে, দূর নক্ষত্রের আলো বিশ্লেষণ করে কোটি কোটি আলোকবর্ষ দূরের মহাবিশ্বকে জানার চেষ্টা
করেছে। সত্যিই মানুষের জ্ঞানযাত্রা এক বিস্ময়কর মহাকাব্য।
কিন্তু আপনার প্রশ্নটি সেই মহাকাব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এসে আঘাত করেছে
“তবু কেন মানুষের মনে জমে থাকে এত বিষাদ?”
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই হয়তো আমাদের সমস্ত জ্ঞান, সমস্ত বিজ্ঞান এবং সমস্ত সভ্যতাকে আবার মানুষের হৃদয়ের
সামনে দাঁড় করাতে হবে।

আমরা বহির্জগতকে যতটা জয় করেছি, অন্তর্জগতকে কি ততটাই জয় করতে পেরেছি?
আমরা পরমাণুকে ভাঙতে শিখেছি, কিন্তু মানুষের অহংকারকে কতটুকু ভাঙতে পেরেছি?
আমরা মহাকাশের দূরত্ব মাপতে পেরেছি, কিন্তু মানুষের হৃদয়ের দূরত্ব কতটুকু কমাতে পেরেছি?
আমরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরি করছি, কিন্তু মানুষের বিবেককে কতটা জাগিয়ে তুলতে পেরেছি?
আমরা পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে মুহূর্তে সংবাদ পাঠাতে পারি, অথচ কখনো কখনো পাশের মানুষের
নীরব কান্নাটুকুও শুনতে পাই না।
এই বৈপরীত্যই হয়তো আধুনিক সভ্যতার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

আপনি যখন লিখেছেন-
“যন্ত্র বানিয়ে বিশ্ব জিতি, হৃদয়টা কি জিতেছি?
অজানাকে জানার নেশায়, মানুষকে কি চিনেছি?”

তখন মনে হলো, আপনি আসলে বিজ্ঞানের বিরুদ্ধে কোনো প্রশ্ন করেননি; বরং বিজ্ঞানের সঙ্গে মানবতার একটি
গভীর সংলাপের দরজা খুলে দিয়েছেন। বিজ্ঞানকে থামিয়ে দেওয়ার কথা নয় বরং বিজ্ঞানকে আরও মানবিক
করার কথা। জ্ঞানকে প্রত্যাখ্যান করার কথা নয় বরং জ্ঞানের সঙ্গে বিবেককে যুক্ত করার কথা।
কারণ বিজ্ঞান আমাদের বলতে পারে কীভাবে কিছু করা সম্ভব; কিন্তু সেই কাজটি করা উচিত কি না, সেই প্রশ্নের
উত্তর সবসময় বিজ্ঞান একা দিতে পারে না। সেখানে প্রয়োজন নৈতিকতা, প্রয়োজন বিবেক, প্রয়োজন মানবিক
মূল্যবোধ।

একটি প্রযুক্তি মানুষের জীবন সহজ করতে পারে, আবার ভুল হাতে সেটিই মানুষের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
একটি আবিষ্কার কোটি মানুষের জীবন রক্ষা করতে পারে, আবার একই জ্ঞান ধ্বংসের অস্ত্রও তৈরি করতে পারে।
শক্তি নিজে ভালো বা মন্দ নয়; তার ব্যবহারই তাকে কল্যাণের অথবা অকল্যাণের পথে নিয়ে যায়।
আর সেই ব্যবহারকে পথ দেখায় মানুষের বিবেক।

তাই আপনার এই পঙ্‌ক্তিটি
“বইয়ের পাতায় জ্ঞান বাড়ে, বিবেক বাড়ে কবে?”
আমার কাছে পুরো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

বই আমাদের জ্ঞানী করতে পারে, বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের শিক্ষিত করতে পারে, গবেষণা আমাদের আবিষ্কারক
করতে পারে, প্রযুক্তি আমাদের শক্তিশালী করতে পারে; কিন্তু মানুষ হওয়ার শিক্ষা আসে অন্য জায়গা থেকে অন্যের
কষ্ট অনুভব করার ক্ষমতা থেকে, অন্যের অধিকারকে সম্মান করার মধ্য থেকে, নিজের ভুল স্বীকার করার বিনয়
থেকে, অন্যায় দেখলে প্রশ্ন করার সাহস থেকে এবং নিজের ক্ষমতাকে অন্যের কল্যাণে ব্যবহার করার
নৈতিকতা থেকে। জ্ঞান মাথাকে আলোকিত করে; বিবেক হৃদয়কে জাগিয়ে রাখে।
আর এই দুইয়ের মিলনেই হয়তো পূর্ণ মানুষ।

আপনার শেষের পঙ্‌ক্তিগুলো তাই আমার কাছে শুধু কবিতার সমাপ্তি নয় একটি সভ্যতার জন্য এক ধরনের
নৈতিক আহ্বান:
“জ্ঞান হোক সত্যের সন্ধান, বিজ্ঞান হোক কল্যাণ,
বিবেক জাগুক মানুষের মাঝে এই হোক সভ্যতার প্রাণ।”

ভাই, এর চেয়ে সুন্দর সমাপ্তি আর কী হতে পারে!
তবে আপনার এই সুন্দর কথাগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে নিজের অবস্থানটিও একটু পরিষ্কার করে বলতে চাই। আপনি
হয়তো আমার লেখার মধ্যে যে গভীরতা দেখেছেন, আমি নিজের মধ্যে তার এতটা দাবি করতে পারি না। আমি
সমাজের আর দশজন সাধারণ মানুষের মতোই একজন সাধারণ মানের ব্লগার-লেখক। আমার জ্ঞান সীমিত,
অভিজ্ঞতা সীমিত, উপলব্ধিও অসম্পূর্ণ। আমি কোনো প্রজ্ঞাবান মানুষের আসনে বসে কথা বলি না। বরং যত লিখি,
ততই নিজের সীমাবদ্ধতাগুলো আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
আমার লেখাগুলো তাই কোনো চূড়ান্ত সত্যের ঘোষণা নয়; এগুলো একজন সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, অনুসন্ধান, বিস্ময়
ও উপলব্ধির সামান্য ভাষান্তর মাত্র।

