নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

জুল ভার্ন

এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস... খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে... কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়। আমার অদক্ষ কলমে... যদি পারো ভালোবেসো তাকে... ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে, যে অকারণে লিখেছিল মানব শ্রাবণের ধারা.... অঝোর শ্রাবণে।।

জুল ভার্ন › বিস্তারিত পোস্টঃ

কেউ কোরবানি দেয়, আর কারও পুরো জীবনটাই কোরবানি হয়ে যায়...

২৮ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৪:১৩

কেউ কোরবানি দেয়, আর কারও পুরো জীবনটাই কোরবানি হয়ে যায়...

আজ কোরবানির ঈদ। চারদিকে উৎসব, আনন্দ, কোলাহল। ঘরে ঘরে কোরবানির মাংস, আত্মীয়-স্বজনের আনাগোনা, শিশুদের হাসি। কিন্তু এই রাজধানীরই কোনো এক কোণে এক রুমে এমন একটি পরিবার আছে, যাদের কাছে ঈদ মানেই অপেক্ষা, শূন্যতা আর দীর্ঘশ্বাস।
১৪ বছর আগে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তিনি ছিলেন একজন ছাত্রদল নেতা। মা, স্ত্রী, মাত্র দুই বছরের শিশু সন্তান এবং ছোট ভাইকে নিয়ে ছিল তার ছোট্ট সংসার। সেই মানুষটি আর কখনো ফিরে আসেননি। ফিরে আসেনি একমাত্র ভাইটিও।

১৪ বছর পেরিয়ে গেছে।
সেই শিশুটি আজ ১৪ বছরের কিশোর। এই ১৪ বছরে দেশের সরকার বদলেছে, রাজনীতি বদলেছে, অনেক মানুষের ভাগ্য বদলেছে। কিন্তু বদলায়নি সেই পরিবারের ভাগ্য।
মা এখনও অপেক্ষা করেন দরজার দিকে তাকিয়ে। স্ত্রী এখনও বুকের ভেতর এক সমুদ্র কষ্ট নিয়ে দিন পার করেন। আর সেই সন্তান এখনও বাবাহীন জীবনের ভার বয়ে বেড়ায়।

আজ ঈদের দিন।
ঘরে কোরবানির মাংস নেই। সন্তানের জন্য কষ্ট করে একটি ডিম রান্না করা হয়েছে।
মা হয়তো ডিমটা ছেলের প্লেটে তুলে দিয়ে বলবেন- "তুমি খাও বাবা, আমি খেয়েছি।"

কিন্তু মা খায়নি।
মায়েরা সন্তানের জন্য নিজের ক্ষুধা লুকিয়ে রাখে। চোখের পানি লুকিয়ে রাখে। নিজের না-পাওয়া, না-খাওয়া, না-বাঁচাকে লুকিয়ে রাখে। কিন্তু একজন সন্তানের জন্য বাবার অভাব লুকাতে পারে না।

এই ঈদে যখন আমরা প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করবো, তখন একবার অন্তত সেইসব পরিবারের কথা ভাবি- যাদের কাছে ঈদ মানে উৎসব নয়, বরং আরেকটি বছর অপেক্ষার, আরেকটি বছর না-ফেরার, আরেকটি বছর বেঁচে থেকেও হারিয়ে যাওয়ার।

কেউ কোরবানি দেয়।
আর কেউ... একটি অন্যায়ের শিকার হয়ে নিজের পুরো জীবনটাই শুধু নয়, পুরো পরিবারটাই কোরবানি দিয়ে ফেলে।
আজ সেইসব অপেক্ষমাণ মা, স্ত্রী, সন্তান এবং স্বজনদের জন্য গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও প্রার্থনা। তাদের বেদনার হিসাব কোনো ক্যালেন্ডার রাখে না, কোনো উৎসব মুছে দিতে পারে না।

মন্তব্য ১৪ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (১৪) মন্তব্য লিখুন

১| ২৮ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৪:২১

এইচ এন নার্গিস বলেছেন: সত্য বলেছেন ।

২৮ শে মে, ২০২৬ রাত ৮:৪৯

জুল ভার্ন বলেছেন: ধন্যবাদ।

২| ২৮ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৫:১০

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: আজ কোরবানির ঈদ। চারদিকে উৎসব, আনন্দ, কোলাহল।
..........................................................................................
আপাত দৃষ্টিতে আমরা তাই মনে করি,
কিছু শহুরে লোক ছুটে যায় বাড়ী,
কিছু লোক গরু কিনে করে দৌড়াদৌড়ি ।
এসবই বাহ্যিক প্রকাশ, কিন্ত কত পার্সেন্ট ???
একটু কান পাতলেই শোনা যায়, স্বজনহারা, আর্থিক চাপ আর
দারিদ্রতা ঘরে ঘরে ।
.....................................................................................
আমাদের আত্নশুদ্ধি, ত্যাগের মহিমা কোথায় এই দিনে ?

