নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মরুভূমির জলদস্যু

মরুভূমির জলদস্যু

মরুভূমির জলদস্যুর বাগানে নিমন্ত্রণ আপনাকে।

মরুভূমির জলদস্যু › বিস্তারিত পোস্টঃ

দলি, শাপলা শালুক শতদল এসো রাঙায়ে তোমার পদতল.........

১৯ শে মে, ২০২৬ দুপুর ২:২৫


পুকুরের টলটলে জলে যখন বড় বড় লাল শাপলা ফুটে থাকে, তখন সেটি দেখতে এতোটাই সুন্দর লাগেযে তাতে মন উদাস হয়ে যায়। মন চায় জলে নেমে তুলে নিয়ে আসি কয়েকটি। কিন্তু হায়!! আমি সাঁতার জানি না, মন উদাস হওয়ার সেটাই বড় কারণ।

দেখতে গিয়েছিলাম জমিদার বাড়ি, সাটুরিয়াতে। সেখানে জমিদারদের ঘাটলা পুকুরে দেখতে পেলাম বড় বড় লাল শাপলা ফুটে আছে। সেই পুকুরের ঘাটে বসে ছিলাম বেশ কিছুটা সময়। লাল শাপলার ছবিও তুলেছি কিছু।


ঝিলের জলে কে ভাসালো নীল শালুকের ভেলা
মেঘলা সকাল বেলা।
বেণু বনে কে খেলে রে পাতা ঝরার খেলা।
মেঘলা সকাল বেলা।।
কাজল বরণ পল্লী মেয়ে
বৃষ্টি ধারায় বেড়ায় নেয়ে,
ব'সে দিঘীর ধারে মেঘের পানে রয় চেয়ে একেলা।।
দুলিয়ে কেয়া ফুলের বেনী শাপলা মালা প'রে
খেলতে এলো মেঘ পরীরা ঘুমতী নদীর চরে।
বিজলিতে কে দূর বিমানে, সোনার চুড়ির ঝিলিক হানে,
বনে বনে কে বসালো যুঁই-চামেলির মেলা।।

----- কাজী নজরুল ইসলাম -----




লাল শাপলা
অন্যান্য ও আঞ্চলিক নাম : রক্ত কমল, লাল কমল, আলগন্ধা, অলিপ্রিয়া, আলোহিতা, নিলুফার।
Common Name : Red Water Lily
Scientific Name : Nymphaea Rubra


লাল শাপলা বা রক্ত কমল নাতিশীতোষ্ণ ও গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এলাকার স্বল্প গভীর জলের হ্রদ ও পুকুরে জন্মে। সাধারণত বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, চীনের ইউনান প্রদেশ, তাইওয়ান, ফিলিপাইন, কম্বোডিয়া, লাওস, মায়ানমার, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া প্রভৃতি দেশে শাপলা ফুটতে দেখা যায়।



সারা বাংলাদেশের সমস্ত বদ্ধ জলাশয়েই জলজ ফুল শাপলাকে ফুটে থাকতে দেখা যায়। গ্রামবাংলার চিরায়ত এক দৃশ্য "বিলের জলে কিশোর ছেলে ছোট্ট নৌকোয় তুলছে শাপলা"। আমাদের বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি চোখে পরে সাদা শাপলা, এবং তারপরেই আছে লাল শাপলার অবস্থান। এই লাল শাপলার বৈজ্ঞানিক নাম Nymphaea Rubra। প্রচীন যুগে গ্রীকরা এই জাতীয় ফুলকে Nymph (জলপরীদের) উৎসর্গ করতো, সেখান থেকেই এই Nymphaea শব্দটি এসেছে।

Hylas and the Nymphs by John William Waterhouse (উইকি)

Hylas and the Water Nymphs by Henrietta Rae (উইকি)