আমি যা নৈতিক বলে মনে করি, যা বলা উচিত বলে মনে করি, যা মানুষের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখে সাধ্যমতো শুধু সেই
কথাগুলোই বলার চেষ্টা করি। হয়তো সবসময় ঠিক বলতে পারি না। হয়তো কোনো কোনো জায়গায় আমার চিন্তার
সীমাবদ্ধতা থেকে যায়। হয়তো কোনো প্রশ্নের উত্তরও আমার জানা নেই। কিন্তু প্রশ্ন করার অধিকারটুকু এবং সত্যের '
সন্ধান করার আকাঙ্ক্ষাটুকু ধরে রাখতে চাই।

আপনার কবিতাটি তাই আমার কাছে এক ধরনের আয়না হয়ে উঠেছে। সেখানে আমার লেখার চেয়েও বড় হয়ে ফুটে
উঠেছে সেই প্রশ্নটি—আমরা কী জানছি, তার পাশাপাশি আমরা কী হয়ে উঠছি?
সভ্যতার অগ্রগতি কি শুধু উঁচু ভবন, দ্রুততর প্রযুক্তি, উন্নততর যন্ত্র, বৃহত্তর অর্থনীতি কিংবা মহাকাশ অভিযানের
মাপকাঠিতে বিচার করা যায়?
নাকি সভ্যতার প্রকৃত অগ্রগতি তখনই, যখন একজন শক্তিমান মানুষ দুর্বল মানুষের অধিকারকে সম্মান করে; একজন
জ্ঞানী মানুষ নিজের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে; একজন ক্ষমতাবান মানুষ ক্ষমতার অপব্যবহার না করে; একজন
সফল মানুষ পিছিয়ে পড়া মানুষের দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়; আর একজন মানুষ অন্য একজন মানুষের অশ্রুকে নিজের
অশ্রুর মতো অনুভব করতে শেখে?

আমার মনে হয়, সভ্যতার প্রকৃত পরীক্ষা সেখানেই।
মানুষ চাঁদে পৌঁছেছেএটি বিস্ময়কর।
কিন্তু একজন মানুষ যদি আরেকজন মানুষের হৃদয়ে পৌঁছাতে না পারে, তবে সেই মহাকাশযাত্রার পাশাপাশি
আমাদের অন্তর্জগতের যাত্রাটিও অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

মানুষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরি করেছে এটিও বিস্ময়কর।
কিন্তু মানুষের যদি বিবেক জাগ্রত না থাকে, তবে সেই বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারকে কল্যাণের পথে রাখবে কে?
আমরা জিনের রহস্য উন্মোচন করছি, মহাবিশ্বের জন্মের ইতিহাস অনুসন্ধান করছি, পৃথিবীর গভীরতম স্তর বিশ্লেষণ
করছি অথচ একই সঙ্গে আমাদের নিজেদের ভেতরের হিংসা, লোভ, ঘৃণা, অহংকার ও অসহিষ্ণুতার রহস্যও কি
যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে অনুসন্ধান করছি?
আপনার কবিতা সেই প্রশ্নটিই যেন আমাদের সামনে রেখে গেল।

আর এ কারণেই আপনার মন্তব্যকে আমি শুধু একটি প্রশংসা হিসেবে গ্রহণ করছি না; এটিকে আমার নিজের লেখারও
এক ধরনের সম্প্রসারণ বলে মনে করছি। আমি যে কথাগুলো গদ্য পদ্যে যুক্তিতে, বিশ্লেষণে বলতে চেয়েছি, আপনি সেগুলোকে কবিতার সুরে, হৃদয়ের ভাষায় এবং সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর পঙ্‌ক্তিতে আরও স্পষ্ট করে তুলেছেন।
আপনার এই সৌজন্য ও ভালোবাসার জন্য আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।
মানুষের জন্য জ্ঞান, মানুষের জন্য বিজ্ঞান, মানুষের জন্য সভ্যতা।

আপনার কবিতার শেষ আহ্বানটিকে তাই আমার নিজের লেখারও এক ধরনের প্রার্থনা করে নিতে চাই
জ্ঞান হোক অন্ধকার ভেদ করার আলো
বিজ্ঞান হোক কল্যাণের পথের দিশারি
যুক্তি হোক সত্য অনুসন্ধানের সাহস
বিবেক হোক মানুষের অন্তরের প্রহরী
আর মানবতা হোক সমগ্র সভ্যতার চূড়ান্ত পরিচয়।

ভাই, আপনার এই গুণী কাব্যিক মন্তব্যের জন্য শুধু কৃতজ্ঞতা জানালে হয়তো কথাটি খুব ছোট হয়ে যাবে। আপনি
আমার লেখাকে পড়েছেন, অনুভব করেছেন, তারপর নিজের হৃদয়ের আলো দিয়ে তার একটি নতুন ব্যাখ্যা নির্মাণ
করেছেন এটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

আমি তো কেবল শব্দ সাজাই; অর্থের গভীরতা অনেক সময় পাঠকের হৃদয়ই সৃষ্টি করে।
আজ আপনার কবিতাটি আমার নিজের লেখাকেই যেন নতুন করে পড়িয়ে দিল।
তাই আপনাকে আন্তরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনার কলমও চলুকসত্যের দিকে, মানবতার
দিকে, বিবেকের দিকে। আপনার শব্দে যেন মানুষের প্রতি মানুষের আস্থা আরও একটু জেগে ওঠে, জ্ঞানের সঙ্গে
বিনয়, বিজ্ঞানের সঙ্গে মানবতা এবং যুক্তির সঙ্গে বিবেকের যে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক—সেই সত্যটি আরও বহু হৃদয়ে
পৌঁছে যায়।

