| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস... খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে... কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়। আমার অদক্ষ কলমে... যদি পারো ভালোবেসো তাকে... ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে, যে অকারণে লিখেছিল মানব শ্রাবণের ধারা.... অঝোর শ্রাবণে।।
“অমল কান্তি রোদ্দুর হতে চেয়েছিল…”
কিন্তু এই শহরে রোদ্দুর হওয়ার স্বপ্নগুলো খুব দ্রুতই ধুলো, বৃষ্টি আর গাড়ির হর্নের নিচে চাপা পড়ে যায়।
ঈদের ছুটির ঢাকা। ঝুমবৃষ্টি ভেজা দুপুর। ইউকে প্রবাসী বন্ধু Shafi Haque এর সাথে দেখা করে ফিরছিলাম। যানবাহন কম, আকাশ ভারী, বাতাসে এক ধরনের বিষণ্নতা। বৃষ্টি একটু থামতেই পান্থপথ সিগনালের দিকে হেঁটে যাচ্ছিলাম।
পাশ থেকে ভেসে এলো ক্লান্ত, করুণ এক কণ্ঠ-
“স্যার, কয়েকটা পেন্সিল-কলম নেবেন? বাড়িতে ছোট বাচ্চাদের লাগবে…”
থেমে দাঁড়ালাম।
এক হাতে কয়েক প্যাকেট পেন্সিল-কলম। কাঁধে পুরোনো ব্যাগ। বৃষ্টি আর ঘামে ভেজা শরীর। পাকা চুলগুলো এলোমেলো হয়ে কপালে লেপ্টে আছে। ম্লান আলোয় মানুষটার মুখটা এতটাই বিষণ্ন লাগছিল, যেন বহুদিন না-কাঁদা কোনো মানুষের জমে থাকা আর্তনাদ আটকে আছে।
তার চোখ দুটো কথা বলছিল।
না বলা হাজার কষ্টের কথা।
৩ টাকা, ৫ টাকা, ১০ টাকার কলম। সঙ্গে স্লেট পেন্সিলও। আমার প্রয়োজন ছিল না। তবু ৫০ টাকায় দুটো প্যাকেট কিনলাম। মানুষটাকে প্রায়ই এই এলাকায় দেখি। আজ জানতে চাইলাম- “কোথায় থাকেন?”
তারপর শুরু হলো এক জীবন্ত ট্র্যাজেডির গল্প-
নাম মোঃ বেল্লাল হোসেন। বাড়ি গাইবান্ধা। থাকেন রাজাবাজার আমতলা বস্তিতে। ভোর সাতটায় বের হন। ফেরেন রাত এগারোটায়। সারাদিন বাসে বাসে, রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে লেখ্যসামগ্রী বিক্রি করেন।
একটা হাত প্রায় পঙ্গু। ছোটবেলায় পোলিওতে বাম হাত আর একটা পা অকেজো হয়ে যায়। তারপর থেকেই জীবন যেন তাকে মানুষ নয়, বোঝা ভেবে দূরে সরিয়ে দিয়েছে।
ষাটোর্ধ্ব মানুষটা খুব স্বাভাবিক গলায় বলছিলেন-
“এখন আর পারি না স্যার… এক জায়গায় বসে ব্যবসা করতে পারলে ভালো হতো। কিন্তু জায়গা কে দেবে?”