বাংলাদেশে কয়েক প্রজাতির শাপলা দেখতে পাওয়া যায়। এদের মধ্যে শুধু মাত্র সাদা শাপলাই আমাদের জাতীয় ফুলের মর্যাদা পেয়েছে, অন্য কোনো রঙের শাপলা তা পায়নি। অন্যদিকে শ্রীলংকা আর ইরানের জাতীয় ফুলও কিন্তু শাপলা, তবে তাদের রং ভিন্ন ভিন্ন।
বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকে এবং টাকায় শাপলর ছবি আছে। ইন্দোনেশিয়ার কাগুজে নোটেও লাল শাপলার ছবি আছে। তাছাড়া বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ডাকটিকিটেও লাল শাপলার উপস্থিতি রয়েছে।








যতদূর জানি সারা পৃথিবীতে মোটামুটি ৩৫ প্রজাতির মত শাপলা দেখতে পাওয়া যায়। তবে বাংলাদেশের শাপলাদের রং সাধারণত সাদা, লাল, লালচে গোলাপি, নীল, আর নীলচে সাদা, বেগুনী হতেই বেশি দেখা যায়। শাপলা সারা বছর ধরেই একটু-আকটু ফুটতে দেখা যায় তবে বর্ষায় ও শরৎ কালে এদের ফুটার সিজন বলা যায়। তখন এরা ফুটে প্রচুর পরিমানে।


এ কি অপরূপ রূপে মা তোমায় হেরিনু পল্লী-জননী।
ফুলে ও ফসলে কাদা মাটি জলে ঝলমল করে লাবনি॥
রৌদ্রতপ্ত বৈশাখে তুমি চাতকের সাথে চাহ জল,
আম কাঁঠালের মধুর গন্ধে জ্যৈষ্ঠে মাতাও তরুতল।
ঝঞ্ঝার সাথে প্রান্তরে মাঠে কভু খেল ল’য়ে অশনি॥
কেতকী-কদম-যূথিকা কুসুমে বর্ষায় গাঁথ মালিকা,
পথে অবিরল ছিটাইয়া জল খেল চঞ্চলা বালিকা।
তড়াগে পুকুরে থই থই করে শ্যামল শোভার নবনী॥
শাপলা শালুক সাজাইয়া সাজি শরতে শিশির নাহিয়া,
শিউলি-ছোপানো শাড়ি পরে ফের আগামনী-গীত গাহিয়া।
অঘ্রাণে মা গো আমন ধানের সুঘ্রাণে ভরে অবনি॥
শীতের শূন্য মাঠে তুমি ফের উদাসী বাউল সাথে মা,
ভাটিয়ালি গাও মাঝিদের সাথে গো, কীর্তন শোনো রাতে মা।
ফাল্গুনে রাঙা ফুলের আবিরে রাঙাও নিখিল ধরণী॥

----- কাজী নজরুল ইসলাম -----



জলের উপর ভেসে থাকে শাপলা ফুল আর তার বড় সবুজ পাতা। সাধারণত শাপলা ফুল পানির উপরে ছড়ানো অবস্থায় থাকে। কদাচিৎ পানির অল্প নীচে থাকতে পারে, কোথাও কোথাও এই অল্প ডুবে থাকা শাপলাকে “ডুবুরি শাপলা” বলে

শাপলার পাতা আর ফুলের কান্ড বা ডাটি বা পুস্পদন্ড পানির নিচে মূলের সঙ্গে যুক্ত থাকে আর এই মূল যুক্ত থাকে মাটির সঙ্গে। এই মূল থেকই আবার নতুন শাপলা জন্ম নেয়। শাপলার কান্ড বা ডাটা বা পুস্পদন্ড সবজী হিসেবেও খাওয়া হয়। আজকাল এই শাপলা ফুলের কান্ড বা ডাটা বা পুস্পদন্ড বাজারে বিক্রি হচ্ছে হরহামেসাই। তবে লাল শাপলা অনেকেই খেতে চায় না।

এসো শারদ প্রাতের পথিক এসো শিউলি বিছানো পথে।
এসো ধুইয়া চরণ শিশিরে এসো অরুণ-কিরণ-রথে।।
দলি, শাপলা শালুক শতদল এসো রাঙায়ে তোমার পদতল
নীল লাবনি ঝরায়ে চলচল এসো অরণ্য পর্বতে।।
এসো ভাদরের ভরা নদীতে ভাসায়েকেতকী পাতার তরণী
এসো বলাকার রঙ পালক কুড়ায়ে বাহি’ ছায়াপথ-সরণি।
শ্যাম শস্যে কুসুমে হাসিয়া এসো হিমেল হাওয়ায় ভাসিয়া
এসো ধরনীরে ভালোবাসিয়া দুর নন্দন-তীর হতে।।