আপনার অসাধারণ পঙ্‌ক্তিমালার প্রতি রইল আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
জ্ঞান আলোকিত করুক আমাদের মস্তিষ্ক
বিজ্ঞান প্রসারিত করুক আমাদের দিগন্ত
যুক্তি শুদ্ধ করুক আমাদের চিন্তা
বিবেক পাহারা দিক আমাদের কর্ম,
আর মানবতা-
মানবতা হয়ে উঠুক আমাদের সমস্ত জ্ঞানের শেষ ও শ্রেষ্ঠ ঠিকানা।
আপনার প্রতিও রইল আন্তরিক শুভকামনা। সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন, লিখে যান আপনার কলমেও যেন সত্য,
বিবেক, বিজ্ঞান ও মানবতার এই দীপশিখা দীর্ঘদিন জ্বলে থাকে।

এই শুভকাসনা রইল

১০| ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩২

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনার লেখা কবিতা এবং প্রবন্ধ পড়ে আমি অভিভূত । আমার বিশ্বাস আপনি শিক্ষাজীবনে প্রথম ছাড়া কোথাও দ্বিতীয় হন নাই। এভাবে ধৈর্য ধরে কোনো বিষয় নিয়ে বিশাল কিছু লিখে ফেলা যারা প্রথম হন তাদের পক্ষেই সম্ভব ।

২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:০৫

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



ভাই সৈয়দ কুতুব,
আপনার মন্তব্যের ঘরে লেখা “আমার লেখা কবিতা এবং প্রবন্ধ পড়ে আপনি অভিভূত”, আপনার এই সৌজন্য ও
ভালোবাসার জন্য আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।

আর “আমার বিশ্বাস আপনি শিক্ষাজীবনে প্রথম ছাড়া কোথাও দ্বিতীয় হন নাই।“ ভাই , তাই যদি হতো তাহলে ব্লগের
সেরা গুণী ব্লগার বলে দাবীকৃত কারো কাছে হতে কী শুনতে পেতাম লেখাটি গার্বেজ । যাহোক, সেসকল মহামুল্যবান কথা আমাকে আরো বিনয়ি ও সচেতন করতে শেখায় বলে তাদের প্রতি সকল সময়েই ঝড়ে মোর ভালবাসা।

আপনার মন্তব্যটি পুরোটা পাঠে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে একটি বিনীত অনুরোধও রাখি আমাকে যেন আপনি আপনার
মন্তব্যের কথার মতো উচ্চ কোনো আসনে বসিয়ে না দেন। আপনার এই ভালোবাসা আমার কাছে অবশ্যই অমূল্য,
কিন্তু তা যেন আমার অহংকারের কারণ না হয়ে বরং আমার দায়িত্ববোধকে আরও বাড়িয়ে দেয়। কারণ পাঠকের
একান্ত নিজস্ব কোন অনুভব যেন একজন লেখকের জন্য যেমন আনন্দের, তেমনি সেটি একটি নীরব দায়ও।

আমি সবসময় ভাবি ও হৃদয়ে ধারণ করি ;
আমার কলম যেন কখনো জ্ঞানের অহংকারে কথা না বলে
আমার যুক্তি যেন কখনো মানুষকে ছোট না করে
আমার ধর্ম ও বিজ্ঞানচর্চা যেন কখনো মানবিকতাকে বিস্মৃত না করে
আমার স্বাধীন চিন্তা যেন কখনো অন্যের মর্যাদাকে অস্বীকার না করে।

আর আমার লেখার প্রতিটি শব্দ যেন অন্তত এই সামান্য সত্যটির দিকে ফিরে তাকাতে পারে ।

শুভ কামনা রইল

১১| ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৩২

সুলাইমান হোসেন বলেছেন: আসসালামু আলাইকুম
লেখাটা যেহেতু কোনো আধ্যাতিক অথবা বাতেনি রহস্য অনুসন্ধান অথবা ধর্মীয় দৃষ্টিতে সৃষ্টির তত্ত্ব অনুসন্ধান বিষয়ক নয়,সম্পূর্ণই বাহ্যিক জগতের পরিবর্তনশীল বিজ্ঞান বিষয়ক মহাকাব্য।এই বিষয়ে আমার জ্ঞান তুলনামূলক কম।আমি মূলত সৃষ্টি এবং স্রষ্ট্রার তত্ত্ব অন্বষনে অধিক আগ্রহী।কিন্তু বাহ্যিক পরিবর্তনশীল বিজ্ঞান বিষয়ক পড়াশোনাও চালিয়ে যাচ্ছি।এবং তা এজন্য যে তা দিয়ে স্রষ্ঠার প্রমান খুঁজে বেড়াই।

বিদ্যুৎ আবিষ্কার
দেখুন বিদ্যুৎ আবিষ্কার পুরো পৃথিবীর সভ্যতাকেই পরিবর্তন করে দিয়েছে।যদি বিদ্যুৎ আবিষ্কার না হতো তাহলে আজকের ডিজিটাল এবং আধুনিক দুনিয়া সম্ভব হতো?
কল্পনা করুন বিদ্যুতের মাধ্যমে পৃথিবীর কতকিছু চলে!!!!!!
পরিশেষে লেখাটা পাঠ করে আমি বিস্মিত এবং অভিভূত হয়েছি,এই বিষয়ে বিশাল এক মন্তব্য করব নিরিবিলি এক সময়ে।

২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:৩৪

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



ওয়ালাইকুম সালাম ,
আপনার কথাগুলো মন দিয়ে পড়লাম। বিশেষ করে বিজ্ঞানকে কেবল জ্ঞান অর্জনের বিষয় হিসেবে না দেখে,
সৃষ্টির দৃশ্যমান নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে স্রষ্টার অস্তিত্ব ও প্রজ্ঞার সন্ধান করার যে মানসিকতা, সেটি আপনার
বক্তব্যের সবচেয়ে গভীর দিক বলে মনে হয়েছে।

