| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
- রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তৌহিদী জনতার ব্যবহার করা জানতে হবে।
- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মবকে থামাতে না পারলে সেটাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না বলে "জনতার শক্তি" বলতে হবে।
- মাজার ভাঙা, লালন-বাউলদের আখড়ায় হামলা, পীরের আস্তানায় হামলা, কবর থেকে লাশ তুলে নেওয়া কিংবা সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলার মতো ঘটনাগুলোকে "জনতার আবেগ” বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে।
- ছায়ানট, উদীচী, বাউল, লালন কিংবা মাজার এগুলো বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ - এটা মানলে চলবে না। নিজের মতাদর্শের সাথে না মিললেই এগুলো ভেঙে ফেলার অধিকার জনতার আছে, এমন একটা বিশ্বাস থাকতে হবে।
- ৭১-এর ইতিহাস পছন্দ না হলে ইতিহাস নিয়ে যুক্তি দিয়ে কথা বলার সুযোগ দেওয়া যাবে না। ৭১ স্মৃতিচিহ্ন, ভাস্কর্য, ছবি কিংবা ইতিহাসের সাথে জড়িত সবকিছু মুছে ফেলার চেষ্টা হলে সেটাকে সমর্থন করার মতো উদার মানসিকতা থাকতে হবে।
- আদালত, তদন্ত, প্রমান এসবের আর কি দরকার! রাস্তায় কয়েক হাজার মানুষ জড়ো হলেই সেটাকেই আদালত মনে করতে হবে। অভিযোগ উঠেছে মানেই অপরাধী, আর অপরাধী মানেই শাস্তি দেওয়ার অধিকারও জনতার - এই দর্শনে বিশ্বাস থাকতে হবে।
- ফেসবুকের একটা পোস্ট, গুজব, স্ক্রিনশট কিংবা একটা ভিডিও দেখেই মানুষকে অপরাধী বানিয়ে ফেলার মতো বিচারবুদ্ধি থাকতে হবে। আগে মব জড়ো করে শাস্তি দিতে হবে, সত্য মিথ্যা যাচাই করার কথা পরে চিন্তা করা যাবে।
- রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বাড়ি, অফিস কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা হলে সেটাকে বিপ্লব বলতে হবে। কিন্তু একই কাজ নিজের দলের বিরুদ্ধে হলে তখন সেটাকেই আবার মব সন্ত্রাস বলে চিৎকার করতে হবে।
- সাংবাদিক বা সংবাদমাধ্যম নিজের পছন্দমতো খবর না ছাপলে তাদের দালাল, দেশদ্রোহী, এজেন্ট ইত্যাদি তকমা দিয়ে তাদের অফিসে আগুন দিয়ে হামলা করাকেও জনতার জবাব মনে করতে হবে। কারন মতের বিরুদ্ধে যুক্তি দিয়ে লড়াই করার চেয়ে অফিসে আগুন দেওয়া অনেক সহজ।
- যতদিন মব অন্যের বাড়িতে আগুন দিচ্ছে, ততদিন চুপ থাকতে হবে। কিন্তু যেদিন সেই মব নিজের রাজনৈতিক স্বার্থের পথে বাধা হয়ে দাড়াবে, সেদিন হঠাৎ করে আইনের শাসন, গণতন্ত্র আর রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের কথা মনে পড়তে হবে।
তৌহিদী জনতার মাধ্যমে শেখ হাসিনার পতন ঘটানো হয়েছে, তাদের হাত ধরেই বিএনপি ক্ষমতায় আসার সুযোগ পেয়েছে। মাজার ভাঙা, মব সন্ত্রাস এবং ৭১-এর ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টার মাধ্যমে তৌহিদী জনতাকে ব্যবহার করে লীগের পুনর্বাসন ঠেকানো সম্ভব- এমনটাই ধরে নেওয়া হয়েছিল। রাজনৈতিক সুবিধার জন্য যাদের ব্যবহার করা হয়েছিল, তারাই এখন বিএনপির গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তৌহিদী জনতার কারণেই হয়তো তারেক রহমানের ভারত সফরও হচ্ছে না। এতোদিন তাদের কোন প্রতিবাদ দেখলাম না আজকে হঠাৎ করেই "নৌকাবাইচ" নিয়ে তাদের চেতনা জাগ্রত হয়েছে। যে মব এতদিন অন্যের ঘর পুড়িয়েছে, ইতিহাস মুছেছে, মাজার ভেঙেছে - সেই মব যখন নিজের রাজনৈতিক স্বার্থের জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে, তখনই হঠাৎ করে মব সন্ত্রাসের ভয়াবহতা চোখে পড়ছে।
বিএনপি কি এতদিনে বুঝতে শুরু করেছে, স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি আসলে শুধু আওয়ামী লীগকে ঠেকানোর জন্য মাঠে নামেনি - প্রয়োজনে বিএনপিকেও ঘায়েল করার পরিকল্পনা তাদের আছে?
২|
২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:১৮
এইচ এন নার্গিস বলেছেন: অসম্ভব সুন্দর ,সত্য এবং শক্তিশালী বক্তব্য তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ ।
৩|
২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:১৩
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: আগে মাদ্রাসা থেকে পড়াশুনা করে তারপর ঢাবিতে ভর্তি হতে হবে।
৪|
২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০৬
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: বীজ আগেই বপন করা হয়েছিলো। উপযুক্ত পরিবেশে ফল ধরা শুরু হয়েছে । জয় কওমী জননীর জয় । ![]()
©somewhere in net ltd.
১|
২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৩৮
রাজীব নুর বলেছেন: শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এলেই অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।