নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মাথা পাগলা

মাথা পাগলা › বিস্তারিত পোস্টঃ

ঢাবিতে "মব সায়েন্স" পড়তে হলে কী কী যোগ্যতা লাগে?

২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৮



- রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তৌহিদী জনতার ব্যবহার করা জানতে হবে।

- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মবকে থামাতে না পারলে সেটাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না বলে "জনতার শক্তি" বলতে হবে।

- মাজার ভাঙা, লালন-বাউলদের আখড়ায় হামলা, পীরের আস্তানায় হামলা, কবর থেকে লাশ তুলে নেওয়া কিংবা সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলার মতো ঘটনাগুলোকে "জনতার আবেগ” বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে।

- ছায়ানট, উদীচী, বাউল, লালন কিংবা মাজার এগুলো বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ - এটা মানলে চলবে না। নিজের মতাদর্শের সাথে না মিললেই এগুলো ভেঙে ফেলার অধিকার জনতার আছে, এমন একটা বিশ্বাস থাকতে হবে।

- ৭১-এর ইতিহাস পছন্দ না হলে ইতিহাস নিয়ে যুক্তি দিয়ে কথা বলার সুযোগ দেওয়া যাবে না। ৭১ স্মৃতিচিহ্ন, ভাস্কর্য, ছবি কিংবা ইতিহাসের সাথে জড়িত সবকিছু মুছে ফেলার চেষ্টা হলে সেটাকে সমর্থন করার মতো উদার মানসিকতা থাকতে হবে।

- আদালত, তদন্ত, প্রমান এসবের আর কি দরকার! রাস্তায় কয়েক হাজার মানুষ জড়ো হলেই সেটাকেই আদালত মনে করতে হবে। অভিযোগ উঠেছে মানেই অপরাধী, আর অপরাধী মানেই শাস্তি দেওয়ার অধিকারও জনতার - এই দর্শনে বিশ্বাস থাকতে হবে।

- ফেসবুকের একটা পোস্ট, গুজব, স্ক্রিনশট কিংবা একটা ভিডিও দেখেই মানুষকে অপরাধী বানিয়ে ফেলার মতো বিচারবুদ্ধি থাকতে হবে। আগে মব জড়ো করে শাস্তি দিতে হবে, সত্য মিথ্যা যাচাই করার কথা পরে চিন্তা করা যাবে।

- রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বাড়ি, অফিস কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা হলে সেটাকে বিপ্লব বলতে হবে। কিন্তু একই কাজ নিজের দলের বিরুদ্ধে হলে তখন সেটাকেই আবার মব সন্ত্রাস বলে চিৎকার করতে হবে।

- সাংবাদিক বা সংবাদমাধ্যম নিজের পছন্দমতো খবর না ছাপলে তাদের দালাল, দেশদ্রোহী, এজেন্ট ইত্যাদি তকমা দিয়ে তাদের অফিসে আগুন দিয়ে হামলা করাকেও জনতার জবাব মনে করতে হবে। কারন মতের বিরুদ্ধে যুক্তি দিয়ে লড়াই করার চেয়ে অফিসে আগুন দেওয়া অনেক সহজ।

- যতদিন মব অন্যের বাড়িতে আগুন দিচ্ছে, ততদিন চুপ থাকতে হবে। কিন্তু যেদিন সেই মব নিজের রাজনৈতিক স্বার্থের পথে বাধা হয়ে দাড়াবে, সেদিন হঠাৎ করে আইনের শাসন, গণতন্ত্র আর রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের কথা মনে পড়তে হবে।



তৌহিদী জনতার মাধ্যমে শেখ হাসিনার পতন ঘটানো হয়েছে, তাদের হাত ধরেই বিএনপি ক্ষমতায় আসার সুযোগ পেয়েছে। মাজার ভাঙা, মব সন্ত্রাস এবং ৭১-এর ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টার মাধ্যমে তৌহিদী জনতাকে ব্যবহার করে লীগের পুনর্বাসন ঠেকানো সম্ভব- এমনটাই ধরে নেওয়া হয়েছিল। রাজনৈতিক সুবিধার জন্য যাদের ব্যবহার করা হয়েছিল, তারাই এখন বিএনপির গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।


