নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ছায়া নয়, আলো ...

আরমান আরজু

সত্য ও অসীমের পথে

আরমান আরজু › বিস্তারিত পোস্টঃ

প্রজাপতি সারাহ

২৩ শে মে, ২০২৬ রাত ১১:০২



১।

প্রজাপতি কেন সৃষ্টি করলেন এ চিন্তায় বিভোর ছিলাম। আল্লাহ চাইলে তো বায়ুর মাধ্যমেও পরাগায়ন ঘটাতে পারেন। প্রজাপতির কেন দরকার পড়ল?
হঠাৎ কোত্থেকে এক প্রজাপতি আমার কক্ষে এসে উপস্থিত।

- তুমি?
- আমি সারাহ।
- সারাহ। সুন্দর নাম তো। তা তোমার তো থাকার কথা ফুল ফলের মেলায়। আমার এখানে কেন?
- তুমি আমায় নিয়ে চিন্তা করছিলে কেন?
- তুমি জানলে কীভাবে?
- আমরা সবাই একেরই বহিঃপ্রকাশ। সুতরাং তুমি আমায় নিয়ে ভাববে আর আমি জানবো না এটা হয় না।
- বাহ্। তা তোমরাও কি মানুষদের নিয়ে ভাবো?
- এত সৃষ্টি থাকতে কেন তিনি মানুষ সৃজন করলেন সেটা আমরা আজ পর্যন্ত বুঝে উঠতে পারিনি। শুধু মু'মিন পর্যন্ত থাকলেই তো চলত।
- মানে? একটু বুঝিয়ে বলোতো।
- পৃথিবীতে মানুষরা কী করে বেড়াচ্ছে দেখতে পাচ্ছো না। আমরা সবাই মিলে প্রার্থনা করছি শুধু মু'মিনদের রেখে যেন মানুষদের উঠিয়ে নেওয়া হয়।
- তুমি হঠাৎ এভাবে বলছো কেন?
- কুরআনে পড়োনি, 'এবং মানুষের মধ্যে এমনও আছে যারা বলে আমরা আল্লাহ ও আখেরাতের সাথে ঈমানের কাজ করি কিন্তু (এরপরও) তারা মু'মিনদের সাথে নয়' (২:৮)।
- বলো কি? আল্লাহ ও আখেরাতের সাথে ঈমানের কাজ করলেও তারা মু'মিনদের সাথে নয়! কেন? তাহলে মু'মিন কারা? কেনই বা তাঁদের সাথে থাকতে হবে? কেনই বা তাঁরা এত সম্মানিত?
- শোনো, কুরআনে আল্লাহ চার প্রকার ব্যক্তির সাথে থাকেন বলে উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে মু'মিন একজন। আবার তিনি সূরা হাশরে নিজেকে মু'মিন হিসেবে দাবি করেছেন। সব মু'মিনই মানুষ কিন্তু সব মানুষ মু'মিন নয়। তাঁরা সর্বপ্রকার মোহের ঊর্ধ্বে। তাঁদের দ্বারা সামান্য ত্রুটি বিচ্যুতিও সম্ভব নয়। তাঁরা ক্ষমতায় থাকলেই একমাত্র পৃথিবীতে শান্তি আসবে।
- বুঝলাম, কিন্তু আল্লাহ ও আখেরাতের সাথে ঈমানের কাজ করেও একজন মানুষ কেন মু'মিনদের সাথে নয়?
- তুমি কি আল্লাহকে চেনো? আখেরাত কী বুঝো?
- পড়েছি আর শুনেছি কিন্তু বাস্তবতা জানি না।
- আল্লাহ কী বুঝাতে চেয়েছেন এখানে জানো? আল্লাহকে কিংবা আখেরাতে বিশ্বাস করে কোন লাভ নেই কারণ ওটা অন্ধ বিশ্বাস যতক্ষণ না তুমি একজন মু'মিনের সঙ্গ অবলম্বন করছো। সন্তানের কাছে পিতার পরিচয় শুধুমাত্র একজন মা-ই দিতে পারে কারণ মা-ই জানে সে কার সাথে শুয়েছে ঠিক তেমনি মানুষের কাছে আল্লাহ ও আখেরাতের পরিচয় একমাত্র মু'মিনই দিতে পারেন।
- তাহলে আমরা একজন মু'মিনকে কীভাবে চিনবো?
- তুমি পরাগায়ন না কী নিয়ে চিন্তা করছিলে না? শুনো আল্লাহ চাইলে সব পারেন কিন্তু তিনি বৈচিত্র্য পছন্দ করেন তাই নিজের নাম নিয়েছেন জুলজালাল। আমাকে দেখো, কি সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন। দেখে চোখ জুড়িয়ে যায় না? সুতরাং তোমার চিন্তা ভাবনা পরিবর্তন করা দরকার।
- ভাল বলেছো। এখন বলো আমরা একজন মু'মিনকে কীভাবে চিনবো?
- সেটা আরেকদিন বলবো।


২।

গভীর রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল। কে যেন আমার চারপাশে উড়ছে।

