নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

জুল ভার্ন

এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস... খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে... কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়। আমার অদক্ষ কলমে... যদি পারো ভালোবেসো তাকে... ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে, যে অকারণে লিখেছিল মানব শ্রাবণের ধারা.... অঝোর শ্রাবণে।।

জুল ভার্ন › বিস্তারিত পোস্টঃ

পদ্মা ব্যারেজঃ সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত.....

১৫ ই মে, ২০২৬ সকাল ৮:৩০

পদ্মা ব্যারেজঃ সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত....

অনেকেই “ব্যারেজ” এবং “ব্রিজ”কে একই ধরনের স্থাপনা মনে করেন। বাস্তবে দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়। তাই প্রথমেই ব্রীজ এবং ব্যারেজের পার্থক্য-

ব্রিজ (Bridge) কী?
ব্রিজ বা সেতু মূলত মানুষ, যানবাহন ও ট্রেন চলাচলের জন্য নদী, খাল বা রাস্তার ওপর নির্মাণ করা হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যোগাযোগ সহজ করা। অর্থাৎ, ব্রিজের মূল কাজ হলো যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা উন্নত করা।

ব্যারেজ (Barrage) কী?
অন্যদিকে ব্যারেজ হলো নদীর পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য নির্মিত বিশেষ ধরনের কাঠামো। ব্যারেজে একাধিক গেট থাকে, যেগুলোর মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী পানি আটকে রাখা বা ছেড়ে দেওয়া যায়। অর্থাৎ, ব্যারেজের মূল কাজ হলো পানি নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা।

পদ্মা ব্যারেজ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারেজ বাংলাদেশের পানি নিরাপত্তা, কৃষি, পরিবেশ ও অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত একটি কৌশলগত জাতীয় প্রকল্প। এর মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণ করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কৃষি, নদী ও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ হলেও বাস্তবতা হলো- শুষ্ক মৌসুমে দেশের বহু নদী পানিশূন্য হয়ে পড়ে, কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হয়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পায় এবং নদীপথে নাব্যতা সংকট দেখা দেয়। বিশেষ করে ভারতের ফারাক্কা ব্যারেজ নির্মাণের পর পদ্মা নদীতে শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এর ফলে বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে পরিবেশ, কৃষি, নৌপরিবহন ও জীববৈচিত্র্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত একটি মেগা প্রকল্প হলো প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারেজ।
রাজবাড়ী ও পাবনা জেলার সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় পদ্মা নদীতে এই ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের পানি ব্যবস্থাপনা, খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান অবকাঠামোতে পরিণত হতে পারে।

পদ্মা ব্যারেজের মূল উদ্দেশ্যঃ
পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের প্রধান লক্ষ্যগুলো হলো-
শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণ করা, কৃষিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি করা, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততা কমানো, নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমানো, মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা। নৌপরিবহন ও শিল্পকারখানায় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা। অর্থাৎ, পদ্মা ব্যারেজ শুধুমাত্র একটি পানি নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প নয়; বরং বহুমাত্রিক জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ।

(১) কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তায় বিপ্লবঃ
বাংলাদেশের অর্থনীতি ও গ্রামীণ জীবনব্যবস্থার মূল ভিত্তি কৃষি। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানির অভাবে দেশের বহু অঞ্চলে কৃষকরা সেচ সংকটে পড়েন। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অনেক এলাকায় বোরো চাষ ও অন্যান্য ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয়।
পদ্মা ব্যারেজ নির্মিত হলে-
বিশাল জলাধারে পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে, বছরজুড়ে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। এক ফসলি জমি বহু ফসলি জমিতে রূপান্তরিত হতে পারবে। ধান, গম, ভুট্টা, সবজি ও ফল উৎপাদন বাড়বে। কৃষকের উৎপাদন খরচ কমবে।
ফলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি নতুন গতি পাবে।