তৌহিদী জনতার কারণেই হয়তো তারেক রহমানের ভারত সফরও হচ্ছে না। এতোদিন তাদের কোন প্রতিবাদ দেখলাম না আজকে হঠাৎ করেই "নৌকাবাইচ" নিয়ে তাদের চেতনা জাগ্রত হয়েছে। যে মব এতদিন অন্যের ঘর পুড়িয়েছে, ইতিহাস মুছেছে, মাজার ভেঙেছে - সেই মব যখন নিজের রাজনৈতিক স্বার্থের জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে, তখনই হঠাৎ করে মব সন্ত্রাসের ভয়াবহতা চোখে পড়ছে।

বিএনপি কি এতদিনে বুঝতে শুরু করেছে, স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি আসলে শুধু আওয়ামী লীগকে ঠেকানোর জন্য মাঠে নামেনি - প্রয়োজনে বিএনপিকেও ঘায়েল করার পরিকল্পনা তাদের আছে?

মন্তব্য ১৪ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (১৪) মন্তব্য লিখুন

১| ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৩৮

রাজীব নুর বলেছেন: শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এলেই অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:৩৫

মাথা পাগলা বলেছেন: ওবায়দুল কাদের কিছুক্ষন আগে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। লীগের কিছু নেতাকর্মীকে বহিষ্কার না করলে লীগ আবার বিপদে পড়বে।

২| ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:১৮

এইচ এন নার্গিস বলেছেন: অসম্ভব সুন্দর ,সত্য এবং শক্তিশালী বক্তব্য তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ ।

২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:৩৮

মাথা পাগলা বলেছেন: সুন্দর মন্তব্যের জন্য আপনাকেও আন্তরিক ধন্যবাদ।

৩| ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:১৩

জ্যাক স্মিথ বলেছেন: আগে মাদ্রাসা থেকে পড়াশুনা করে তারপর ঢাবিতে ভর্তি হতে হবে।

২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:৩০

মাথা পাগলা বলেছেন: ঢাবিতে তৌহিদি জনতার চাষাবাদের অবদান পুরাটাই আওয়ামী লীগের। ২০১৫~১৬ সালে মাদেসার পোলাপাইন যাতে ঢাবিতে পড়তে পারে তার ব্যবস্থা লীগই করেছিলো। তবে লীগের আমলে এমন মব সন্ত্রাস দেখা যায়নি। শেখ হাসিনার পতনের পর সরকারি মদদে মব সন্ত্রাস চলছে।

৪| ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০৬

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: বীজ আগেই বপন করা হয়েছিলো। উপযুক্ত পরিবেশে ফল ধরা শুরু হয়েছে । জয় কওমী জননীর জয় । :)

২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:২৭

মাথা পাগলা বলেছেন: বীজ আগেই বোনা হয়েছিল, বুঝলাম। কিন্তু সার-পানি দিয়ে এত সুন্দর ফলনটা কার আমলে হলো, সেটাও তো বলেন।

ইউনুস স্যার বাংলাদেশকে বিপদে ফেলছেন!

৫| ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৭

মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ বলেছেন: পুলিশ এখনও পাঞ্চিং ব্যাগ……।

কিন্তু তৌহিদী লিল্লা খোর জনতা এইটা বোঝে না যে এরা জামায়াতের "ত্যানা"বাহিনী না যে কিছুকাল পর সেনা ছাউনিতে ফেরত যাবে। বরং এই বেসামরিক পুলিশ বাহিনীর সাথেই তাদের ৩৬৫ দিন কাটাতে হবে, যেমনটা সবসময় কাটিয়ে এসেছে।