বিজ্ঞান আমাদের বলে কীভাবে কোনো ঘটনা ঘটে; আর স্রষ্টা ও সৃষ্টিতত্ত্বের অনুসন্ধান মানুষকে নিয়ে যায়
কেন এই নিয়ম, এই সামঞ্জস্য, এই অস্তিত্বের সূচনা। এই দুই প্রশ্ন এক নয়, কিন্তু একজন অনুসন্ধিৎসু মানুষের
মনে তারা পাশাপাশি চলতে পারে। বরং প্রকৃতির যত গভীরে যাওয়া যায়, ততই তার নিয়ম, সামঞ্জস্য ও জটিলতা
নতুন নতুন প্রশ্নের জন্ম দেয়।

বিদ্যুতের উদাহরণটিও তাই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিদ্যুৎ আবিষ্কার বলতে আসলে প্রকৃতির একটি মৌলিক শক্তিকে
মানুষ চিনেছে, তার নিয়ম বুঝেছে এবং সেই জ্ঞানকে কাজে লাগিয়েছে। তারপর সেই জ্ঞানই বদলে দিয়েছে
মানুষের জীবন, সভ্যতা ও চিন্তার জগৎ। অর্থাৎ বিজ্ঞান শুধু আমাদের জীবনকে সহজ করেনি প্রকৃতির অন্তর্নিহিত
নিয়মের সামনে মানুষের বিস্ময়কেও আরও গভীর করেছে।

তবে এখানেই একটি সূক্ষ্ম পার্থক্য আছে। বিজ্ঞানের কোনো একটি আবিষ্কারকে সরাসরি স্রষ্টার প্রমাণ বলা আর
সেই আবিষ্কারের মাধ্যমে প্রকৃতির গভীর শৃঙ্খলা ও নিয়মময়তা দেখে স্রষ্টা সম্পর্কে দার্শনিক বা আধ্যাত্মিক প্রশ্নের
দিকে অগ্রসর হওয়া দুটি বিষয় এক নয়। দ্বিতীয় পথটি মূলত অনুসন্ধানের পথ; সেখানে উত্তর যেমন গুরুত্বপূর্ণ,
তেমনি প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার শেষ কথাটি নিরিবিলি এক সময়ে বিশাল এক মন্তব্য করব আমার কাছে তাই বেশ অর্থবহ মনে হয়েছে।
কারণ কিছু লেখা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দাবি করে না; বরং পাঠকের ভেতরে একটি দীর্ঘ চিন্তার দরজা খুলে দেয়।
আপনার এই লেখাটিও বোধহয় তেমনই বাহ্যিক জগতের বিজ্ঞান থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে মানুষকে নিয়ে যায়
অস্তিত্ব, সৃষ্টি, নিয়ম, কারণ এবং স্রষ্টা সম্পর্কে আরও গভীর প্রশ্নের দিকে।

জ্ঞান যেখানে থেমে যায়, সেখানেই অন্ধবিশ্বাস নয় আরও গভীর অনুসন্ধানের শুরু হতে পারে। আর সেই অনুসন্ধানের
নামই হয়তো সত্যের প্রতি মানুষের চিরন্তন যাত্রা।

শুভেচ্ছা রইল

১২| ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:৪৮

সুলাইমান হোসেন বলেছেন: প্রথমেই আপনাকে আন্তররিক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি এত বড় সুবিশাল একটি জ্ঞান সমৃদ্ধ লেখা অনেক শ্রম,কষ্ট,মেধা,বুদ্ধি ব্যায় করে অত্যান্ত উদারতার সহিত সামুতে পোস্ট করার জন্য।এর দ্বারা অবশ্যই সামু পাঠকরা উপকৃত হবে।

মূলত পুরো বিষয়টিতে বিজ্ঞান বিষয়ক আলোচনা মুক্ত ছন্দ কাব্যে উপস্থাপন করা হয়েছে,কোনো ধর্মীয় বিষয় ইহাতে আলোচিত হয়নি।ধর্ম আর বিজ্ঞান যেহেতু দুইটি আলাদা সাবজেক্ট,এজন্য দুইটির সাথে আন্তরিক মেল বন্ধন না হওয়াটাই স্বাভাবিক।@ব্লগার রাজীব নূরের কমেন্টের জবাবে বললাম।@ব্লগার রাজীব নূর অবশ্যই এক্ষেত্রে বিভ্রান্ত হয়েছে।

ধর্ম এবং বিজ্ঞান কেন এক নয়?এবং অন্তরঙ্গতা সম্ভব নয়?

দেখুন ধর্ম হলো মানুষের আত্মশুদ্ধি এবং আধ্যাতিক সমস্যার সমাধান দেয়,আর বিজ্ঞান মানুষের বাহ্যিক জগতের ব্যাখা প্রদান করে।দুই সাগরের মধ্যে একটি অন্তরাল রয়েছে যা তারা অতিক্রম করেনা।এবং এক সাগরের খবর অন্য সাগরে জানেনা।বিজ্ঞান কখোনো মৌলিক ধর্মীয় বিষয়াদির ব্যাখা প্রদান করতে পারবেনা,কারন ইহা সম্পূর্ণ আধ্যাতিক এবং রুহানী জগতের সাথে সম্পৃক্ত।আর বিজ্ঞান বাহ্যিক জগতের ব্যাখা দেয় এবং সীমাবদ্ধ জগতের মধ্যে সীমাবদ্ধ।ধার্মিকরা তাদের অন্তরের চোখে এমন অনেক বিষয়ও প্রত্যাক্ষ করেন যা বাহ্যিক বিজ্ঞান ব্যাখা করতে পারেনা।কোনো যুক্তিও সে পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনা।তাহলে কি এখন সেই জিনিসটা যারা দেখে তারা মানবেনা।তারা তো অবশ্যই মানতে বাধ্য, কারন তারা দেখে ফেলেছে।কিন্তু যারা দেখেনি তারা দ্বিধা এবং সন্দেহ করবে সেই বিষয়ে।এমন কিছু আধ্যাতিক বিষয় আছে যা বাহ্যিক যুক্তি দিয়ে প্রমান করা যায়না।আবার এমন অনেক পদার্থও আছে,যুক্তিতে তা ধরেনা যে কিভাবে এমনটা ঘটে।অথচ বিজ্ঞানীরা তা অহরহ প্রত্যাক্ষ করে চলেছে।কিন্তু তাদের নিকট এর কোনো ব্যাখা নেই,তবুও তারা মানতে বাধ্য।আমি দুইটির উদাহরনই দিবো—