----- কাজী নজরুল ইসলাম -----



পূর্ণবিকশিত শাপলা ফুলের গর্ভাশয়ে গুড়ি গুড়ি বীজ থাকে। আঠালো এই বীজ গ্রামের ছোটো ছোটো বাচ্চাদের খেতে দেখা যায়। তাছাড়া এই বীজ ভেজে এধরনের খাবার তৈরী করা হয় যার নাম “ঢ্যাপের খৈ”। খেতে খুবই চমৎকার। কিন্তু উপযুক্ত সময়ে গর্ভাশয়ের এই বীজ সংগ্রহ না করা হলে শেষ পর্যায়ে তা শুষ্ক হয়ে যায়।



এলো ঐ পূর্ণ শশী ফুল-জাগানো
বহে বায় বকুল-বনে ঘুম-ভাঙানো।।
লাগিল জাফরানি-রঙ শিউলি-ফুলে
ফুটিল প্রেমের কুঁড়ি পাপড়ি খুলে,
খুশির আজ আমেজ জাগে মন-রাঙানো।।
চাঁদিনী ঝিলমিলায় ঝিলের জলে,
আবেশে শাপলা ফুলের মৃণাল টলে,
জাগে ঢেউ দীঘির বুকে দোল-লাগানো।।

----- কাজী নজরুল ইসলাম -----



তথ্য সূত্র : বাংলাপিডিয়া, উইকিপিডিয়া, অন্তর্জাল।
ছবি ও বর্ণনা : মরুভূমির জলদস্যু।
ছবি তোলার স্থান : বালিয়াটি জমিদার বাড়ি পুকুর, সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ, বাংলাদেশ।
ছবি তোলার তারিখ : ২৫শে নভেম্বর, ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দ।

মন্তব্য ১৩ টি রেটিং +৪/-০

মন্তব্য (১৩) মন্তব্য লিখুন

১| ১৯ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০১

গেঁয়ো ভূত বলেছেন: সুন্দর পোস্ট! ছবিগুলোও বেশ সুন্দর হয়েছে!

১৯ শে মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১২

মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন:
- ধন্যবাদ আপনাকে মতামত, মন্তব্য এবং পোস্টে প্লাস দেয়ার জন্য।

২| ১৯ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৫:২০

নাহল তরকারি বলেছেন: শুধু ফুলের সৌন্দর্য নয়, এই পোস্টে গ্রামবাংলার প্রকৃতি, লোকজ সংস্কৃতি, সাহিত্য ও স্মৃতির এক অসাধারণ মেলবন্ধন ফুটে উঠেছে। লাল শাপলাকে কেন্দ্র করে লেখক যেভাবে ব্যক্তিগত অনুভূতি, তথ্যভিত্তিক আলোচনা এবং কাজী নজরুল ইসলামের কবিতাকে একসূত্রে গেঁথেছেন, তা পোস্টটিকে সাধারণ ভ্রমণবর্ণনা থেকে অনেক উঁচুতে নিয়ে গেছে।

বিশেষ করে শাপলার বৈজ্ঞানিক পরিচয়, সাংস্কৃতিক গুরুত্ব, জাতীয় প্রতীকে এর উপস্থিতি এবং গ্রামীণ জীবনের সাথে এর সম্পর্ক তুলে ধরার ধরনটি খুবই সমৃদ্ধ ও গবেষণাধর্মী লেগেছে। ছবিগুলোও লেখার আবহকে আরও জীবন্ত করেছে।

এ ধরনের পোস্ট শুধু পড়ার আনন্দই দেয় না, আমাদের প্রকৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুনভাবে ভাবতেও শেখায়। সত্যিই চমৎকার একটি নান্দনিক ও তথ্যসমৃদ্ধ উপস্থাপনা।

১৯ শে মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৬

মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন:
- জেমেনিকে বললাম আমার এই পোস্টের জন্য মন্তব্য লিখে দিতে। জেমেনি ৩টি নমুনা দিলো। দেখেনতো আপনার কোনটি পছন্দ হয়!