(২) দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততা হ্রাসঃ
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততা একটি ভয়াবহ সমস্যা। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং মিঠা পানির প্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাটসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় লবণাক্ততা বাড়ছে। পদ্মা ব্যারেজের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে নদীতে মিঠা পানির প্রবাহ ধরে রাখা গেলে-
লবণাক্ততা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে, কৃষি জমির উর্বরতা রক্ষা পাবে, সুপেয় পানির সংকট কমবে, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সুরক্ষিত থাকবে। মোদ্দা কথা, দক্ষিণাঞ্চলের পরিবেশ ও জনজীবন রক্ষায় এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

(৩) নদীর নাব্যতা ও নৌপরিবহন উন্নয়নঃ
বাংলাদেশের নদীগুলো দিন দিন ভরাট হয়ে যাচ্ছে। পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় নদীর তলদেশে পলি জমে নাব্যতা কমছে। এর ফলে নৌপরিবহন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পদ্মা ব্যারেজের মাধ্যমে নদীতে পানির প্রবাহ ও গভীরতা বজায় রাখা গেলে-
নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি পাবে, সারা বছর নৌযান চলাচল সহজ হবে। পণ্য পরিবহন ব্যয় কমবে, অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। বাংলাদেশে সড়ক পরিবহনের ওপর অতিরিক্ত চাপও কমবে।

(৪) ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবেঃ
বর্তমানে কৃষি ও নগরায়নের কারণে বাংলাদেশে অতিরিক্ত হারে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ হলে- ভূ-পৃষ্ঠের পানি ব্যবহারের সুযোগ বাড়বে। গভীর নলকূপের ওপর নির্ভরতা কমবে। ভবিষ্যৎ পানি সংকট মোকাবিলা সহজ হবে। পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা পাবে।

(৫) মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষাঃ
পদ্মা নদী বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মৎস্যসম্পদভিত্তিক নদী। কিন্তু পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় মাছের প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে।
পদ্মা ব্যারেজের মাধ্যমে-
জলজ পরিবেশের উন্নতি হবে, দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়বে। নদীকেন্দ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাবে, জেলেদের জীবিকা আরও স্থিতিশীল হবে। নদীনির্ভর জনগোষ্ঠী সরাসরি উপকৃত হবে।

(৬) শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নঃ
বর্তমান বিশ্বে শিল্পায়নের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ। পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে-
শিল্পকারখানায় পানি সরবরাহ সহজ হবে। কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে উঠবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। আঞ্চলিক অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় জিডিপি প্রবৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

(৭) জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহায়কঃ
বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের অন্যতম দেশ। খরা, লবণাক্ততা ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাত মোকাবিলায় পানি সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পদ্মা ব্যারেজ হতে পারে-
একটি কৌশলগত পানি রিজার্ভ। খরা মোকাবিলার কার্যকর অবকাঠামো। জলবায়ু সহনশীল কৃষির সহায়ক শক্তি- যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

উপসংহারঃ
পদ্মা ব্যারেজ শুধু একটি অবকাঠামো প্রকল্প নয়; এটি বাংলাদেশের পানি নিরাপত্তা, কৃষি, পরিবেশ ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত একটি জাতীয় স্বপ্ন। সঠিক পরিকল্পনা ও বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ পুরো দেশের অর্থনীতি, কৃষি ও পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
ফারাক্কার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মোকাবিলা করে নিজস্ব পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পথে পদ্মা ব্যারেজ হতে পারে বাংলাদেশের অন্যতম বড় কৌশলগত পদক্ষেপ।

পুনশ্চঃ যা কিছু ভালো তার কিছু খারাপও থাকে। স্বভাবতই আমি নিশ্চিত ভালো দিকগুলো লিখেছি। সম্ভাব্য খারাপ সময়ই প্রমাণিত হবে।

মন্তব্য ২২ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (২২) মন্তব্য লিখুন

১| ১৫ ই মে, ২০২৬ সকাল ৮:৪৮

নাহল তরকারি বলেছেন: খুব সুন্দর ও তথ্যবহুল একটি লেখা। ব্রিজ ও ব্যারেজের পার্থক্য সহজভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি পদ্মা ব্যারেজের সম্ভাব্য উপকারিতাগুলোও বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। বিশেষ করে কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লবণাক্ততা সমস্যার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণভাবে উঠে এসেছে। শুভকামনা রইলো আপনার লেখালেখির জন্য।

