| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস... খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে... কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়। আমার অদক্ষ কলমে... যদি পারো ভালোবেসো তাকে... ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে, যে অকারণে লিখেছিল মানব শ্রাবণের ধারা.... অঝোর শ্রাবণে।।
যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....
“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী মূলত সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য ভণ্ডামি বৈ অন্যকিছু না। সম্প্রীতি মানে বিশ্বাসের সীমারেখা মুছে ফেলা নয়!
ধর্মের ভিত্তি বিশ্বাস, ঈমান ও আকিদা। আর ধর্মীয় উৎসব কেবল আনন্দ-উৎসব নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে উপাসনা, ধর্মীয় বিধান, আধ্যাত্মিক উপলব্ধি ও নিজ নিজ ধর্মবিশ্বাসের স্বতন্ত্র পরিচয়।
উদাহরণঃ ঈদ মুসলমানের ধর্মীয় উৎসব, দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আর বড়দিন খ্রিষ্টানদের ধর্মীয় উৎসব। এসব উৎসবের ধর্মতাত্ত্বিক ভিত্তি, উপাসনার পদ্ধতি ও বিশ্বাসের তাৎপর্য এক নয়। তাহলে ধর্মীয় স্বাতন্ত্র্য অক্ষুণ্ন রেখে সব ধর্মের উৎসবকে কী অর্থে সবার উৎসব বলা যায়?
অন্যের ধর্মীয় উৎসবকে সম্মান করা আর সেই উৎসবকে নিজের ধর্মীয় উৎসব হিসেবে গ্রহণ করা এক বিষয় নয়। একজন মুসলমান দুর্গাপূজায় অংশ না নিয়েও হিন্দু প্রতিবেশীর নিরাপত্তা ও আনন্দের অধিকার রক্ষা করতে পারেন। একজন হিন্দু কিংবা খ্রিষ্টানও অন্যের ধর্মীয় বিশ্বাস গ্রহণ না করেই মুসলমানের ঈদ উদযাপনের স্বাধীনতাকে সম্মান করতে পারেন।
সম্প্রীতির জন্য বিশ্বাসের অভিন্নতা প্রয়োজন নেই; প্রয়োজন পরস্পরের বিশ্বাস ও অধিকারকে সম্মান করার মানসিকতা।
আমাদের প্রত্যাশা হোক- প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্মীয় বিধান ও বিশ্বাস অনুযায়ী স্বাধীনভাবে উৎসব পালন করুক। কেউ কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করবে না, কাউকে ধর্মীয় আচার পালনে বাধা দেবে না, আবার কাউকে নিজের বিশ্বাসের বাইরে কোনো ধর্মীয় আচারে অংশ নিতে সামাজিক চাপও দেবে না।
রাষ্ট্রের দায়িত্ব হবে সবার ধর্মীয় স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও সমান নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা। ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে সামাজিক সৌহার্দ্য, শুভেচ্ছা বিনিময় কিংবা প্রতিবেশীর পাশে দাঁড়ানো অবশ্যই প্রশংসনীয়। কিন্তু নাগরিক সম্প্রীতির নামে ধর্মীয় বিশ্বাসের স্বাতন্ত্র্যকে গুলিয়ে ফেলার প্রয়োজন নেই।
আমার বক্তব্য কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে নয়, কোনো ধর্মীয় উৎসবের প্রতিও অসম্মান নয়। বরং প্রত্যেক ধর্মের নিজস্ব বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই কথাটি বলছি। এই পোস্টে তিনটি ছবি যুক্ত করেছি- যেখানে তিনটি ধর্মের তিন রকম উৎসবের আদলেই প্রমাণ করে উৎসবের ভিন্নতা।
আমি বিশ্বাস করি- ‘যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব; কিন্তু অধিকার, নিরাপত্তা, মানবিকতা ও রাষ্ট্র সবার।’
ধর্মীয় বিশ্বাসের স্বাতন্ত্র্য অক্ষুণ্ন রেখেও কীভাবে সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখা যায়।
বিশ্বাস আলাদা হতে পারে, কিন্তু নাগরিক অধিকার ও মানবিক মর্যাদা সবার সমান।
এই দৃষ্টিভঙ্গি কাউকে ছোট করে না, কারও বিশ্বাসে হস্তক্ষেপও করে না; বরং ভিন্নতার মধ্যেই সহাবস্থানের পথ দেখায়।
ধর্মীয় সম্প্রীতি মানে সবাইকে একই বিশ্বাসে কিংবা একই উৎসবে একাকার করে দেওয়া নয়। সম্প্রীতি মানে- বিশ্বাস আলাদা হলেও মানুষ হিসেবে আমরা পরস্পরের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করব- এটাই আমার বিশ্বাস, এটাই আমার অবস্থান।
১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:০৬
জুল ভার্ন বলেছেন:
২|
১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯
মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন:
ধর্মীয় বিশ্বাসের স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখেও যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, মানবিকতা ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা করা সম্ভব, আপনার লেখায় সেই বিষয়টি সুন্দরভাবে উঠে এসেছে। অন্যের ধর্মীয় উৎসবকে সম্মান করা আর নিজের ধর্মীয় উৎসব হিসেবে গ্রহণ করা এক নয়। ভিন্ন বিশ্বাসের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানই হোক আমাদের সমাজের মূল শক্তি।
১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:০৬
জুল ভার্ন বলেছেন: ধর্মীয় সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্য বিশ্বাসের অভিন্নতা নয়, প্রয়োজন পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতা। প্রত্যেক ধর্মের রয়েছে নিজস্ব বিশ্বাস, উপাসনা ও উৎসবের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। অন্যের ধর্মীয় উৎসবকে সম্মান করা মানেই নিজের ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে তাকে একাকার করে ফেলা নয়। বরং নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখেও একে অপরের আনন্দ, অধিকার ও নিরাপত্তার পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত মানবিকতা। বিশ্বাস যার যার, ধর্মীয় স্বাধীনতা সবার; আর মানবিক মর্যাদা ও নাগরিক অধিকার সবার সমান। ভিন্ন বিশ্বাসের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহাবস্থান ও সম্প্রীতিই হোক আমাদের সমাজের প্রকৃত শক্তি।
৩|
১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৫
কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত) বলেছেন: যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব; কিন্তু অধিকার, নিরাপত্তা, মানবিকতা ও রাষ্ট্র সবার।’
১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:০৬
জুল ভার্ন বলেছেন: ধন্যবাদ।
©somewhere in net ltd.
১|
১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৩১
আলামিন১০৪ বলেছেন: নেক্সট কোরবানীর ঈদে দাদাদের অগ্রিম দাওয়াত দিয়ে রাখলাম-
যারা বলে- ধর্ম যার যার উৎসব সবার