- আমার ঘরে কে?
- আমি, সারাহ।
- তুমি! এত রাতে?
- তোমার সাথে একটু গল্প করতে চাই।
- তাই বলে এই গভীর রাতে?
- প্রেমিকরা কেমনে ঘুমায়? তোমার আল্লাহ প্রেমে মনে হয় ঘাটতি আছে।
- রাতভর জেগে থাকলে আমি তো অসুস্থ হয়ে যাবো, তখন প্রেম-ট্রেম সব উড়ে যাবে।
- চিরঘুমের দেশে তো একদিন যাবেই, তখন কেউ তোমাকে আর ডাকবে না। যে কদিন বেঁচে আছো একটু প্রেমিক হও।
- মানুষই হতে পারিনি প্রেমিক তো আরও উপরের বিষয়।
- আগে প্রেমিক হও তারপর না হয় মানুষ হয়ো। সব প্রেমিকরাই মানুষ কিন্তু সব মানুষরা প্রেমিক নয়। একটা গোপন কথা বলি, আল্লাহ কিন্তু প্রেমিকের কাঙ্গাল, মানুষের নয়। মানুষরা ইবাদত করতে করতে রোবট হয়ে গেছে।
- ভাই, আমি এমনিতেই অনেক সমস্যায় আছি, তুমি আমার মাথা আরো খারাপ করে দিচ্ছো।
- তোমাকে আমার ভালো লেগেছে।
- কী! তুমি পাগল হয়েছো? তুমিতো প্রজাপতি।
- তো কী হয়েছে? প্রজাপতিদের কি ভালো লাগা-টাগা থাকতে পারে না?
- অবশ্যই থাকতে পারে তবে সেটা অন্য আরেক প্রজাপতির প্রতি, আমার প্রতি কেন?
- তোমার মনে অনেক প্রেম কিন্তু তুমি সেটা প্রকাশ করতে পারছ না। আমি তোমার প্রেমকে ফুলের মতো ফোটাতে চাই।

সারাহ'র কথা শুনে আমি এই গভীর রাতেও শব্দ করে হাসলাম।

- তুমি এভাবে হেসো না আমি খুব দুর্বল হয়ে পড়ি।
- মানে?
- তুমি বোকা, বুঝবে না।
- আমার মনে অনেক প্রেম সেটা তুমি কীভাবে বুঝলে?
- প্রেমিকেরা দিশেহারা।
- আমার প্রেমকে ফোটানোর দায়িত্ব কেন নিলে?
- কারণ পৃথিবীতে প্রেমিকের সংখ্যা কমে যাচ্ছে রোবটের সংখ্যা বাড়ছে। রোবট বাড়লে আমাদের বিপদ।
- আমি দিশেহারা এটা তুমি কীভাবে বুঝলে?
- দিশেহারা না হলে প্রজাপতি নিয়ে কেউ ভাবে না। শিক্ষিত আর হুশজ্ঞানওয়ালারা মেতে আছে জাগতিক আর ক্ষণস্থায়ী বিষয় নিয়ে।
- তারাই তো ভালো আছে।
- সাময়িক ভালো, তারা আক্ষেপ করতে করতে মরবে।
- তোমার কাছে জানতে চেয়েছিলাম যে আমরা একজন মু'মিনকে কীভাবে চিনবো?
- তার আগে তোমার জানা উচিত কারা কারা মু'মিনদের সাথে থাকে।
- তাইতো। তো বলো কারা কারা থাকে।
- কুরআনেই তো আছে, 'যারা তওবা করে এবং আত্মশুদ্ধি করে এবং আল্লাহর সান্নিধ্য অবলম্বন করে এবং আল্লাহরই জন্য আপন দ্বীনকে বিশুদ্ধ করে তবে তারাই মু'মিনদের সাথে' (৪:১৪৬)।
- এখানে চারটি বিষয় আছে, তওবা, আত্মশুদ্ধি, আল্লাহর সান্নিধ্য এবং দ্বীনকে বিশুদ্ধকরণ। আমাকে একটা একটা করে বিস্তারিত বুঝাও।
- ভোর হওয়ার সময় হয়েছে, আজ আর না।
- ভোরের সাথে তোমার সম্পর্ক কী?
- রোবটরা বের হবে।


৩।

- আসতে পারি?

