নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ভাগ্যক্রমে আমি এই সুন্দর গ্রহের এক বাসিন্দা! তবে মাঝেমধ্যে নিজেকে এলিয়েন মনে হয়। তবে বুদ্ধিমান এলিয়েন না, কোন আজব গ্রহের বোকা এলিয়েন! [email protected]

নূর আলম হিরণ

ভাগ্যক্রমে আমি এই সুন্দর গ্রহের এক বাসিন্দা! তবে মাঝেমধ্যে নিজেকে এলিয়েন মনে হয়। তবে বুদ্ধিমান এলিয়েন না, কোন আজব গ্রহের বোকা এলিয়েন!

নূর আলম হিরণ › বিস্তারিত পোস্টঃ

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল না হলে আমরা হতাশ হই, বিপথগামী হই অনৈতিক কাজ করি। দুটি উদাহরণ দেওয়া যাক।
আমরা যারা পরিবারের বড় সন্তান তারা অনেক কিছু পাওয়ার সাথে সাথে আবার অনেক না পাওয়ার বিষয়ও থাকে। পরিবারের আর্থিক সামর্থের কারণে অনেক সময় নিজের অনেক চাহিদা পূরণ হয়না। অল্প বয়সে বাড়তি আয় রোজগারের জন্য নামতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে পড়াশোনাও বেশিদূর চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হয় না। নিজের ক্যারিয়ার গড়তে গিয়ে বিয়ে-শাদীও দেরি করে করতে হয়। এখন এই পরিবারের সদস্যটি যখন দেখবে তার ছোট ভাই বোনেরা তার থেকে অধিক বেশি সুযোগ-সুবিধা পরিবার থেকে পাচ্ছে। তখন তার মনে ভাবনার উদ্বেগ হবে, সে তো এই সুযোগ সুবিধা গুলি পায়নি যেগুলি তার ছোট ভাই বোনেরা পাচ্ছে। তখন সে নিজের অজান্তেই এগুলি নিয়ে প্রশ্ন করবে, নিজের বাবা-মাকে এগুলি মনে করিয়ে দিবে।
একজন প্রকৃত মানুষ হিসেবে এ জায়গায় তার করণীয় হবে, সে যেগুলি পায়নি সেগুলি যেন তার ছোট ভাইবোনেরা পায় তার ব্যবস্থা করা। যেসব প্রতিবন্ধকতার কারণে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে তার দেরি হয়েছে তা যেন তার ছোট ভাইবোনদের বেলায় না হয়, সেই চেষ্টাই করা। সময় সময়ে সে যে জিনিসগুলির অভাব অনুভব করেছে, সেই অনুভব যেন বাকিদের না হয় তার দিকে লক্ষ্য রাখা।

আরেকটি উদাহরণ, আমাদের দেশে বউ শাশুড়ির সমস্যা বহু দিনের এবং এটা বাস্তব। এ সমস্যাটারও অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে নিজের না পাওয়া বিষয়গুলি যখন নিজের ছেলের বউকে পেতে দেখে, আর তখন সেটা মেনে নিতে না পারা। সে তার শাশুড়ি থেকে প্রাপ্ত অন্যায়, অবহেলা কিংবা অপ্রাপ্তি গুলোকে নিজের বউয়ের বেলায়ও দেখতে চায়। কখনো নিজের ইচ্ছাতেই আবার কখনো নিজের অবচেতন মনেই এমনটি করে থাকে। অথচ এই জায়গায় তার উচিত হবে তার সাথে যে অন্যায়, অবহেলা হয়েছে সেগুলো যেন তার নিজের ছেলের বউয়ের সাথে না হয় তার দিকে লক্ষ্য রাখা। কারণ যেহেতু সে এগুলোর ভিতর দিয়েই এসেছে সে ভালো করেই জানে কোনটা ভালো আর কোনটা মন্দ।

আমি দুটি উদাহরণ দিয়েছি এছাড়াও আপনি অনেক উদাহরণ দিতে পারবেন। আমাদের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক সর্বোপরি প্রতিটি ক্ষেত্রেই এমন উদাহরণ আছে। মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি হচ্ছে অন্যকে নিজের থেকে নিচ পজিশনে দেখা। নিজের পাওয়া না পাওয়ার অপূর্ণতাকে অন্যের পূর্ন হতে দেখতে না চাওয়া।
অথচ সত্যিকারের মানুষ হতে গেলে এখানেই আমাদের নিজের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। নিজে যা পায়নি তা যেন নিজের অনুজেরা পায় তার জন্য তাদের পথ নিষ্কণ্টক করা।

মন্তব্য ২ টি রেটিং +৪/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৫১

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনার সাথে একমত ।

৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:৩২

নূর আলম হিরণ বলেছেন: ধন্যবাদ। দৈনন্দিন জীবনে আমাদের সকলের সাথেই পাওয়া, না পাওয়া নিয়ে আক্ষেপ না করে মিলেমিশে চলাই ভালো।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.