২৮ শে মে, ২০২৬ রাত ৮:৫০

জুল ভার্ন বলেছেন: হটাত কাব্য প্রতিভা জাগ্রত হয়েছে :)

৩| ২৮ শে মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩

নতুন বলেছেন: আশাকরি বর্তমান সরকার এই গুম, খুনের রাজনিতির ইতি টানবে।

দেশে এমন কোন আইন থাকা উচিত না যাতে সরকারের কাজের জবাবদিতিহা করতে না হয়।

সরকারের অবশ্যই আদালতের কাছে জবাবদিহিকা করতে হবে এমন আইন ব্যবস্থা আমাদের করতে হবে।

আর কোন সরকার, প্রধানমন্ত্রী দানবে পরিনত না হয়।

২৮ শে মে, ২০২৬ রাত ৮:৫২

জুল ভার্ন বলেছেন: বর্তমানে কিম্বা অদূর ভবিষ্যতেও সেই আওয়ামী গুম-খুনের সংস্কৃতি ফিরে আসবে না- বলেই আমার ধারণা। তবে সরকার গুম অধ্যাদেশ নিয়ে গড়িমশি করছে- এটা ভাল লক্ষণ নয়।

৪| ২৮ শে মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৫

জিনাত নাজিয়া বলেছেন: সবাই সহযোগিতা করলে হয়তো আমরা তারেক রহমানের হাত ধরেই একটা সুখী সমৃদ্ধ দেশ পেয়ে যাব আলহামদুলিল্লাহ।

২৮ শে মে, ২০২৬ রাত ৮:৫৫

জুল ভার্ন বলেছেন: তারেক রহমানের ভালো কিছু করার স্বদিচ্ছা আছে। কিন্তু বাঁধার প্রাচীর হয়ে আছে- সেই আমলাতন্ত্র। আওয়ামী জান্তা পালিয়ে গেলেও তার রেখে যাওয়া আমলাতন্ত্র এখনও বহালতবিয়তে আছে।

৫| ২৮ শে মে, ২০২৬ রাত ৯:০৩

আহমেদ জী এস বলেছেন: জুল ভার্ন,



কেউ কোরবানি দেয়, আর কারও পুরো জীবনটাই কোরবানি হয়ে যায়...
কারন যাই-ই হোক ঘরে ঘরে এমনটাই সত্য। বিশেষ করে ঘরের কর্তা তার সংসারের জন্যে জীবনটাই কোরবানি দিয়ে দেয়! তার বেদনার হিসাব কোনো ক্যালেন্ডার রাখে না, কোনো উৎসব মুছে দিতে পারে না।



আপনার পোস্টের মর্মার্থের সাথে গলা মিলিয়ে বলতেই হয় ------
আজ সেইসব অপেক্ষমাণ মা, স্ত্রী, সন্তান এবং স্বজনদের জন্য গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও প্রার্থনা।

২৯ শে মে, ২০২৬ সকাল ৯:১১

জুল ভার্ন বলেছেন: আহমেদ জী এস ভাইজান, আমার মতো সাধারন মানুষ শুধু শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং দোয়া করা ছাড়া আর কিছুই নাই। কিন্তু যাদের অনেক কিছু করার মতো সামর্থ আছে- তাদের কাছে এসবের কোনো মূল্য নাই।
এই পোস্টে যার কথা লিখেছি তাকে বিভিন্ন সময় দেখেছি- জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন/ সংস্থার বিভিন্ন সেমিনার এবং প্রসেশনে বক্তব্য রাখতে। মহিলা এইচএসসি পাশ। স্টুডেন্ট লাইফে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন- ছাত্রদল নেতাকে। বর্তমানে তার সরকারী জবের বয়স পেরিয়ে গিয়েছে। আমরা যারা কয়েকজন বিভিন্ন ভাবে তাকে কিছুটা আর্থিক সহায়তা দিতে চাই- ব্যবসা বানিজ্য হারিয়ে আয়রোজগার নাই। তার উপর বছরের পর বছর মামলা চালাতে হিমসিম খাচ্ছি। অর্থাত আমাদের অবস্থাও ভালো নয়। তারপরও চেষ্টা করেছি। সদ্য সাবেক তত্বাবধায়ক সরকারের পূর্ত উপদেষ্টা দয়া করে চতুর্থ শ্রেনীর একটা জব দিয়েছিলেন- সম্পুর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে-নো ওয়ার্ক, নো পে' ভিত্তিতে, সেই সংগে পূর্ত মন্ত্রনালয়ের একটা পরিত্যাক্ত কোয়ার্টারের এক রুম সংস্কার করে শাশুরি-সন্তান নিয়ে থাকার জন্য।