জানালার গ্রিলে প্রজাপতি সারাহ বসে আছে। নরম দুটো পাখা নাড়ছে।

- এসো।
- কোথায় বসবো?
- তোমার যেখানে খুশি।
- তোমার হাতের তালুতে বসতে চাই। হাতটা মেলো।
- মেললাম, বসো।
- কী করছিলে?
- তোমার অপেক্ষায় ছিলাম।
- জানি, তাই চলে এসেছি।
- সারাহ, তোমাকেও আমার ভালো লাগতে শুরু করেছে।
- তাই নাকি? সত্যি বলছো তো?
- প্রেম নিয়ে কেউ মিথ্যে বলে?
- বলে বলে। পৃথিবীটা প্রবঞ্চনার। তুমি চার দেওয়ালে বন্দী থাকো, তুমি এগুলো বুঝবে না। আমরা সারা পৃথিবী ঘুরে বেড়াই। মানুষদের প্রবঞ্চনা দেখে দেখে আমরা বিরক্ত।
- তার মানে আমার কথা তোমার বিশ্বাস হচ্ছে না?
- আমি কিন্তু প্রজাপতি।
- তো কী হয়েছে? প্রেমে কোন জাত-পাত নেই।
- তোমাদের সমাজ মেনে নেবে না।
- সমাজের নিকুচি করি। অসীমের প্রেম আমায় অসামাজিক করেছে।
- অসীমের প্রেম এক জিনিস আর আমাকে ভালোবাসা আরেক জিনিস।
- তুমি আলোচনা অন্যদিকে নেয়ার চেষ্টা করছো। আমার জানার অনেক আগ্রহ।
- এত জেনে কী করবে? পৃথিবীটা অনেক বড়, এখানে হাজার কিছু আছে। এত সব কিছু জানতে হলে তোমাকে হাজারবার জন্মগ্রহণ করতে হবে। পারবে?
- মানে? এটা তুমি আবার কী বললে? মানুষ তো একবারই জন্মগ্রহণ করে।
- আচ্ছা, এবার আমরা আলোচনায় আসি। আমরা কোথায় যেন ছিলাম?
- আজকে তোমার তওবা'র ব্যাপারে বলার কথা ছিল। তওবাকারীরা মু'মিনদের সাথে থাকে।
- তওবা মানে দু গালে থাপ্পর মেরে আর পাপ করব না, এটা নয়। জীবনভর অন্যায় করে মৃত্যুর ঠিক আগে আগে কলমা পড়তে পড়তে মাফ চাওয়া এটাও তওবা নয়। কাবার গিলাফ ধরে মাফ চেয়ে কারো জমির এক ইঞ্চি অংশ নিজের দিকে টেনে নেয়ার নামও তওবা নয়। প্রকাশ্যে সুফি সেজে গোপনে, লোকচক্ষুর অন্তরালে পাপ করার নামও তওবা নয়।
- তাহলে তওবা কী?
- তওবা মানে আবার মূলে ফিরে আসা। যখন তুমি মায়ের গর্ভে ছিলে তখন আল্লাহর সান্নিধ্যেই ছিলে (১৩:৮)। কুরআন অনুযায়ী আল্লাহ নিজেও একজন মু'মিন যা তোমাকে আগেও বলেছি। সমস্যা হলো পৃথিবীতে এসেই আমরা মু'মিনের সান্নিধ্য থেকে ছিটকে পড়ে শয়তানের প্রভাব বলয়ে প্রবেশ করি। আর তারপর ভুলে যাই আল্লাহকে, তাঁর স্নেহকে, তাঁর প্রেমকে, তাঁর মায়াকে। শয়তান চায় না আমরা মু'মিনের সাথে থাকি কারণ মু'মিনের সাথে থাকা মানেই আল্লাহর সাথে থাকা। সেজন্যই কুরআন বলছেন মুমিনের সঙ্গ অবলম্বন করতে। আর তার জন্য প্রথমেই তওবা করা অপরিহার্য। আর তওবার অর্থই হলো তুমি আগে যেখানে ছিলে মানে মায়ের গর্ভে, সেখানেই ফিরে যাচ্ছো। নিজেকে সম্পূর্ণরূপে সঁপে দিচ্ছো আল্লাহর কাছে। তোমার চোখ আছে কিন্তু দেখতে পাচ্ছো না, কান আছে শুনতে পাচ্ছো না, হাত আছে ধরতে পারছো না, পা আছে চলতে পারছো না। একবার নিজেকে এইভাবে চিন্তা করো তো। তোমার দ্বারা আর কোন অন্যায় করা সম্ভব হবে?
এজন্যই আমরা বারবার বলে আসছি পৃথিবীটা মু'মিনদের দ্বারাই পরিচালিত হওয়া উচিত।
- আমি মন্ত্রমুগ্ধের মত এতক্ষণ শুনলাম। এভাবে তো কেউ আগে বলেনি। সারাহ, তুমি আমার কাছে এখন এই মুহূর্তে কী চাও?
- একটা চুমু, দেবে?
- মানে?

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ২৪ শে মে, ২০২৬ রাত ১২:২৫

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: আগে প্রেমিক হও তারপর না হয় মানুষ হয়ো।
......................................................................
ভেজালের দেশে খাঁটি প্রেমিক পাওয়া যায়না ।

প্রজাপতির প্রেম :
ডানা মেলেছে রঙিন প্রজাপতি,
হৃদয়ে জাগে প্রেমের নতুন গতি।
ক্ষণিক ছোঁয়ায় মন যে আকুল হয়,
বুকের ভেতর মিষ্টি মধুর ভয়।
নীল আকাশে মেললো দুটি ডানা,
মানেনা কোনো নিয়মের মানা।
ফুলের কানে বলছে গোপন কথা,
মুছিয়ে দিতে মনের যত ব্যথা।
তুমি হলে আমার প্রজাপতি,
যে প্রেমেতে কাটবে জীবন-রাতি।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.