আত্মিক এবং অদেখা জগতের উদাহরন—
আধ্যাতিক সাধকরা জিন এবং ফেরেশতাদেরকে অন্তরের চোখে উপলব্ধি করে আবার অনেকই দেখে বলেও প্রমান আছে।কিন্তু বাহ্যিক বিজ্ঞানীরা এগুলো তাদের যুক্তিতে এবং বুদ্ধিতে ধরতে পারেনা বলে স্বীকার করতে পারেনা।তারা মূলত ভিন্ন পথের সাধক।এক পথের সাধক অন্য পথের খবর বলতে পারবেনা এটাই স্বভাবিক।আবার কেউ কেউ হয়ত দুই পথেই সাধনা করেছেন।বিরল হলেও এমন মানুষ আছে।

এখন আমার প্রশ্ন বাহ্যিক অস্বীকার কারী বিজ্ঞানীদের নিকট।আপনি যে জীন ফেরেশতা অস্বীকার করে ফেললেন,আপনি কি সেই পথে সাধনা করেছেন।আপনি সাধনা না করেই কেন অস্বীকার করলেন।জ্বীন ফেরেশতাকে তো আপনি আপনার ল্যাবে প্রমান করতে পারবেন না।এগুলো দেখার জন্য ভিন্ন সাধনা রয়েছে।মূলত বাহ্যিক বিজ্ঞানীরা এগুলো স্বীকার বা অস্বীকার করেনা,কারন তাদের এগুলোর কোন খবরই নাই।হঠাৎ যদি কারো কাছে শোনে তো সেদিকে কান দেয়না।তারা তাদের জগৎ সম্পর্কেই জানে আত্মিক জগতের কোনো খবর বিজ্ঞানীরা এবং তাদের অনুসারীরা বলতে পরবেনা।কেন পারবেনা তা পরের কমেন্টে আলোচনা করছি।

২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:৪৮

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



আপনার দীর্ঘ ও চিন্তাশীল মন্তব্যের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আপনি যে প্রশ্নগুলো তুলেছেন, সেগুলো নিছক তর্কের
বিষয় নয় মানুষের জ্ঞান, বিশ্বাস, উপলব্ধি এবং অস্তিত্বকে ঘিরে বহু পুরোনো ও গভীর প্রশ্ন। তাই আপনার বক্তব্যের
সঙ্গে কোথাও মতের পার্থক্য থাকলেও, আপনার অনুসন্ধিৎসাকে আমি যথেষ্ট সম্মানের চোখেই দেখি।

ধর্ম ও বিজ্ঞানকে দুটি পৃথক জগত হিসেবে দেখার একটি যুক্তি অবশ্যই আছে; কিন্তু তাদের মধ্যে কোনো সংলাপই
সম্ভব নয় এমন সিদ্ধান্ত হয়তো একটু বেশি চূড়ান্ত হয়ে যায়। বিজ্ঞান মূলত পর্যবেক্ষণযোগ্য ও পরীক্ষাযোগ্য জগতের
নিয়ম অনুসন্ধান করে, আর ধর্ম মানুষের বিশ্বাস, নৈতিকতা, আত্মিক অন্বেষণ ও পরমার্থের প্রশ্ন নিয়ে কাজ করে
এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু মানুষ তো একই মানুষ; তার জিজ্ঞাসা একদিকে পদার্থজগতকে নিয়ে, অন্যদিকে
অস্তিত্বের অর্থকে নিয়ে। তাই দুই ক্ষেত্রের প্রশ্ন আলাদা হলেও অনুসন্ধানী মানুষের মনে তারা পাশাপাশি উপস্থিত
থাকতেই পারে।

আর একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞান কোনো বিষয়কে এখনো ব্যাখ্যা করতে পারেনি এ কথা আর
বিজ্ঞান সেই বিষয়টির অস্তিত্বকে স্বীকার করেছে এ কথা এক নয়। বিজ্ঞানের ইতিহাসে এমন অসংখ্য ঘটনা
আছে, যেগুলোর ব্যাখ্যা একসময় মানুষের অজানা ছিল; পরে পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা ও নতুন তত্ত্বের মাধ্যমে তার
ব্যাখ্যা পাওয়া গেছে। আবার এমন দাবিও আছে, যেগুলো দীর্ঘদিন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
তাই ব্যাখ্যা নেই এবং প্রমাণিত সত্য এই দুটির মাঝখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আছে।

আপনার জিন ও ফেরেশতার উদাহরণটিও সেই জায়গা থেকেই দেখার মতো। একজন সাধক ব্যক্তিগত সাধনা,
অনুভব বা আধ্যাত্মিক উপলব্ধির মাধ্যমে কোনো কিছুকে সত্য বলে অনুভব করতে পারেন সেটি তাঁর কাছে গভীর
ও বাস্তব অভিজ্ঞতা হতে পারে। কিন্তু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা আর সর্বজনগ্রাহ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এক জিনিস নয়।
একজন মানুষ যা প্রত্যক্ষ করেছেন বলে দাবি করছেন, অন্য মানুষও একই পদ্ধতিতে পুনরাবৃত্তিযোগ্যভাবে তা
পর্যবেক্ষণ করতে পারছেন কি না বিজ্ঞানের প্রশ্নটি মূলত সেখানে।