দেখতে দেখতে আড়াই বছর চলে গেছে আর এরা ভাবছে আজীবনই পুলিশ পিটিয়ে যাবে যেমন পিটিয়ে মেরেছিলো যাত্রাবাড়ী আর এনায়েতপুরের পুলিশদের।

২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৪:০৮

মাথা পাগলা বলেছেন: রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর একটি হলো পুলিশ। পুলিশ অকার্যকর হলে রাষ্ট্র অচল হয়ে যাবে। পুলিশ আইনের ঊর্ধ্বে নয়, তাদের অপকর্মেরও জবাবদিহিতা থাকতে হবে। কিন্তু পুলিশকে পেটানো - রাষ্ট্রের আইনের ওপর সরাসরি আঘাত।

৬| ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:৩৪

মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ বলেছেন: সুনির্দিষ্ট পূর্ব পরিকল্পনার ভিত্তিতেই সুনির্দিষ্ট ব্যক্তি/গোষ্ঠী/স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে যে আলু পোড়া উৎসব/মেলা উৎযাপন করা হচ্ছে এর দায় কার? ৫ ই আগস্টের পর প্রথম আলু অফিসের সামনে গরু কুরবানী দেয়ার সময় থেকেই ধারণা করা হয়েছিলো যে আলু পোড়া উৎসব কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র। ঘটলোও তাই।

/এতে কি সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পেলো?

/শরিয়া আইন ভিত্তিক ইসলামী রাষ্ট্রও কি এই ধরনের কার্যক্রমকে অনুমোদন দেয়? কথিত দিল্লী স্টারের ক্যাফে থেকে আইসক্রিম লুট করে যে ছাপড়িরা মনের সুখে তার স্বাদ আস্বাদন করছিল, সে কি ইসলামী মূল্যবোধের ধারক বাহক ধর্মপ্রান জনতাকে প্রতিনিধিত্ব করে?

/আর যে ওই অফিসের একটা ডেস্কটপ "জনগণের সম্পদ ঘোষণা" দিয়ে তা বগল দাবা করে বাড়ি ফিরছিল সে ইসলামী মূল্যবোধের কতটুকু সে ধারণ করে?

তাহলে এই আইন প্রয়োগকারী সংস্হা, বিচার ব্যবস্থা, সরকারী সংস্হা রাখার কি উপযোগীতা যারা জঙ্গী তৌহিদী জনতার হাত থেকে জনসাধারনকে সুরক্ষা দিতে অক্ষম? এদের পে-স্কেল বাড়ানোর কি উপোযোগিতা যা জনসাধারনের প্রতিদিনের কাজে আসছে না?

২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:০৬

মাথা পাগলা বলেছেন: বেপ্লব সফল করতে শাসনব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে, জনগণের কাছে পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট করা হয়েছে। তারপর প্রতিবিপ্লব ঠেকাতে মব সন্ত্রাসকে হাতিয়ার বানিয়েছে। এগুলো বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা নয়, রাষ্ট্রকে দুর্বল করার একটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া - মেটিক্যুলাস ডিজাইনের অংশ।

আম্রিকা বাংলাদেশে শরিয়াভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়। মুমিনরা আম্রিকাকে যতই অপছন্দ করুক, শেষ পর্যন্ত হয়তো তাদের স্বপ্নের শরিয়াভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কাজটা আম্রিকার হাত ধরেই হবে।

৭| ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭

নতুন বলেছেন: যেই দেশে ৭০ লক্ষ পোলাপাইন মা্দ্রাসাতে পড়ে সেখানে আমরা মঙ্গলে বসতি গড়ার গবেষনার কথা আশা করতে পারিনা। :|

২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৫

মাথা পাগলা বলেছেন: হাসিনা পতনের পর জামাত যতই লিবারেল সাজার চেষ্টা করুক না কেন, জামাত ক্ষমতায় এলে মাদ্রাসা নয়, পাড়ায় পাড়ায় জঙ্গি অফিস গঠন হবে। যদিও আমার মনে হয় না জামাত কোনদিন ক্ষমতায় আসতে পারবে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.