| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মোঃ খালিদ সাইফুল্লাহ্
যখনি এ পথে যাবে, বারেক দাঁড়ায়ো ফুলবনে, শুধু দু হাত ভরিয়া দেব ফুল।
একদিন দু’জন লোক এক বালককে টেনে ধরে নিয়ে আসল উমর (রাঃ)র দরবারে। উমর (রাঃ) তাদের কাছে জানতে চাইলেন যে, ‘ব্যাপার কি, কেন তোমরা একে এভাবে টেনে এনেছ ?’
তারা বলল, ‘এই বালক আমাদের পিতাকে হত্যা করেছে।’
উমর (রাঃ) বালকটিকে বললেন, ‘তুমি কি সত্যিই তাদের পিতাকে হত্যা করেছ?’ বালকটি বলল, ‘হ্যা, আমি হত্যা করেছি তবে তা ছিল দূর্ঘটনাবশত, আমার উট তাদের বাগানে ঢুকে পড়েছিল তা দেখে তাদের পিতা একটি পাথর ছুড়ে মারল, যা উটের চোখে লাগে।
আমি দেখতে পাই যে উটটি খুবই কষ্ট পাচ্ছিল। যা দেখে আমি রাগান্বিত হই এবং একটি পাথর নিয়ে তার দিকে মারি, পাথরটি তার মাথায় লাগে এবং সে মারা যায়।’
উমর (রাঃ) দু’ভাইকে বলেলন, ‘তোমরা কি এ বালককে ক্ষমা করবে?’ তারা বলল, ‘না, আমরা তার মৃত্যূদণ্ড চাই।’ উমর (রাঃ) বালকটির কাছে জানতে চাইলেন, ‘তোমার কি কোন শেষ ইচ্ছা আছে?’
বালকটি বলল, ‘আমার আব্বা মারা যাওয়ার সময় আমার ছোট ভাইয়ের জন্য কিছু সম্পদ রেখে যান, যা আমি এক যায়গায় লুকিয়ে রেখেছি। আমি তিন দিন সময় চাই, যাতে আমি সেই জিনিস গুলো আমার ভাইকে দিয়ে আসতে পারি। আমার কথা বিশ্বাস করুন।’
উমর (রাঃ) বললেন, ‘আমি তোমাকে বিশ্বাস করতেপারি যদি তুমি এক জন জামিন জোগাড় করতে পার, যে নিশ্চয়তা দেবে যে তুমি ফিরে আসবে।
বালকটি দরবারের চারদিকে তাকাল এত মানুষের মধ্যে কেউই তার জামিন হল না। সবাই নিচের দিকে তাকিয়ে রইল।
হঠাৎ দরবারের পেছন থেকে একটি হাত উঠল। কার হাত ছিল এটি? প্রখ্যাত সাহাবী আবু যর গিফারী (রাঃ), তিনি বললেন, ‘আমি তার জামিন হব।’ চিন্তা করুন জামিন মানে হল, যদি বালকটি ফিরে না আসে তবে আবু যর গিফারী (রাঃ) এর শিরচ্ছেদ করা হবে।
সুতরাং বালকটিকে ছেড়ে দেওয়া হল। এক দিন গেল, দ্বিতীয় দিনেও বালকটি আসল না, তৃতীয় দিনে দু’ভাই আবু যর গিফারী (রাঃ) এর কাছে গেল।
আবু যর (রাঃ) বললেন, ‘আমি মাগরিব পর্যন্ত অপেক্ষা করব।’ মাগরিবের কিছুক্ষণ আগে আবু যর গিফারী (রাঃ) দরবারের দিকে রওনা হলেন।
মদিনার লেকজন তাঁর পেছন পেছন যেতে লাগল। সবাই দেখতে চায় কি ঘটে। আবু যর (রাঃ) একটি বালকের ভুলের
কারণে আজ জীবন দিচ্ছেন। হঠাত্ আজানের কিছুক্ষণ আগে বালকটি দৌড়ে আসল। লোকেরা সবাই অবাক হল।
উমর (রাঃ) বললেন, ‘হে বালক তুমি কেন ফিরে এসেছ? আমি তো তোমার পিছনে কোনো লোক পাঠাইনি। কোন জিনিসটা তোমাকে ফিরিয়ে আনল?’
