নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

জুল ভার্ন

এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস... খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে... কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়। আমার অদক্ষ কলমে... যদি পারো ভালোবেসো তাকে... ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে, যে অকারণে লিখেছিল মানব শ্রাবণের ধারা.... অঝোর শ্রাবণে।।

জুল ভার্ন › বিস্তারিত পোস্টঃ

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?

২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?
মাজার বিদ্বেষ, বাউলগান বিদ্বেষ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আপত্তি- এরপর কিছুদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কলেমা লেখা পতাকা টানানো; আর এখন সিলেটের বিয়ানীবাজারে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি!
এগুলো আসলে ধর্মীয় বিধান পালনের চেষ্টা, নাকি ধর্মকে ব্যবহার করে সমাজে উন্মাদনা ও বিভাজন তৈরির অপচেষ্টা?

মাজারে কে যাবে, বাউল গান কে শুনবে, নৌকাবাইচ কে আয়োজন করবে- এসব বিষয়ে কারও ব্যক্তিগত ধর্মীয় আপত্তি থাকতেই পারে। কিন্তু সেই আপত্তিকে দলবদ্ধ চাপ, হুমকি, মব তৈরি কিংবা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার লাইসেন্স বানিয়ে ফেলার অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি।
ইসলাম কারও হাতে মব-সনদ তুলে দেয়নি।

আজ মাজারে আপত্তি, কাল বাউল গানে আপত্তি, পরশু নৌকাবাইচে আপত্তি- তারপর?
এরপর কি বইমেলা বন্ধ হবে? গান বন্ধ হবে? নাটক বন্ধ হবে? পহেলা বৈশাখ বন্ধ হবে? মানুষের পোশাক, চলাফেরা, মতপ্রকাশ- সবকিছুর ওপরও কি একদিন ‘তৌহিদী জনতা’র ফতোয়া চলবে?
এটা ধর্মের প্রশ্ন নয়।
এটা রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব বনাম মবের কর্তৃত্বের প্রশ্ন।

বাংলাদেশ অতীতে এর ভয়াবহ পরিণতি দেখেছে। জেএমবি ও বাংলা ভাইয়ের উত্থান রাতারাতি হয়নি। উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, মাজার, সিনেমা-থিয়েটারসহ বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিদ্বেষও তাদের কর্মকাণ্ডের অংশ ছিল।
প্রথমে তাদেরকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
তারপর তারা সংগঠিত হয়েছে।
তারপর তারা এলাকায় এলাকায় নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে। তারপর এসেছে হত্যা, বোমা, সন্ত্রাস- এমনকি ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারাদেশে একযোগে বোমা হামলা।

রাষ্ট্র যখন মবকে শুরুতেই থামায় না, একসময় মবই রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করার সাহস পেয়ে যায়।
তাই আজই সতর্ক হওয়ার সময়।

সরকারের দায়িত্ব মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা যেমন নিশ্চিত করা, তেমনি অন্যের ধর্মীয় স্বাধীনতা, সাংস্কৃতিক অধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতায় কেউ যেন মবের শক্তি দিয়ে হস্তক্ষেপ করতে না পারে- সেটাও নিশ্চিত করা।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি মনে করে- ‘এ তো সামান্য কিছু লোকের দাবি, সময় গেলে ঠিক হয়ে যাবে’, তাহলে সেটি ভয়ংকর ভুল হবে।
আগুন অল্প থাকতেই নেভাতে হয়।

আজ যারা ধর্মের নাম ব্যবহার করে মাজার, বাউলগান কিংবা নৌকাবাইচ বন্ধ করতে মাঠে নামছে, তাদের প্রত্যেকের ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। সত্যিই যদি কেউ কোনো আইন ভঙ্গ না করে থাকে, তার ভয় পাওয়ারও কারণ নেই। কিন্তু ধর্মীয় আবেগকে উসকে দিয়ে মব তৈরি, ভয়ভীতি সৃষ্টি কিংবা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা হলে- সেখানে রাষ্ট্রকে এক মুহূর্তও দুর্বলতা দেখানো উচিত নয়।
কারণ-
মবের কোনো ধর্ম নেই।
মবের কোনো দল নেই।
মবের কোনো সীমারেখাও নেই।
আজ তারা অন্যের স্বাধীনতা কেড়ে নেবে, কাল আপনার স্বাধীনতাও কেড়ে নিতে পারে।
তাই সরকারকে বলছি-
মবকে প্রশ্রয় দেবেন না। ধর্মীয় উন্মাদনার নামে আইনশৃঙ্খলা ভাঙার সুযোগ দেবেন না।
বাংলা ভাই হওয়ার আগেই থামান।
জেএমবি হওয়ার আগেই থামান।
রাষ্ট্রকে রাষ্ট্রের মতোই শক্ত হতে হবে- নইলে একদিন রাষ্ট্রকেই মবের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।
উগ্রতার ছোট লক্ষণকে অবহেলা করলে একসময় সেটাই বড় নিরাপত্তা-হুমকিতে পরিণত হতে পারে।

মন্তব্য ৩ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৩) মন্তব্য লিখুন

১| ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৫

অগ্নিবাবা বলেছেন: হা হা হা =p~ =p~ =p~

২| ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:




মব সন্ত্রাস বন্ধে কোন পদক্ষেপ দেখছি না।

৩| ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: সালাহুদ্দিন আহমেদ আজকে বললেন, "ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলাকাটাই এরকম, ওখানে নাচ গান সিনেমা, বহু বছর ধরে নিষিদ্ধের মতো। ওখানকার পরিস্থিতি আলাদা"

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.