মহিলা সেলাইয়ের কাজ জানেন- তাই আমার বেশ কয়েকজন ধনাঢ্য বন্ধুদের কাছে অনুরোধ করেছিলাম- একটা ইলেক্ট্রিক সেলাই মেশিন কিনে দান করার জন্য- যা দিয়ে বাড়তি কিছু আয় করে সংসার চালাতে পারবে। কিন্তু কেউ দেয়নি! তারপরও আমি চেষ্টা করছি- যদি অসহায় পরিবারটির জন্য যদি কিছু করতে পারি।

৬| ২৯ শে মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৫

নতুন বলেছেন: লেখক বলেছেন: বর্তমানে কিম্বা অদূর ভবিষ্যতেও সেই আওয়ামী গুম-খুনের সংস্কৃতি ফিরে আসবে না- বলেই আমার ধারণা। তবে সরকার গুম অধ্যাদেশ নিয়ে গড়িমশি করছে- এটা ভাল লক্ষণ নয়।


দেশের জনগন শক্তিশালী হলে আইন রাজনিতিকদের বিরুদ্ধে কঠর হয়। অন্যায় করে রাজনিতিকরা পার পায় না, তখন জনগন বিচার পায়, রাজনিতিকরা অন্যায় করতে হাজার বার চিন্তা করে।

সালাউদ্দিন আহমেদ, ইলিয়াস উদ্দিনের স্ত্রী কিভাবে গুমের বিরুদ্ধে আইনের জন্য তাগাদা দেয় না? :-*

২৯ শে মে, ২০২৬ রাত ৮:৫৭

জুল ভার্ন বলেছেন: বর্তমান সংসদে সরাসরি গুম হয়েছিলেন- বিএনপির সালাউদ্দীন আহমেদ, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, আনিচুর রহমান খোকন এবং জামাতের ব্যারিষ্টার আরমান। গুম পরিবারের সদস্য আছেন- বিএনপির ইলিয়াস আলীর স্ত্রী লুনা রুশদী এবং সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন- সানজিদা ইসলাম তুলি।

'গুম অধ্যাদেশ' পর্যালোচনার জন্য ৭ সদস্য নিয়ে একটা সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে- যেখানে মাননীয় স্পীকার প্রধান, আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আরও সরকার দলীয় দুইজন সংসদ সদস্য, দুইজন বিরোধী দলীয় সদস্য ছাড়াও একজন বিশেষজ্ঞ অতিথি থাকবেন- যাকে রাষ্ট্রপতি মনোনয়ন দিবেন মঞ্জুরী কবিশনের চেয়ারম্যানের পরামর্শে! এবার আন্দাজ করুন- এই কমিশনের রেজাল্ট কোনো ভাবেই সরকার দলীয় ইচ্ছার বাইরে হবে না! সো এভ্রিথিং ডিপেন্ড অন সরকারের স্বদিচ্ছা।

৭| ২৯ শে মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৭

নতুন বলেছেন: মহিলা সেলাইয়ের কাজ জানেন- তাই আমার বেশ কয়েকজন ধনাঢ্য বন্ধুদের কাছে অনুরোধ করেছিলাম- একটা ইলেক্ট্রিক সেলাই মেশিন কিনে দান করার জন্য- যা দিয়ে বাড়তি কিছু আয় করে সংসার চালাতে পারবে। কিন্তু কেউ দেয়নি! তারপরও আমি চেষ্টা করছি- যদি অসহায় পরিবারটির জন্য যদি কিছু করতে পারি।

সেলাই মেশিনের জন্য কত দরকার হবে?

২৯ শে মে, ২০২৬ রাত ৮:৫৮

জুল ভার্ন বলেছেন: দাম খুব বেশী নয়- সেমি প্রোফেশনাল কোয়ালিটি চল্লিশ হাজার প্লাস-মাইনাস।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.