এই “কে দেবে?” প্রশ্নটা যেন শুধু তার না-
এই শহরের হাজারো বেল্লাল হোসেনের প্রশ্ন।
এর মধ্যেই সিগনাল পড়লো।
ল্যাংড়া পায়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে তিনি আবার গাড়ির জানালার কাছে ছুটলেন-
“স্যার, কয়েকটা পেন্সিল কলম নেবেন? বাড়িতে ছোট বাচ্চাদের লাগবে…”
আকাশ তখন আরও কালো হয়ে এসেছে। মেঘ গর্জে উঠছে। একটু পরেই ঝেঁপে বৃষ্টি নামবে। মানুষটা ভিজে যাবে। হয়তো জ্বর হবে। হয়তো রাতেও কিছু খেতে পারবেন না।
কিন্তু শহর থামবে না।
গাড়ির হর্ন বাজবে।
মানুষ ছুটবে।
সিগনাল বদলাবে।
আর বেল্লাল হোসেনদের কষ্টগুলো কালো পিচঢালা রাস্তায় চাকার নিচে চাপা পড়ে যাবে।
আমি শুধু দাঁড়িয়ে ছিলাম- বোবা হয়ে।
হঠাৎ মনে হলো-
এই শহরে সবচেয়ে বেশি শব্দ হয়, কিন্তু সবচেয়ে কম শোনা যায় মানুষের কান্না।
ভালো থাকুন, মোঃ বেল্লাল হোসেন।
আপনার মতো মানুষেরাই হয়তো এই নিষ্ঠুর শহরটাকে এখনো পুরোপুরি অমানুষ হতে দেননি।
২|
২৮ শে মে, ২০২৬ সকাল ১০:৫০
হুমায়রা হারুন বলেছেন: যেখানে মানুষের জীবন মানবেতর, সেখানে সত্যিই আশা করার মতো কিছু, খুব কমই থেকে যায়। প্রতিদিনের সংগ্রাম, বেঁচে থাকার ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধার অভাব, আর অসহায়ত্ব—এসব যেন মানুষের স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা, এমনকি হাসি-আনন্দকেও গলাটিপে ধরে। এমন বাস্তবতায় মানুষ কেবল টিকে থাকার লড়াইয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে; মানবিক মূল্যবোধ, সৌহার্দ্য বা ভালো থাকার স্বপ্নগুলো ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে যায়।
যখন চারপাশে অবিচার, দারিদ্র্য, অনিশ্চয়তা আর অমানবিকতা ঘিরে ধরে, তখন আশা নামক শব্দটাও অনেক দূরের কোনো দুর্লভ অনুভূতিতে পরিণত হয়। মানুষ তখন শুধু বেঁচে থাকার প্রয়োজনেই যুদ্ধ করে, বেঁচে থাকার মানে কী—সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়ার অবকাশও আর থাকে না।
তবুও, এই অন্ধকার বাস্তবতার মাঝেও মাঝেমধ্যে কোনো এক ক্ষীণ আশার আলো জ্বলে ওঠে—কারও সহানুভূতি, কারও ভালোবাসা, বা কোনো ছোট্ট মানবিক উদ্যোগ হয়তো আবার নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখায়। কিন্তু সে আলো খুবই ক্ষণস্থায়ী; অধিকাংশ সময়েই, মানবেতর জীবনের দুঃসহ ভারে আশার অস্তিত্ব প্রায় নিঃশেষ হয়ে যায়।
এই জন্যই বলা যায়—যেখানে মানুষের জীবন মানবেতর, সেখানে আশা করা সত্যিই কঠিন।
©somewhere in net ltd.
১|
২৭ শে মে, ২০২৬ রাত ১০:৪৮
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: ঈদের ছুটির ঢাকা। ঝুমবৃষ্টি ভেজা দুপুর।
................................................................
ফাঁকা রাজপথ, নিঝুম শহর,
ঈদের ছুটির ঢাকা,
ঝুমবৃষ্টির দুপুর বেলা,
চারিদিক আজ ফাঁকা।
জানলা ঘেঁষে মেঘের ছায়া,
কদম ফুলের ঘ্রাণ,
ইট-পাথরের ধূসর বুকে,
সজীবতার গান।
এককাপ চা, চেনা সুর,
টিনের চালে নূপুর নুড়ি,
ধোঁয়া ওঠা প্লেট ভরা,
ইলিশ-খিচুড়ি।
ব্যস্ত শহর জিরিয়ে নেয়,
বৃষ্টির এই চাদরে,
স্মৃতিরা সব ডানা মেলে
ভালবাসার আদরে।