তাই কোনো বিজ্ঞানী যদি বলেন, আমি পরীক্ষাযোগ্য প্রমাণ ছাড়া এই দাবিকে সত্য বলে গ্রহণ করতে পারছি না,
সেটিকে সরাসরি অস্বীকার বলা ঠিক হবে না। একইভাবে কোনো সাধক যদি বলেন, আমি আমার অভিজ্ঞতার
কারণে এটিকে সত্য বলে জানি, তাকেও অন্ধবিশ্বাসী বলে উড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়। বরং দুজনের বক্তব্যের
জ্ঞানতাত্ত্বিক ভিত্তি আলাদা একজনের ভিত্তি পরীক্ষাযোগ্য প্রমাণ, অন্যজনের ভিত্তি ব্যক্তিগত আধ্যাত্মিক
অভিজ্ঞতা।

আমার মনে হয়, এখানেই বিজ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতার মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর সংলাপের জায়গাটি তৈরি হতে পারে।

বিজ্ঞান বলতে পারে
যা দাবি করছ, তার প্রমাণ কী?

আধ্যাত্মিক অনুসন্ধান বলতে পারে
সব সত্য কি কেবল বাহ্যিক পরীক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ?

আর দর্শন এসে হয়তো দুজনকেই প্রশ্ন করতে পারে
প্রমাণ বলতে আমরা আসলে কী বুঝি, আর মানুষের জ্ঞানের সীমাই বা কোথায়?

এই তিনটি প্রশ্ন একসঙ্গে চললে বিতর্কটি আর বিজ্ঞান বনাম ধর্ম থাকে না; বরং হয়ে ওঠে মানুষের'
সত্য-অনুসন্ধানের এক বৃহত্তর যাত্রা।

আপনার শেষ কথার প্রতিও তাই কৌতূহল রইল কেন এক পথের সাধক অন্য পথের খবর সবসময় বলতে পারেন
না, এবং সেই সীমারেখা কোথায়। কারণ আমার বিশ্বাস, সত্য যদি সত্যিই সর্বজনীন হয়, তবে তার কাছে যাওয়ার
পথ ভিন্ন হতে পারে, ভাষা ভিন্ন হতে পারে, পদ্ধতি ভিন্ন হতে পারে কিন্তু অনুসন্ধিৎসা ও প্রশ্ন করার সাহস দু’পথের
মানুষেরই থাকা প্রয়োজন।

বিজ্ঞান প্রশ্ন করতে শেখায়, আধ্যাত্মিকতা অন্তরের দিকে তাকাতে শেখায়,
আর প্রজ্ঞা হয়তো শেখায় কোন প্রশ্নের উত্তর পেয়েছি,কোনটি এখনো পাইনি,
আর কোন জায়গায় আমাদের বলা উচিত
আমি জানি না, তাই আরও অনুসন্ধান করব।

সেখানেই হয়তো যুক্তির সৌন্দর্য, বিশ্বাসের মর্যাদা এবং সত্যের প্রতি মানুষের প্রকৃত বিনয়
তিনটি একসঙ্গে এসে দাঁড়ায়।

শুভেচ্ছা রইল

১৩| ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:৫১

সুলাইমান হোসেন বলেছেন: তারপর দেখুন পরমানু প্রোটন ইলেকট্রন নিউটন দিয়ে গঠিত।প্রোটনের আধান ধনাত্বক,ইলেকট্রনের চার্জ ঋনাত্মক, আর নিউটন নিরপেক্ষ।কিন্তু এমনটা কেন এর কোনো উত্তর নেই।তারপর দেখুন আলো।আলো একইসাথে "কনা" এবং "তরঙ্গ ও কিন্তু কেন?এর কোনো উত্তর বিজ্ঞানীদের কাছে নেই। এখানে কোনো যুক্তি বুদ্ধিও খাঁটেনা।কিন্তু তারা তো দুটোই মেনে নিচ্ছে।

মোটকথা বিজ্ঞান এখোনো অনেক সীমাবদ্ধ। তারা নতুন নতুন আবিষ্কার করছে।কিন্তু যতদূরে ই যাকনা কেন আধ্যাতিক জগতকে এবং পরকালকে কখোনো বাহ্যিক জগত দিয়ে ব্যাখা করতে পারবেনা।আল্লাহ তায়ালা বিভিন্ন জগত সৃষ্টিস করেছেন প্রত্যেকটি জগতের আলাদা আলাদা বৈষিষ্ঠ এবং গুনাবলী রয়েছে।এক জগতকে অন্য জগতদিয়ে ব্যাখা করা যায়না।দেখুন পানির জগত আর স্থলভাগের জগতে কত ব্যবধান।এক জগতে শ্বাস প্রশ্বাস নেওয়ার জন্য ফুলকা লাগে আরেক জগতে ফুসফুস।দুই জগতের নিয়মকানুন সম্পূর্ণ ভিন্ন।এই বিষয়ে আরো অনেক আলোচনা রয়েছে ইনশাআল্লাহ পরে আবার আলোচনা করব।

১৪| ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৩

সুলাইমান হোসেন বলেছেন:
ধর্ম ও বিজ্ঞানকে দুটি পৃথক জগত হিসেবে দেখার একটি যুক্তি অবশ্যই আছে; কিন্তু তাদের মধ্যে কোনো সংলাপই
সম্ভব নয় এমন সিদ্ধান্ত হয়তো একটু বেশি চূড়ান্ত হয়ে যায়। বিজ্ঞান মূলত পর্যবেক্ষণযোগ্য ও পরীক্ষাযোগ্য জগতের
নিয়ম অনুসন্ধান করে, আর ধর্ম মানুষের বিশ্বাস, নৈতিকতা, আত্মিক অন্বেষণ ও পরমার্থের প্রশ্ন নিয়ে কাজ করে
এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু মানুষ তো একই মানুষ; তার জিজ্ঞাসা একদিকে পদার্থজগতকে নিয়ে, অন্যদিকে
অস্তিত্বের অর্থকে নিয়ে। তাই দুই ক্ষেত্রের প্রশ্ন আলাদা হলেও অনুসন্ধানী মানুষের মনে তারা পাশাপাশি উপস্থিত
থাকতেই পারে।