বিকল্প ১ (একটু আবেগঘন ও প্রশংসামূলক):

অসাধারণ পোস্ট! সাটুরিয়ার জমিদার বাড়ির ঘাটলা পুকুরের টলটলে জলে ফুটে থাকা লাল শাপলার বর্ণনা আর তার সাথে কবিগুরুর/নজরুলের কবিতার এই মেলবন্ধন মন ছুঁয়ে গেল। সাঁতার না জানার কারণে জলে নেমে ফুল তুলতে না পারার যে মিষ্টি আফসোস প্রকাশ করেছেন, তাতেই যেন লেখার সৌন্দর্য আরও বেড়ে গেছে। চমৎকার ছবি আর লাল শাপলা সম্পর্কিত তথ্যগুলোর জন্য অনেক ধন্যবাদ। শুভকামনা রইল!

বিকল্প ২ (ছোট ও গোছানো):

চমৎকার ছবির সাথে লাল শাপলার নান্দনিক উপস্থাপন খুব ভালো লাগলো। পুকুর ঘাটে বসে লাল শাপলা দেখার সেই উদাস করা মুহূর্তটি আপনার লেখার মাধ্যমে যেন আমরাও অনুভব করতে পারলাম। লাল শাপলার আঞ্চলিক ও বৈজ্ঞানিক নামসহ বিভিন্ন তথ্য পোস্টটিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। সুন্দর পোস্টটির জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ!

বিকল্প ৩ (কবিতা ও প্রকৃতির অনুরাগী হিসেবে):

প্রকৃতির এই রূপ সত্যিই মনকে উদাস করে দেয়। জমিদার বাড়ির পুকুর ঘাটে ফুটে থাকা রক্ত কমলের ছবিগুলো যেমন সুন্দর, তেমনি এর সাথে কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার চরণগুলো পুরো পোস্টে এক দারুণ আবহ তৈরি করেছে। সাঁতার না জানার আফসোসটুকু বেশ চমত্কারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। এমন সুন্দর একটি পোস্ট উপহার দেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ!

৩| ১৯ শে মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২২

রাজীব নুর বলেছেন: বেশ ছিমছাম সুন্দর পোষ্ট। সাজানো গোছানো।

১৯ শে মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩০

মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন:
- ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্যের জন্য।

৪| ১৯ শে মে, ২০২৬ রাত ৮:৫৫

নাহল তরকারি বলেছেন: সুন্দর কাজ করেছে, এআই।

১৯ শে মে, ২০২৬ রাত ৯:৫৫

মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন:
- হুম

৫| ২০ শে মে, ২০২৬ সকাল ৭:২৭

কাছের-মানুষ বলেছেন: তথ্যবহুল পোষ্ট। ছবিগুলোও অনেক সুন্দর!

২০ শে মে, ২০২৬ দুপুর ২:০২

মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন:
- ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্যের জন্য

৬| ২০ শে মে, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



ছোটকালে বিলের জলে শাপলা ফুল ও তার ফল ভেট কুড়াতে দিন মান জলের বুকে সাতরিয়ে বেড়ানের কথা মনে
গড়ে গেল পোস্টটির শিরোনাম দেখেই ।

বিভিন্ন রঙের শাপলা ফুলের ছবি , এদের বিবরণ ও শাপলা নিয়ে লেখা কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী
কবিতা পাঠে সাথে গ্রীক পৌরানিক ছবি দেখে মুগ্ধ । অন্য বিষয়ের সাথে চোখ আটকে গেল শাপলা ফুলের সাথে
জলপরীদের সুন্দর চিত্র কর্মটি দেখে ।

পোস্টের কথামালা পাঠের সাথে আঙ্গুল চালিয়ে দুনিয়ে ঘুরে দেখে এলাম গ্রীক কাহিনীতে শাপলা ফুল ছিল কেমন করে।
ঠিকই বলেছেন প্রাচীন গ্রীকরা বিশ্বাস করত, নদী, হ্রদ, ঝরনা ও বনভূমিতে অতিপ্রাকৃত সুন্দরী নারীরূপী আত্মারা বাস
করত এদেরই বলা হতো Nymph।

