নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ভাগ্যক্রমে আমি এই সুন্দর গ্রহের এক বাসিন্দা! তবে মাঝেমধ্যে নিজেকে এলিয়েন মনে হয়। তবে বুদ্ধিমান এলিয়েন না, কোন আজব গ্রহের বোকা এলিয়েন! [email protected]

নূর আলম হিরণ

ভাগ্যক্রমে আমি এই সুন্দর গ্রহের এক বাসিন্দা! তবে মাঝেমধ্যে নিজেকে এলিয়েন মনে হয়। তবে বুদ্ধিমান এলিয়েন না, কোন আজব গ্রহের বোকা এলিয়েন!

নূর আলম হিরণ › বিস্তারিত পোস্টঃ

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই জানি আমরা। অথচ এই চুক্তিই ছিল বাংলার পরাধীনতা এবং সিরাজউদ্দৌলার পলাশীর যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার অন্যতম হাতিয়ার

২৩ জুন ১৭৫৭, পলাশীর প্রান্তর:
বাংলার ইতিহাসে এক বেদনাদায়ক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল এই দিনে। কিন্তু পলাশীর যুদ্ধের ময়দানে যে পরাজয় ঘটেছিল, তার ভিত্তি তৈরি হয়েছিল যুদ্ধের আগেই, একটি গোপন চুক্তির মাধ্যমে।
সেই চুক্তির একদিকে ছিল ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, অন্যদিকে বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলার প্রধান সেনাপতিদের অন্যতম মীর জাফর আলী খান।
কী ছিল সেই গোপন চুক্তিতে? বিনিময়ে মীর জাফর কী পেয়েছিলো? আর ইংরেজরা কীভাবে বাংলার সম্পদ ও ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করেছিল?
চলুন, ইতিহাসের সেই অধ্যায়টি একটু বিস্তারিত জেনে নিই।

এই চুক্তিটি হয়েছিল ১৭৫৭ সালের জুন মাসে।
পলাশীর যুদ্ধের আগে রবার্ট ক্লাইভের নেতৃত্বে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মীর জাফরের সঙ্গে একটি
গোপন সমঝোতায় পৌঁছায়।
চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে ক্ষমতাচ্যুত করে মীর জাফরকে বাংলার মসনদে বসানো।
বিনিময়ে মীর জাফর ইংরেজদের দিবে বিপুল অর্থ, বড় ধরনের ব্যবসায়িক সুবিধা এবং কিছু কিছু অঞ্চলে জমিদারি খাজনা নির্ধারণ ও আদায়ের অধিকার।

চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলো একটু দেখুন!
১. বাংলার নবাবের সিংহাসন: ইংরেজরা সিরাজউদ্দৌলাকে ক্ষমতাচ্যুত করে মীর জাফরকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার নবাব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সহযোগিতা করবে।
২. চুক্তি অনুযায়ী মীর জাফর ইংরেজদের বিভিন্ন খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রদান করবে।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল—
▪️ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ১ কোটি রুপি।
▪️ কলকাতার ইংরেজ অধিবাসীদের ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫০ লাখ রুপি।
▪️ হিন্দু অধিবাসীদের ক্ষতিপূরণ বাবদ ২০ লাখ রুপি।
▪️ আর্মেনীয় অধিবাসীদের ক্ষতিপূরণ বাবদ ৭ লাখ রুপি।
এ ছাড়াও ইংরেজ সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর জন্য অর্থ বরাদ্দ এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধার ব্যবস্থা ছিল। এসব অর্থের বর্তমান আনুমানিক মূল্য ৫০ হাজার কোটি রুপির মত!

পলাশী যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে ইংরেজরা যে কলকাতার চব্বিশ পরগনার ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে আর খাজনা আদায় করে তার মূল শক্তি ও বৈধতা ছিল এই চুক্তিটি।

৪. বাণিজ্যিক সুবিধা
চুক্তিতে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পূর্ববর্তী বাণিজ্যিক অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা বহাল রাখার অঙ্গীকার করে মীর জাফর।
এর ফলে বাংলার অর্থনীতিতে ইংরেজদের প্রভাব আরও শক্তিশালী হওয়ার পথ তৈরি হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ধীরে ধীরে পথে বসতে থাকে।

