নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

জুল ভার্ন

এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস... খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে... কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়। আমার অদক্ষ কলমে... যদি পারো ভালোবেসো তাকে... ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে, যে অকারণে লিখেছিল মানব শ্রাবণের ধারা.... অঝোর শ্রাবণে।।

জুল ভার্ন › বিস্তারিত পোস্টঃ

প্রসঙ্গঃ জুলাই যাদুঘর....

১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৫:৫৭

প্রসঙ্গঃ জুলাই যাদুঘর....

ইতিহাসের স্মৃতি মুছে নয়, সংরক্ষণ করেই এগোতে হবে
জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের প্রদর্শনী থেকে ফেলানীর স্মারক, সীমান্ত হত্যার দলিল ও আলোকচিত্রসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক উপাদান সরিয়ে দেওয়া হয়েছে- এমন আলোচনা ও অভিযোগ জনমনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি করেছে।
বিষয়টি তাই আবেগ বা রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে তথ্য ও স্বচ্ছতার সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।

কোনো জাদুঘরের প্রদর্শনী নতুনভাবে সাজানো হতে পারে। প্রশাসনিক, নকশাগত কিংবা অন্য কোনো যৌক্তিক কারণেও কোনো অংশ পরিবর্তিত হতে পারে। কিন্তু যদি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল, ছবি বা স্মারক সত্যিই সরিয়ে নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে জনগণের জানার অধিকার রয়েছে- কেন সরানো হলো, কার সিদ্ধান্তে সরানো হলো এবং সেগুলো বর্তমানে কোথায় সংরক্ষিত আছে।

রাষ্ট্রের সঙ্গে অন্য রাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকা এক বিষয়; আর নিজের ইতিহাস ও জাতীয় স্মৃতি সংরক্ষণ করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, সীমান্তে নিহত ফেলানী, গণ-আন্দোলন, রাজনৈতিক নিপীড়ন কিংবা দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের বিভিন্ন অধ্যায়- এসবের যেসব দলিল ও স্মারক রয়েছে, সেগুলো কোনো ব্যক্তি বা দলের সম্পত্তি নয়। এগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণযোগ্য জাতীয় ইতিহাসের অংশ।

আমরা চাই না ইতিহাসকে কোনো রাজনৈতিক পক্ষের সুবিধা অনুযায়ী লেখা বা মুছে ফেলা হোক। আমরা চাই- যা ঘটেছে, তার সত্যনিষ্ঠ দলিল সংরক্ষিত থাকুক এবং মানুষ সত্য জানার সুযোগ পাক।

তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত অনুরোধঃ
জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের প্রদর্শনীতে কী কী পরিবর্তন আনা হয়েছে, কেন আনা হয়েছে এবং সরিয়ে নেওয়া ঐতিহাসিক উপকরণগুলো কোথায় সংরক্ষিত আছে- এসব তথ্য জনসমক্ষে স্পষ্ট করা হোক।

ইতিহাসের গৌরব যেমন সংরক্ষণ করতে হয়, তেমনি ইতিহাসের বেদনা, অন্যায় ও অস্বস্তিকর অধ্যায়ও সংরক্ষণ করতে হয়। কারণ ইতিহাস মুছে দিলে ইতিহাস শেষ হয় না বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে প্রশ্ন আরও বড় হয়ে ফিরে আসে।
ইতিহাস কোনো সরকারের নয়, কোনো দলের নয়- ইতিহাস জনগণের। সত্য যত কঠিনই হোক, ইতিহাসের জায়গা ইতিহাসেই থাকা উচিত।

মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:২৫

মাথা পাগলা বলেছেন: জনগণের একটা বড় অংশ বলছে জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে জনগণের সাথে বড় ধরনের স্ক্যাম করা হয়েছে। দেশে পাকিস্তানপন্থীরা স্বাধীনতা লাভ করেছে। জুলাই দিবস নিয়েও জনগণের মধ্যে তেমন কোনো আবেগ-উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে না।

১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৩৪

জুল ভার্ন বলেছেন: জুলাইকে অবমাননা নয়, ইতিহাসকে সম্মান করুন।
“জুলাই বিপ্লব জনগণের সঙ্গে স্ক্যাম”- এ ধরনের মন্তব্য শুধু রাজনৈতিক মতামত নয়; এর মধ্যে জুলাইয়ের আত্মত্যাগ, শহীদদের রক্ত এবং হাজারো আহত মানুষের যন্ত্রণা খাটো করার প্রবণতা আছে।

যে শাসনের বিরুদ্ধে জুলাইয়ের মানুষ রাস্তায় নেমেছিল, যার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ আন্তর্জাতিকভাবেও আলোচিত ও নথিভুক্ত- সেই শাসনের প্রতি সহানুভূতি দেখানো মানে সেই নির্যাতিত মানুষগুলোর ক্ষতকে আবারও অপমান করা।

১৯৫২ সালে মাত্র কয়েকজন শহীদের স্মৃতি বাঙালি জাতি ৭৫ বছর ধরে গভীর শ্রদ্ধায় ধারণ করে আসছে। তাহলে জুলাইয়ের শহীদদের স্মৃতি দুই বছরেই ম্লান হয়ে যাবে কেন? শহীদের সংখ্যা দিয়ে ইতিহাসের মূল্য নির্ধারিত হয় না- প্রতিটি প্রাণের রক্তই জাতির সম্পদ।

জুলাই জাদুঘর কোনো ভবনমাত্র নয়; এটি একটি জাতির স্মৃতি, আত্মত্যাগ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর দলিল। সেখানে মানুষের ভিড় কম-বেশি হতে পারে, কিন্তু ইতিহাসের মূল্য কমে না।

জুলাইকে অস্বীকার করা মানে শুধু একটি আন্দোলনকে অস্বীকার করা নয়- এটা শহীদদের আত্মত্যাগকে অস্বীকার করা। ইতিহাস নিয়ে বিতর্ক হোক, সমালোচনা হোক- কিন্তু শহীদের রক্ত ও ভুক্তভোগীদের কান্নাকে রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তুচ্ছ করবেন না।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.