সুন্দর বলেছেন।একমত প্রকাশ করছি।দেখুন আমরা যাকে বিজ্ঞান বলে মানি,এগুলো ও কিন্তু আধ্যাতিক জগতেরই এক টুকরো আলো।আল্লাহ তায়ালা বলেন,"যদি তারা বিশ্বাস করত এবং সৎকাজ করত তাহলে আমি তাদের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দিতাম এবং শান্তিপূর্ণ জান্নাতে প্রবেশ করাতাম।"

বিজ্ঞান ও কিন্তু আল্লাহর একটি নেয়ামত।বিজ্ঞান এবং আধ্যাতিকতাকে একসাথে চালানো সম্ভব।মধ্যযুগের অনেক মুসলিম বিজ্ঞানীরা অনেক বড় বড় আবিষ্কার করেছেন।
কিন্তু আমার কথা হলো বিজ্ঞান দিয়ে আল্লাহকে,ফেরেশতাদেরকে এবং গায়েবী বিষয়গুলোতে উপলব্ধি করা যাবে না।এগুলো উপলব্ধি করতে হলে আত্মশুদ্ধি করতে হবে।এই হিসাবে দুই জ্ঞান যেন দুইটি সমুদ্র যার পানি এবং মাছ ভিন্ন

১৫| ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২২

রাজীব নুর বলেছেন: পোষ্টে আবার এলাম। কে কি মন্তব্য করেছেন, সেটা জানতে।

১৬| ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৩

খায়রুল আহসান বলেছেন: সুবিশাল পোস্ট!!!
চক্ষুপীড়ার কারণে একটানা বেশিক্ষণ পড়তে পারি না। আর এত বড় পোস্ট দুই এক বসায় পড়ে শেষ করতে না পারলে ফোকাস ঠিক রাখা যায় না। তার উপর পোস্টে কয়েকটা মন্তব্যও এসেছে অনেক বড়। আর আপনার প্রতিমন্তব্যও তো আগাগোড়া অনেক বড়ই হয়ে থাকে। সব কিছু পড়ে মন্তব্য করতে গেলে এ পোস্টে আমাকে আরও অসংখ্যবার হাতে যথেষ্ট সময় নিয়ে আসতে হবে। আপাততঃ শুধু ভূমিকা ও প্রথম দুটি 'সর্গ' পড়ে গেলাম। আপনার এ লেখাটি একটা সিকোয়েন্স ধরে ক্রমান্বয়ে এগিয়ে গেছে। সেই ক্রমধারা অনুসরণ করে পাঠ সম্পন্ন করার পূর্বে মন্তব্য করা কঠিন। আপাততঃ শুধু এইটুকু বলে ক্ষান্ত দিচ্ছি যে এ পর্যন্ত যেটুকু পড়েছি, ভালো লেগেছে। আপনার অনুসন্ধিৎসার সাথে সাথে পাঠকেরাও ধৈর্য ধরে প্রশ্নগুলোর জবাব খুঁজতে নামলে তারাও নিশ্চয়ই নতুন কিছুর সন্ধান লাভ করবেন এবং উপকৃৃত হবেন। পোস্টের আরও কিছু অংশ পড়ে আমার জ্ঞানে মন্তব্য করার মত কিছু পেলে আবারও আসার আশা ব্যক্ত করে বিদায় নিচ্ছি।
উল্লেখ্য যে, আপনার এই পোস্ট সঠিকভাবে অনুধাবনের লক্ষ্যে আমি অভিধান ঘেঁটে 'সর্গ' ও স্বর্গ' - এই শব্দদুটোর মধ্যকার পার্থক্য খুঁজে বের করেছি। এতে আমার জানার শব্দভান্ডার সমৃদ্ধ হয়েছে।

ছোট মন্তব্যগুলোর মধ্যে হুমায়রা হারুন আর ঠাকুর মাহমুদ এর মন্তব্য ভালো লেগেছে।

১৭| ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৩

সুলাইমান হোসেন বলেছেন: বিজ্ঞান মানুষের দুনিয়াবী প্রয়োজন মিটায়,আর সত্য ধর্ম মানুষকে সবকিছুর মূল পর্যন্ত পৌঁছে দেয়।যেমন মানুষকে কিজন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, এর কোনো ব্যাখা বা উত্তর বিজ্ঞানের কাছে নেয়,এই উত্তর যারা পেতে চায় তাদেরকে সত্যধর্ম অনুসরন করতে হবে।আমরা এই বাহিরের জগতে যা কিছুই দেখি,এগুলো যেন মহা সমুদ্র থেকে এক ফোঁটা পানি অথবা সেই দ্বীপের মতো যার অল্প অংশই পানির উপরে থাকে,দ্বীপের অধিকাংশই পানির নিচে সমুদ্রের গভীরে প্রোথিত থাকে।অথবা আমরা বাহ্যিক দুনিয়ায় যা কিছুই দেখি ইহা মোবাইল অথবা কম্পিউটারের সেই সফটওয়্যারের মতো,যার মূল লুকানো থাকে হার্ডওয়্যার,কোটি কোটি রেজিস্টার,এবং বুলিয়ান আলজেবরার ভিতর।আমাদের বাহ্যিক জগতে যা কিছুই ঘটছে এর পেছনেও এমন বিশাল হাররডওয়্যার লুকানো আছে যার খবর কোনো বিজ্ঞানীর কাছে নেই।
প্রাচীন কাল থেকে আধুনিক কাল :সভ্যতার মহাযাত্রা