১৫ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৮

জুল ভার্ন বলেছেন: খুব ভালো লাগছে তরকারি- আপনার লেখালেখি, মন্তব্য অনেক পরিচ্ছন্ন ও পরিপক্ক হয়েছে।

২| ১৫ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:১১

ঢাকার লোক বলেছেন: বেশ তথ্যবহুল লেখা।
ব্যারাজ ও ব্রিজের পার্থক্য সহজ বাংলায় যথাক্রমে একটা বাঁধ, পানি আটকানোর জন্য, আরেকটা পুল বা সেতু, নদী, খাল, ইত্যাদি পার হওয়ার জন্য!
যে কোন বড় প্রজেক্ট চূড়ান্ত করার আগে এর ফিজিবিলিটি, অর্থাৎ এ থেকে প্রত্যাশিত উপকার, বাস্তবায়নে খরচ, সেই সাথে এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব থাকলে, সব বিবেচনা করে এটি লাভজনক কিনা উপযুক্ত যোগ্য কর্তৃপক্ষ কর্তৃক যাচাই বাছাই করা হয়। লাভজনক প্রমাণিত হলে তবেই তা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেয়া হয়। আশা করি এ বিশাল প্রজেক্টের ক্ষেত্রেও এর ব্যাতিক্রম হয়নি !

১৫ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০৬

জুল ভার্ন বলেছেন: এতোবড় একটা প্রজেক্ট হাতে নেওয়ার আগে নিশ্চয়ই এর ফিজিবিলিটি, ব্যয় এবং নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে বিস্তর আলোচনা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সব চাইতে ভালো লেগেছে- এই প্রকল্পের সাথে জড়িত সবাই আমাদের দেশের তরুণ স্কলারগন! আরো ভালো লাগেছে- এই রিসার্চ প্রকল্প টীমের একজন সদস্য আমাদের সুপরিচিত ব্লগার মোস্তফা কামাল পলাশ।

৩| ১৫ ই মে, ২০২৬ সকাল ১০:৪৭

হুমায়রা হারুন বলেছেন: লেখাটি খুবই তথ্যবহুল।

১৫ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫

জুল ভার্ন বলেছেন: ধন্যবাদ।

৪| ১৫ ই মে, ২০২৬ সকাল ১০:৫৮

হুমায়রা হারুন বলেছেন: ম্যাপ সংযুক্ত করা কি সম্ভব?

১৫ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭

জুল ভার্ন বলেছেন: দুটো ম্যাপ অনলাইন/ গুগল থেকে পেয়েছি- কিন্তু অজ্ঞাত কারনে এখানে এড করার অপশন আসছে না।

৫| ১৫ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:৪৯

রৌশন বলেছেন: দেশটি উচ্চডিগ্রিধারী কেরানি দিয়ে ভরে গেছে দেখা যাচ্ছে।

১৫ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯

জুল ভার্ন বলেছেন: আপনার মতো বিজ্ঞানীরা স্থান শুণ্য রাখছেন কেন!

৬| ১৫ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: পদ্মা ব্যারেজঃ
............................................
আমাদের বেঁচে থাকার একটি আশার বিন্দু
বাঁচতে হলে লড়তে হবে
সব অপ-শক্তির বিরুদ্ধে ।

১৫ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭

জুল ভার্ন বলেছেন: ইন শা আল্লাহ।

৭| ১৫ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:৪০

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: বিএনপির মিডিয়া উইং খুব উইক ; ইউনুস সাহেবের প্রেসসচিব যেভাবে এখনো একটিভ সেখানে বিএনপির প্রেস সচিব কে খুজে পাওয়া যায় না ।

১৫ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:১৮

জুল ভার্ন বলেছেন: পোস্ট বহির্ভুত মন্তব্য করার অভ্যাসটা এখনও বদলায়নি!