বালকটি বলল, ‘আমি চাই না যে, কেউ বলুক একজন মুসলিম কথা দিয়েছিন কিন্তু সে তা রাখে নি, তাই আমি ফিরে এসেছি।’
উমর (রাঃ) আবু যর (রাঃ) কে বললেন, ‘হে আবু যর তুমি কেন এই বালকের জামিন হলে?’ আবু যর (রাঃ) বললেন, ‘আমি দেখলাম একজন মুসলমানের সাহায্য প্রয়োজন, আমি চাই না যে, কেউ বলুক একজন মুসলমানের সাহায্য প্রয়োজন ছিল কিন্তু কোন মুসলমান তাকে সাহায্য করে নি।’
এ কথা শুনে দুই ভাই বলল, ‘আমরাও চাই না যে কেউ বলুক একজন মুসলমান ক্ষমা চেয়েছিল কিন্তু অন্য মুসলমান তাকে ক্ষমা করে নি।’ তারপর বালকটি মুক্তি পেল।
২০ শে মে, ২০২৬ রাত ১০:৩২
মোঃ খালিদ সাইফুল্লাহ্ বলেছেন: ধন্যবাদ স্বপ্নের শঙ্খচিল। আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। এর উত্তর দেয়া সহজ কথা নয়। তাই সে চেষ্টায় যাবনা। আল্লাহর কাছে চাওয়া হে আল্লাহ আপনি আমাদের হেদায়েত দিন।
২|
২০ শে মে, ২০২৬ রাত ৮:৫৭
নাহল তরকারি বলেছেন: গল্পটি শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, বরং ন্যায়বিচার, দায়িত্ববোধ, বিশ্বাস ও ইসলামী ভ্রাতৃত্বের এক অসাধারণ উদাহরণ। এখানে তিনটি বিষয় সবচেয়ে বেশি হৃদয় স্পর্শ করে— বালকের ওয়াদা রক্ষা, আবু যর (রাঃ)-এর নিঃস্বার্থ সাহস, এবং নিহত ব্যক্তির ছেলেদের ক্ষমাশীলতা। বর্তমান সমাজে যেখানে মানুষ সামান্য স্বার্থের জন্যও প্রতারণা করতে দ্বিধা করে না, সেখানে এই ঘটনাটি আমাদের শেখায় যে প্রকৃত মুসলমান হওয়া শুধু নাম বা পরিচয়ের বিষয় নয়; বরং চরিত্র, সততা ও মানবিকতার বিষয়।
বিশেষ করে বালকটির সেই কথা— “আমি চাই না কেউ বলুক একজন মুসলমান কথা দিয়ে তা রাখেনি”— এটি সত্যিই আত্মাকে নাড়া দেয়। আজ আমরা অনেকেই প্রতিশ্রুতি দেই, কিন্তু তা রক্ষা করি না। অথচ ইসলামে আমানত ও ওয়াদা রক্ষা ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একইভাবে আবু যর গিফারী (রাঃ)-এর আত্মত্যাগ প্রমাণ করে, একজন মুমিন অন্য মুমিনের বিপদে কিভাবে পাশে দাঁড়ায়।
সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো, শেষ পর্যন্ত প্রতিশোধ নয় বরং ক্ষমাই বিজয়ী হয়েছে। এই শিক্ষা আজকের বিভক্ত ও কঠোর সমাজে অত্যন্ত প্রয়োজন। যদি আমাদের মধ্যে সত্যবাদিতা, সহমর্মিতা ও ক্ষমার মানসিকতা ফিরে আসে, তবে সমাজ অনেক বেশি শান্তিপূর্ণ হতে পারে।
এমন শিক্ষণীয় ও হৃদয়স্পর্শী পোস্ট শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ। এই ধরনের লেখা মানুষকে শুধু আবেগীই করে না, আত্মসমালোচনা করতেও শেখায়।
২০ শে মে, ২০২৬ রাত ১০:৪০
মোঃ খালিদ সাইফুল্লাহ্ বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ নাহল তরকারি। আপনার বিচক্ষণ বিশ্লেষন খুবই হৃদয়গ্রাহী। আল্লাহ আপনাকে সর্বদা ভাল রাখুন।
©somewhere in net ltd.
১|
২০ শে মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৫
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: আমরাও চাই না যে কেউ বলুক একজন মুসলমান ক্ষমা চেয়েছিল
..............................................................................................
প্রকৃত মুসলমান কে হতে পারে
তার কোন দিক নির্দেশনা আছে ?
বা কেউ কি নির্ধিধায় বলে দিতে পারে ।