প্রাচীন কাল থেকেই মানুষ তার প্রয়জনের তাগিদে বিভিন্ন আবিষ্কার করতে শিখে।যেমন, প্রাচীনকালে মানুষের প্রধান খাবার ছিল প্রানীর মাংস।কিন্তু প্রানী শিকার করা, জবাই করা মাংস বানানো ইত্যাদি কাজের জন্য কিছু যন্ত্রপাতির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে,সেখান থেকে লোহা দিয়ে তারা বিভিন্ন যন্ত্রপাতি বানায় এবং আগুন ও জালাতে শিখে।প্রাচীনকালে লোহা মানুষের জন্য খুবই উপকারি বস্তু ছিলো,এবং তাদের জীবন অনেকটা ধীরস্থির ভাবে চলত,বর্তমান অত্যাধুনিক যুগের মতো এতটা ঝামেলা পোহাতে হতোনা।আমি বলব তাদের জীবনই বেশি সুখের ছিলো,তারা শারীরিকভাবে ছিলো শক্তিশালী এবং দ্বীর্ঘদিন হায়াত পেত।

একেক যুগের মানুষের জীবনের চাহিদা একেকরকম হয়ে থাকে।যেমন বর্তমান যুগে আমরা বিদ্যুৎ ছাড়া থাকতে পারিনা,মোবাইল ফোন ছাড়া আমাদের জীবন চলেনা,কিন্তু প্রচীনকালে হাজার হাজার বছর মানুষ এগুলো ছাড়াই কাটিয়ে দিয়েছে।তাদের জীবন কিন্তু সুন্দরভাবে গত হয়েছে,কিন্তু বর্তমান জমানার প্রয়োজন এবং চাহিদার পরিবর্তন ঘটার কারনে মানুষ এসব ছাড়া থাকতে পারেনা।
ভবিষ্যতে হয়ত এমন যুগও আসবে তখন আমাদের এই যুগ তাদের কাছে পুরোনো হয়ে যাবে,তারা আরো এমন কিছু আবিষ্কার করবে যা এখন আমরা স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারিনা।
ধর্ম এলো কোত্থেকে?
দেখুন ধর্ম হলো একটি গোপন পথ বা রাস্তা।এবং সত্য এবং সঠিক ধর্ম একটামাত্র,অনেক নয়।কিন্তু ধর্ম মানুষ সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকেই আছে,যদিও মানুষ তাদের ধর্মকে কালের পরিক্রমায় ভুলে গিয়েছিলো,এবং ভুল পথে বা ধর্মে ঢুকেছিলো।কিন্তু দয়াময় সৃষ্টিকর্তা মানুষকে সঠিক ধর্মে আনার জন্য বিভিন্ন প্রমানাদি সহকারে নবী রসূল পাঠিয়েছিলেন।

ধর্মীয় বিষয়গুলো কেন মানুষের যুক্তি বুদ্ধির উর্ধ্বে?
দেখুন।ধর্মীয় কোনো বিষয় যুক্তি বুদ্ধির উর্ধ্বে নয়।অবশ্যই সেখানে যুক্তি রয়েছে,কিন্তু সেই যুক্তি সবার বুদ্ধিতে ধরেনা।এখন একটা যুক্তি আপনি বুঝতে পারবেননা বলে সেটা সত্য নয় এমনটা হতে পারেনা।সবকিছু সবার যুক্তিতে ধরবেনা এটাই স্বাভাবিক।

তাহলে সাধারন মানুষ অন্ধ অনুসরন কেন করবে?
এখানে প্রশ্নটির উত্তরের আগে বলতে চাই প্রতিটি মানুষেরই নুন্যতম একটুকু জ্ঞান আছে যে সে একটা অস্তিত্বসম্পন্ন সত্ত্বা।কিন্তু তার এই অস্তিত্ব টা এলো কোত্থেকে?
এখন মূল উত্তর;ধর্মীয় বিষয়াদির জটিলতা নিরসন এবং যুক্তি খোঁজার কাজ সবার নয় ইহা নবী রসূল এবং মনোনিত ব্যক্তিদের কাজ।যেমন নাকি সবাই ডাক্তার হতে পারেনা তেমনই সবাই ধর্মীয় পথের জটিলতার যুক্তি খোঁজার উপযুক্ত নয়।এক্ষেত্রে নবী রসূল সিদ্দিকিন এবং মনোনিতরা হলো ডাক্তারের মতো আর সাধারন মানুষেরা রোগীর মতো।এখন ডাক্তাররা কোনো ঔষুুদ দিলে রোগী তার মধ্যে কোনো যুক্তি খুঁজতে যায়না।তার কাজ শুধু খাওয়া।ঔষুদে কি পদার্থ মেশানো হয়েছে কেন মেশানো হয়ে এবং যুক্তি কি এগুলো খোঁজা রোগীর কাজ নয়।
বিস্ময়কর হলেও সত্য যে অনেক রোগীরা ঔষুদের যুক্তিও জানে।অনেক রোগীরা আার ডাক্তারের থেকেও জ্ঞানী হতে পারে।

পরিশেষে আমাদের করনীয়—
বিজ্ঞান এবং আল্লাহমনোনিত সঠিক ধর্মকে একসাথে নিয়ে চলা।
যদি কোনো বিষয়ে সন্দেহ জাগে অন্য কারো কাছ থেকে নয় আল্লাহর কাছ থেকে তা জেনে নেওয়া।যেহেতু আল্লাহর সঙ্গে আপনার গভীর সম্পর্ক বা নেছবত রয়েছে।এবং তাহাজ্জুদ নামাজে বিশেষ সময়ে অনেক কিছু জেনে নেওয়া সম্ভব।কিন্তু এগুলো শুধু অন্তরদৃষ্টি সম্পন্ন ব্যাক্তিদের জন্য।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.