৮| ১৫ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৯

নতুন বলেছেন: আশা করি এটা করার আগে সহী তরিকায় গবেষনা করে জনগনের উপকারে লাগে সেটা মাথায় রেখে পরিক্লপনা করে।

বড় প্রকল্পের জন্য বড় দূনিতিবাজেরা বসে থাকে ।

১৬ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪১

জুল ভার্ন বলেছেন: হ্যা দুর্নীতিই আমাদের নীতি হয়ে গিয়েছে।

৯| ১৫ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৪

হুমায়রা হারুন বলেছেন: লেখক বলেছেনঃ দুটো ম্যাপ অনলাইন/ গুগল থেকে পেয়েছি- কিন্তু অজ্ঞাত কারনে এখানে এড করার অপশন আসছে না।
ছবিগুলো jpg ফাইল হতে হবে। তা না হলে আপলোড হবে না।
খুব সম্ভবত png বা অন্য কোন ফরম্যাটে আছে।
যদি তাই থাকে তাহলে jpg- এ কনভার্ট করে নেন।

১৬ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪২

জুল ভার্ন বলেছেন: মূলতঃ আমার পোস্টে ছবি এড করার অপশনটাই আসছে না।

১০| ১৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:০১

কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন:
ভালো উদ্যোগ বিএনপির মাষ্টার স্টোক। চীনের অর্থায়নে তিস্তায় এমন কিছু একটা করার উদ্যোগ নিয়ে পরবর্তীতে মনে হয় সরে আসে হাসিনা সরকার। পদ্মায় ব্যারেজ শুনে প্রথমে কিছুটা বিস্মিত হয়েছি, আজকে একটা প্রতিবেদন বিস্তারিত দেখলাম। দক্ষিন বঙ্গের অর্থনীতি সমৃদ্ধি সহ চাষাবাদে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা হবে...... শেষ কথা হচ্ছে এইসব মেগা প্রজেক্ট দেখে খুশি ও লাগে আবার আফসোস হয়_ এই দেখে যে আমরা এখনো কত পিছিয়ে। এইসব হওয়ার কথা ছিলো আরো কয়েক যুগ পুর্বে ...

১৬ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪০

জুল ভার্ন বলেছেন: ঠিক বলেছেন ভাই।
আসলে এই ধরনের মেগা প্রকল্প শুধু ইট-পাথরের অবকাঠামো না, এগুলো একটা জাতির ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার স্বপ্ন। পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি, অর্থনীতি, নদী ও মানুষের জীবনযাত্রায় সত্যিই বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসতে পারে।

আপনার শেষ কথাটাই বেশি অন্তর্নিহিত-“এগুলো আরও কয়েক যুগ আগেই হওয়ার কথা ছিলো।”
দুঃখজনক হলেও সত্য, রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অভাব, দুর্নীতি, ভুল অগ্রাধিকার আর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সংকটে আমরা বহু বছর পিছিয়ে গেছি।
আজ যখন এমন প্রকল্পের কথা শুনি, তখন যেমন আশার আলো দেখি, তেমনি আফসোসও হয়- যদি দেশকে নিয়ে সবাই সময়মতো ভাবতো, তাহলে বাংলাদেশ আজ আরও অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারতো।
তবুও আশাবাদী হতে চাই। কারণ একটি সঠিক সিদ্ধান্ত কখনও কখনও কয়েক দশকের পিছিয়ে পড়া জাতিকেও সামনে এগিয়ে নেওয়ার শক্তি রাখে।

আবার দেখুন, উন্নয়নের নামে কিভাবে লুটপাট করেছিল শেখ হাসিনা সরকার। পদ্মা সেতুতে রেল সেতু নির্মাণের কোনো প্রয়োজন ছিলো না। অথচ ১২ হাজার কোনো টাকা ব্যয়ের রেল সেতু এখন স্ক্রাপ!