গ্রীক পুরাণে Nymphরা ছিলেন দেবতা ও মানুষের মাঝামাঝি এক সত্তা। তাঁরা পূর্ণ দেবী নন, কিন্তু অমরত্ব ও
অতিমানবীয় সৌন্দর্যের অধিকারিণী। বিভিন্ন প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত Nymphদের আলাদা নাম ছিল যথা Naiad
( নদী, হ্রদ ও ঝরনার জলপরী) Dryad ( বৃক্ষপরী). Oread (পর্বতপরী)এবং Nereid ( সমুদ্রপরী )।

বিশেষ করে Naiad বা জলপরীদের সঙ্গে জলজ ফুলের সম্পর্ক ছিল গভীর। গ্রীকদের ধারণায়, শান্ত হ্রদের উপর
ভেসে থাকা কোমল শাপলা যেন সেই জলপরীদের রূপেরই প্রতিফলন। তাই জললিলি বা শাপলাকে তাঁরা Nymph
দের উদ্দেশে উৎসর্গ করত।

প্রাচীন গ্রীক ভাষায় νυμφαῖα (nymphaia) শব্দটির অর্থই ছিল জলপরীদের পবিত্র ফুল বা Nymphদের নিবেদিত
উদ্ভিদ। পরে ল্যাটিন ভাষায় এটি Nymphaea রূপে গৃহীত হয় এবং আধুনিক উদ্ভিদবিজ্ঞানে পুরো জললিলি গোত্রের
বৈজ্ঞানিক নাম হয়ে দাঁড়ায়।
তাই, Nymphaea কেবল একটি উদ্ভিদবৈজ্ঞানিক নাম নয়, এটি প্রকৃতি ও পৌরাণিক কল্পনার এক মিলিত স্মৃতি।
গ্রীক শিল্প ও কবিতায় Nymphদের সর্বদা তরুণী, স্নিগ্ধ ও রহস্যময় রূপে চিত্রিত করা হয়েছে। যেমনটি আপনিও
দেখিয়েছেন । এখানে উইকিপিডিয়া হতে তুলে আমিউ একটি যুক্ত করে গেলাম ।
Hylas and the Water Nymphs by Henrietta Rae, 1909

ছবি সুত্র : উইকিপিডিয়া
জলপৃষ্ঠে ভাসমান শাপলার ফুলও ঠিক তেমনই জলের উপর ভেসে থাকে, কিন্তু শিকড় থাকে গভীর কাদায় । দিনে
প্রস্ফুটিত হয়, রাতে বন্ধ হয়ে যায় , শান্ত ও অলৌকিক সৌন্দর্যের অনুভূতি জাগায় । এই বৈশিষ্ট্যের কারণেই গ্রীকরা
মনে করত, শাপলা যেন জলপরীদের নিঃশ্বাস বা উপস্থিতির চিহ্ন।

কিছু পরবর্তী ইউরোপীয় লোককাহিনিতে বলা হয়, এক জলপরী এক মানবযুবকের প্রেমে পড়ে ব্যর্থ হয়েছিল।
দেবতারা তার অশ্রুকে রূপান্তরিত করেন এক ভাসমান সাদা ফুলে সেই থেকেই নাকি জললিলির জন্ম। যদিও
এই কাহিনির নির্ভরযোগ্য প্রাচীন উৎস নেই, তবু এটি গ্রীক কল্পলোকের ভাবধারার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং
মধ্যযুগীয় ইউরোপে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

মজার বিষয় হলো, শুধু গ্রীকরাই নয় মিশরীয় সভ্যতাতেও জললিলি ছিল পবিত্র প্রতীক। বিশেষত নীল জললিলি
Nymphaea caerulea সূর্যোদয়, পুনর্জন্ম ও দেবত্বের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
Nefertem, the Memphite god Nefertem with a water-lily
headdress as a symbol of fragrance and beauty