৫. সামরিক বিশ্বাসঘাতকতা: গোপন ষড়যন্ত্রের চুক্তির মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল, সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় মীর জাফর ইংরেজদের পরিকল্পনা সফল করতে সহযোগিতা করবে।
পলাশীর যুদ্ধে মীর জাফরের নেতৃত্বাধীন বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা নবাবের পরাজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এবার মজার বিষয়টি জানুন, এই চুক্তির কারণে মীর জাফর সিংহাসনে বসলেও কিছুদিন পরেই বুঝতে পারে সে স্বাধীনভাবে রাজ্য চালাতে পারছে না। যে সিদ্ধান্তই সে নিতে যায়না কেনো তাতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ও রবার্ট ক্লাইভ বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
এই গোলামীর চুক্তির কারণে মীর জাফর পেয়েছিলো নবাবের সিংহাসন।
কিন্তু ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি পেয়েছিল আরও অনেক বড় কিছু! তারা পেয়েছে
বাংলার রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের ক্ষমতা, বিপুল অর্থনৈতিক সুবিধা, জমির ওপর অধিকার এবং ভবিষ্যতে তাদের শাসনক্ষমতা সম্প্রসারণের সুযোগ।

ইংরেজদের এত সুবিধা দেওয়ার পরেও তারা মীর জাফরের কাছ থেকে এখনকার চট্টগ্রাম পোর্টটির নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়। এই একটি জায়গায় মীরজাফর তাদের আবদার আর রক্ষা করেনি। চরম বিশ্বাসঘাতক মীর জাফরও বুঝতে পেরেছে এই বন্দরটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিলে বাংলার আর কোন কিছুই বাংলার নিয়ন্ত্রণে থাকবেনা। এর রেশ ধরেই তাকে ইংরেজরা ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়।

বাংলার ২০০ বছরের পরাধীনতা, লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যু, আহাজারি, কান্না, অভিশাপ একটি চুক্তি পত্রেই লেখা হয়েছিল আজ থেকে ২৭০ বছর আগে এক ভিনদেশী জাতির হাতে।

মন্তব্য ১০ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (১০) মন্তব্য লিখুন

১| ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:২২

কামাল১৮ বলেছেন: পড়লাম।

১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:২৪

নূর আলম হিরণ বলেছেন: ধন্যবাদ।

২| ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৫

আলমগীর সরকার লিটন বলেছেন: এভাবেই চলছে সবকিছু

১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:২৫

নূর আলম হিরণ বলেছেন: যুগে যুগে এমন গোপন চুক্তি আমাদের নিঃশেষ করে দিয়েছে!

৩| ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১

মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ বলেছেন: ২৬৭ বছরের ব্যবধানে দ্বিতীয় পলাশী দিবসের (২০২৪) দ্বিতীয় বার্ষিকী (২০২৬) উৎযাপন হচ্ছে আজ।

১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৮

নূর আলম হিরণ বলেছেন: বাঙ্গালী জাতির অধিকাংশ মানুষই গোলামী করতে পছন্দ করে। জুলাই আমাদের আমেরিকার কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। এই শৃঙ্খল ভেঙ্গে ফেলতে হবে অতি দ্রুত। সময় গেলে সাধন হবে না আর।

৪| ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪০

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: অনেক কিছু জানতে পারলাম ।

১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৮

নূর আলম হিরণ বলেছেন: আরো অনেক কিছু জানার বাকি আছে আমাদের। আমরা জানলেও বুঝতে চাইনা, শিক্ষা নিই না।

৫| ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

মাথা পাগলা বলেছেন: ইউনুস/তারেক সরকারের সাথে মিল খুঁজে পেলাম।
------------
ইংরেজরা কিভাবে ভারতে প্রবেশ করলো, তাদের চিন্তা-ভাবনা কেমন ছিলো, মুঘল সম্রাজ্য পতনের কারণ এগুলো অ্যাড করে দিলে লেখাটা ভালো হতো।

১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪১

নূর আলম হিরণ বলেছেন: হ্যাঁ, ভালো হতো। তবে চুক্তির সাথে আরও ইন্টারেস্টিং চরিত্র হলো উমিচাঁদ। ইংরেজরা কীভাবে এই লোভী ব্যবসায়ীকে ধোঁকা দিয়েছে সেটা আরেক কাহিনী। ঐটা এড করলে বর্তমানের আরও অনেক কিছুর সাথে রিলেট করা যেতো। সময় হলে সেটা নিয়ে লিখবো।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.