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প আমাদের ব্যয় লক্ষ কোটি টাকা। অথচ একই রকম প্রকল্প প্রতিবেশী দেশে তৈরী হয়েছে ১৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকায়।

আমাদের দেশে যে ফ্লাইওভার তৈরী করতে প্রতি কিলোমিটার গড় ব্যয় ১২৩ কোটি টাকা হলেও কোথাও কোথাও ২৫০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। সেই ফ্লাইওভার প্রতিবেশী দেশে ৬৬ কোটি টাকা, পাকিস্তানে ৭২ কোটি টাকায় তৈরী হয়েছে। ইউরোপ- আমেরিকায় একই ফ্লাইওভার তৈরীর গড় ব্যয় ৯০ কোটি টাকা।

১১| ১৬ ই মে, ২০২৬ সকাল ১০:৪৮

দূর পথিক বলেছেন: সেতুর সুফল গ্যারান্টেড এবং হাতে হাতে পাওয়া যায়, ব্যারেজের না। এতোগুলো টাকা পানিতে ঢেলে সেটা দিয়ে যে আদৌ কোন উপকার হবে এমনটা কেউ গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারবেনা। উদাহরন হিসেবে বলা যায়, তিস্তা ব্যারেজ তেমন কোন কাজে আসেনি। ব্যারেজ উপকারে না এসে বরং ক্ষতির কারনও হতে পারে, যেমন এখন ফারাক্কা ব্যারেজ ভেঙ্গে দেয়ার একটা দাবি ইন্ডিয়াতেই উঠেছে। আমার মনে হয় সরকারের এই মেগা প্রজেক্টা হাত দেয়া এখনই উচিৎ হচ্ছেনা, বিশেষ করে দেশের অর্থনীতির যেখানে খারাপ অবস্থা।

১৭ ই মে, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯

জুল ভার্ন বলেছেন: সমস্যা হলো, আমরা এখনও উন্নয়নকে শুধু “চোখে দেখা সেতু” দিয়ে মাপি, কিন্তু পানি নিরাপত্তা, কৃষি, নদী রক্ষা আর ভবিষ্যৎ অর্থনীতির গুরুত্ব বুঝতে চাই না। আবার 'সেতু মানেই- নিশ্চিত উন্নয়ন'- সেটাও মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে পদ্মা সেতুতে 'পিদ্মারেল সেতু'! শুধু প্রতিবেশী দেশের স্বার্থে পদ্মা রেলসেতু নির্মাণ করা হয়েছে। সেই পদ্মা রেলসেতু উদ্বোধন করার পর থেকেই পরিত্যক্ত ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এক্ষণ হাজার হাজার কোটি টাকার সেই সেতুর লোহালক্কড় স্ক্রাপ হিসাবে অপসারণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তিস্তা ব্যারেজ পুরোপুরি সফল হয়নি মানেই পৃথিবীর সব ব্যারেজ ব্যর্থ- এই যুক্তি যেমন দুর্বল, তেমনি একটা খারাপ হাসপাতাল দেখে সব হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়ার মতো হাস্যকর।

ফারাক্কা ব্যারেজের উদাহরণও এখানে ভুলভাবে টানা হচ্ছে। ভারত ফারাক্কা বানিয়েছে নিজেদের স্বার্থে পানি আটকে রাখার জন্য, আর বাংলাদেশ পদ্মা ব্যারেজ করতে চাচ্ছে নিজের দেশের পানি সংরক্ষণ, লবণাক্ততা রোধ, কৃষি ও নদী বাঁচানোর জন্য। দুইটার উদ্দেশ্যই আলাদা।
আর “এত টাকা পানিতে ঢালা” কথাটাও বাস্তবতাবিবর্জিত। পানি নিয়ন্ত্রণ ও সংরক্ষণ আগামী বিশ্বের সবচেয়ে বড় কৌশলগত শক্তি। ভবিষ্যতে যার পানি থাকবে, তারই কৃষি থাকবে, শিল্প থাকবে, অর্থনীতি টিকবে।
দেশের অর্থনীতি খারাপ বলে যদি দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো বন্ধ রাখা হয়, তাহলে বাংলাদেশ কখনও উন্নত হবে না। বড় রাষ্ট্রগুলো সংকটের সময়েই ভবিষ্যতের ভিত্তি তৈরি করে। উন্নয়ন মানে শুধু আজকের হিসাব না, আগামী ৫০ বছরের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা।

সবচেয়ে বড় কথা- নদীমাতৃক বাংলাদেশের মানুষ যদি পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প নিয়েই ভয় পায়, তাহলে সেটা প্রকল্পের ব্যর্থতা না, আমাদের চিন্তার সীমাবদ্ধতা।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.