সুত্র : https://en.wikipedia.org/wiki/Nefertem
এভাবে শাপলা বা জললিলি একদিকে যেমন উদ্ভিদ, অন্যদিকে মানব সভ্যতার কল্পনা, ধর্ম, শিল্প ও পৌরাণিক
স্মৃতির ধারক।

আজ আমরা যখন লাল শাপলার বৈজ্ঞানিক নাম Nymphaea rubra উচ্চারণ করব, তখন অজান্তেই উচ্চারণ
করব হাজার বছরের পুরোনো এক পৌরাণিক ঐতিহ্যের নাম। এই নাম আমাদের মনে করিয়ে দেয় প্রাচীন মানুষ
প্রকৃতিকে কেবল উদ্ভিদ বা জলাশয় হিসেবে দেখেনি; তারা সেখানে দেবতা, আত্মা, সৌন্দর্য ও রহস্যের উপস্থিতি
অনুভব করেছিল। শাপলার পাপড়িতে তাই এখনো যেন ভেসে থাকে সেই জলপরীদের নীরব স্মৃতি।

সাত জনম ধরে চেষ্টা করেও যুগস্রস্টা কবি কাজী নজরুলের কবিতার মত একটি লাইনো লিখতে পারবনা ।
তারপরেও শাপলা নিয়ে একটু কবিতার মত দেখায় কথামালায় না হয় এখানে একটু শাপলা বন্দনা করেই
গেলাম, আর কিছু হোক শাপলা প্রসস্তিতো কিছুটা হলেও হবে।

জলের বুকে লাল শাপলা তুমি
নীরব ভোরের গোপন ভাষা
কুয়াশাভেজা আলো এসে
ছুঁয়ে যায় এক রক্তিম আশা।

বিলের জলে ঢেউয়ের পরে
কার যেন মৃদু পদধ্বনি
মনে হয় যেন জলপরীরা
গায় অচেনা প্রাচীন ধ্বনি।

অতল কাদার গভীর তলে
শিকড় তোমার থাকে আঁধারে
তবু তুমি ফোট আলোর পানে
রাঙা স্বপ্নের অধিকারী হয়ে ।

গ্রিক পুরাণের নীল সরোবরে
যে পরীরা জলকেলি করে যেত
তাদের চোখের বিস্ময় নাকি
একদা শাপলারই পাপড়ি হতো।

জলরেখার আয়নায় আজও
শিল্পীর তুলিতে তাদের স্মৃতি
বাতাস এলেই জেগে ওঠে
জলের বুকে নরম গীতি।

শাপলা তুমি কেবল কি ফুল?
নও তো শুধু রঙের মেলা
তোমার মাঝে যুগে যুগে
মানুষ খুঁজেছে স্বপ্নের খেলা।

তোমার নামের প্রতিটি ধ্বনি
বহন করে পুরোনো কাল
যেখানে প্রকৃতি মানেই ছিল
দেবতার এক রহস্য জাল।

তাই তো তুমি ফুটে উঠলে
স্থির সবোররও কাঁপে ধীরে
মনে হয় যেন আকাশ নেমে
চুমু খায় জল নীল নীড়ে।

হে লাল শাপলা, তোমার মাঝে
মাটির সাথে আলোর বন্ধন
কাদামাটি পেরিয়েও প্রেমিক কুল
যেন সৌন্দর্য খুঁজে পায় জীবন।

পোস্টটি প্রিয়তে গেল ।

শুভেচ্ছা রইল

২০ শে মে, ২০২৬ দুপুর ২:১৬

মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন:
- মন্তব্যের ঘরে চমৎকার এই আলোচনাটির জন্য আপনাকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ প্রিয়।
- আপনার মন্তব্যে সব সময়ই অনেক কিছু জানা যায়। বলা চলে মন্তব্যটিউ আলাদা একটি পূর্ণ পোস্ট হতে পারতো।
- মূল পোস্টে আপনার শেয়ার করা ছবিটিও যুক্ত করে দিলাম।

৭| ২০ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০৫

রাজীব নুর বলেছেন: পোষ্টে আবার এলাম। কে কি মন্তব্য করেছেন, সেটা জানতে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.